স্টাফ রিপোর্টার:

বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে যে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন, সেই রাতে ওই হোটেলে ‘অস্বাভাবিক কিছু চোখে পড়েনি’ বলে দাবি করেছেন হোটেলটির ব্যবস্থাপক ফ্রাঙ্ক ফরগেট।

তিনি বলেন, ‘গত ২৮ মার্চ হোটেলটিতে ৫৮ জন স্টাফ কাজ করেছেন। আমরা তাদের সবাইকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তাদের কারো চোখে অস্বাভাবিক কিছু পড়েনি।’

১৩ মে শনিবার সকালে হোটেলটির ফটকের সামনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ সব কথা বলেন।

ফরগেট বলেন, ‘৩০ দিনের বেশি সময়ের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ জমা রাখা হয় না। কেন রাখা হয় না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল হোটেল ট্যুরিজমের নিয়ম অনুযায়ী আমরা ৩০ দিনের বেশি সময়ের ফুটেজ রাখি না।’

তিনি বলেন, ‘আজ হোটেলটিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি দল এসেছেন। তারা সম্ভাব্য সন্দেহভাজন ঘটনাস্থল ঘুরে দেখছেন। অন্যান্য অতিথিদের স্বার্থে আমরা সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছি না।’

ফরগেট জানান, ‘হোটেলটির বারের কোনো লাইসেন্স নেই। এখানে কফি বার রয়েছে। মদের কোনো বার নেই।’

প্রসঙ্গত, গত ২৮ মার্চ রাজধানীর বনানীর ‘দ্য রেইন ট্রি’ হোটেলে ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়। এ অভিযোগে ৬ মে শনিবার রাতে বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ, সাদমান সাকিফ, সাফাতের ড্রাইভার বিল্লাল ও তার দেহরক্ষী আবুল কালাম আজাদ।

এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি করে। আসামিদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি তোলা হয় বিভিন্ন মহল থেকে।

প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা নিতেও বনানী থানা পুলিশ গড়িমসি করেছে বলেও অভিযোগ করেছে। মামলার পর অভিযান চালালেও আসামিদের মধ্যে দুজনকে ধরতে পারে পাঁচদিন পর।

এ ঘটনায় ১১ মে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক নুরুন্নাহার ইয়াসমিনের আদালতে ধর্ষণের শিকার দুই ছাত্রী জবানবন্দি দিয়েছেন। ইতোমধ্যে আসামি সাফাত আহমেদকে ছয় দিন এবং তার সহযোগী সাদমান সাকিফকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।