| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   * রাম নাথ কোভিন্দকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন   * টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : স্পিকার   * বিএনপির লন্ডন মার্কা সহায়ক সরকার জনগণ মানবে না : ওবায়দুল কাদের   * শিগগিরই বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধির গেজেট: আইনমন্ত্রী   * নির্বাচন কমিশনের সচিব পরিবর্তন   * সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * চিকুনগুনিয়া রোগীর বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি   * ‘আকাশ সংস্কৃতিতে যা ক্ষতিকর তা বর্জন করুন’   * সবার সহযো‌গিতায় দুর্যোগ মোকা‌বিলা : ত্রাণমন্ত্রী   * চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন আল্লামা শফী  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   সাক্ষাৎকার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
মেশিন দিয়ে সাক করে ড্রেন আউট করলে চট্টগ্রামে পানি জমবে না ----নূরুল আমীন

ওমর সুলতান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্স এর অন্যতম উদ্যোক্তা পরিচালক নূরুল আমীন বলেছেন, দ্ুই বছর আগে বর্তমান মেয়র যখন ক্ষমতায় আসেন তখন তার সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বলেন, এই জলাবদ্ধতার জন্যে কি করা যায়? আমি তাকে বলি- ‘তুমি সিঙ্গাপুরের মতো করো। সে বলে- সেটা কি? আমি বলি, চারিদিকে ড্রেন করে পানিটাকে মেশিন দিয়ে সাক করে ড্রেন আউট করে ফেলো তাহলে কোন পানি জমবে না। আমার আরেকটি লক্ষ্য আছে। তা হলো- মীরেরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ রোড। এটি ফোর লেন রোড। চাইনীজ প্রেসিডেন্ট যখন এসেছিলেন বাংলাদেশে তখন এই চুক্তি সই হয়েছে। এটি জি টু জি’তে সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট বাংলাদেশের। এই এমব্যাঙ্কমেন্ট রোড টেকনাফ পর্যন্ত যাবে। এ নিয়ে আমি গত ৫ বছর ধরে কাজ করে চলেছি।

তিনি জানান, ওয়ান স্টপ মল যখন আমি করি ১৯৯৬ সালে তখন বাংলাদেশে এমনকি ইন্ডিয়াতে কোন প্রকার মল ব্যবসা ছিল না। আমি দেশ বিদেশ ঘুরে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে ভিত্তি নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে একটা ইকবাল সাহেবের তাকে দিয়ে আমি এইটার ডিজাইন করি এবং ইকবাল সেন্টারে প্রথম মল ওপেন করি। জনাব তোফায়েল আহমেদ তখন ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, তিনি এটির উদ্বোধন করেছিলেন। এই মলের সাড়ার অভূতপূর্ব ছিল। আমার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের পার্ট টাইম মলে কাজে লাগাবো এবং এখানে কাজ করে তারা আয় করা অর্থ পড়াশোনার কাজে লাগাতে পারবে। এই মল ব্যবসা আমি ৭/৮ বছর চালিয়েছি। এই সময়ে এই মল ব্যবসা দেখে অনেক প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যায়। আর দেশ বিদেশে আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমি মল ব্যবসা থেকে পরে নিজেকে গুটিয়ে নেই। সেই সময় আমার ২০ টা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ছিল এবং ২০ হাজার মানুষ কাজ করতো। আমি সব সময়ই টপ কাজ করতাম সমাজে। সবচেয়ে বেশি এক্সপোর্ট করার জন্যে আমি জাতীয় ট্রফি পেয়েছি। ১০ বছর সিআইপি ছিলাম। ২০০৪ সালে এসে আমি এইসব ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে চলে যাই। ২০ টা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এর মধ্যে- গার্মেন্টস, ডায়িং, স্পিনিং মিল নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতাম। পক্ষান্তরে আমি প্রিমিয়াম ব্যাংক এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের সাথে জড়িত হই। বর্তমানে আমি ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবসা বৃদ্ধির কারণে ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে কাজ করছি। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে কাজ করে থাকি। বাংলাদেশের যেই সাফল্য এটি অভূতপূর্ব। এশিয়াতে আর কোন দেশ এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলে আমি মনে করি না। আমি যখন মল ওপেন করেছিলাম একই সময়ে আমার একটি ফাউন্ডেশন ছিল। ওমর সুলতান ফাউন্ডেশন। ওমর আমার মা সুলতান আমার বাবা। আমি তাদের অনেক ছোট বেলায় হারিয়েছিলাম। গার্মেন্টস সেক্টরে যখন আমি সাফল্য অর্জন করি, তারপরে আমি অয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরের সাথে যুক্ত হই এবং রিফাইনারি বানাই।
অন্যএক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্লেক্সিনেশন প্ল্যান্ট, রিফাইনারি এব পাইপলাইন নিয়ে কাজ করি। এর সাথে সাথে বর্তমানে আমি অবকাঠামো নিয়েও কাজ করে চলেছি। আমার সিটি গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ইন্স্যুুরেন্স, ই-কম পাওয়ার, ই-কম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এই কয়েকটি কোম্পানির সাথে আমি জড়িত। এই সব নিয়েই বর্তমানে আমার দৈনন্দিন জীবন যাপন। এখন টেকনোলজির যুগ, বিভিন্ন দেশ থেকে নানা রকমের টেকনোলজি আমাদের আনতে হয়। আমি বর্তমানে বেশিরভাগ সময়ই বাংলাদেশে কাটাই এবং সিঙ্গাপুরে আমার যে অফিস আছে তা দিয়ে টেকনোলজি এবং বিভিন্ন রকমের হাই কোয়ালিটির ডিজাইন এবং ইক্যুইপমেন্টস আমি প্রকিউর করে থাকি।
তিনি বলেন, পোর্ট ডেভেলপমেন্ট ইক্যুইপমেন্টস, কনস্ট্রাকশন ডেভেলপমেন্ট ইক্যুইপমেন্টস, সাইবার সিকিউরিটি ইক্যুইপমেন্টসগুলো আমি সিঙ্গাপুর এর থ্রু থেকে বাংলাদেশে এক্সপোর্ট করে থাকি। এমনকি মালয়েশিয়া, মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ কাভার করে থাকি। বাংলাদেশে আমি অনেক কাজের সাথে যুক্ত। চাইনীজ গভর্নমেন্টের সাথে জি টু জি প্রজেক্টের সাথে জড়িত। যা আমি আমাদের প্রিন্সিপাল দ্বারা করে থাকি।
তার মতে, অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন অন্ততপক্ষে আমার কাছেই তা রূপকথার গল্প মনে হয়। অথচ আমি নিজে এই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। পদ্মা সেতু, মেরিন ড্রাইভ, ঢাকা-সিলেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, আউটার সার্কুলার রোড, পায়রা বন্দর- যে ডেভেলপমেন্টগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে তা অকল্পনীয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার দ্বারাই সম্ভব। পাছে লোকে কিছু বলতে পারে কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার জন্যে বলে। এদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। এরা জানে উন্নতি হচ্ছে, তাই ভেতরে ভেতরে এরা জ¦লছে। কিন্তু তারা উন্নয়ন স্বীকার করতে চায় না।
তিনি বলেন, এবারের বাজেট আরেকটু জনমুখী হলে আরও ভালো হতো। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ যখন বড়লোক হবেন, জনগণের কাছে পয়সা বেশি থাকলে সরকারের নাম হবে, সুনাম বাড়বে। দেশের উন্নতি হবে। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট কিছু কিছু জায়গায় এডজাস্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করি। বিভিন্নভাবে শুল্ক আরোপ করে মানুষকে যে হয়রানি করার প্রচেষ্টা- এই দিক থেকে আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে বলব, তিনি যেন এইসব এডজাস্ট করেন। সিঙ্গাপুর পৃথিবীর সবচেয়ে কস্টলি কান্ট্রি। সেখানে ভ্যাট বা এআইটি মাত্র ৭ শতাংশ। অথচ এই গরিব বাংলাদেশে মানুষের বেতন ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার। এক লাখ টাকা কামাতে মানুষের নাভিশ^াস উঠে যায়। সে কীভাবে ১৫ পারসেন্ট করে দেবে? তার উপরে আছে ব্যাংকে টাকা রাখলে নাকি আবগারি শুল্ক- এই কাজ পৃথিবীর কোথাও আমি দেখিনি। এই কাজ করা ঠিক না। কারণ ব্যবসায়ীর অনেক বড় বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে রাখতে হবে, নিতে হবে। এই টাকা রাখতে নিতেই যদি ট্যাক্স দিতে হয়- তাহলে ব্যবসা করবে কীভাবে? আমি মনে করি সরকার এটা বুঝবেন। তারা জিনিসটাকে সহনীয় পর্যায়ে নেবেন। জনগণের দিকে তাকিয়ে তাদের জীবনযাত্রার দিকে খেয়াল রেখে এটি এডজাস্ট করা হবে- এই প্রত্যাশা আমার।
তার মতে, আমি এলএনজি নিয়ে কাজ করছি। পাওয়ার নিয়ে কাজ করছি, ড্রেজিং নিয়ে কাজ চলছে। রোস্ট নিয়ে এবং বর্তমানে অ্যাকুরিয়াম নিয়ে আমার উদ্যোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সি অ্যাকুরিয়াম রয়েছে আমার। এই রকম অনেক প্রজেক্টের সাথে আমি জড়িত। পোর্ট ইক্যুইপমেন্টস, কন্সট্রাকশন ইক্যুইপমেন্টস, ছোট ছোট প্রজেক্ট বসানোর কাজ করি- সামান্য পরিসরে এই সবই আমার ব্যবসার এরিয়া।
আমাদের ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো খুবই ভালো। যারা এগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা প্রত্যেকেই শিক্ষিত এবং মার্জিত মানুষ। আমাদেরই বন্ধু, আমাদেরই ছোট ভাই, আমাদেরই সহযাত্রী এরা সবাই। বিভিন্ন ইস্যু, ট্যাক্স, নিয়ম কানুন, পলিসি সাপোর্ট নিয়ে তারা সবসময় সরকারের সাথে দেনদরবার করে থাকে। ব্যবসায়ীদের তারা সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। এই সংগঠন এবং ব্যক্তিত্বরা প্রায় সবাই খুবই ভালো কাজ করছেন।
তার মতে, এই বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক হিসাবে দেখি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায়- অনেকেই যান কিন্তু দেখা যায় তার ফ্যাক্টরি ঠিকমতো চলছে না। তাদের অনেককেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে দেখা গেছে। এই বিষয়ে একটু যাচাই বাছাই করে প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ আছে। যাদের ব্যবসায়িক পোর্টফলিও যত সমৃদ্ধ তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, আত্মীয় স্বজন প্লাস পরিচিত বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই সব ক্ষেত্রে কিছু উনিশ বিশ তো হবেই? তাই এই সব বিষয়কে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক না। এই সব ছোটখাট অনিয়ম আস্তে আস্তে পরিশীলিত হয়ে যাবে। সামনের দিকে সবকিছু ক্লিন হয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
তার মতে, বিচার করতে দিলে দেশ বিদেশ ঘুরে আমার যে অভিজ্ঞতা আমি বলব, ইন্ডিয়া বাংলাদেশ পাকিস্তান এই তিনটি দেশকে যদি আপনি নাম্বারিং করেন আমি বাংলাদেশকে দেব দশের মধ্যে ৮। পাকিস্তানকে দেব ১০ এর ভেতরে ৩ আর ইন্ডিয়াকে দেব দশের ভেতরে পাঁচ। এ্যাজ এ হিউম্যান বিং, মানুষ হিসেবে বাংলাদেশ ৮ পাওয়ার যোগ্য। কাজকর্ম, সরলতা এবং যোগ্যতাতে বাংলাদেশ ৮ পাওয়ার যোগ্য। সুতরাং বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে- এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, আমার বয়স তখন ২২ বছর। একটা ছোট ব্যবসা দিয়ে কাস্টম হাউজের সাথে শুরু করেছিলাম। ট্রেড ফরোয়ার্ডিং এন্ড ক্লিয়ারিং এই সব ব্যবসা দিয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথমে কাজ শিখি। কাজ শিখে এসে আমি একটা গার্মেন্টস করি অল্প মেশিন দিয়ে। আমাদের বন্ধু বান্ধব যারা আছে চারিদিকে রব গ্রুপ, ইয়ূথ গ্রুপ, ডেকো গ্রুপ, মোহাম্মদী গ্রুপ- ঢাকার মেয়র আনিসুল হকের দেশ গ্রুপ, আমরা সবাই কিন্তু ১০০/১৫০ মেশিন দিয়ে কারখানা শুরু করি।
ফ্যাশ রব গার্মেন্টস শুরু করে ইমপ্রেস গ্রুপ। ডেকো গ্রুপ শুরু করে কিরণ এন্ড শহীদ। কুদ্দুস ভাই শুরু করে ১৯৯৬ এর পরে এসে সোয়েটার কারখানা। এইভাবে আমরা যারা ওই সময়ের মানুষ, যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আছি। আসলে এদের সাথে কোন কিছুর তুলনাই হয় না। কারণ তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে, প্রচ- কষ্ট করে এই সব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালিয়ে এক্সপোর্ট করে বিদেশ থেকে টাকা এনে এই দেশকে চালায়, নিজেকে চালায় এবং বাংলাদেশকে সামনের দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান। এই সেক্টরে ৩০ বছর কাজ করার ফলে গার্মেন্টস এর প্রতি আমার ভালোবাসা সম্মান অগাধ।
তার মতে, আমি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের মতো দেখতে চাই। বাংলাদেশে এমআরটি দেখতে চাই। বাংলাদেশে কমিউনিটি বাস সার্ভিস দেখতে চাই। শহরের বাসগুলো হবে সিঙ্গাপুর লন্ডন এর মতো। বাংলাদেশের মানুষকে আরও উচ্চ শিক্ষিত দেখতে চাই। এই দেশকে আরও সুশৃঙ্খল দেখতে চাই। তাই আমি বিশ^াস করি বাংলাদেশ পারবে। এই দেশ আশেপাশের দেশ থেকে অনেক উপরে এবং এই জাতি পারবে।
তিনি বলেন, আমরা অলরেডি মালয়েশিয়ার মতো হয়ে গেছি। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে আছে বলে আমি মনে করি না। সেখানে দুটি টুইন টাওয়ার আছে- তার জন্যে কি আমরা পিছিয়ে আছি? আমাদেরও অনেক সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং, সুন্দর সুন্দর অফিস এবং বিভিন্ন এক্টিভিটিজ চলছে। লেখাপড়ায় বলেন, এক্সপোর্টে আমরা সেকেন্ড লার্জেস্ট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। আমরা কোন দিক থেকে মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে আছি? একবারও তা আমি মনে করি না। এই দেশে বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে ইন্ডিয়া থেকে ছাত্ররা এসে ডাক্তারি পড়ছে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। এর মানে কি? আমাদের এডুকেশন সেক্টর অনেক এগিয়ে আছে বর্তমানে। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও মালয়েশিয়া থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা আসতো। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়েও আসতো। তাই মনে করি আমরা মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে নেই। আরও সামনের কান্ট্রিগুলোকে আমরা এখন টার্গেট করছি। আমরা এগিয়ে যাব।

মেশিন দিয়ে সাক করে ড্রেন আউট করলে চট্টগ্রামে পানি জমবে না ----নূরুল আমীন
                                  

ওমর সুলতান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক ও প্রাইম ইন্স্যুরেন্স এর অন্যতম উদ্যোক্তা পরিচালক নূরুল আমীন বলেছেন, দ্ুই বছর আগে বর্তমান মেয়র যখন ক্ষমতায় আসেন তখন তার সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বলেন, এই জলাবদ্ধতার জন্যে কি করা যায়? আমি তাকে বলি- ‘তুমি সিঙ্গাপুরের মতো করো। সে বলে- সেটা কি? আমি বলি, চারিদিকে ড্রেন করে পানিটাকে মেশিন দিয়ে সাক করে ড্রেন আউট করে ফেলো তাহলে কোন পানি জমবে না। আমার আরেকটি লক্ষ্য আছে। তা হলো- মীরেরসরাই থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ রোড। এটি ফোর লেন রোড। চাইনীজ প্রেসিডেন্ট যখন এসেছিলেন বাংলাদেশে তখন এই চুক্তি সই হয়েছে। এটি জি টু জি’তে সবচেয়ে বড় প্রজেক্ট বাংলাদেশের। এই এমব্যাঙ্কমেন্ট রোড টেকনাফ পর্যন্ত যাবে। এ নিয়ে আমি গত ৫ বছর ধরে কাজ করে চলেছি।

তিনি জানান, ওয়ান স্টপ মল যখন আমি করি ১৯৯৬ সালে তখন বাংলাদেশে এমনকি ইন্ডিয়াতে কোন প্রকার মল ব্যবসা ছিল না। আমি দেশ বিদেশ ঘুরে বিভিন্ন আইডিয়া নিয়ে ভিত্তি নামে একটা প্রতিষ্ঠান আছে একটা ইকবাল সাহেবের তাকে দিয়ে আমি এইটার ডিজাইন করি এবং ইকবাল সেন্টারে প্রথম মল ওপেন করি। জনাব তোফায়েল আহমেদ তখন ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী, তিনি এটির উদ্বোধন করেছিলেন। এই মলের সাড়ার অভূতপূর্ব ছিল। আমার উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদের পার্ট টাইম মলে কাজে লাগাবো এবং এখানে কাজ করে তারা আয় করা অর্থ পড়াশোনার কাজে লাগাতে পারবে। এই মল ব্যবসা আমি ৭/৮ বছর চালিয়েছি। এই সময়ে এই মল ব্যবসা দেখে অনেক প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে যায়। আর দেশ বিদেশে আমার ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমি মল ব্যবসা থেকে পরে নিজেকে গুটিয়ে নেই। সেই সময় আমার ২০ টা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি ছিল এবং ২০ হাজার মানুষ কাজ করতো। আমি সব সময়ই টপ কাজ করতাম সমাজে। সবচেয়ে বেশি এক্সপোর্ট করার জন্যে আমি জাতীয় ট্রফি পেয়েছি। ১০ বছর সিআইপি ছিলাম। ২০০৪ সালে এসে আমি এইসব ব্যবসা গুটিয়ে নিয়ে ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে চলে যাই। ২০ টা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি এর মধ্যে- গার্মেন্টস, ডায়িং, স্পিনিং মিল নিয়ে অনেক ব্যস্ত থাকতাম। পক্ষান্তরে আমি প্রিমিয়াম ব্যাংক এবং প্রাইম ইন্স্যুরেন্সের সাথে জড়িত হই। বর্তমানে আমি ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যবসা বৃদ্ধির কারণে ওয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরে কাজ করছি। অবকাঠামো উন্নয়নের জন্যে কাজ করে থাকি। বাংলাদেশের যেই সাফল্য এটি অভূতপূর্ব। এশিয়াতে আর কোন দেশ এত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে বলে আমি মনে করি না। আমি যখন মল ওপেন করেছিলাম একই সময়ে আমার একটি ফাউন্ডেশন ছিল। ওমর সুলতান ফাউন্ডেশন। ওমর আমার মা সুলতান আমার বাবা। আমি তাদের অনেক ছোট বেলায় হারিয়েছিলাম। গার্মেন্টস সেক্টরে যখন আমি সাফল্য অর্জন করি, তারপরে আমি অয়েল এন্ড গ্যাস সেক্টরের সাথে যুক্ত হই এবং রিফাইনারি বানাই।
অন্যএক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্লেক্সিনেশন প্ল্যান্ট, রিফাইনারি এব পাইপলাইন নিয়ে কাজ করি। এর সাথে সাথে বর্তমানে আমি অবকাঠামো নিয়েও কাজ করে চলেছি। আমার সিটি গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, প্রাইম ইন্স্যুুরেন্স, ই-কম পাওয়ার, ই-কম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এই কয়েকটি কোম্পানির সাথে আমি জড়িত। এই সব নিয়েই বর্তমানে আমার দৈনন্দিন জীবন যাপন। এখন টেকনোলজির যুগ, বিভিন্ন দেশ থেকে নানা রকমের টেকনোলজি আমাদের আনতে হয়। আমি বর্তমানে বেশিরভাগ সময়ই বাংলাদেশে কাটাই এবং সিঙ্গাপুরে আমার যে অফিস আছে তা দিয়ে টেকনোলজি এবং বিভিন্ন রকমের হাই কোয়ালিটির ডিজাইন এবং ইক্যুইপমেন্টস আমি প্রকিউর করে থাকি।
তিনি বলেন, পোর্ট ডেভেলপমেন্ট ইক্যুইপমেন্টস, কনস্ট্রাকশন ডেভেলপমেন্ট ইক্যুইপমেন্টস, সাইবার সিকিউরিটি ইক্যুইপমেন্টসগুলো আমি সিঙ্গাপুর এর থ্রু থেকে বাংলাদেশে এক্সপোর্ট করে থাকি। এমনকি মালয়েশিয়া, মায়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ কাভার করে থাকি। বাংলাদেশে আমি অনেক কাজের সাথে যুক্ত। চাইনীজ গভর্নমেন্টের সাথে জি টু জি প্রজেক্টের সাথে জড়িত। যা আমি আমাদের প্রিন্সিপাল দ্বারা করে থাকি।
তার মতে, অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তিনি যে পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন অন্ততপক্ষে আমার কাছেই তা রূপকথার গল্প মনে হয়। অথচ আমি নিজে এই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছি। পদ্মা সেতু, মেরিন ড্রাইভ, ঢাকা-সিলেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, আউটার সার্কুলার রোড, পায়রা বন্দর- যে ডেভেলপমেন্টগুলো হচ্ছে বাংলাদেশে তা অকল্পনীয়। বাংলাদেশের উন্নয়ন একমাত্র বঙ্গবন্ধুর কন্যার দ্বারাই সম্ভব। পাছে লোকে কিছু বলতে পারে কিন্তু তারা ক্ষমতায় আসার জন্যে বলে। এদের অন্য কোন উদ্দেশ্য নাই। এরা জানে উন্নতি হচ্ছে, তাই ভেতরে ভেতরে এরা জ¦লছে। কিন্তু তারা উন্নয়ন স্বীকার করতে চায় না।
তিনি বলেন, এবারের বাজেট আরেকটু জনমুখী হলে আরও ভালো হতো। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক দেশে জনগণ যখন বড়লোক হবেন, জনগণের কাছে পয়সা বেশি থাকলে সরকারের নাম হবে, সুনাম বাড়বে। দেশের উন্নতি হবে। বর্তমান প্রস্তাবিত বাজেট কিছু কিছু জায়গায় এডজাস্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করি। বিভিন্নভাবে শুল্ক আরোপ করে মানুষকে যে হয়রানি করার প্রচেষ্টা- এই দিক থেকে আমি মাননীয় অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে বলব, তিনি যেন এইসব এডজাস্ট করেন। সিঙ্গাপুর পৃথিবীর সবচেয়ে কস্টলি কান্ট্রি। সেখানে ভ্যাট বা এআইটি মাত্র ৭ শতাংশ। অথচ এই গরিব বাংলাদেশে মানুষের বেতন ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার। এক লাখ টাকা কামাতে মানুষের নাভিশ^াস উঠে যায়। সে কীভাবে ১৫ পারসেন্ট করে দেবে? তার উপরে আছে ব্যাংকে টাকা রাখলে নাকি আবগারি শুল্ক- এই কাজ পৃথিবীর কোথাও আমি দেখিনি। এই কাজ করা ঠিক না। কারণ ব্যবসায়ীর অনেক বড় বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে রাখতে হবে, নিতে হবে। এই টাকা রাখতে নিতেই যদি ট্যাক্স দিতে হয়- তাহলে ব্যবসা করবে কীভাবে? আমি মনে করি সরকার এটা বুঝবেন। তারা জিনিসটাকে সহনীয় পর্যায়ে নেবেন। জনগণের দিকে তাকিয়ে তাদের জীবনযাত্রার দিকে খেয়াল রেখে এটি এডজাস্ট করা হবে- এই প্রত্যাশা আমার।
তার মতে, আমি এলএনজি নিয়ে কাজ করছি। পাওয়ার নিয়ে কাজ করছি, ড্রেজিং নিয়ে কাজ চলছে। রোস্ট নিয়ে এবং বর্তমানে অ্যাকুরিয়াম নিয়ে আমার উদ্যোগ রয়েছে। কক্সবাজারে সি অ্যাকুরিয়াম রয়েছে আমার। এই রকম অনেক প্রজেক্টের সাথে আমি জড়িত। পোর্ট ইক্যুইপমেন্টস, কন্সট্রাকশন ইক্যুইপমেন্টস, ছোট ছোট প্রজেক্ট বসানোর কাজ করি- সামান্য পরিসরে এই সবই আমার ব্যবসার এরিয়া।
আমাদের ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো খুবই ভালো। যারা এগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা প্রত্যেকেই শিক্ষিত এবং মার্জিত মানুষ। আমাদেরই বন্ধু, আমাদেরই ছোট ভাই, আমাদেরই সহযাত্রী এরা সবাই। বিভিন্ন ইস্যু, ট্যাক্স, নিয়ম কানুন, পলিসি সাপোর্ট নিয়ে তারা সবসময় সরকারের সাথে দেনদরবার করে থাকে। ব্যবসায়ীদের তারা সাহায্য সহযোগিতা করে থাকেন। এই সংগঠন এবং ব্যক্তিত্বরা প্রায় সবাই খুবই ভালো কাজ করছেন।
তার মতে, এই বিষয়টিকে আমি ইতিবাচক হিসাবে দেখি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক সময় দেখা যায়- অনেকেই যান কিন্তু দেখা যায় তার ফ্যাক্টরি ঠিকমতো চলছে না। তাদের অনেককেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে দেখা গেছে। এই বিষয়ে একটু যাচাই বাছাই করে প্রতিনিধি নির্বাচন করার সুযোগ আছে। যাদের ব্যবসায়িক পোর্টফলিও যত সমৃদ্ধ তাদেরকেই প্রাধান্য দেয়া উচিত।
তিনি বলেন, আত্মীয় স্বজন প্লাস পরিচিত বন্ধুবান্ধব নিয়ে এই সব ক্ষেত্রে কিছু উনিশ বিশ তো হবেই? তাই এই সব বিষয়কে নেতিবাচক হিসেবে দেখা ঠিক না। এই সব ছোটখাট অনিয়ম আস্তে আস্তে পরিশীলিত হয়ে যাবে। সামনের দিকে সবকিছু ক্লিন হয়ে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।
তার মতে, বিচার করতে দিলে দেশ বিদেশ ঘুরে আমার যে অভিজ্ঞতা আমি বলব, ইন্ডিয়া বাংলাদেশ পাকিস্তান এই তিনটি দেশকে যদি আপনি নাম্বারিং করেন আমি বাংলাদেশকে দেব দশের মধ্যে ৮। পাকিস্তানকে দেব ১০ এর ভেতরে ৩ আর ইন্ডিয়াকে দেব দশের ভেতরে পাঁচ। এ্যাজ এ হিউম্যান বিং, মানুষ হিসেবে বাংলাদেশ ৮ পাওয়ার যোগ্য। কাজকর্ম, সরলতা এবং যোগ্যতাতে বাংলাদেশ ৮ পাওয়ার যোগ্য। সুতরাং বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে- এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
তিনি বলেন, আমার বয়স তখন ২২ বছর। একটা ছোট ব্যবসা দিয়ে কাস্টম হাউজের সাথে শুরু করেছিলাম। ট্রেড ফরোয়ার্ডিং এন্ড ক্লিয়ারিং এই সব ব্যবসা দিয়ে আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল। প্রথমে কাজ শিখি। কাজ শিখে এসে আমি একটা গার্মেন্টস করি অল্প মেশিন দিয়ে। আমাদের বন্ধু বান্ধব যারা আছে চারিদিকে রব গ্রুপ, ইয়ূথ গ্রুপ, ডেকো গ্রুপ, মোহাম্মদী গ্রুপ- ঢাকার মেয়র আনিসুল হকের দেশ গ্রুপ, আমরা সবাই কিন্তু ১০০/১৫০ মেশিন দিয়ে কারখানা শুরু করি।
ফ্যাশ রব গার্মেন্টস শুরু করে ইমপ্রেস গ্রুপ। ডেকো গ্রুপ শুরু করে কিরণ এন্ড শহীদ। কুদ্দুস ভাই শুরু করে ১৯৯৬ এর পরে এসে সোয়েটার কারখানা। এইভাবে আমরা যারা ওই সময়ের মানুষ, যারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় আছি। আসলে এদের সাথে কোন কিছুর তুলনাই হয় না। কারণ তারা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে, প্রচ- কষ্ট করে এই সব গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি চালিয়ে এক্সপোর্ট করে বিদেশ থেকে টাকা এনে এই দেশকে চালায়, নিজেকে চালায় এবং বাংলাদেশকে সামনের দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান। এই সেক্টরে ৩০ বছর কাজ করার ফলে গার্মেন্টস এর প্রতি আমার ভালোবাসা সম্মান অগাধ।
তার মতে, আমি বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুরের মতো দেখতে চাই। বাংলাদেশে এমআরটি দেখতে চাই। বাংলাদেশে কমিউনিটি বাস সার্ভিস দেখতে চাই। শহরের বাসগুলো হবে সিঙ্গাপুর লন্ডন এর মতো। বাংলাদেশের মানুষকে আরও উচ্চ শিক্ষিত দেখতে চাই। এই দেশকে আরও সুশৃঙ্খল দেখতে চাই। তাই আমি বিশ^াস করি বাংলাদেশ পারবে। এই দেশ আশেপাশের দেশ থেকে অনেক উপরে এবং এই জাতি পারবে।
তিনি বলেন, আমরা অলরেডি মালয়েশিয়ার মতো হয়ে গেছি। বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে আছে বলে আমি মনে করি না। সেখানে দুটি টুইন টাওয়ার আছে- তার জন্যে কি আমরা পিছিয়ে আছি? আমাদেরও অনেক সুন্দর সুন্দর বিল্ডিং, সুন্দর সুন্দর অফিস এবং বিভিন্ন এক্টিভিটিজ চলছে। লেখাপড়ায় বলেন, এক্সপোর্টে আমরা সেকেন্ড লার্জেস্ট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। আমরা কোন দিক থেকে মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে আছি? একবারও তা আমি মনে করি না। এই দেশে বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে ইন্ডিয়া থেকে ছাত্ররা এসে ডাক্তারি পড়ছে, ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। এর মানে কি? আমাদের এডুকেশন সেক্টর অনেক এগিয়ে আছে বর্তমানে। আজ থেকে ৫০ বছর আগেও মালয়েশিয়া থেকে উচ্চশিক্ষার জন্যে বাংলাদেশে শিক্ষার্থীরা আসতো। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়েও আসতো। তাই মনে করি আমরা মালয়েশিয়া থেকে পিছিয়ে নেই। আরও সামনের কান্ট্রিগুলোকে আমরা এখন টার্গেট করছি। আমরা এগিয়ে যাব।

হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানো যার স্বপ্ন, সেই পরিশ্রমে আজ স্বাবলম্বী ফাতেমা
                                  

রাতুল মন্ডল:

আজ খেয়েছি দু’মোঠো ডালভাত কাল ছেলে মেয়েদের নিয়ে কি খাবো এমন চিন্তায় যার ঘুম আসেনি দু’চোগে। সেই ফাতেমার মুখে এখন সাফল্যের হাসি টয়টুম্বর। এ যেন এক রুপ কথার গল্প। যা বাস্তাবে ভাবা খুব কঠিন। সেই কঠিন অসাধ্য কাজকে সাধ্য করে আজ সফলতার ধারপ্রান্তে ফাতেমা। বৃষ্টিতে তাল পাতার ছাউনির ঘরে অঝরে পানি পড়েছে। অভাবে ভিজেছে সংসারের স্বপ্ন। অর্থ অভাবে বড় সন্তানকে পড়াতে না পারার কষ্ট রয়েছে মনের গভীরে। এ সব কষ্টের দিন এখন কেবলই জীবনের অনেক পিছনে ফেলে আসা স্মৃতির অ্যালবাম। সব অভাব কষ্টকেই সততা আর পরিশ্রম দিয়ে হার মানিয়েছেন এ প্রত্যয়ী সাহসী সংগ্রামী নারী। তার গল্প এখন নিজের গ্রাম ছাড়িয়ে আশপাশের আরো ১০/২০ গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এখন ফাতেমা আক্তার সততা আর পরিশ্রমের মডেল। গাজীপুরের শ্রীপুরের বমরী ইউনিয়নের লাকচতল এলাকার সাহাব উদ্দীনের স্ত্রী তিন সন্তানের গর্বিত জননী ফাতেমা আক্তারের এ বিজয়ের গল্প। নিরিবিলি পল্লীতে সেই অভাবের দিনের কষ্টে অর্জিত ৮ হাজার টাকার পুঁজি নিয়ে গড়ে তুলেন তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের ডিম থেকে ক্যাম্বেল বাচ্চা ফুঁটানোর মিনি হ্যাচারি। আজ সেই ৮ হাজার টাকার স্বল্প পুঁজি পরিশ্রমের বলে দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ টাকার মুলধনে। এখন সংসারে সুখের হাবুডুবু। এক সন্তান সরকারী চাকরীজীবী হয়েছে, অন্য সন্তান হয়েছে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে আইনজীবী। তাল পাতার ছাউনির ঘর হচ্ছে দালান। হয়েছে কয়েক বিঘা সম্পত্তিও । এখন সুখের সংসারে দুঃখ,অর্থনৈতিক দৈন্যদশা কেবলই পুরানো স্মৃতি।

প্রত্যয়ী নারী ফাতেমা আক্তার বলেন, ২০০৯ সালের দিকে অনেক কষ্টে অর্জিত ৮ হাজার টাকার পূঁজিতে অদম্য সাহস নিয়ে তুষ পদ্ধতিতে হ্যারিকেনের তাপের মাধ্যমে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফুঁটানোর মিনি হ্যাচারি গড়ে তুলেন। পাশের বরমী বাজার থেকে মাত্র ৩০০ ডিম নিয়ে খাকী ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানো শুরু করেন। তিনি জানান, এখন প্রতি সপ্তাহে ২০ হাজার ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানো হয় এ মিনি হ্যাচারিতে। আগামীতে সপ্তাহে দুই লাখ হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানোর প্রক্রিয়া করছেন তিনি। তিনি আরো জানান যদি ব্যাংক ঋণ সুবিধা পান তাহলে এ ব্যবসা আরো প্রসারিত করতে পারবেন। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান তাকে সহজ শর্তে যদি ব্যাংক ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয় তাহলে এখানে অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। আশপাশের অনেক বেকার যুবক যুতীদের কাজের ব্যবস্থা করা যাবে।তিনি জানান ফেব্রুয়ারি থেকে সিজন শুরু হয়ে আগামী ৮-৯ মাস বাচ্চা ফুঁটানো ও বিক্রি চলবে।  

বড় ছেলে বাচ্চু প্রধান বলেন, বাড়ি থেকেই পাইকাররা হাঁসের বাচ্চা কিনে নিয়ে যায়। প্রতিটি হাঁসা (পুরুষ) বাচ্চা ২০ টাকা আর হাঁসি (নারী) বাচ্চা ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি করি। সিলেট,কিশোরগঞ্জ,নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১০-১১ টাকায় ডিম কিনে আনি। পাইকাররা ভ্যানে করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন বাজারে গিয়ে বাচ্চা বিক্রি করে।   
আইনজীবী ছেলে মনঞ্জুরুল হক প্রধান জানান, সেই দিনে মায়ের সাহসী সিদ্ধান্তের কারনেই আমাদের ভাগ্যের বদল হয়েছে। আমাদের মা জীবনের সততা আর পরিশ্রম দিয়ে আজকের এ দিনে এসেছে। আমরা মাকে নিয়ে গর্ব করি। মায়ের সততা আর পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা করি।

প্রতিবেশী ইকবাল হোসেন জানান, সততা আর পরিশ্রমের কাছে অভাব পরাজিহ হয় তা প্রমান করেছেন উদ্যমী ফাতেমা আক্তার। তার সুনাম নিজ গ্রাম ছাড়িয়ে আশপাশের ১০/২০ গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। ফাতেমা আক্তার এখন সততা আর পরিশ্রমের মডেল। অনেকেই তাকে অনুসরণ করছে পরিশ্রমকে পূজি করে।
স্থানিয় ইউপি সদস্য মো. ফারুক ঢালী জানান, সততা ,পরিশ্রম ফাতেমা আক্তারকে সুনাম, অর্থ দুই দিয়েছে। অনেক কষ্টের সংসারে সুখ ফিরিয়েছেন তিনি। আল্লাহ তাঁকে পরিশ্রমের সুফল দিয়েছেন। সন্তানদের উচ্চ শিক্ষিত করেছেন এটাই তাঁর বড় সাফল্য।
শ্রীপুর উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আশরাফ হোসেন জানান, এক সময় ফাতেমা আক্তার হাঁস পালন করতেন। পরে মিনি হ্যাচারি করেছেন। আমরা নিয়মিত খোঁজ খবর রাখি। তার সাফল্য আমাদের গর্বিত করে।

উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল জলিল বলেন, উদ্যমী ফাতেমা আক্তার অল্প পুঁজি দিয়ে খাকী ক্যাম্বেল হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানোর যাত্রা শুরু করলেও আজ পুজি বেড়ে কয়েকশগুন হয়েছে। তিনি এখন স্বালম্বী নারী। তাঁর এ সাফল্য অনেক বেকারদের অনুপ্রেরণা যোগাবে। তাঁর পরিশ্রমকে শ্রদ্ধা করি তাঁর আরো সাফল্য কামনা করি।

৬১’এ পা রাখলেন সাংবাদিক মোঃ আতিকুর রহমান স্বপন
                                  

অনলাইন ডেস্ক:

সাংবাদিকতা পেশায় দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ৬১’এ পা রাখলেন দৈনিক দেশকাল ও ডিটিভি বাংলা চ্যানেলের সহকারি সম্পাদক মোঃ আতিকুর রহমান স্বপন। তার জন্ম ১৯৫৮ সালের ২মার্চ, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি, গৌরিপুরের কানোরা গ্রামে। ২০১০ সাল থেকে তিনি দৈনিক ভোরের সময়ের সহকারি সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ইতিপূর্বে দীর্ঘসময়ে সাংবাদিকতার পেশায় জনতার প্রত্যাশায় দৈনিক সমাচার,অপরাধ তথ্য, দৈনিক বাংলার গৌরব, দৈনিক রূপালী, দৈনিক রূপবানীসহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেছেন। ডিটিভি বাংলা ও দৈনিক দেশকালের সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মোঃ আতিকুর রহমান স্বপনকে সহশ্রদ্ধায় শুভেচ্ছা জানাচ্ছে। গুণী

হৃদরোগ নিয়ে ডাঃ দেবি শেঠির সাক্ষাৎকার
                                  

দেবি শেঠি ভারতের বিখ্যাত চিকিৎসক। বলা হয়, বিশ্বের সেরা ১০ জন সার্জনের একজন তিনি।বাংলাদেশেও তিনি বেশ পরিচিত। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের ব্যাঙ্গালোর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে শেঠির নারায়ণা হৃদয়ালয় হাসপাতালটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল।
প্রশ্ন: হৃদরোগ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ নয় এমন মানুষেরা কিভাবে হৃদযন্ত্রের যত্ন নিতে পারে?
দেবি শেঠি: ১. খাবারের বিষয়ে সচেতন হতে হবে। শর্করা এবং চর্বিজাত খাবার কম খেতে হবে। আর আমিষের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে।
২. সপ্তাহে অন্তত পাঁচদিন আধা ঘণ্টা করে হাঁটতে হবে। লিফটে চড়া এড়াতে হবে। একটানা বেশি সময় বসে থাকা যাবে না।
৩. ধূমপান ত্যাগ করতে হবে।
৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৫. রক্তচাপ এবং সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
প্রশ্ন: শাক জাতীয় নয়, এমন খাবার (যেমন মাছ) খাওয়া কি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মাঝে মাঝে শোনা যায় সুস্থ মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। এ বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?
দেবি শেঠি: এটাকে বলে নীরব আক্রমণ। এজন্যই ত্রিশোর্ধ্ব সকলের উচিত নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।
প্রশ্ন: মানুষ কি উত্তরাধিকারসূত্রে হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ পড়ে কেন? এর থেকে উত্তরণের উপায় কি?
দেবি শেঠি: জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। জীবনে সব কিছু নিখুঁত হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।
প্রশ্ন: জগিং করার চেয়ে কি হাঁটা ভারেঅ? নাকি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেয়ার জন্য আরো কঠিন ব্যায়াম জরুরি?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, জগিং করার চেয়ে হাঁটা ভালো। জগিং করলে মানুষ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায় এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়।
প্রশ্ন: দরিদ্র এবং অভাবগ্রস্তদের জন্য আপনি অনেক কিছু করেছেন। এসবের পেছনে অনুপ্রেরণা কি ছিল?
দেবি শেঠি: মাদার তেরেসা। তিনি আমার রোগী ছিলেন।
প্রশ্ন: নিম্ন রক্তচাপে যারা ভোগেন, তারা কি হৃদরোগে আক্রান্ত হতে পারে?
দেবি শেঠি: সেটা হবে খুবই বিরল।
প্রশ্ন: কোলেস্টেরলের মাত্রা কি অল্প বয়স থেকেই বাড়তে থাকে? নাকি ত্রিশের পর এ বিষয়ে চিন্তিত হওয়া উচিত?
দেবি শেঠি: না, কোলেস্টেরলের মাত্রা ছোটবেলা থেকেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।
প্রশ্ন: অনিয়মিত খাদ্যাভাস কিভাবে হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে?
দেবি শেঠি: অনিয়মিত খাদ্যাভাস মানুষকে জাঙ্ক ফুডের দিকে ঠেলে দেয়। আর তখনই হজমের জন্য ব্যবহৃত এনজাইমগুলো দ্বিধায় পড়ে যায়।
প্রশ্ন: ওষুধ ছাড়া কিভাবে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
দেবি শেঠি: নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস, হাঁটাহাঁটি এবং আখরোট খাওয়ার মাধ্যমে।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ভালো এবং সবচেয়ে খারাপ খাবার কোনটি?
দেবি শেঠি: ফল এবং সবজি সবচেয়ে ভাল খাবার। আর সবচেয়ে খারাপ তৈলাক্ত খাবার।
প্রশ্ন: কোন তেল ভালো? সূর্যমুখী নাকি জলপাই?
দেবি শেঠি: যেকোনো তেলই খারাপ।
প্রশ্ন: নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কি নির্দিষ্ট কোনো পরীক্ষা আছে?
দেবি শেঠি: নিয়মিত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সুগার এবং কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তাছাড়া রক্তচাপ পরিমাপও জরুরি।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে প্রাথমিকভাবে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে?
দেবি শেঠি: রোগীকে প্রথমে শুইয়ে দিতে হবে। এরপর জিহ্বার নিচে একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট রাখতে হবে। যদি পাওয়া যায় তবে এ্যাসপিরিনের পাশাপাশি একটি সরবিট্রেট ট্যাবলেটও রাখতে হবে। এরপর দ্রুত হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়।
প্রশ্ন: হৃদরোগজনিত ব্যথা এবং গ্যাস্ট্রিকের ব্যথার মধ্যে পার্থক্য করা যায় কিভাবে?
দেবি শেঠি: ইসিজি ছাড়া এটা সত্যিই খুব কঠিন।
প্রশ্ন: যুবকদের মধ্যে হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত সমস্যার আধিক্যের কারণ কি?
দেবি শেঠি: একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ধূমপান এবং জাঙ্ক ফুড। তাছাড়া ব্যায়াম না করাও একটি প্রধান কারণ। কিছু কিছু দেশের মানুষের জেনেটিক কারণেই ইউরোপিয়ান এবং আমেরিকানদের চেয়ে তিন গুণ বেশি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
প্রশ্ন: রক্তচাপের স্বাভাবিক মাত্রা (১২০/৮০) না থাকলেও কি কেউ পুরোপুরি সুস্থ থাকতে পারে?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ।
প্রশ্ন: নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে করলে সন্তানের হৃদরোগ হতে পারে- এটা কি সত্য?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ। নিকট আত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে জন্মগত অস্বাভাবিকতার দিকে ঠেলে দেয়।
প্রশ্ন: বেশিরভাগ মানুষ অনিয়ন্ত্রিত রুটিন অনুসরণ করে। মাঝে মাঝে মানুষকে অনেক রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হয়। এতে কি হৃদযন্ত্রের ক্ষতি হয়? যদি হয় তবে এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?
দেবি শেঠি: তরুণ বয়সে প্রকৃতি মানুষকে এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে।
প্রশ্ন: অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধ গ্রহণ করলে অন্য কোন জটিলতা তৈরি হয়?
দেবি শেঠি: হ্যাঁ, বেশিরভাগ ওষুধেরই কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে। কিন্তু আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগুলো অনেক নিরাপদ।
প্রশ্ন: অতিরিক্ত চা বা কফি খেলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: অ্যাজমা রোগীদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: জাঙ্ক ফুডকে কিভাবে সংজ্ঞায়িত করবেন?
দেবি শেঠি: যেকোনো ধরনের ফ্রাইড ফুড যেমন কেন্টাকি, ম্যাকডোনাল্ডস, সমুচা। এমনকি মাসালা দোসাও জাঙ্ক ফুড।
প্রশ্ন: আপনার মতে ভারতীয়দের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তিন গুণ বেশি। এর কারণ কি?
দেবি শেঠি: পৃথিবীর প্রতিটি জাতিরই কিছু নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি থাকে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জাতি হিসেবে ভারতীয়দের সবচেয়ে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি।
প্রশ্ন: কলা খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: হার্ট অ্যাটাক হলে কেউ কি নিজে নিজে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। তাকে প্রথমেই শুতে হবে এবং একটি এ্যাসপিরিন ট্যাবলেট জিহবার নিচে রাখতে হবে। এরপর দ্রুত আশপাশের কাউকে বলতে হবে যেন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আমি মনে করি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করা ঠিক নয়। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অ্যাম্বুলেন্স যথাসময়ে হাজির হয় না।
প্রশ্ন: রক্তে শ্বেতকণিকা এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ কমে গেলে কি হৃদরোগ হতে পারে?
দেবি শেঠি: না। কিন্তু নিয়মিত ব্যায়াম করার জন্য হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকা জরুরি।
প্রশ্ন: আমাদের ব্যস্ত জীবনযাত্রার কারণে অনেক সময় ব্যায়াম করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ঘরের স্বাভাবিক কাজের সময় হাঁটাহাঁটি করা অথবা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা কি ব্যায়ামের বিকল্প হতে পারে?
দেবি শেঠি: অবশ্যই। একটানা আধা ঘণ্টার বেশি বসে থাকার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। এমনকি এক চেয়ার থেকে উঠে অন্য চেয়ারে যেয়ে বসাও শরীরের জন্য অনেকটা সহায়ক।
প্রশ্ন: হৃদরোগ এবং রক্তে সুগারের পরিমাণের সাথে কি কোনো সম্পর্ক আছে?
দেবি শেঠি: বেশ গভীর সম্পর্ক আছে। ডায়াবেটিস রোগীদের হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা অনেক।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কি কি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে?
দেবি শেঠি: পরিমিত খাদ্যাভাস, ব্যায়াম, নিয়মিত ওষুধ খাওয়া, কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি রক্তচাপ এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
প্রশ্ন: যারা রাতের শিফটে কাজ করেন তাদের কি হৃদরোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বেশি?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: আধুনিক অ্যান্টি-হাইপারটেনসিভ ওষুধগু কোনগুলো?
দেবি শেঠি: অনেক ওষুধই আছে। এক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া জরুরি। তবে আমার পরামর্শ হলো, ওষুধ এড়িয়ে স্বাভাবিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা। আর সেজন্য নিয়মিত হাঁটা, ওজন কমে এমন খাবার খাওয়া এবং জীবনযাত্রার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
প্রশ্ন: ডিসপিরিন বা এই ধরনের মাথাব্যথা উপশমকারী ট্যাবলেট কি হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়ায়?
দেবি শেঠি: না।
প্রশ্ন: মেয়েদের চেয়ে ছেলেরা কেন হৃদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়?
দেবি শেঠি: প্রকৃতি মেয়েদেরকে ৪৫ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়।
প্রশ্ন: হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার উপায় কি?
দেবি শেঠি: স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। জাঙ্ক ফুড ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন ব্যায়াম করতে হবে। আর বয়স ত্রিশ পার হলে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। অন্তত প্রতি ছয় মাসে একবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেই হবে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির সচিব -ভূইয়া সফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার
                                  


১৯৫৭ সালের ১২ই জানুয়ারী বাগেরহাট জেলার- মোল্লাহাট, উপজেলার দারিয়ালয় গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। কর্ম ও সৃজনের যুগল আলোয় উদ্ভাসিত এক মহান ব্যক্তিত্ব ভূইয়া সফিকুল ইসলাম। সিভিল সার্ভিসের উচ্চ পদে গুরু দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি নীরবে নিভৃতে নিরলসভাবে শিল্পের সাধনা করে চলেছেন তিনি। কবিতা, প্রবন্ধ, সংগীত, সাহিত্য, শিল্পের প্রতিটি শাখায় রয়েছে তার দীপ্ত পদচারনা। তার অধিকাংশ গান ও কবিতাই মানুষ- মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্যবাদ ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্খায়।

দৈনিক দেশকাল ঃ কখন থেকে গান লেখা শুরু করেন? আপনার লেখা প্রথম গানের সিডির নাম কি? এ পর্যন্ত কতগুলো গানের সিডি বাজারে বের হয়েছে? এবং বেশীর ভাগ গান কোন ধরনের?

উত্তর ঃ গান লেখা শুরু প্রায় পাঁচ-ছয় বছর হল। আমার লেখা গানের যে সিডিটি বাজারে প্রথম বের হয় তার নাম “তোমারও স্মরণে সই” এটি মুলত আধুনিক প্রেমের গানের সিডি। সিডির সংখ্যা ১৫টি। ইউটিউবে গিয়েbhuiyan Shafiqul Islam এই নামে সার্চ দিলে আমার গান পাবেন। অধিকাংশ গানেই আমি সুরারোপ করেছি। যেগুলোতে কণ্ঠ দিয়েছেন বাংলা দেশের অনেক বরেণ্য শিল্পীরা।

দৈনিক দেশকাল ঃ আপনার প্রকাশিত গ্রন্থগুলো সম্পর্কে কিছু বলুন।

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ এ পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা ১৭। আমার প্রকাশিত অধিকাংশ বই-ই কবিতার। প্রায় তিনশ কবিতা নিয়ে ২০১৫ সালে বের হয়েছে একটি সংকলন “অশ্রু ওষ্ঠ ও তলোয়ার” শিরনামে ছায়াতল প্রবন্ধ ও গ্রন্থ রবীন্দ্রনাথ আশ্রয়ের। বের করেছে বাংলা একাডেমি। ২০১৬ সালে আরও দুটি বই বের হবে। একটির নাম “প্রবাসে প্রদোষে”। এটি বের হবে খ্যাতিনামা প্রকাশনা “অন্যপ্রকাশ” থেকে, আরেকটি “পুঁথি নিলয়”। বের করবে কালোমন্দ্রস্বর প্রকাশনা থেকে।

দৈনিক দেশকাল ঃ অবসর সময় কি ভাবে কাটাতে পছন্দ করেন।

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ পড়তে ও লিখতে।

দৈনিক দেশকাল ঃ প্রিয় রঙ্গ কিঃ
ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ সবুজ।

দৈনিক দেশকাল ঃ আমরা জানি মার্চ মাস স্বাধীনতার মাস এই স্বাধীনতার মাস সম্পর্কে যদি কিছু বলেন।

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত প্রস্তুতি তৈরীর মাস। আমাদের স্বাধীনতার পথপরিক্রমাটি শুরু হয়েছে পাকিস্তান জন্মের পর থেকেই বলা যায় এবং সেটি সেই জিন্নাহর মুখে বাংলা ভাষার বিরোধিতা নিয়েই শুরু। তারপর ৫২ থেকে বিচিত্র আন্দোলনের ভিতর দিয়ে মার্চে এসে ঠিক আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনটি পূর্ণতা পাই। আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৭ই মার্চের ভাষনই ছিল মূলত স্বাধীনতারই ঘোষনা। সেদিন সেই মহান নেতা জাতির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন তোমাদের যার কাছে যা আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। বঙ্গবন্ধু বন্দী হওয়ার আগে স্বাধীনতার মূল ঘোষনাটিও দিয়ে যেতে ভুল করেননি। সেটিও ২৬ শে মার্চে তিনি সম্পন্ন করেন। এই ২৬শে মার্চ নিয়ে আমি এবার ২টি গান লিখেছি। একটি গান ইতিমধ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী মোঃ রফিকুল আলম এবং গানটির সুর ও সংগীত করেছেন আব্দুল্লাহ খান। গানটি বিটিভি’তে প্রচারিত হবে বলে জানা যায়।

দৈনিক দেশকাল ঃ আপনার বর্ণাঢ্য জীবনে ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই সাফল্যের সে স্বর্ণ স্বাক্ষর রেখেছেন সেটা কিভাবে সম্ভব হয়েছে।

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ কাজই আমার প্রার্থনা, সততা, আমার পুজি। আর দায়িত্বের কথা বলবেন তাতে আমি বরাবরই অবিচল। আমি আমার গুরু বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের এই অমর বাণীতে বিশ্বাসী। আনন্দ চিত্তমাঝে, আনন্দ সর্ব কাজে, আনন্দ সর্বকালে, দুঃখ বিপদজালে। আরও বিশ্বাস করি- যদি দুঃখে সহিতে হয়, তবু মিথ্যা চিন্তা নয়।

দৈনিক দেশকাল ঃ আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য দৈনিক দেশকাল পত্রিকার পক্ষ থেকে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

ভূইয়া সফিকুল ইসলাম ঃ আপনাকে এবং আপনাদের পত্রিকার পাঠকদেরও জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ।
 
- সাক্ষাৎকার গ্রহণ, আব্দুল্লাহ খান

মাধবদী থানা বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো
                                  

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এমদাদুল ইসলাম খোকন,( নরসিংদী) মাধবদী |

পৌরসভাকে মডেল পৌরসভা হিসাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।হাজী মো: মোশাররফ হোসেন মানিক মেয়র মাধবদী পৌরসভা ||

প্রাচ্যের ম্যানচেস্টার খ্যাত শিল্প শহর মাধবদী। নরসিংদী জেলার ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই অঞ্চলটি তাঁত শিল্পের জন্য বহুকাল আগে থেকেই বিখ্যাত। এখানকার উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গী, থ্রীপিস, গামছা সহ বিভিন্ন রকমের কাপড় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হচ্ছে। সব মিলিয়ে মাধবদী পৌরসভাটির অবস্থানগত গুরুত্ব অনেক। ১৯৯৪ইং সনের ২রা জুলাই মাধবদী পৌরসভাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে খুব দ্রুত পাল্টাতে থাকে মাধবদীর চিত্র। ৬.০৪ বর্গ কি.মি আয়তনের এ পৌরসভাটিতে বর্তমানে ১২টি ওয়ার্ড রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে হাজী মো: মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক ১২ হাজার ১৯৭ ভোট পেয়ে নতুন মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। মাধবদী পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ২১ বছরে আওয়ামীলীগ থেকে তিনিই প্রথম নির্বাচিত মেয়র।
মেয়রের পিতা মরহুম লোকমান হোসেন প্রধান আওয়ামীলীগের একজন প্রভাবশালী নেতা ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ছিলেন। বাবার আদর্শে অনুপ্রাণিত আওয়ামী রাজনীতিক পরিবার থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান এ নেতাও একাধারে একজন সফল রাজনীতিক,ব্যবসায়ী, সংগঠক ও সমাজসেবক। ১৯৯০ সনে মাধবদী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াকালে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি পদের দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে তার অভিষেক হয়। এরপর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও মাধবদী বাজার মার্চেন্ট এসোসিয়েশন, মাধবদী এসপি ইনস্টিটিউশন সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে ২০১৪ সনে মাধবদী শহর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও নরসিংদী সদরের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম হিরু (বীরপ্রতীক)এর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত সোনালী গ্রুপের চেয়ারম্যান হাজী মো: মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিক গত ১৪ ফেব্রুয়ারী নতুন মেয়র হিসেবে শপথ নেন। এক সাক্ষাতকারে মাধবদী পৌরসভার মেয়র বলেন, মাধবদীকে থানা ঘোষণা করায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী লে. ক. নজরুল ইসলাম হীরু (অব.) বীর প্রতীককে জানাই মাধবদী বাসি ও মাধবদী পৌরসভার পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিন্দন। এই ঘোষণায় মাধবদীর সবাই উল্লসিত ও আনন্দিত। তিনি আরও বলেন, মাধবদী পৌরসভাকে যানজট, মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত পরিচ্ছন্ন একটি আধুনিক মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চান। মেয়র মোশাররফ বলেন, দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ অনেক আশা নিয়ে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন এই জন্য সর্বস্তরের  ভোটারদের কাছে আমি চির ঋণী। এই ঋণ কোনো কিছুর বিনিময়েই শোধ হওয়ার মতো নয়। আমি আমার সর্ব শক্তি দিয়ে নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া অঙ্গীকার পূরণের চেষ্টা করে যাবো। তিনি বলেন, আমি দলমতের ঊর্ধ্বে থেকে সর্বস্তরের জনগনের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই। এজন্য সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের সহযোগীতা প্রয়োজন। মাধবদী পৌরসভার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন মাধবদীর অন্যতম সমস্যা যানজট ও ধূলাবালি। বাজারে প্রবেশ পথের ৩টি অপরিকল্পিত সরু ব্রীজ, অপর্যাপ্ত রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো ও নির্মাণ সামগ্রী রাখা যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অতিসত্বর ব্রীজগুলো পূণ:নির্মাণ ও ফুটপাতের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করত যানজট নিরসনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ইতিমধ্যেই ব্রীজগুলো পূণ: নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলেও  তিনি জানান। এছাড়াও মাধবদীর বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট প্রশস্তকরণ, বিকল্প রাস্তা তৈরী, থানা বাস্তবায়ন, আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ, বিনোদন পার্ক নির্মাণ, কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন, সৌন্দর্য বৃদ্ধি, তোড়ণ নির্মাণ ও পৃথক শিল্প এলাকা স্থাপন সহ জনকল্যানমূখী বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও বৃক্ষরোপণ করে সবুজ শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে মাধবদীকে তিনি বাংলাদেশের মধ্যে একটি মডেল পৌরসভায় পরিণত করতে চান।  ব্রহ্মপূত্র নদ সং¯কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী মেয়র হাজী মো: ইলিয়াছ এটাকে সং¯কার করে আধুনিক লেকে রুপান্তর করতে যে প্রকল্প হাতে নিয়েছিলেন আমি তা বাতিল করে দেয়ার পক্ষে নই বরং অতি দ্রুত তা বাস্তবায়ন করে তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ পরিপূর্ণ করতে চাই। এজন্য তিনি পূর্ববর্তী মেয়রের সহযোগীতা কামনা করেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ প্রসঙ্গে নির্ভীক মেয়র মোশাররফ বলেন মাধবদী পৌরসভা বাংলাদেশের একটি অন্যতম ব্যবসা সমৃদ্ধ অঞ্চল। তাই এখানকার ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব রকমের সন্ত্রাসী ও চাাঁদাবাজী নির্মূল করা আমার অন্যতম চ্যালেঞ্জ। তিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে হলেও এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার কথা জানান। এছাড়া শিল্প এলাকা হিসেবে মাধবদীতে জমির  মূল্য অত্যাধিক হওয়ায় একশ্রেণীর সুবিধাভোগী মানুষ বিভিন্ন মানুষের জমির অংশ কিনে বিশৃঙ্খলা ¯ৃষ্টি করে থাকে। এসব সুবিধাভোগীদেরকে পর্চা ব্যাপারী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন এসব থেকে বিরত থাকুন। কারো কোন সমস্যা বা অভিযোগ থাকলে তার অফিসে সরাসরি এসে তার সমাধানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন আমার অফিস মানে পৌরবাসী প্রতিটি নাগরিকের অফিস। যেকোন প্রয়োজনে আপনাদের জন্য আমার অফিসের দরজা সবসময় খোলা। সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতিবার দিনটিকে শুধুমাত্র নাগরিক দুর্ভোগ শোনার জন্য তিনি গণশুণানীর দিন হিসেবে ধার্য্য করেন। পৌরবাসীর সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে তার সবধরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে একটি আদর্শ মডেল পৌরসভা উপহার দেয়াই হবে তার প্রথম এবং অন্যতম লক্ষ্য বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্য  সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া এবং  যুব সমাজকে মাদকের  হাত থেকে রক্ষা করে মাদকমুক্ত সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করার প্রত্যয়ও তিনি ব্যক্ত করেন । এই প্রতিবেদকের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে পৌর মেয়র মোশাররফ প্রধান মানিক  প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচনকে গণতন্ত্রের চর্চা উল্লেখ করে  দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তিনি  ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও  তিনি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও নরসিংদী সদরের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম হিরু (বীরপ্রতীক), সহ রাজনীতিতে তার প্রবেশকালীন  গুরু আড়াইহাজারের এমপি আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু ও সাবেক থানা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জায়েদুর রহমান ভুইয়ার নাম কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন। তিনি বলেন রাজনৈতিকভাবে আমি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতির পাশাপাশি আমি আজীবন মাধবদীর আপামর মানুষের সেবা করে যেতে চাই।


প্রফেশনাল একাউন্টিংয়ের চাহিদা বিশ্বব্যাপী, ড. আনিসুর রহমান খান,
                                  

ক্রমেই বাড়ছে বেকারত্নের হার। সাথে বাড়ছে অবিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা। ফলে তারা খুজে খুজে ঐসব কোর্সের উপর ডিগ্রি নিচ্ছে যার রয়েছে গ্লোবাল চাহিদা এবং চাকরি পাবার ক্ষেত্রে সর্বাধিক প্রাধান্য। এধরনের কোর্সের অন্যতম হচ্ছে প্রফেশনাল একাউন্টিং ডিগ্রি। বাংলাদেশে এই কোর্সটি ২০০১ সাল থেকে সবচেয়ে সাফল্যজনক হারে পরিচালনা করছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজ। এই কোর্সের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি কথা হয় চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেযারম্যান ড. আনিসুর রহমান খানের সাথে।

তিনি বলেন, এদেশে পেশাদারী কোর্সের স্বল্পতা, বিষয় ভিত্তিক ডিগ্রি গ্রহণের জটিলতা প্রভৃতি কারণে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থী তাদের পছন্দের অনেক কোর্স করতে পারে না। কিন্তু শিক্ষার্থী যে কোনো বিভাগে হতে পাশ করে প্রফেশনাল একাউন্টিং বা ব্রিটিশ সিএ সম্পন্ন করে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাকরি করার সুযোগ পেতে পারে। এটি ব্রিটিশ কারিকুলামের সিএ ডিগ্রি এবং এর রয়েছে পুরো বিশ্ব জুড়ে গ্রহণযোগ্যতা। এসিসিএ বিশ্বের বৃহত্তম প্রফেশনাল একাউন্টিং বডি। এই কোর্সে মুল বডি একই হবার কারণে ইংল্যান্ড সহ বিশ্বের ১৭৩ দেশে পড়াশোনার জন্যে পুরো পুরি ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়।
অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্যারিয়ার গড়তে প্রফেশনালদের কাছে এসব কোর্সের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বিবিএ এমবিএ পড়তে হলে এইচএসসি পাশের পর বিবিএ’র জন্যে ৪ বছর স্নাতক ডিগ্রির পাশের পর এমবিএ’র জন্যে ২/৩ বছর অর্থাৎ প্রায় ৬/৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু এইচএসসি/ স্নাতক ডিগ্রির পর যে কোনো শিক্ষার্থী ৩/৪ বছরে আন্তর্জাতিক মানের চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট হতে পারে একই সাথে পেতে পারে অক্সফোর্ড ব্র“কস ইউনিভার্সিটির এপ্লাইড একউন্টিংস-এ অনার্স ডিগ্রি। অন্য দিকে এসিসিএ বিষয়ে ১০০ নম্বরে পরীক্ষার্থী ৫০ পেলেই পাস করে। আর এর পরীক্ষা পদ্ধতী অনেক সহজ। এইচএসসি’র উত্তীর্ণের পর এত কম সময়ে এসিসিএ এবং এপ্লাইড একউন্টিংয়ে বিএসসি অনার্স অর্জন করা শিক্ষার্থীদের জন্যে অসাধারণ সুযোগ।
তিনি বলেন, বছরে জুন ও ডিসেম্বরে দুইবার ব্রিটিশ কাউন্সিলে এক সাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়া যায়। তবে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষা বছরের যেকোনো সময় যে কোনো দিন হতে পারে। যদি কেউ একটি বিষয়ে ফেল করে তবে শুধু ঐ বিষয়ে পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে পারে। যে কারো এইচএসসি ও-লেভেল করা থাকলে সিএটি করতে পারে।
আনিসুর রহমান খান বলেন, আমরা কোয়ালিটিতে বিশ্বাসী। যে কারণে আমাদের কলেজ এই শিক্ষা পরিচালনায় সবচেয়ে বেশি সুনাম অর্জন করে চলেছে। এখানে কেবল সেই শিক্ষকরা ক্লাস নেন যারা সিএটি/এসিসিএ সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। এছাড়া আমরা নিজস্ব সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার প্র্যাকটিস্ করিয়ে থাকি। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা ফাইনাল পরীক্ষায় ভাল ফল লাভ করে।
তিনি বলেন, এসএসসি/এইচএসসি পাশ শিক্ষার্থীরা সিএটি কোর্সে ভর্তি হতে পারে। ঈঅঞ করার পর এসিসিএ কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়। অন্যদিকে এইচএসসি বা ও লেভেল শেষে এফডি-তে ভর্তি হয়ে সিএটি সম্পন্ন করতে পারে। আবার এ-লেভেল বা যেকোনো বিভাগ থেকে ব্যচেলর ডিগ্রি করা থাকলে সরাসরি এসিসিএ ক্লাসে ভর্তি হওয়া যায়। করো অনার্স, মাস্টার্স, সিএ, আইসিএমএ কোয়ালিফিকেশন থাকলে ৯টি বিষয় পর্যন্ত অব্যহতি পেতে পারে। ফাউন্ডেশন ডিপ্লোমা (ঋউ) হচ্ছে এসিসিএ’র এন্ট্রি লেভেলের সুট অব কোয়ালিফিকেশনস যা থেকে শিক্ষার্থীরা পুর্বের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে চমৎকার কোর্স বেছে নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোর্সটি দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা যায় অনেক কম খরচে। এসিসিএ-তে একসাথে একটি থেকে চারটি বিষয়ের উপর পরীক্ষা দেওয়া যায়। এর পরীক্ষা পদ্ধতি যথেষ্ট সহজ। কোনো এক বিষয় ফেল করলে এক বিষয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। কোর্সটি ব্রিটিশ কাউন্সিলে পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। পরীক্ষা বছরে জুন এবং ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। তবে কম্পিউটার বেসড পরীরা বছরের যেকোনো সময় হতে পারে। বাংলাদেশে এই কোর্সে সর্বাধীক সাফল্য রয়েছে চার্টার্ড ইউনিভার্সিটি কলেজের। একাধীক ক্যাম্পাস ছাড়াও রয়েছে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কম্পিউটার বেজড পরীক্ষার দেবার সুযোগ। যোগাযোগ, বাড়ি- ৫১, রোড ১০/এ, ধানমন্ডি, িি.িপঁপবফঁ.পড়স

   Page 1 of 1
     সাক্ষাৎকার
মেশিন দিয়ে সাক করে ড্রেন আউট করলে চট্টগ্রামে পানি জমবে না ----নূরুল আমীন
.............................................................................................
হাঁসের বাচ্চা ফুঁটানো যার স্বপ্ন, সেই পরিশ্রমে আজ স্বাবলম্বী ফাতেমা
.............................................................................................
৬১’এ পা রাখলেন সাংবাদিক মোঃ আতিকুর রহমান স্বপন
.............................................................................................
হৃদরোগ নিয়ে ডাঃ দেবি শেঠির সাক্ষাৎকার
.............................................................................................
মহামান্য রাষ্ট্রপতির সচিব -ভূইয়া সফিকুল ইসলামের সাক্ষাৎকার
.............................................................................................
মাধবদী থানা বাস্তবায়ন হওয়ায় এলাকার দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো
.............................................................................................
প্রফেশনাল একাউন্টিংয়ের চাহিদা বিশ্বব্যাপী, ড. আনিসুর রহমান খান,
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
[ সম্পাদক মন্ডলী ]
2, RK Mission Road (5th Floor) Motijheel, Dhaka - 1203.
মোবাইল: ০১৭১৩৫৯২৬৯৬, ০১৯১৮১৯৮৮২৫ ই-মেইল : deshkalbd@gmail.com
   All Right Reserved By www.deshkalbd.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]