| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   * পূর্বাচলে আবারো ৬টি এসএমজি উদ্ধার, জনমনে আতঙ্ক   * শ্রীপুরে ট্রেনের নিচে বাবা-মেয়ে আত্মাহুতির ঘটনায় গ্রেফতার-১   * রাম নাথ কোভিন্দকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন   * টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : স্পিকার   * বিএনপির লন্ডন মার্কা সহায়ক সরকার জনগণ মানবে না : ওবায়দুল কাদের   * শিগগিরই বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধির গেজেট: আইনমন্ত্রী   * নির্বাচন কমিশনের সচিব পরিবর্তন   * সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * চিকুনগুনিয়া রোগীর বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি   * ‘আকাশ সংস্কৃতিতে যা ক্ষতিকর তা বর্জন করুন’  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য
  সুশাসন নিশ্চিত করাই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের বিশেষ প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত
  15, June, 2017, 5:04:58:PM

দেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ মজবুত করার জন্যে উন্নয়নশীল ও বাস্তবভিত্তিক বাজেটের কোনো বিকল্প নেই। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) মনে করে ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত ও প্রগতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করতে একটি বহুমুখী, বাস্তবায়নযোগ্য এবং সম্প্রসারণশীল বাজেটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৪,০০,২৬৬ কোটি টাকার বাজেটকে অনেকে উচ্চাভিলাসী বলে অভিহিত করলেও আমরা মনে করি এটা দেশের অর্থনৈতিক প্রসারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং মাননীয় অর্থমন্ত্রীকে আমরা এই রকম বড় অংকের বাজেটের ঘোষণা দেয়ার জন্য আইবিএফবির পক্ষ থেকে আন্তরিক সাধুবাদ জানাই। বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামো ও এর গতি প্রকৃতির সাথে তুলনা করলে এই বাজেট বরাদ্দ খুব বেশি নয় বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত মজবুত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশি বিদেশী বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, অবকাঠামোগত উন্নয়নে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বলয় বাড়ানো এবং সামগ্রিক ব্যাবসায়ের পরিবেশ সহজ করা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য বাজেটের পরিমান আরো বৃদ্ধি করা আবশ্যক।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের তুলনায় বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির হার ছিল ১৭.৮%, যা ২০১৬-১৭ কমে দাঁড়ায় ১৫.৪২% এ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭.৫১%। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে বাজেট বরাদ্দের পরিমান বৃদ্দি করা একটি যুক্তিসঙ্গত প্রক্রিয়া যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে নিয়ে আসে। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ বাড়লেও বাস্তবায়নে সক্ষমতার অভাবে বাজেট কাটছাট করা হলে তা উন্নয়নের আকাঙ্খাকে ম্লান করে দেয়। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাজেট কাটছাট  করা হয় ১০.৮৪%, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে কাটছাট করা হয় ১০.৩৯% এবং ২০১৬-১৭ অর্থবছরে কাটছাট করা হয় প্রায় ২০% যা অবশ্যই কাম্য নয়।

বাজেট বাস্তবায়নের হারের উপর লক্ষ্য করলে দেখা যায় বাজেট বাস্তবায়নে আমাদের ব্যার্থতার হার প্রতি বছরেই উচ্চহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে  সামগ্রিক বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৯৭.০৫%, যা ২০১২-১৩ অর্থবছরে কমে দাঁড়ায় ৯০.৭৬% এ এবং ২০১৫-১৬  অর্থবছরে  আরো কমে দাঁড়ায়  ৭৯.৪% এ। অন্যদিকে, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  মার্চ মাস পর্যন্ত প্রকৃত বাজেট বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৪৪% যা বিগত তিন বছরের গড়কে ধরে প্রাক্কলিত করলে সম্পূর্ণ অর্থবছরে দাঁড়ায় ৮১.৬%। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ফি বছর বাজেটের বড় অংশ কাটছাট করা হলেও, কাটছাটকৃত বাজেটও সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হয় না যা বাজেট বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সকলেরই বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার জোর দাবি রাখে।

২০১৪-১৫ সালে ভারত, ভিয়েতনাম ও উগান্ডা যেখানে যথাক্রমে ৯২.৭%, ১০০%, ও ৮৯.৩% বাজেট বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলো বাংলাদেশ সেখানে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে ৮১.১% এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারত ও ভিয়েতনাম  ১০০% এবং উগান্ডা  ৯০.৩% বাজেট  বাস্তবায়ন করতে  পারলেও বাংলাদেশ  বাস্তবায়ন করতে পেরেছে মাত্র ৭৯.৪%, যা অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের  বাজেট বাস্তবায়ণে অসক্ষমতাকেই  প্রকাশ করে।

তাই বাজেট বাস্তবায়নের হারকে যথাযথভাবে বৃদ্ধি এবং কাজের  গুণগত মান সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করতে বাজেট বাস্তবায়নের কারিগরি এবং প্রয়োগিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর বেশি জোর দেয়া অতীব প্রয়োজন  এবং তার জন্যে  বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা উচিত বলে আইবিএফবি বিশ্বাস করে।

সঠিকভাবে এডিপি বাস্তবায়নের উপর জোর দেয়ার কথা সবাই বলে আসলেও সারা বছর এডিপি বাস্তবায়নে শ্লথ গতি বিরাজ করার পর অর্থবছরের শেষ ২-৩ মাসে বাস্তবায়নে গতি আকষ্মিকভাবে বেড়ে যায় যা কোনোভাবেই প্রকল্পভিত্তিক  টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনকে নিশ্চিত করে না। বিগত ৬ বছরে অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (২০১২-১৩ অর্থবছর ব্যাতিত) কোনো বছরই এডিপি বাস্তবায়নের হার ৪৫% উপরে উঠেনি কিন্তু তাসত্ত্বেও প্রতিবছরই  অর্থবছরের শেষে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৮০% এর অতিক্রম করে যায় যা উন্নয়ন কর্মকান্ডের মান ও কর্মপদ্ধতিকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং এতে করে দীর্ঘমেয়াদে প্রকল্পের সুফল ভোগ করা থেকে মানুষ বঞ্চিত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ সময়কালীন এডিপি বাস্তবায়নের সফলতার হার ছিল যথাক্রমে ৪৩.৮%, ৪১.১%, এবং ৪৪.৮%। তাই সারা বছরই যাতে সমান গতিতে ও সুষ্ঠুভাবে  এডিপি বাস্তবায়ন করা যায় তার জন্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর টেকনিকাল ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করতে হবে ও সর্বোপরি অপচয় রোধকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া, সমস্ত অর্থবছরে কাজের গতি সমুন্নত রাখতে বাৎসরিক বাজেট বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে রোলিং বাজেট থেকে বরাদ্দ নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত, এতে করে উন্নয়ন তরান্নিত হবে।

ব্যাংক ডিপোজিটের উপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি একটি উদ্বেগজনক উদ্যোগ।ব্যাংক আমানের উপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি করে অর্থনৈতিকভাবে যতটুকু লাভবান হওয়া যাবে তার থেকে অধিক হারে সামাজিক সংকট সৃষ্টি হবে।ব্যাংক ডিপোজিটের উপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি ইতিমধ্যে Talk of the Country তে পরিণত হয়েছে।এই শুল্কহার বৃদ্ধি হতে সরকার মাত্র ২১০ কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় করবে, যা জনগণের মনো পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই আর কোনো বাড়তি শুল্কহার আরোপ না করে জনগণকে স্বস্তি দেয়ার জন্য।

নন-ফিল্টার এবং ফিল্টার বিড়ির উপর যথাক্রমে ৩০% এবং ৩৫% স্পেশাল ডিউটি আরোপের প্রস্তাবকে আইবিফবি স্বাগত জানাচ্ছে। যার ফলে সাধারণ ও প্রান্তিক জনগণ যারা এই বিড়ির প্রধান ভোক্তা তারা বিড়ির আসক্তি থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকবেন যা তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে জাতীয়  ও আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের সিগেরেটের উপর ডিউটি বিদ্যমান ৫০% থেকে সামান্য বাড়িয়ে ৫৫% ও ৫২% না করে জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আমরা ৮০% বৃদ্ধি করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে করে দেশি কারখানাগুলো অসম প্রতিযোগিতার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে।

সবুজ বিদ্যুৎ বলে খ্যাত সোলার প্যানেলের পর শুল্কহার বাড়িয়ে কয়লার উপর শুল্কহার কমানো কোনোভাবেই পরিবেশবান্ধব হতে পারে না। এতে করে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান সোলার হোম সিস্টেমের বাজার বাংলাদেশে এর প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান স্থবির হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে এবং তা দরিদ্র ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।

নতুন  প্রস্তাবিত ভ্যাট আইনে ১৫% ভ্যাট ব্যাবসায়ী সম্প্রদায় ও ভোক্তাসহ সবার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ধারণা করা হচ্ছে নতুন প্রস্তাবিত ভ্যাট আইন নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামের হেরফের করবে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন দেশের ভ্যাটের হার বিবেচনা করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহে যেমন (ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান ও  শ্রীলংকায় গড় ভ্যাটের  পরিমান ১৩.৫%। এশিয়ার নিম্ন আয়ের দেশসমূহেও গড় ভ্যাটের হার ১১.৮%। অন্যদিকে বিশ্বের ১৯০টি দেশের গড় ভ্যাটের হারও ১৩.৮% যা আমাদের প্রস্তাবিত ভ্যাটের হার থেকে কম।  

তাই এশিয়ার দেশসমূহের সাথে মিল রেখে এবং বিশাল রাজস্ব আহরণের কথা অনুধাবন করে আমরা ভ্যাটের হার ১২ শতাংশ করা হলে তা সবার জন্য মঙ্গলজনক হবে বলে মনে করি। অন্যদিকে, এই ৩% ভ্যাট কমালে রাজস্ব আহরণে যে চব্বিশ হাজার কোটি  (২৪০০০) টাকা  টাকা ঘাটতি পরবে তা সমন্বয় করার লক্ষে সকল বিড়ি, সিগারেট, ব্যাংক, বীমা  ও মোবাইল কোম্পানির উপর করহার বাড়ানোর প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করতে পারেন।

দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় নানাবিধ উদ্যোগ এবং ভ্যাট অব্যাহতিকে আমরা স্বাগত জানাই, তবে বেশ কিছু উদীয়মান শিল্পকে ভ্যাট অব্যাহতি না দেয়ায় আমরা বিস্মিত হয়েছি।

জেনারেটর আমদানির জন্য কোনো ধরণের কর আরোপ না করে দেশে প্রস্তুতকৃত জেনারেটরের যন্ত্রাংশের উপর আমদানি কর ও ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

 

অন্যান্য শিল্পে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা প্রদান করা হলেও মোটর সাইকেল শিল্পকে অব্যাহতির আওতায় আনা হয়নি. উদীয়মান শিল্পকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ভ্যাট অব্যাহতির জন্য আমরা আবেদন করছি।

ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে স্থানীয় সরকারের উন্নয়ন বাজেটে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার খাতে বাজেট বরাদ্দ ছিল জিডিপির ৬.৮৭% যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বেড়ে হয়েছিল ৭.০১% এ। কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার খাতে ব্যায় প্রস্তাব করা হয়েছে জিডিপির ৬.১৬% যা ৭% করা হলে স্থানীয় সরকার কাঠামো আরো উন্নত করা যেত এবং এতে করে সকলের প্রত্যাশিত স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ আরো বেগবান হতো।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রসার লাভকল্পে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বিশেষ বরাদ্দ আরো বেশি প্রয়োজন ছিল এবারের বাজেটে প্রস্তাবনায়। তাই কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড তরান্নিত করতে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে বিশেষ বরাদ্দ দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

বিগত কয়েক বছর ধরে জেলাওয়ারি বাজেট দেয়ার কথা থাকলেও এইবারের বাজেটেও এর প্রতিফলন ঘটেনি।  ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আইবিএফবির বাজেট প্রস্তাবনার আলোকে মাননীয় অর্থমন্ত্রী দুটি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে জেলাওয়ারি বাজেটের পরিকল্পনার কথা বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করেছিলেন যা পরবর্তীতে আর কার্যকর হয় নি। এইবারের বাজেট বক্তৃতায় যদিও মাননীয় অর্থমন্ত্রী বলেছেন শহর ও জেলাগুলোর উন্নয়নে কিছুটা বরাদ্দ দেয়া হবে কিন্তূ কোন কোন খাতে কি পরিমান বরাদ্দ দেয়া হবে  এবং জেলাওয়ারি বাজেট এর সাথে তা কিভাবে সম্পৃক্ত সেগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।  উল্লেখ্য, জেলাওয়ারি বাজেট পেলে বাংলাদেশের অনগ্রসর জেলাসমূহগুলো উন্নয়নের মুখ দেখতে পেতো ও সামগ্রিক দেশীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হোত। তাই বরাবরের মতো আইবিএফবি জেলাওয়ারি বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উপর জোর দিচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি দ্রুত মধ্যম আয়ের দেশের কাতারে দাঁড়াতে চায় তাহলে গ্রাম পর্যন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাজেটের সুফল পৌঁছাতে হবে।  ৬৮,০০০০ গ্রামকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ যদি বাজেটের সুফল না পায় তাহলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না। তাই বাজেটকে জেলাওয়ারি করতে হবে এবং বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে এর কাঠামো ও কর্মপরিধি গ্রাম পর্যন্ত বিস্মৃত করতে হবে, যাতে করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এর সুবিধা পেতে পারে এবং গ্রাম পর্যায়ে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।

পিছিয়ে পড়া বিভাগ বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলা এবং উপজিলা গুলোকে মূলধারার উন্নয়ানের সাথে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বাজেটে বরাদ্দ থাকা প্রয়োজন বলে আইবিএফবি বলে আইবিএফবি মনে করে। কোনো একটি বিভাগ অথবা জেলা যদি পিছিয়ে পরে তাহলে ওই অঞ্চলের মানুষগুলোও পিছিয়ে পড়বে এবং এর প্রভাব সামষ্টিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সূচকের উপরও সমানভাবে পড়বে। অন্যদিকে শিল্পায়নের দিক থেকে যেই সকল বিভাগ এবং জেলাসমূহ তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে ভারসম্যমূলক উন্নয়ন নিচিত করার জন্য সেই সকল অঞ্চলের উপরেও বিশেষ গুরুত্বারোপ করতে হবে। শিল্পায়ন ও অর্থনৈকিভাবে  পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহের উন্নয়নের  জন্য বিশেষ প্রণোদনা দেয়া উচিত। বিনিয়োগকারীরা যাতে সেসব অঞ্চলে বিনিয়োগের উৎসাহিত হয় তার জন্য উদ্দীপকমূলক ব্যবস্থা নেয়াসহ ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বাজার ব্যাবস্থার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন, সুষম ব্যাবসায়ের পরিবেশ সৃষ্টি, ও সহজে গ্যাস বিদ্যুৎ প্রাপ্তি নিচ্চিত করতে হবে।

এছাড়া, পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহে বিনিয়োগকারীদের কর অব্যাহতি সুবিধা, কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা ও বিনিয়োগের খাতসমূহগুলো চিহ্নিত করে দিতে হবে যাতে করে তারা সহজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং যাদের জন্য উন্নয়ন তারা যাতে দ্রুত ও সহজে উন্নয়েনের সুবিধা পেতে পারে। পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেমন সাঁওতাল, গারো, চাকমা, হাজং, মুরং ইত্যাদির জন্য পৃথক উন্নয়নমূলক বাজেট অতীব প্রয়োজনীয় বটে। পিছিয়ে পড়া অঞ্চলসমূহ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদাযের জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন তরান্নিত করতে তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বল্প খরচে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলে তা দীর্ঘ মেয়াদে সুফল বয়ে নিয়ে আসবে।

বাজেটে প্রতক্ষ করের অনুপাত পরোক্ষ করের তুলনায় উল্লেলখযোগ্যভাবে কম।  ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রতক্ষ করের পরিমান সর্বমোট কর রাজস্যের ৩৪.৪১% যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছিল ৩৫.৪১% এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে  ছিল ৩০.৮২%।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে  তুলনায় ৪.৫৯% প্রতক্ষ কর বৃদ্ধি পেয়েছিল কিন্তু ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় প্রতক্ষ কর কমেছে ১.০৯%।  প্রতিবছর প্রতক্ষ করের অনুপাত বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অধিকিন্তু,  পরোক্ষ কর বৃদ্ধিতে দেশের গরিব শ্রেণী ক্ষতিগ্রস্থ হয়। প্রতক্ষ কর দেশের ধনিক শ্রেণীর উপর বৃদ্ধি করে ও আরো বেশি পরিমান করদাতাকে করের আওতায় আনলে কর সংগ্রহের পরিমান বৃদ্ধি পাবে।  

অপরদিকে, ২০১৫-১৬, ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সর্বমোট রাজস্যে পরোক্ষ করের অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৬৯.১৮%, ৬৫.৫৯% এবং ৬৫.৬৮%। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পরোক্ষ করে হার অনুপাতে কমেছে ৩.৫৯% এবং  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বেড়েছে ০.০৯%।  ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় সমন্বিতভাবে প্রতক্ষ ও পরোক্ষ করভিত্তিক রাজস্ব বেড়েছে ২৯.৭% যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে  বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪.২৪%। পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে সর্বমোট কর রাজস্যের ৫১.৬% আসে প্রতক্ষ কর থেকে এবং ৪৮.৪% আসে পরোক্ষ কর থেকে। নিউজিল্যান্ডে সর্বমোট কর রাজস্যের ৫৮% আসে প্রতক্ষ কর থেকে এবং ৪২% আসে পরোক্ষ কর থেকে।

অন্যদিকে, ব্যাক্তি খাতে করমুক্ত আয়ের সীমা না বাড়ানোতে কম আয়ের মানুষের উপর চাপ বাড়বে।  যেহেতু ধান চালের দামে বাড়ছে এবং আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৫.৫% ধরা হয়েছে এবং নতুন ভ্যাট আইন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ও সেবার দাম বাড়াবে তাই ব্যাক্তিগত করমুক্ত আয়ের সীমা অন্তত পক্ষে তিন লক্ষ্য টাকা করা এবং করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আরো বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেয়া উচিত ছিল। অন্যদিকে ব্যক্তিপর্যায়ে সম্পদের উপর প্রযোজ্য করের শ্রেণীবিন্যাশ আরো বাড়ানো প্রয়োজন।  সম্পদের উপর করহারের শ্রেণীবিন্যাশ বাড়ানো হলে মানুষ আরো বেশি করে করে দিতে উৎসাহিত হবে।

বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছনোর জন্য আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনয়ন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রা অর্জনে  জন্য খাতভিত্তিক পর্যাপ্ত বরাদ্দ, কৃষি ও উৎপাদন খাতের ভীত মজবুত করা,

স্বাস্থ ও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নজর বৃদ্ধি, আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মানে উপযুক্ত ব্যাবসায়ের পরিবেশ সৃষ্টি ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেয়ার জন্যে বরাদ্দ, বাজেট বিকিন্দ্রীকরণ  এবং সকল ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত করাই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের বিশেষ প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত বলে আইবিএফবি বিশ্বাস করে। 



       
   শেয়ার করুন
Share Button
   আপনার মতামত দিন
     অর্থ-বাণিজ্য
নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা ২৬ জুলাই
.............................................................................................
সুশাসন নিশ্চিত করাই ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটের বিশেষ প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত
.............................................................................................
প্লাস্টিকের তৈজসপত্রে ভ্যাট প্রত্যাহার চায় বিপিজিএমইএ
.............................................................................................
মানব উন্নয়ন সূচকে ৩ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
ব্যয় বাড়ছে ৬০৬ শতাংশ
.............................................................................................
বাংলাদেশের নিটপণ্য রফতানি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে আমিরাত
.............................................................................................
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে এম শোয়েব চৌধুরীর সাক্ষাৎ
.............................................................................................
বাংলাদেশে এলো ইতালির বেনেল্লি
.............................................................................................
সোনালী ব্যাংক পেইপ্যালের মাধ্যমে সেবা দেয়ার অনুমতি পেল
.............................................................................................
বাংলাদেশের বড় চ্যালেঞ্জ এখন বেকারত্ব দূরীকরণ
.............................................................................................
স্বপ্নে পচা মাংস পচা মাংস রাখার দায়ে লাখ টাকা জরিমানা
.............................................................................................
আদর্শবান ও সত্যিকারের ব্যবসায়ীরাই ব্যবসায়ী : বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
বিমান ৪ রুটে ১৫ ফ্লাইট বাড়াচ্ছে
.............................................................................................
Welcome dinner held in sky View Restaurant
.............................................................................................
কোন ব্যাংক ইচ্ছা মত ঋণের সুদহার বাড়াতে পারবে না
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে টানা পাঁচ কার্যদিবস ধরে মূল্যসূচক বেড়েই চলছে
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে মূল্যসূচক আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে
.............................................................................................
৮০০ কোটি ডলার সহায়তা দেবে এডিবি
.............................................................................................
অর্থমন্ত্রী জানান অর্থপাচার কাহিনীর সবটা সঠিক নয়
.............................................................................................
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা হবে
.............................................................................................
প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ১০ কোটি টাকার শেয়ার বেচবে
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে
.............................................................................................
বাংলাদেশি দূতাবাসের কার্যক্রম নিয়ে বিজিএমইএ’র অভিযোগ বিদেশেও
.............................................................................................
পুঁজিবাজারে ৭৬ শতাংশ কোম্পানির দরপতন
.............................................................................................
বাণিজ্য জটিলতা দূরীকরণে ভারতকে এগিয়ে আসতে হবে
.............................................................................................
২০২১ সালে রপ্তানি আয় ৬০ বিলিয়ন ছাড়াবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
প্রবৃদ্ধি অর্জনে ভূমিকা রাখবে কোকাকোলা : অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
বাড়ল সোনার দাম
.............................................................................................
রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ছাড়া কারও চাকরি যাবে না
.............................................................................................
ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে
.............................................................................................
কমার্স ব্যাংকেও পরিবর্তন আসবে: অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
বাণিজ্য মেলায় ৫ শতাধিক মডেলের পণ্য প্রদর্শন করছে ওয়ালটন
.............................................................................................
তৃতীয় দিনে জমে উঠছে বাণিজ্য মেলা
.............................................................................................
বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা লেনদেন বেড়েছে
.............................................................................................
বিদেশি বিনিয়োগ পেতে অবকাঠামো গড়ায় পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে সরকার : শিল্পমন্ত্রী
.............................................................................................
যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী: রুশনারা
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ড.আতিউরকে জিজ্ঞাসাবাদ
.............................................................................................
ওয়ালটন উদ্ভাবন করেছে স্পেকট্রাকিউ-টিভি
.............................................................................................
বাংলাদেশ ব্যাংকের পর আরও রিজার্ভ চুরি হয়েছে
.............................................................................................
পোশাক শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে
.............................................................................................
হোম ও ইলেকট্রিক্যাল এ্যাপ্লায়েন্সেস-এ সিংহভাগ বাজার লাভের পরিকল্পনা করছে ওয়ালটন
.............................................................................................
সম্মাননা পাচ্ছেন ৫১৭ করদাতা
.............................................................................................
গ্যাস লাইন সম্প্রসারণে ১৩শ কোটি টাকা ঋণ পাচ্ছে বাংলাদেশ
.............................................................................................
আবারো কমলো সোনার দাম
.............................................................................................
আয়কর সপ্তাহ শুরু ২৪ নভেম্বর
.............................................................................................
ডিসেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম কমছে
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরি: আরো ৩ কোটি ডলার ফেরত পাওয়ার আশা
.............................................................................................
প্রায় পাঁচ মাস পর সোনার দাম কমলো
.............................................................................................
রিজার্ভ চুরির ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ফেরত পেল বাংলাদেশ
.............................................................................................
আয়কর মেলায় ৪ দিনে আদায় ১ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
[ সম্পাদক মন্ডলী ]
2, RK Mission Road (5th Floor) Motijheel, Dhaka - 1203.
মোবাইল: ০১৭১৩৫৯২৬৯৬, ০১৯১৮১৯৮৮২৫ ই-মেইল : deshkalbd@gmail.com
   All Right Reserved By www.deshkalbd.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]