| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
   * রাম নাথ কোভিন্দকে শেখ হাসিনার অভিনন্দন   * টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে : স্পিকার   * বিএনপির লন্ডন মার্কা সহায়ক সরকার জনগণ মানবে না : ওবায়দুল কাদের   * শিগগিরই বিচারকদের শৃঙ্খলা বিধির গেজেট: আইনমন্ত্রী   * নির্বাচন কমিশনের সচিব পরিবর্তন   * সরকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * চিকুনগুনিয়া রোগীর বাড়ি গিয়ে চিকিৎসা দেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি   * ‘আকাশ সংস্কৃতিতে যা ক্ষতিকর তা বর্জন করুন’   * সবার সহযো‌গিতায় দুর্যোগ মোকা‌বিলা : ত্রাণমন্ত্রী   * চিকিৎসার জন্য ভারতে যাচ্ছেন আল্লামা শফী  
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   উপ-সম্পাদকীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় চলছে ভারতীয় তীর খেলা

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ থেকে:
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় অবিনব কায়দায় চলছে ভারতীয় তীর খেলার বানিজ্য। তীর খেলার নামে জুয়ার আসর দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তীর কাউন্টার ডটকম অনলাইন খেলার নামে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ও সীমান্ত এলাকার গ্রাম গুলোতে। এই জুয়া খেলার আসক্ত হয়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে সমাজের একটি বিরাট জনগোষ্টি। যাদের অধিকাংশই তরুন। তারাই দেশের ভবিষ্যত্ব তারাই দিন দিন এই খেলায় ১০টাকায় ৭শত টাকা লাভের আশায় অন্ধকারের দিকে দাবিত হচ্ছে সবার সামনেই। এদের একটি অংশ এই জুয়া খেলার হাত পাকা পুক্ত করে আরও বড় জুয়ারী এবং অপরাধিতে পরিনত হচ্ছে। এই সর্বনাশা পতনের হাত থেকে উঠতি বয়সী যুব সমাজ কে বাচাঁতে আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ,পরিবারের অভিবাবকগন গুরুত্বসহ কারে সন্তানদের দিকে নজর রাখতে হবে না হলে ধংশ হবে সন্তানদের নিয়ে ভবিষত্বের সকল স্বপ্ন আশা। তীর খেলার পরিচালনাকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসন কে মেনেজ করেই খেলা পরিচালিত করছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। জানাযায়,এই জুয়ার আসরটি পরিচালিত হয় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে। আর এই খেলায় স্থানীয় এজেন্টের কাছ থেকে ১০টাকা থেকে ২০টাকা মূল্যের কুপন কিনেন স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল পরোয়া শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। বাদ পড়ছে না শ্রমিক, ব্যবসায়ী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও। স্থানীয় এজেন্টরা তাদের কাছ থেকে কেনা কুপনের কমিশন রেখে বাকি টাকা পাঠিয়ে দেয় ভারতের তীর খেলা পরিচালনা কারীদের কাছে। তথাকথিত তীর খেলাটি এখন একটি আন্ত-রাষ্ট্রীয় জুয়া খেলা পরিনত হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু তরুন সমাজ অর্থ খোয়াচ্ছেন না এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এ দেশের লাখ লাখ টাকা ভারতে পাচার হচ্ছে প্রতিদিন। এ খেলার সুনামগঞ্জ জেলা সহ দেশের আনাচে কানাছে হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকছে এদেশের স্থানীয় খেলা পরিচালনার সহযোগীতা কারীর ঐ সব মূলহুতারা। ফলে বাড়ছে এই খেলার চাহিদা। এই খেলা সাপ্তাহের ৬দিন দৈনিক ২বার করে চলে। এই খেলাটি সরাসরি চলে না। চলে অনলাইনের মাধ্যমে। এই খেলায় ১-৯৯পর্যন্ত সংখ্যার চরকি থাকে। যারা এই খেলায় অংশ নিতে চায় তারা এই সংখ্যা গুলো থেকে একটির উপর বাজি ধরে। যে সংখাটির উপর তীর বীদ্ধ হয় তারাই বিজয়ী এবং তারা বিজয়ী হিসাবে ১০টাকায় ৭শত টাকা পায়। যাদের তীর পরে নি তারাই পরাজিত। জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের নতুন বজার, বড়ছড়া,চারাগাঁও, বাগলী, লাকমা, টেকেরঘাট সহ বিভিন্ন গ্রাম গুলো সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এই খেলা চলছে বেশি স্থানীয় দালালদের প্ররোচনায়। সীমান্ত এলাকা ও হাওরপাড়ের সচেতন মহল জানান, শুধু তীর খেলা নয় হাওর পাড়ের ও সীমান্তের জনপথে ব্লুফিল্ম প্রদশন, ভিডিও গেমস, নেশা জাতীয় সকল পন্য পরিচালনার আসর গড়েছে পাকাপুক্ত ভাবে। জাতীর একটি অংশকে নিঃশ্বেস করে দিচ্ছে শুরুতেই একবারে ভেতর থেকে। অথচ সবাই নির্বিকার। সামন্য কিছু পাবার আশায় একটি বড় অংশ যাদের উপর দেশের ভবিষত্ব তারাই নষ্ট হচ্ছে,নষ্ট করে দিচ্ছে সুকৌশুলে স্থানীয় দালালারা।এখনেই এই সব বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভেঙ্গে পড়বে সামাজিক অবকাঠামো, আইন-শৃংখলা, পরশপরের প্রতি ভ্রাতিত্ববোধ। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, এই তীর খেলাটি নির্মোলে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করি। তীর খেলা একবারেই নির্মোল করতে হলে বাবা,মা পরিবারের সকল সদস্য সহ নিজ নিজ এলাকার সবাই সচেতন হতে হবে। সব সময় ছেলেদের খোঁজ রাখতে হবে তারা কোথায় যায় কি করে তা হলে কিছুটা হলেও নির্মোল করা সম্ভব হবে।

হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় চলছে ভারতীয় তীর খেলা
                                  

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, সুনামগঞ্জ থেকে:
সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় অবিনব কায়দায় চলছে ভারতীয় তীর খেলার বানিজ্য। তীর খেলার নামে জুয়ার আসর দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে তীর কাউন্টার ডটকম অনলাইন খেলার নামে হাওরপাড়ের বিভিন্ন গ্রাম ও সীমান্ত এলাকার গ্রাম গুলোতে। এই জুয়া খেলার আসক্ত হয়ে অন্ধকারে ডুবে যাচ্ছে সমাজের একটি বিরাট জনগোষ্টি। যাদের অধিকাংশই তরুন। তারাই দেশের ভবিষ্যত্ব তারাই দিন দিন এই খেলায় ১০টাকায় ৭শত টাকা লাভের আশায় অন্ধকারের দিকে দাবিত হচ্ছে সবার সামনেই। এদের একটি অংশ এই জুয়া খেলার হাত পাকা পুক্ত করে আরও বড় জুয়ারী এবং অপরাধিতে পরিনত হচ্ছে। এই সর্বনাশা পতনের হাত থেকে উঠতি বয়সী যুব সমাজ কে বাচাঁতে আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর হস্তক্ষেপ,পরিবারের অভিবাবকগন গুরুত্বসহ কারে সন্তানদের দিকে নজর রাখতে হবে না হলে ধংশ হবে সন্তানদের নিয়ে ভবিষত্বের সকল স্বপ্ন আশা। তীর খেলার পরিচালনাকারীরা স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসন কে মেনেজ করেই খেলা পরিচালিত করছে বলে মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল। জানাযায়,এই জুয়ার আসরটি পরিচালিত হয় ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে। আর এই খেলায় স্থানীয় এজেন্টের কাছ থেকে ১০টাকা থেকে ২০টাকা মূল্যের কুপন কিনেন স্থানীয় প্রাইমারী স্কুল পরোয়া শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক পড়–য়া শিক্ষার্থীরা। বাদ পড়ছে না শ্রমিক, ব্যবসায়ী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও। স্থানীয় এজেন্টরা তাদের কাছ থেকে কেনা কুপনের কমিশন রেখে বাকি টাকা পাঠিয়ে দেয় ভারতের তীর খেলা পরিচালনা কারীদের কাছে। তথাকথিত তীর খেলাটি এখন একটি আন্ত-রাষ্ট্রীয় জুয়া খেলা পরিনত হয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু তরুন সমাজ অর্থ খোয়াচ্ছেন না এর মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে এ দেশের লাখ লাখ টাকা ভারতে পাচার হচ্ছে প্রতিদিন। এ খেলার সুনামগঞ্জ জেলা সহ দেশের আনাচে কানাছে হলেও ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থাকছে এদেশের স্থানীয় খেলা পরিচালনার সহযোগীতা কারীর ঐ সব মূলহুতারা। ফলে বাড়ছে এই খেলার চাহিদা। এই খেলা সাপ্তাহের ৬দিন দৈনিক ২বার করে চলে। এই খেলাটি সরাসরি চলে না। চলে অনলাইনের মাধ্যমে। এই খেলায় ১-৯৯পর্যন্ত সংখ্যার চরকি থাকে। যারা এই খেলায় অংশ নিতে চায় তারা এই সংখ্যা গুলো থেকে একটির উপর বাজি ধরে। যে সংখাটির উপর তীর বীদ্ধ হয় তারাই বিজয়ী এবং তারা বিজয়ী হিসাবে ১০টাকায় ৭শত টাকা পায়। যাদের তীর পরে নি তারাই পরাজিত। জেলার তাহিরপুর উপজেলার উত্তরশ্রীপুর ইউনিয়নের নতুন বজার, বড়ছড়া,চারাগাঁও, বাগলী, লাকমা, টেকেরঘাট সহ বিভিন্ন গ্রাম গুলো সীমান্ত এলাকা হওয়ায় এই খেলা চলছে বেশি স্থানীয় দালালদের প্ররোচনায়। সীমান্ত এলাকা ও হাওরপাড়ের সচেতন মহল জানান, শুধু তীর খেলা নয় হাওর পাড়ের ও সীমান্তের জনপথে ব্লুফিল্ম প্রদশন, ভিডিও গেমস, নেশা জাতীয় সকল পন্য পরিচালনার আসর গড়েছে পাকাপুক্ত ভাবে। জাতীর একটি অংশকে নিঃশ্বেস করে দিচ্ছে শুরুতেই একবারে ভেতর থেকে। অথচ সবাই নির্বিকার। সামন্য কিছু পাবার আশায় একটি বড় অংশ যাদের উপর দেশের ভবিষত্ব তারাই নষ্ট হচ্ছে,নষ্ট করে দিচ্ছে সুকৌশুলে স্থানীয় দালালারা।এখনেই এই সব বিষয়ে প্রতিরোধ গড়ে না তুললে ভেঙ্গে পড়বে সামাজিক অবকাঠামো, আইন-শৃংখলা, পরশপরের প্রতি ভ্রাতিত্ববোধ। তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, এই তীর খেলাটি নির্মোলে গুরুত্ব সহকারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করি। তীর খেলা একবারেই নির্মোল করতে হলে বাবা,মা পরিবারের সকল সদস্য সহ নিজ নিজ এলাকার সবাই সচেতন হতে হবে। সব সময় ছেলেদের খোঁজ রাখতে হবে তারা কোথায় যায় কি করে তা হলে কিছুটা হলেও নির্মোল করা সম্ভব হবে।

নৈতিকতা গড়া ধ্বংস করা উভয়ের কারিগর "অভিবাবক"
                                  
নাজমুসা সাকিব সাদী:
প্রতিটি শিশুর মানুষিক বিকাশ তার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপর নির্ভর করে। শুধু শিশু না, প্রাপ্ত বয়স্করাও তাদের পারিপার্শ্ব দ্বারা প্রভাবিত হয়। যেমন শহরে রাত ১২/১ টায় ঘুমোতে যাওয়া মানুষটাও গ্রামে গেলে ৯/১০ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পরে।
তবে শিশুর ক্ষেত্র এই প্রভাবটা চরম রকম। একটি শিশু জন্মের পর, একটুকরো নরম মাটির মতন। একে যেভাবে গড়া হবে, সে সেই আকৃতিই ধারন করবে।  শিশুর কথাবার্তা, চলাফেরা, আচার-আচরন, স্বভাব-চরিত্র সবই এই পরিবেশের দান। 
জন্ম থেকেই কেউ জজ-ব্যারিস্টার বা চোর-ডাকাত হয়ে জন্ম নেয় না। তার জন্মের পর তার বাবা-মা, ভাই-বোন তথা তার ঘরের প্রত্যেকটি মানুষের চারিত্রিক প্রভাব ওই শিশুর উপর পরে। আবার একটু বড় হলে বন্ধু, প্রতিবেশীর আচার-আচরন তাকে প্রভাবিত করে।
একটি শিশু ভালো-মন্দের তফাত করতে পারে না। সে যা কিছু দেখে মনে করে, ওই লোক যেহেতু করে আমিও করতে পারি। যেমন বাবা-মার সাথে মার্কেটে গিয়ে সে দেখছে যে যার মত জিনিসপত্র নিচ্ছে। হয়তো তখনো সে মূল্য পরিশোধের বিষয়টা যানে না। সেও ওই একই রকম একটি জিনিস নিয়ে যাচ্ছে। এরপর বাবা-মা বিষয়টি টের পাওয়ার পর যদি শিশুটিকে ভৎসনা দেয়, সেটা শিশুটির জন্য বিরাট ক্ষতির কারন। আবার যদি কিছু না বলে তাহলেও সে বুঝতে পারবে না। তাই বাবা-মার উচিত হবে মূল বিষয়টি শিশুকে বুঝিয়ে বলা।
একটি মানুষ গড়ে ওঠার মূল কারিগর তার পরিবার। পরিবার থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুটি বাস্তবিক জীবনে প্রবেশ করে। এই পরিবারের কাছ শিক্ষারত অবস্থায় যদি শিশুটিকে যদি যথাযথ নৈতিক শিক্ষা শিশুকে দেয়া হয় তবে পরবর্তিতে শিশুটি যে কোন মন্দ বিষয় দেখলেই বুঝতে পারবে এটা থেকে তাকে দূরে থাকা দরকার, এই কাজটা তার করা উচিত নয় অথবা এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পরিবারিক কলহ শিশুকে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে দুর্বল করে দেয়। সেও ঝগড়া ফ্যাসাদ শিখে যায়। অপরদিকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শিশু যদি সেক্রিফাইসের মানসিকতা দেখতে পায়, সেও ঠিক একই মানসিকতার হয়ে বড় হয়ে ওঠে। 
 শিশুটি বড় হওয়ার সাথে সাথে নানা পরিবেশের সাথে মিশতে মিশতে অনেক পরিবর্তিত হতে থাকে বা পরিবর্তিত হয়। কিন্তু পরিবার থেকেই যদি শিশুটিকে যথাযথ শিক্ষা দেয়া হয় তবে ভালোমানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে শিশুটি এগিয়ে যায় অনেকাংশে |
গ্রামীণ ব্যাংক ও জনগণের লাভ লোকসান
                                  

মাহমুদুল হক আনসারী:
দেশ স্বাধীনের পর দেশে নিত্য নতুন ব্যাংকের আবির্ভাব হচ্ছে। প্রতি বছর নতুন নতুন ব্যাংক সরকারের অনুমোদন নিয়ে মার্কেটে আসছে। উল্লেখযোগ্য ব্যাংকের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক একটি পরিচিত ব্যাংক হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। এ ব্যাংকের প্রতিষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুচ, তিনি হাটহাজারীর সন্তান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোফেসর থাকাবস্থায় এ ব্যাংক তিনি সৃষ্ঠি করেন। প্রথমে তার গ্রামের এলাকাতেই কার্য্যক্রম শুরু করে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের প্রায় এলাকাতেই এ ব্যাংককে হৃত দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক সমাজিক উন্নতি কল্পে নিয়ে জান। ১৯৯৫ ইংরেজীর কথা। তখন আমাদের চাম্বল গ্রামের একটি পাড়া, তার নাম ছরতিয়া পাড়া, ঐখানে একটা ছোট খুড়িঘর, ওখানে ৫-৭ জন মহিলা কারো স্বামী আছে কারো নাই। কেউ বিধবা কারো সংসার আছে কারো নাই। বয়স সকলের ৩০-৪০ মধ্যে। খুব হৈ-ছৈ চলছিল তখন। ওখানে একজন পুরুষ ছিল। তিনি কিস্তি তুলতে এসেছে। উপজেলা সদর থেকে। তার একটা সাইকেল আছে। তিনি ঐ দরিদ্র মহিলাদের বকা ঝকা করছে। সাপ্তাহিক কিস্তির টাকার জন্য। ওখানে একজন বিধবা মহিলা ছিল তার নাম জোহরা, জোহরার এক ছেলে সন্তান, স্বামী মারা গেছে। স্বশুর- স্বাশুরী কেউ নেই। ফলে পরিবারে তিনি অসহায় আস পাশের অন্য পরিবার ও মানুষরা তার সাহায্যে কেউ তখন এগীয়ে আসছিলনা, তার বাচ্ছা এবং তাকে দুনিয়ায় বেঁচে থাকার জন্য ঋণ নেয়া ছাড়া কোন উপায় ছিলনা। ৫০০০/- পাঁচ হাজার টাকা গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি তার ছেলেকে নিয়ে অন্য মানুষের ঘরে ঘরে দৈনিক কাজ কর্ম করে চলছিল। ঐ পাঁচ হাজার টাকায় তিনি তার স্বামীর ঘরের সংস্কার কাজ করেছে বলে জানা যায়। তার কাছে নগদ টাকা নাই। এলাকার মানুষের ঘরে ঘরে কাজ করে আয় করে গ্রামীন ব্যাংকের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। ৭ জনের গ্রুফ এখানে একজন থাকে গ্রুফ নেতা। তাকেই ঐ কিস্তির টাকা তুলে ব্যাংকের কর্ম কর্তাকে বুঝাইয়া দিতে হবে। একজনও যদি তা দিতে না পারে গ্রুফ লিডারকেই শোধ করতে হবে। এ নিয়মেই ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের। তখন অসুস্থতার কারণে ঐ মহিলা জোহরা মারা জান। এখন অবশ্যই ঐ মহিলার বাকী কিস্তি ব্যাংককে দিতে হবে। তাহলে কে দেবে? তার দেয়ার মত কেউ নেই। গ্রুফ লিডারকে চাপদেয়া হল। জোহরার ১১০০/- এক হাজার একশত টাকা ব্যাংকের পাওনা শোধ করার জন্য। ব্যাংক কর্তা না ছোড়বান্দা। ফলে তার যে ঘর টিন বেড়া দিয়ে মেরামতের জন্য ঋণ নিয়ে বিধবা জোহরা ঘর তৈরী করেছিল। সেই ঘরের টিন আর তার ব্যবহারকৃত একটা খাট বা চকি বিক্রি করেই জোহরার ১১০০ টাকা গ্রামীন ব্যাংকে সুদে এবং আসলে পরিশোধ করতে হয়েছে। যার প্রমাণ উক্ত এলাকার শত শত মানুষ। এ একটি ঘঠনাই এখানে উল্লেখ করা হল। গ্রামের হাজার হাজার ভোক্তভোগী মানুষের অনেক ঘঠনা ইতিহাসে চাপা পড়ে আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের কিস্তির জন্য স্বামী স্ত্রীর সংসার ভেঙ্গেছে। কিস্তি গ্রহীতাদের মাঝে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। ঘরে ঘরে মহল্লায় মহল্লায় অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। শান্তির ঘরে অশান্তির আগুন “গ্রামীণ ব্যাংক” গ্রামের হাজার হাজার কর্ম কান্ডের মাঝে ব্যাংকের একটা ঘঠনা সেদিনের বর্ণনা কর হল। আর সেই গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা গ্রামীণ জনপদের হৃত দরিদ্র, বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের স্বাবলম্ভীর কথা বলে তাদের উপর সুদের ও সামাজিক চাপের কোন কমতির ইতিহাস আমার জানা নেই। এ ব্যাংকের কোন শাখাতেই ঋণ গ্রহীতার প্রতি আন্তরিকতা ভালো বাসার ও ঋণ বা সুদ মাফ করে দেয়ার ইতিহাস নাই। তাহলে কোন সামাজিক নিরাপত্তা, দায়বদ্ধতা অর্থনৈতিক স্বাবলম্ভীর কথা রেখেছে গ্রামীণ ব্যাংক। সে প্রশ্নটিই রাখলাম সুধীজন ও পাঠক সমিপে। একটি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে ড. ইউনুচ হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। তিনি দুনিয়াব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছেন। নোভেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। সম্ভব হয়েছে একমাত্র বাংলাদেশের বিধবা, হৃত দরিদ্র, মানুষ গুলোর কারনে। ড. ইউনুচ আজ পৃথিবী ব্যাপী একটি নাম হিসেবে পরিচিত। তার অর্থ বিত্ত নাম খ্যাতি পুরস্কারের কমতি নেই। কিন্তু আমার গরীব ৬৮ হাজার বর্গ মাইলের দরিদ্র মানুষ কী পেয়েছে! তাদের অর্থনৈতিক সামাজিক নিরাপত্তার কী পরিবর্তন হয়েছে সেটা এ ছোট লেখায় পরিস্কার করা যাবেনা। তবে যারাই এ ব্যাংকের লেনদেনের সাথে সম্পৃক্ত হয়েছে এমন আট দশ জনের সাথে আলাপ করে জানা যায় তাদের কোন লাভ হয়নি। বরং তারা উচ্ছ হারে ব্যাংকে সুদ দিতে হয়েছে। না দিয়ে বাঁচার কোন উপায় নেই। আর সেটার নাম হল গ্রামীণ ব্যাংক যার প্রতিষ্ঠাতা নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুচ। তিনি চট্টগ্রামের মানুষ। আবার বাংলাদেশের অর্থনীতিবীদ বিশ্বব্যাপী তার কদর ও সম্মানের কোন অভাব নেই। অভাব শুধু দেশের ১৮ কোটি মানুষের। এ সুদী ইউনুচ সাহেব স্বাধীনতার পর দেশে উচ্ছহারে সুদের প্রচলন সৃষ্টি করেছেন। তার সুদী নিখুত পরিকল্পনায় বাংলাদেশে হাজার হাজার নামী দামী গলা কাটা সুদী প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি হয়েছে। যার মূল নায়ক হলেন নোবেল জয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুচ সাহেব। তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র মানুষের রক্ত শোষন করে নিজে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দেশ বিদেশে অসংগ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। আর কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করেছেন। আবার তিনি মানুষের রক্ত শোষন করে বিশেষ এক সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন ও দেখেছিলেন। কিন্তু জনগন তাকে সে স্বপ্ন পূরণ করতে দেয়নি। একটু সময় হলেও জনগন এ জনগনের রক্ত চুষা সুদী ইউনুচকে চিনতে ও বুঝতে পেরেছে। সেটাই আসল কথা। তার প্রতিষ্টিত গ্রামীণ ব্যাংকের তথা কথিত সামাজিক ঋন কর্মসূচীর মাধ্যমে হৃত দরিদ্র মানুষের দুর্ভোগ ছাড়া কল্যাণ দেখছেনা জনগন। তাই তিনি সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা বল্লেও গ্রামের মানুষ তার নাম ই শুনতে পারেনা। মানুষের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার কথা বলে উচ্চ সুদের মাধ্যমে জনগনের রক্ত শোষন করে দেশের বাইরে পাচার করেছে। তার চিন্তায় দেশের মানুষের কল্যাণের কোন গল্প নাই। তাই তিনি জন শূন্য। তিনি পদ্যা সেতুর টেন্ডারের দুর্নীতির অপ প্রচার করে দুনিয়াব্যাপী বাংলাদেশের ভার মূর্তি ধ্বংস করেছেন। রাষ্ট্রের ধারা বাহীক উন্নয়ন বাধা গ্রস্থ করতে নিয়মিত ভাবে ষড়যন্ত্রের গুঠি চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সুদি ইউনুচের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগনকে সজাগ ও সোচ্ছার হওয়া দরকার। ভদ্রবেষে তিনি দেশের বারটা বাজাচ্ছেন। তার সুদি হিসাব অন্য ক্ষতিপয় প্রতিষ্ঠান গ্রহণ করে দেশে সুদী ব্যবসা এখন যে কোন সময়ের চেয়ে এগিয়ে আছে। শহর ও গ্রাম কোথাও এখন সুদের বাইরে মানব কল্যাণে লেনদেন নাই। চড়া সুদের হিসেবে নগদ অর্থ লেনদেন দিন দিন বাড়ছে। ফলে সামাজিক নিরাপত্তার চেয়ে পারিবারিক অশান্তি বিশৃংখলা বাড়ছে। এ সবের মূল নায়ক ড. ইউনুচ সাহেব। এখনো তার হাটহাজারীর গ্রামের বাড়ীতে গেলেই শুনা যাবে সবাই চিনে তাকে একজন সুদী ইউনুচ হিসেবে। দেশের মানুষ ও রাষ্ট্র নিয়ে তার অব্যাহত ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জনগনকে আরো বেশী সচেতন হতে হবে। তার উত্তনের পথিই হচ্ছে ষড়যন্ত্র। তিনি বাংলাদেশের মাটি মানুষ ব্যবহার করে কার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করতে চান! সেটা আরো বেশী করে দেশবাসী কে বুঝতে হবে। তার অবৈধ অর্থ জনগনের নিকট ফেরত চাই। দেশ ও সরকারের যে ক্ষতি তিনি করে যাচ্ছেন তা তদন্ত করে বের করে তাকে শাস্তির আওতায় আনার কথা বলছেন সচেতন জনগন। তার কারণে দেশের বৃহৎ পরিকল্পনা পদ্দা সেতুর বাস্তবায়ন বিলম্ভিত হয়েছে। সরকার প্রধান, মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, কর্মকর্তা কর্মচারীরগন মান ইজ্জত হারিয়েছেন। মানসিক অর্থনৈতিক ও রাষ্টীয়ভাবে দেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পদ্দা সেতুর বাস্তবায়ন বিলম্ভিত হয়েছে। এ সবের বিরুদ্দে যাদের ষড়যন্ত্র তা বের করে তাদের কঠোর ভাবে বিচার চায় সচেতন মানুষ। যদি তা না হয়, তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা আরো সক্রিয়হবে। দেশ ও জনগন বিরোধী দালাল চিন্থিতকরার এখনিই আসল সময়। দেশের দরিদ্র মানুষের চড়া সুদের হাত থেকে রক্ষায় রাষ্ট্রকে আরো এগীয়ে আসা দরকার।

আমার মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি
                                  

মুক্তিযোদ্ধা চৌধুরী রুহুল আমি (সহিদ):

জানুয়ারী ৭১ হতে আন্দোলন, ৩মার্চ অসহযোগ আন্দোলন শুরু ও ২৬ মার্চ ৭১ তারিখে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার পর মনে পড়ে আমাদের বর্তমান এমপি শেখ ফজলুল করীম সেলিম ভাই বড়বাড়ীয়া হয়ে পরিবারের সদস্য নিয়ে আমার ভারতে যাওয়ার একদিন আগে তিনি ভারতের পথে পরিবার পরিজন নিয়ে যাত্রা করেছিলেন। মার্চ/৭১- গোবরা, গোপালগঞ্জ। এপ্রিল-জুন/৭১-বড়বাড়ীয়া ও চরচিংগড়ী। উপজেলা- মোল্লাহাট, জেলা- খুলনা। বর্তমান উপজেলা-চিতলমারী, জেলা- বাগেরহাট। জুলাই/৭১ বনগাঁ ও বশিরহাট, ২৪ পরগনা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত। মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ গ্রহণের লক্ষ্যে ভারত গমনের পর ১৭/০৭/১৯৭১ হতে ১৮/৮/১৯৭১ তারিখ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ধলতিতা, বসিরহাট, ২৪ পরগনা, পশ্চিম বঙ্গ, ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহন করি। ভারতে যাবার পূর্বে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প চাউলটুরী ও চিতলমারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের সহিত যুক্ত ছিলাম। আগষ্ট-ডিসেম্বর/৭১ দেশে ফিরে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প চিতলমারী (খড়ম খালী), বর্তমান থানা-চিতলমারী, জেলা- বাগেরহাট। (সাবেক থানা- বাগেরহাট, জেলা - খুলনা) অবস্থান করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ১৭ বছর। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণা মার্চ-এপ্রিল/৭১ পর্যন্ত চলমান আন্দোলনে অংশ গ্রহণ, জনমত সংগ্রহ, বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জয়বাংলা ‘কার্যক্রমকে সমুন্নত রেখেছিলাম।
২) মে-জুন/৭১ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠন ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য স্থানীয় মুক্তি যোদ্ধা ক্যাম্পে সংযুক্ত ছিলাম (চাউলটুরী ও চিতলমারী)।
৩) জুলাই-আগষ্ট পশ্চিম বঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ ও বসিরহাটে অবস্থান এবং ধলতিতা মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। ভারতে গমনের পর ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিল সাহেবের সহিত দেখা করে ৭৩ জন ছাত্রলীগ নেতা কর্মী তার একটি চিঠি নিয়ে ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমরের নিকট যাই। তিনি এলাকা ভেদে কয়েকটি গ্রুপ করে ভারতে বিভিন্ন এলাকায় পাঠান।
৪)প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে আগষ্ট-ডিসেম্বর/৭১ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্প চিতলমারী (খড়মখালী) বাগেরহাটে মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে যুক্তি ছিলাম।
আমি তখন অবিবাহিত ছিলাম। মুক্তিযুদ্ধে কোন সেক্টরে যুক্ত ছিলেন :- সেক্টর ৯ এর অধীনে বাগেরহাট সাব সেক্টরে যুক্ত ছিলাম। সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এমএ জলিল। সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন (অব:) তাজুল ইসলাম ও চিতলমারী ক্যাম্প কমান্ডার ছিলেন লেঃ মল্লিক সামসুল হক এবং ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন বড়বাড়িয়া হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক সামস উদ্দিন আহমেদ (সিকামিয়া)।
ভারতে যাবার আগেস্থানীয় চাউলটুলী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে অস্ত্র চালনা শিক্ষা দেন মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ইপিআর হাবিলদার আঃ হালিম ফকির, তার ঠিকানা ঃ গ্রাম-চরচিংগড়ী, ইউনিয়ন- কলাতলা, উপজেলা-চিতলমারী,জেলা- বাগেরহাট ও ভারতের ধলতিতা মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ গ্রহন করি।
মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে দেখেছি সকল স্তরের মানুষের অসহয়ত্ব, জীবনের নিরাপত্তার অভাব, আর্থিক অনটন, পাকহানাদারও তাদের দোশর দালাল, রাজাকার, আলবদরসহ বিহারীদের সীমাহীন অত্যাচার, লুটপাট, হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ সকল প্রকার অমানবিক কর্মকান্ড এবং বিভিন্ন পদ্ধতিতে গেরিলা ও সম্মুখ যুদ্ধে শত্রু নিধন কার্যক্রমএকবুলেট এক শত্রু খতম ও দালাল খতম নীতি। চিকিৎসার অভাবে মানুষ মরেছে, গর্ভবর্তী মা সন্তান জন্মদিতে মরেছে। হাসপাতালে ডাক্তার ছিলনা কারণ পাকবাহিনী ও রাজাকারদের অত্যাচার, দালালরা পাকবাহিনীর কাছে সকল তথ্য প্রদান করত।
ঐ সময়ে যে দিনটি পার হয়ে গেছে মনে করেছি একদিন জীবিত থাকলাম, জীবনকে হাতে নিয়ে যুদ্ধকালীন দায়িত্ব পালনে বের হতাম। তবে মৃত্যু ভীতি মোটেই কাজ করত না। ভারতে যাবার সময় দেখেছি শরণার্থীদের মিছিলে হাজার হাজার মানুষ। জীবন বাঁচানোর জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজেছে। উদ্দেশ্য ছিল ভারত গমন এবং আশ্রয়। জীবন বাঁচানোর জন্য জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজেছে। উদ্দেশ্য ছিল ভারত গমন এবং শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ, শিবিরে দুঃসহ জীবন যাপন। শরণার্থী শিবিরে খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও শিশুদের বাঁচিয়ে রাখাই ছিল বড় যুদ্ধ। ভারতে যেতে পথে এমনও দেখেছি যশোর সীমান্তে আদম সন্তান ধানক্ষেত, আখক্ষেত, পাটক্ষেতে পাকবাহিনী, রাজাকার ও তার দোসরদের বন্দুকের গুলিতে লাশ হয়ে পড়ে আছে। ঐ লাশ শিয়াল কুকুর ও কাক একসঙ্গে ভাগ করে খাচ্ছে। পাকবাহিনী, রাজাকার ওদালাল শরনার্থীদের উপর হামলা করে যুবতী মেয়েদের ধরে নিয়েছে ও লুটপাট করেছে, দুর্গম পথে হাটতে অক্ষম নারী ও পুরুষদের পড়ে থাকতে দেখা গেছে তাদের আপন জনেরা ফেলে রেখে গেছে। তবুও ঐ অক্ষম বৃদ্ধরা জীবনের মায়ায় ইঞ্চি ইঞ্চি করে দুই হাতে ভর করে নিরাপদে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেছে মাত্র, পথেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে। অপর দিকে টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধ বাবা মাকে লোক দিয়ে বয়ে নিয়েছে। কেউ কেউ নিজের কাধে করে অক্ষম মা-বাবা বা আপনজনকে বয়ে নিয়েছে। এসব দেখে একটি সুস্থ মানুষের যে অনুভূতি হবার কথা ঠিক ততটুকুই হয়েছিল। সব সময় ভাবতে হত কখন যুদ্ধ শেষ হবে মানুষ স্বাধীন দেশের নাগরিক হবে। মনোবল হারাইনি, দৃঢ় ছিলাম যতদিন লাগে ততদিন হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব।
পাক বাহিনীর পরাজয়, তাদের আত্মসমর্পণ একদিকে আনন্দ অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে যে মায়ের বুক খালি হয়েছে তার আহাজারি, স্বামী হারার আর্তনাদ পিতা-মাতা হারা শিশুর করুন আকুতি, ঘর-বাড়ি, সম্পদ হারানো মানুষের অভাব অনটন, নিরাশ্রয় সব মিলিয়ে যেন নাই আর নাই। অন্যদিকে সমগ্র বিশ্বের স্বীকৃতি পাওয়া, দেশগড়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে শত্রু মুক্ত দেশের যে সমস্যা সৃষ্টি হয় তা থেকে কতদিনে মুক্তি আসবে।
১৯৮৪ সালে গোপালগঞ্জ সদর থানার খানারপাড় গ্রামের পলি আক্তারকে বিয়ে করি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশেষ করে নারী নির্যাতন, হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ, সকল জনগণের সহযোগীতা, স্বাধীন ভূ-খন্ডে লাল-সবুজের পতাকা, স্বাধীন দেশের মাটিতে কখন উড়বে, মানুষ ভালবাবে বাঁচবে, এটাই ছিল বিশেষ ভাবে চেতনা বিকাশের বহিঃপ্রকাশ। যুদ্ধে যাবার উন্মাদনা, মুক্তিযুদ্ধে বাগেরহাট অঞ্চলে ৩টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। তার মধ্যে বিশেষভাবে বাবুহাট যুদ্ধের কথা মনে পরে।
মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনবার পাক বাহিনী ও রাজাকারদের এমবুশের মুখে পড়েছি, ভাগ্য চক্রে বেঁচে গেছি। প্রথম পাটগাতিতে (টুঙ্গীপাড়া) নদীর ওপার বড়বাড়ীয়া মুক্ত অঞ্চলে যাবার সময়। লুঙ্গী পরা অবস্থায় এক মহিলার সহায়তায় রক্ষা পাই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার ভারতে যাবার সময়। ভারতে যাবার সময় প্রথম রাত কাটাই মোল্লাহাট থানার দত্তডাঙ্গা গ্রামে ভবানী বাবুর বাড়িতে। সেখানে মোসলেম মাওলানার নেতৃত্বে রাজাকারদের আক্রমণের মুখোমুখি হই। পাশের গ্রাম চাউলটুরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। ঐ ক্যাম্পের মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতায় পাক মিলিটারী ও রাজাকারদেরহাত থেকে ৮০ জন লোক রক্ষা পাই। তখন ঐ ক্যাম্পের কামান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর জনাব হাবিবুর রহমান। আমার এক সহপাঠী নুর মোহাম্মদ ঐ ক্যাম্পেই ছিলেন। দ্বিতীয় রাত কাটাই বর্তমান নড়াইল জেলার কলাবাড়িয়া গ্রামে। তৃতীয় রাত কাটাই একই জেলার ইটনা গ্রামে, পরের দিন গঙ্গারামপুর হয়ে বর্তমান মাগুড়া জেলার শালিখা থানার বুনাগাতীতে চতুর্থ রাত কাটায়। ভারত যাত্রা পথে শেষ রাত অর্থাৎ পঞ্চম রাত কাটাই যশোর জেলার হাকিমপুর গ্রামে। পরদিন যশোরে রাজাকারখ্যাতগ্রাম খাজুরা পার হবার সময় রাজাকারদের এম্বুসে পড়ি। চলার পথ ছেড়ে আঁখ ক্ষেতের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্ট করে ঐ গ্রাম পার হয়ে, দুপুরের দিকে যশোর জেলার বাগদা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় ভূখ-ে পৌঁছি। সীমান্তে একটি গভীর খাল ছিল। খালটি ঐ এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা পাহারা দিত কচুুরীপানা দ্বারা বাধ দিয়ে পারাপারের পথ ঠিক রাখত। সীমান্ত পার হয়ে ভারতে গিয়ে বর্ডার স্লিপ নিয়ে, ভ্যাকসিন নিয়ে বাসযোগে পশ্চিম বাংলার চব্বিশ পরগুনা জেলার বনগাঁয়ে রওয়ানা হলাম। পৌঁছাতে রাত হয়ে গেল। প্রথম বনগাঁ বাজারে যেখানে পৌঁছালাম সেটা ছিল যশোর জেলা আওয়ামী লীগের অফিস। তারপর খোঁজ নিয়ে বনগাঁ রেল স্টেশন, রেললাইনের পাশ দিয়ে কিছু দূর গিয়ে একটি পেট্রোল পাস্পের পাশে একটি ছোট দালান সেটাই ফরিদপুর জেলা আওয়অমী লীগ অফিস। সেখানে পৌছে কামরুল ইসলাম রইচ ভাইকে পেলাম। তিনি কুকারে ছোট একটি পাতিলে আলু সিদ্ধসহ ভাত রান্না করছিলেন। তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি সব কষ্টের বর্ণনা শুনলেন রাতে ঐ পেট্রোল পাম্পের পাশে একটি বাসের মধ্যে রাত কাটালাম। দুই দিন পর আমাদের ১২১ জনকে চাঁদপাড়া মুক্তিযোদ্ধা ট্রেনিং ক্যাম্পে পাঠালেন, বিশেষ কারণে ফিরে আসতে হলো। ক্যাম্পটি ছিল একটি ফাকা ভিটিতে পাশে একটি পাঁচ মাথা ওয়ালা খেজুর কাছ ও কামার বাড়ী ছিল। পরের রাত বনগাঁয়ে একটি একচালা হাটুরে ঘরের নিচে ইট মাথায় দিয়ে রাত কাটালাম। এভাবে কেটে গেল কয়েক দিন ও রাত। সেখানে একে একে দেখা হলো- মোল্লা জালাল উদ্দিন আহমেদ এমএনএ, আকতার মোক্তার সাহেব, নজির মোক্তার সাহেব ও শেখ মোঃ ইলয়াসের সঙ্গে। হঠাৎ একদিন বিকেলে মোল্লাহাটের লায়েক শিকদার এলেন বনগাঁয়ে। আমাকে দেখে কবে এসেছি, কিভাবে এসেছি সবই জিজ্ঞাসা করলেন। আমাকে বশিরহাটে (খুলনা জেলা আওয়ামী লীগ অফিস) নিয়ে যেতে চাইলেন। কেননা আমার পরিচিতি তখন মোল্লাহাট ও চিতলমারী এলাকায় বেশি ছিল। বড়বাড়ীয়া হাইস্কুলের ছাত্র ছিলাম ঐ স্কুরের বাঘা প্রধান শিক্ষক ছিলেন শামসুদ্দিন আহমেদ (ছিকামিয়া) ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচনের সময় শামসু মিয়ার নেতৃত্বে এমএনএ প্রার্থী মোল্লাহাটের এমএ খায়ের সাহেবের পক্ষে কাজ করেছিলাম। বশির হাট যাওয়া হলোনা। রইচ মিয়ার বাধার কারণে কেননা আমি ছিলাম গোপালগঞ্জের বাসিন্দা। যাবার সময় লায়েক শিকদার ২০ টাকা আমাকে দিয়ে বললেন, বশিরহাট চলে যেও। লায়েক শিকদারের নিকট এমএ খায়ের সাহেব জানতে পারলেন আমি ভারতে পৌঁছেছি। তার পরের দিন এমএ খায়ের স্যার লোক পাঠিয়ে আমাকে বশির হাট নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে আব্দুর রহমান এমপিএ, আলী আহম্মদ এমপিএ, আব্দুল আজিজ এমএনএ কে দেখতে পাই। উনারা আমাকে ১৯৭০ সাল থেকে চিনতেন। সেই থেকে বশিরহাটে খায়ের মিয়ার কাছাকাছি ছিলাম। পরবর্তীতে যখন সামসুদ্দিন আহমেদ আমার শিক্ষক চিতলমারী মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের ডেপুটি কমান্ডার ও পরিচালক হলেন তখন পশ্চিম বাংলার ধলতিতা ট্রেনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে আমি চিতলমারী ক্যাম্পে যোগ দেই। কেননা শামসু মিয়া আমাকে অত্যন্ত ¯েœহ করতেন তার ছাত্র হিসেবে। তখন চিতলমারী (খড়মখালী) মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পের কমান্ডার ছিলেন আড়–য়াবির্লি গ্রামের মল্লিক শামসুল হক তার সঙ্গে ছিল মল্লিক সিরাজুল হক ও সামস উদ্দিন আহমেদ।
মুক্তিযুদ্ধের সময় নভেম্বর/৭১ সালে শেষের দিকে একদিন রেকি করার জন্য বাগেরহাটের কাছাকাছি একটি স্থানে রাজাকারদের এমবুশে পড়ি। প্রতিরক্ষার জন্য বিকল্প পথে যাবার সময় ডান পায়ের পাতায় ধাঁরালো কিছুতে আঘাতপ্রাপ্ত ও আহত হই ক্ষত সৃষ্টি হয় প্রচুর রক্ত ক্ষরন হয় (এখনও চিহ্নবিদ্যমান)। আমার সঙ্গী অপর দুই মুক্তিযোদ্ধা আছাদ ও মোতালেব আমাকে নিরাপদে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চিতলমারী ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এক্ষেত্রেও একজন মহিলা সাহায্য করেছিলেন।
৯ নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মেজর এমএ জলিল। চিতলমারী ক্যাম্প কমান্ডার লেঃ মল্লিক সামসুল হক পরবর্তীতে বাগেরহাট সাব সেক্টর কমান্ডে ছিলেন অবসর প্রাপ্ত ক্যাপ্টেন তাজুল ইসলাম।
যুদ্ধ পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর ধন্যবাদ জ্ঞাপন চিঠি পাই, জনাব এমএ খায়ের এমএনএ আমাকে দশ হাজার টাকা নগদ প্রদান করেছিলেন। মোল্লাহাদের সিও (ডেভ) জনাব আব্দুল লতিফ সাহেব সরকারী ফান্ডের কিছু আর্থিক সাহায্য করেছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় আমার নাম যুক্ত না হবার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে (১) আমি ৮ নং সেক্টরভুক্ত গোপালগঞ্জের অধিবাসী, মুক্তিযুদ্ধের সময় ৯ নং সেক্টরে যুক্ত ছিলাম, (২) ১৯৭১ সালে বিজয়ের পর ১৯৭২ সালে অসুস্থতার কারণে সাবেক কায়েদে আযম কলেজ বর্তমানে সরকারী বঙ্গবন্ধু কলেজ, গোপালগঞ্জ থেকে সময় পারের কারণে এইচ এস সি পরীক্ষার ফরম পূরণ করা যায়নি। এক মাস পর যশোর বোর্ডের ঘোষিত তারিখে বরিশালের একটি কলেজ থেকে ফরম পূরণ করি ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেই এবং কৃতিত্বের সাথে পাশ করি। (৩) ১৯৭২ সালে খুলনায় সুন্দরবন কলেজে বিএ ক্লাশে ভর্তি হই। সেখানে থেকে বিএ পাশ করি। (৪) বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য রাজশাহীতে চলে যাই এবং ভর্তি হই। (৫) অতঃপর রাজশাহী ছেড়ে খুলনা ফিরে আসি। (৬) খুলনা ছেড়ে ঢাকা এভাবে বিভিন্ন সময়ে রুটি রুজির তাগিদে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। এ কারণে গোপালগঞ্জে এসে স্থায়ী ভাবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ভুক্তির জন্য যোগাযোগ বা নির্ধারিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে না পারায় মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তভূক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া রাজনৈতিক কারণও ছিল। তবে মুক্তিযুদ্ধ করেছি দেশ স্বাধীন করার জন্য। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন রাষ্ট্র এটাই বড় পাওয়া। অনেকেই তালিকাভূক্ত হতে পারেননি। জানামতে আমার সঙ্গি আরও তিনজন একরাম ফরাজি, আসাদ, রাজ্জাক তালিকাভুক্ত হয়নি। ঐ সময়ে এমএ খায়ের এমএনএ মোল্লাহাট সহ আলী আহমেদ এমপিএ (ফকিরহাট) ও আঃ রহমান এমপিএ (বাগেরহাট) সাহেবদের দেয়া সনদপত্র ও মুক্তিযোদ্ধা প্রশিক্ষণ সনদ এবং মিলিশিয়া সনদ ছিল। রক্ষীবাহিনীতে তোফায়েল ভাই (বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক উপদেষ্টা) চাকরি দিয়েছিলেন। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের প্রবল ইচ্ছা থাকায় রক্ষীবাহিনতে ভর্তি হইনি। আমার সহযোদ্ধা অনেকে রক্ষীবাহিনীতি ভর্তি হয়েছিল পরে সেনাবাহিনীতে বর্তমানে অবসর জীবন কাঠাচ্ছেন। তারা হলেন লেকমান, আকরাম, মোতালেব ও ইকরাম।
বাল্যকালে প্রাথমিক শিক্ষা গোপালগঞ্জের গোবরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হয়। ৭ বছর বয়সে মাতৃহারা হবার কারণে মামা বাড়ি চরচিঙ্গড়ী (বড়বাড়িয়া) চলে যাই। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণী থেকে শুরু করে বড়বাড়ীয়া হাই স্কুল থেকে ১৯৭০ সালে এসএসসি পাশ করি। বরিশাল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করি। খুলনা থেকে বিএ পাশ পরি। রাজশাহী থেকে ¯œাতকোত্তর পাশ করি।
আমি যখন বড়বাড়ীয়া হাই স্কুলের ছাত্র তখন প্রধান শিক্ষক ছিলেন জনাব শামস উদ্দিন আহমেদ বঙ্গবন্ধুর ভক্ত ও সমবয়সী আওয়ামী লীগ নেতা। তার একান্ত উৎসাহে আমি ছাত্র জীবনেই ছাত্র লীগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হই। ১৯৭০ সালে আগস্ট মাসে তৎকালীন কায়েদেআজম মেমোরিয়াল কলেজ বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, গোপালগঞ্জে উচ্চ মাধ্যমিক (কলা) প্রথম বর্ষে ভর্তি হই। তখন থেকে সরাসরি ছাত্র লীগের সঙ্গে যুক্ত হই। ঐ সময়ে ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ইসমত কাদির গামা ভাই, শেখ লুৎফর রহমান বাচ্চু (ভিপি), গোপালগঞ্জ কলেজ, বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান, গোপালগঞ্জ সদর। ফরিদ আহম্মদ (জিএস) পরবর্তীতে এমপি নির্বাচিত হন ও কালা মাহবুব (মুক্তিযুদ্ধে শহীদ) টুলু উকিলের ভাইসহ তৎকালীন ছাত্র নেতাগণের উৎসাহে ও আদর্শগত কারণে ছাত্রলীগে যোগ দেই এবং ১৯৭০ সালে গোপালগঞ্জ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য ও গোপালগঞ্জ মহকুমা ছাত্র লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে রাজনৈতিক ধারায় যুক্ত হই।
বর্তমানে আমার মোট দুই ছেলে, দুই মেয়ে, বড় মেয়ে শান্তনু চৌধুরী ইডেন কলেজ, ঢাকা থেকে সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স করেছে, বড় ছেলে চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল নোমান বর্তমানে বিদেশে, ছোট ছেলে আল হোসাইন চৌধুরী নিপুন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে এবং ছোট মেয়ে জ্যোতি চৌধুরী জুওলজিতে অনার্স পড়ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
                                  

 
অধ্যক্ষ ফারুক আহমেদ:

প্রায় দুশত বছরের বিদেশীদের শাসন শোষণের অবসান ঘটিয়ে ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তখনকার পূর্ব বাংলার নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান যা পাকিস্তান রাষ্ট্রের একটি প্রদেশ। আমরা সাড়ে সাত কোটি বাঙালী পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিক। আর পশ্চিম পাকিস্তানের জনসংখ্যা ছিলো পূর্ব পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক। আমরা দ্বিগুণ জনসংখ্যার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে তারা তুচ্ছ করে উর্দুকে আমাদের রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে জোর করে চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে। বাঙালীদের ভিতরে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল। চলছিল বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ। অতঃপর ১৯৪৮ সালের ২১ শে মার্চ অর্থাৎ দেশ বিভাগের মাত্র ৮ মাস পরে রমনা রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল কায়েদ-ই-আযম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দিলেন, “উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা।” ছাত্র-জনতা মানি না, মানব না ধ্বনিতে প্রতিবাদ করতে লাগল। পাকিস্তানীদের তোষামোদকারী এদেশের এক শ্রেণির রাজনীতিবিদ এবং তাদের কর্মীরা কোন প্রতিবাদ সেদিন করেনি। এমনকি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও তাদের ভূমিকা ছিল বাঙালীর তথা এদেশের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুসহ দেশপ্রেমিক নেতারা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে একটার পর একটা আন্দোলন শুরু করেন। এদেশের রাজনীতিবিদ এবং যারা ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত তাদের উপর পাকিস্তানি শাসকদের নির্যাতনের খড়গ নেমে এল। জেল-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে আন্দোলন আরও তীব্র হতে লাগল। মাতৃভাষা বাংলার উপর আঘাত আর অপমান কিছুতেই বাঙালীরা মানতে পারেনি। মায়ের ভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে শেখ মুজিব সহ অন্যান্য ভাষা সৈনিকেরা বারবার কারাবরণ করেন। অবশেষে ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ছাত্রজনতা মিছিল বের করে। পাকিস্তানী স্বৈরশাসকের নির্দেশে পুলিশ মিছিলে গুলি বর্ষণ করে। সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর সহ অনেকে মৃত্যু বরণ করেন। ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য প্রাণ উৎস্বর্গ করে ঐসকল বীর শহীদেরা অমর হয়ে আছেন আমাদের হৃদয়ে।
বস্তুত পক্ষে, স্বাধীনতার বীজ বোপন করা হয় ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। কারণ এদেশের মানুষেরা বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানীদের মত অহংকারী জাতির সাথে একসংগে থাকা আদৌ সম্ভব নয়। এদেশের সামরিক বেসামরিক বড় বড় পদের চাকুরীতে পশ্চিম পাকিস্তানের লোকেরা অধিষ্ঠিত হয়। বেসামরিক বড় পদে দু’চারজন হাতে গোনা লোক যারা কিছুটা পাকিস্তানীদের অনুসারী ছিলেন অথবা যারা নীরবে সহ্য করতেন তারাই বড় পদে চাকরী করতেন। আমাদের কৃষকের উৎপাদিত পণ্য চলে যেত পশ্চিম পাকিস্তানে। কলকারখানায় বাঙালী শ্রমিকের তৈরি পণ্য-দ্রব্য কমমূল্যে পশ্চিম পাকিস্তানিরা ভোগ করত। আর বাঙালীদের উচ্চ মূল্যে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করতে হত। তাছাড়া পূর্ব পাকিস্তানের অর্থাৎ বাঙালীদের কষ্টে অর্জিত রাজস্ব আয়ের সিংহ ভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে ব্যবহৃত হত। শুধু তাই নয়, প্রায় ২৪ বছরের মধ্যে তারা বাঙালীদের হাতে শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায়নি। সামরিক শাসন দিয়ে এবং নিজেদের লোকের দ্বারা ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছে। এদেশের মানুষকে শাসন-শোষণ করেছে। অত্যাচার অবিচার ও নির্যাতন করেছে। তারা বাঙালীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠী ইচ্ছেকৃতভাবেই রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের পাওনা হয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা যা অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তব উদাহরণ। তাছাড়াও এদেশে প্রায় দেড় লক্ষ অবাঙালী মানে পাকিস্তানী নাগরিক রয়েছে। যা আমাদের জন্য বিরাট একটা বোঝাস্বরূপ। (তথ্য সূত্রেঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৭-১২-১৬) পাকিস্তানী অহংকারী শাসকগোষ্ঠীর এ সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালীর প্রাণ পুরুষ শেখ মুজিবুর রহমান সহ শীর্ষ পর্যায়ের অন্যান্য রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকেরা আন্দোলন এবং সর্বোপরি ছাত্রজনতা আন্দোলন সংগ্রামে দুর্বার গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকার শেখ মুজিবসহ অন্যান্য নেতাদের গ্রেফতার নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যেমন সাধারণ মানুষের প্রিয় নেতা ছিলেন, তেমনি ছাত্র সমাজের নিকট অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য এবং প্রিয় মানুষ ছিলেন। এজন্য সকল আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্র জনতার বিশাল উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ সহজে পেতেন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, জ্ঞান-গরিমায়, আর সাহসিকতায় অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্র জনতা এবং আপামর জনসাধারণ তাদের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুর পতাকাতলে সমবেত হতে শুরু করে। “সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা” শেখ মুজিবুর রহমানের বৈজ্ঞানিক বিপ্লব আর দার্শনিক চিন্তাচেতনায় আস্থা রেখেই ১৯৬৯ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১০ লক্ষাধিক ছাত্র ও জনতার সভাবেশে ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ এর নেতৃত্বে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন। মনে পড়ে কবিতার ছন্দ
“তুমি বাংলার বন্ধু, তুমি তো বিশ্ববীর
শতকোটি অন্তরায় তুমি নত করনি শির”
‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি পাওয়ার পর এই মানব প্রেমিক এর স্বপ্নের সোনার বাংলার গড়ার মনোবল ও উদ্দীপনা লক্ষগুণ বৃদ্ধি পেল। বাংলার নির্যাতিত, নিপীড়িত শোষিত আর অধিকার বঞ্চিত কোটি কোটি মানুষ তাদের প্রাণপ্রিয় নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উনসত্তরের আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়। পাকিস্তানের শাসক শোষকেরা ভীত হয়ে ১৯৭০ সালে জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছরের আন্দোলনের ফসল হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক উভয় পরিষদে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় পশ্চিম পাকিস্তানীরা আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহনা শুরু করে। এই অকালতত্ত্বজ্ঞানী মানব তাঁর বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতায় বুঝতে পেরেছিলেন পাকিস্তানীরা ক্ষমতা হস্তান্তর করবে না।
তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ সোহরাওয়াদী উদ্যানে এক বিশাল জনসভায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি তার জগদ্বিখ্যাত ভাষণে বলেছিলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” বাংলার সিংহের এই উক্তিদ্বারা স্বাধীনতার ঘোষণার আর কিছু অবশিষ্ট আছে বলে হয় না। তিনি আরও বলেছিলেন, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা কর। মনে রাখবা, রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরও দেব। এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব-ইন্শাআল্লাহ।
এই বাস্তববাদী দার্শনিক বুঝতে পেরেছিলেন, জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জুলফিকার আলী ভুট্টো আর টিক্কা খানের মনের কথা। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা তৈরির পরামর্শ দিলেন। ১৯৭১ সালের ৩রা মার্চ ছাত্রনেতারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর ২৩ শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর নিজ বাসভবনে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ীতে বঙ্গবন্ধু নিজ হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করলেন।
অত্যন্ত দুঃখের এবং ঘৃণার বিষয় পাকিস্তান সরকার গোপনে পাকবাহিনীকে বাংলাদেশে (পূর্ব পাকিস্তান) প্রেরণ করে। তাদের গডফাদারের হুকুম ছিল পূর্ব পাকিস্তানে শুধু লাল পোড়ামাটি থাকবে। আর সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। বাঙালীর দুঃসাহসী সেনাপতি নিমিষেই খবর পেয়ে গেলেন। তিনি চিন্তাভাবনা করে দেখলেন, এহেন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানকিভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা ছাড়া আর কোন পথ খোলা নাই। ২৫ শে মার্চ এর কালো রাতে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ী পাক হানাদার বাহিনী ঘেরাও করেছিল এবং টেলিফোন লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল যাতে কোথাও কারোও সাথে যোগাযোগ করতে না পারেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণতায় তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওয়্যারলেস যোগে ২৫ শে মার্চ রাত ১২.৩০ মিঃ অর্থাৎ ২৬ শে মার্চ এর প্রথম প্রহরে পিলখানা ইপিআরের ওয়্যারলেসযোগে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠাতে সক্ষম হন এবং এই ম্যাসেজ চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা এম.এ হান্নানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের কালুরহাট বেতারকেন্দ্র থেকে গভীর রাতে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেয়ার অপরাধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে ২৬ শে মার্চ রাত ১:১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার
করে প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসে এবং পরে বন্দী অবস্থায় পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। একই অপরাধে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ২৬ শে মার্চ এক ভাষণে আওয়ামীলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং বঙ্গবন্ধুকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যায়িত করে। উল্লেখ্য যে, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণার জন্য বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং তার দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সর্বোপরি বাঙালীর মাথার মুকুট শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করে পাকিস্তান সরকার। সুতরাং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। স্বাধীনতার ঘোষণার বাংলা
নিম্নরূপঃ
“সম্ভবতঃ এটাই আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি, তোমরা যে যেখানেই আছো এবং যাই তোমাদের হাতে আছে তার দ্বারাই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দখলদার সৈন্য বাহিনীকে প্রতিরোধ করতে হবে। যতক্ষণ না পর্যন্ত পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ ব্যক্তি বাংলাদেশের মাটি থেকে বিতাড়িত হবে এবং যতক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে তোমাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে।” বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণা ২৬ শে মার্চ দুপুর ১:৩০ মিনিটে চট্টগ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা এম.এ হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে পাঠ করেন এবং এর পক্ষে বহু স্বাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। ২৬ শে মার্চ এর খবর পরের দিন ২৭ শে মার্চ ঞযব ঞরসবং এর প্রথম পৃষ্ঠা ছাপা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান পূর্বপাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং সেখানে প্রচন্ড যুদ্ধ চলছে।
ঐ দিন ঋরহধহপরধষ ঞরসবং পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় ছাপা হয় “গতকাল ২৬ শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানকে “স্বাধীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ” হিসেবে ঘোষণা দিলে সেখানে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে একটি রেডিও থেকে শেখ মুজিবের পক্ষে স্বাধীনতার এ ঘোষণা প্রচার করা হয়।” ২৬ শে মার্চ ভারতের ঞযব উধরষু ঞবষবমৎধঢ়য পত্রিকার প্রথম পাতায় শেখ মুজিব কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়।

বাঙালী জাতির মুক্তির পথ প্রদর্শক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ২৫ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন, তাকে বন্দী করা হলো। পাক হানাদার বাহিনী অতর্কিতে নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে পাখির মত গুলি করে হত্যা করছিল এবং ঢাকা শহর আগুনে ছারখার হচ্ছিল, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলে ঢুকে হাজার হাজার মেয়েদের ধর্ষণ করেছিল। পরের দিন ২৭ শে মার্চ পরিবর্তিত পরিস্থিতির পর মেজর জিয়াউর রহমান আমাদের মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। বাস্তবতা আর ইতিহাস একসূত্রে গাঁথা। জেনারেল জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় কোন দিন বলেননি, তিনি স্বাধীনতার ঘোষক। তাঁর মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর পর এদেশের কতিপয় স্বার্থপর রাজনীতিবিদ, জ্ঞানপাপী বুদ্ধিজীবি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলে দাবী করেন। বক্তৃতা বিবৃতিতে বলেন, এমন কি পাঠ্যপুস্তকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। নতুন প্রজন্মকে ভুল পথে পরিচালিত করার লক্ষ্যে ইতিহাস বিকৃতি করেছেন যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। বর্তমানে ৬/৭ বছরের শিশুরা জানে ২৬ শে মার্চ আমাদের স্বাধীনতা দিবস। তাহলে ২৬ শে মার্চ কোন্ ব্যক্তি এদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি আর কেউ নন, আমাদের প্রাণ প্রিয় নেতা, “বাংলার বন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান” যা সকল বিতর্কের উর্ধ্বে।
বাস্তবতা আর প্রকৃত ইতিহাস যারা অস্বীকার করে তারা বোকার স্বর্গে বাস করে। পরিশেষে আমি বলব ঃ “২৬ শে মার্চ বাংলাদেশ স্বাধীনতা দিবস যেমন ধ্রুব সত্য। তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক চিরন্তন সত্য।”

১০ টাকা দরের চাল বিতরণে অনিয়ম করেন শোষকরা
                                  

বরকতুল্ল্যাহ ভদ্র:
১৬ কোটি মানুষের চোখে অশ্রু ঝড়ছে। জাতির সভ্যতা ও মানসম্মান সব ধুলোই মিশেছে। অসহায় অসচ্ছল মানুষরা অর্ধ্যাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তখন অসহায় অসচ্ছল মানুষরা তাদের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে ত্রানের আশায় মেম্বার চেয়ারম্যানদের পিছনে ছুটাছুটি করছে অসহায় অসচ্ছল মানুষরা অর্ধ্যাহারে অনাহারে থেকে ক্ষুদার জ্বালায় ছটফট করছেন। এজন্য সরকার অসহায় অসচ্ছল মানুষরা ১০ টাকা দরে চাল দিয়েছে কিন্তু চেয়ারম্যান মেম্বার ভন্ড নেতারা দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসাররা তাতে অনিয়ম করেন। অসহায় অসচ্ছল মানুষদের চাল না দিয়ে স্বচ্ছল মানুষদের ১০ টাকা দরে চাল দিতে ধরলেন এতে অনেক উপজেলায় হিংসা করে এবং রাজনীতি উদ্দেশ্যে হাসিল করার জন্য ১০ টাকা দরে চাল বিতরনে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে বলে ১০ টাকা দরে চাল বিতরন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা রাজনৈতিক নেতারা বন্ধ করে দিয়েছেন। এদিকে ১০ টাকা দরে চাল বিতরন বন্ধ হওয়া এলাকায় অসহায় অসচ্ছল মানুষরা অর্ধ্যাহারে অনাহারে থেকে ক্ষুদার জ্বালায় ছটফট করছেন। অপর দিকে অসহায় অসচ্ছল মানুষরা ১০ টাকা দরে চাল না পেয়ে সরকারের উপর মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তখন জাতির চোখে অশ্রু ঝড়ছে যে অসহায় অসচ্ছল মানুষের চাল মানুষ খেতে চেযে ছিলেন না মানুষ গরীব বলে চোখ লজ্জায় মানুষের সামনে মুখ দেখা যাবে না মানুষ গরীব বলবে তাই অনেক গরীব মানুষ দিন মজুরের কাজ করে কষ্ট করে না খেয়ে থেকেছে তারপরেও মেম্বার চেয়ারম্যানের কাছে অসহায় অসচ্ছল মানুষরা চাল নিতে যায়নি। কয়েক বছর আগের কথা এখন সেই অসহায় অসচ্ছল মানুষদের চাল ভন্ড নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার অফিসাররা চুরি করে ছিনতাই করে স্বচ্ছল ব্যক্তিদের দিচ্ছে। আমাদের জাতির সংস্কৃতি কোথায় গেল মানুষরা অসহায় অসচ্ছল মানুষদের চাল চুরি করে খেতে ধরেছে। এজন্য গ্রামে গ্রামে মানুষের মধ্যে ঝগড়া বিশৃঙ্খলা হিংসা বিদ্ধেষ সৃষ্টি করেছে যে হিংসা বিদেষ মানুষের মধ্যে শত বছরেও সমাধান হবে না যে মানুষরা একে অপরের সাহায্য সহযোগীতায় জীবন যাপন করতেন সে মানুষরা এখন এর চাল ও একজন ছিনতাই করছেন না খেয়ে থাকা যে কত কষ্ট, যে না খেয়ে থাকেন কষ্ট সে বুঝেন ১০ টাকা চালের অনিয়মের কারণে অসংখ্য উপজেলায় ১০ টাকা দরের চাল বিতরন বন্ধ হয়ে আছে অসহায় অসচ্ছল মানুষরা অর্ধাহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে না খেয়ে থেকে কষ্ট পাচ্ছেন। পরিবারের সন্তানরা কষ্ট পাচ্ছেন এ চাল বিতরনের জন্য কার্ডধারীদের কাছে ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত যদি ঘুষ অফিসার মেম্বার, চেয়ারম্যান ভন্ড নেতারা পেতেন তা হলে এ ১০ টাকা দরের চাল বিতরনে অনিয়ম ২৪ ঘন্টার মধ্যে তারা সমাধান করে ফেলত। অপর দিকে অসহায় অসচ্ছল মানুষদের চাল স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নামে করা হয়েছে। ডিলার নিয়োগে অনিয়ম করা হয়েছে যারা অসহায় অসচ্ছল মানুষের চাল ছিনতাই করেন চুরি করেন তারা পাইলে আমাদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ টাও ছিনতাই চুরি করে নিতে চাবেন তাই এসব ১০ টাকা দরে চাল বিতরনের অনিয়মকারি ভন্ড নেতা অফিসার মেম্বার চেয়ারম্যানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে কারণ শেখ হাসিনা সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ও আওয়ামীলীককে শক্তিশালী করা তাই এসব অফিসার মেম্বার চেয়ারম্যান ভন্ড নেতারা চক্রান্ত করে শেখ হাসিনা সরকারের মুল প্রতিশ্রুতি ভুলোন্ডিতো করারা জন্য ১০ টাকা চাল বিতরনের অনিয়ম করে শেখ হাসিনা সরকারের মুখে কালি মেখে দিয়েছে। শুধু ১০ টাকা চালের অনিয়ম করা না এসব অফিসার মেম্বার চেয়ারম্যান ভন্ড নেতারা দীর্ঘদিন থেকে সরকারের উন্নয়নের অর্থ লুটপাট করে আসছে মানুষের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, মাদক ব্যবসা চোরা চালান, ত্রাস সৃষ্টি, চাদাবাজি শোষন থেকে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমে চরম বাঁধা হয়ে দারিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেম্বার চেয়ারম্যান ভন্ড নেতারা যদি চেতেন ১০ টাকার চাল বিতরন একটু অনিয়ম করতে দেওয়া যাবে না। তাহলে ১০ টাকার চাল বিতরন একটুও অনিয়ম হত না। এসব অফিসার মেম্বার চেয়ারম্যান ভন্ড নেতা ১০ টাকা চাল বিতরনে অনিয়ম করে এটাই শুধু তাদের লক্ষ্য পূরণ করার জন্য তা হলো ১০ টাকা চালের বিতরণ অনিয়ম করে জণগণের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সরকারের উপরে জনগণকে উত্তেজিত করে বিদ্রোহ ঘোষণা করা তা এখনও সমাধান করতে পারেনি অফিসার মেম্বার চেয়ারম্যান ভন্ড নেতারা কারণ ১০ টাকা চালের অনিয়ম সমাধান করলে সরকারের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাবে।এ ১০ টাকা দরে চাল বিতারনে অনিযমের কারণে মানুষের মধ্যে হাট বাজারে পাড়া মহল্লাহ অফিস আদলতে সবত্রই আলোচনা সমালোচনা চলছে। এর আগে ঈদুল আজহার চাল বিতরনে চেয়ারম্যান মেম্বার অফিসার ও ভন্ড নেতারা অনিয়ম করেছে ঈদে অসহায় অসচ্ছল মানুষদের চাল বিতরনে অর্ধেক চাল অসহায় অসচ্ছল মানুষদের মাঝে বিতরন করেন আর অর্ধেক চাল বিক্রি করেন চেয়ারম্যান মেম্বার অফিসার ও ভন্ড নেতারা অর্থ ভাগাভাগি করে নেয়। এর কিছু অর্থ পুলিশ আর জঙ্গিদের কাছেও পাঠিয়ে দেওয়া হয় এগুলো কোন সভ্য গণতন্ত্রগামী মানুষদের কাম্য নয় আর এগুলো করে কেউ লাভবান হতে পারবেন না শুধু তাদের ক্ষতি হবে। আর অসহ্য যন্ত্রনা কষ্টের মধ্যে পড়বে তাই আসুন আমরা চুরি, ছিনতাই শোষণ ছেড়ে দিয়ে সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় প্রত্যয় নিয়ে মানব সেবায় নিয়োজিত হব। তাহলে আমাদের জীবনে সুখ শান্তি সমৃদ্ধ আসবে।

ডিএমপির মতিঝিলে সোর্সদের দৌরাত্ব্য ফের চরমে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে বেশ কয়েকটি থানায় পুলিশ সোর্সের বেপরোয়া দৌরাত্য¡ ঠেকাতে পুলিশ সোর্স পাকড়া ও অভিযানে নামে। গত দু মাসে খিলগাঁও সবুজবাগ সহ আশ- পাশের বেশ কয়েকটি থানাার পুলিশ এসব এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক পেশাদার সোর্সের বিরুদ্ধে মামলা দেয়। এদের অনেকে ধরা পড়ে আবার অনেকে গাঁ ঢাকা দেয়। কিন্তু ফের ওই সব সোর্স চক্র বেপেরোয়া হয়ে ওঠায় এসব এলাকার জনগনের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে সুত্র জানিয়েছে।
সুত্র আরো জানায়, মতিঝিল বিভাগের খিলগাঁও সবুজবাগ ও শাহজাহানপুর এলাকা দীর্ঘ দিন ধরে পুলিশ সোর্স সহ বিভিন্ন পেশার সোর্সদের একটা অবাদ বিচরন ক্ষেত্র বলে পরিচিত ছিল । আর তাই এসব এলাকায় সোর্স পেশাজীবির সংখ্যা ও যেমন বেশী ছিল তেমনি তাদের নৈরাজ্যের মাত্রা ও ছিল বেপরোয়া। বিভিন্ন সময়ের মত সম্প্রতি পুলিশের সোর্স পাকড়া তৎপরতায় এলাকার নীরিহ সাধারন মানুষ একটু স্বস্তি পেলে ও আবার ওই সব সোর্সদের তৎপরতা বেড়ে ওঠায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
সুত্র আরো জানায়, প্রায় ২০বছর ধরে খিলগাঁয়ের সিপাহীবাগ ও তার আশ- পাশে প্রায় অর্ধ শতাধিক পেশাদার সোর্সের অভয়ান্য বলে পরিচিত ছিল। তারা এ যাবৎ নানা অপরাধ প্রবনতায় জড়িত থাকায় ছোটখাট ঝড় ঝাপটা উৎরিয়ে বহাল তবিয়্যতেই ছিল। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশের তৎপরতায় তার অনেকটা ছত্রভঙ্গ হয়ে ও ফের চাঙ্গা হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বিগত সময়ের মত নিরীহ সাধারন মানুষকে হয়রানি করে স¦ার্থ হাসিলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। আর এতে এলাকাবাসী ওই সব সোর্সদের বিরুদ্ধে আবার স্বোচ্ছার হয়ে স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ করছে। এছাড়া খিলগাঁও পুলিশের সোর্স পকড়াও অভিযানে সিপাহীবাগের কু-খ্যাত অপরাধী পুলিশ সোর্স সাগর ও সেলিম খিলগাঁয়ের বাসাবো সংলগ্ন তারাবাগ এলাকায় আস্তানা গেড়ে নতুন স¤্রাজ্য বানিয়েছে। সেখানে হরদম মাদক ব্যবসাসহ এলাকার সাধারন মানুষকে হয়রানি করে টাকা পয়সা আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারাবাগের ঘনবসতিপূর্ন গলিতে নির্বিঘেœ একদিকে তারা যেমন জমজমাট মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি ওই এলাকায় বসবাসকারী নিরীহ মানুষকে বিভিন্নভাবে জিম্মি করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে ও হয়রানি করছে। ফলে এলাকাবাসী ওই চক্রের সাগর সেলিম জাহাঙ্গীর কাইয়ূমসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আািভযোগ করেছে।
আন্যদিকে শাহজাহানপুর এলাকার ফরমা সোলেমান ওরফে কামলা সোলেমান নতুন বাহিনী ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ইদানিং সোলেমান সবুজবাগ এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর সাথে আতাত করে সোর্স গিরির আড়ালে শাহজাহানপুর রেল কলোনী ও সজুজবাগের বাসাবো ওহাব কলোনীর মাদাক ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে। সোলোমান শাহজাহানপুর ও খিলগাঁও থানার একাািধক মামলার আসামি ওই সময়ে পুলিশের সোর্স পাকড়া অভিযানের আভাস পেয়েই গাঁ ঢাকা দেয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে আবার সংঘবদ্ধ ভাবে তৎপর হয়ে এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রনের সাথে সাথে এসব এলাকার নিরীহ মানুষকে হয়রানি করে টাকা পয়সা আদায়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শাহজাহনপুর ও সবুজবাগ থানার কতিপয় অসাধু পুলিশের সাথে সখ্যতা গড়ে সদ্য সোলেমান চক্র রেল কলোনী ও আশ-পাশের একাধিক নিরাপরাধী লোককে হয়রানি করায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। ফলে একাধিক ভুক্তভোগী সোলেমান চক্রের বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্দ্ধতন মহলে অভিযোগ করেছে।
এ ব্যপারে ওই সব থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সোর্সদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ রয়েছে।
তবে মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দপ্তর সুত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট থানা গুলোকে বলা আছে সোর্সদের যে কোন ধরনের তৎপরতার প্রতি নজর রেখে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিলুপ্তির পথে গোপালগঞ্জের ঢেঁকি শিল্প
                                  

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গ্রাম বাংলার তরুনী-নববধূঁ ও কৃষাণীদের কন্ঠে ও বউ চাল ভাঙ্গেরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া, নতুন চাল ভাঙ্গে হেলিয়া দুলিয়া ,ও বউ চাল ভাঙ্গে রে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া” এ রকম গান আর শোনা যায় না।
অগ্রহানয়-পৌষ মাসে কৃষক ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে কৃষাণীদের ঘরে ধানের নতুন চাল ভাঙ্গা বা চাল গুড়া করা, আর সে চাল দিয়ে পিঠা, পুলি, ফিরনি, পায়েশ তৈরি করার ধুম পড়ে যায়। এছাড়াও নবান্ন উৎসব, বিয়ে ঈদ,ও পূজায় ঢেঁকিতে ধান ভেঙ্গে আটা তৈরির সময় গ্রাম্য বধুরা গান গাইতে থাকতেন। চারিদিকে পড়ে যায় হৈ-চৈ। কালের বিবর্তণে সেই ঢেঁকি এখন যেন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি মাত্র। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আগের মত আর চোখে পড়ে না।
এক সময় ছিল ঢেঁকি গ্রাম জনপদে চাল ও চালের গুড়া- আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। বধুরা কাজ করতো গভীর রাত থেকে ভোর সকাল পর্যন্ত। এখন ঢেঁকির সেই ধুপ ধাপ শব্দ আর শুনা যায় না।
বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়ায় গোপালগঞ্জ জেলায় ঢেঁকির শব্দ আর নেই। গোপালগঞ্জ জেলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। ফলে বিলুপ্তির পথে গ্রামীন জনপদের কাঁঠের তৈরি ঢেঁকি। প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে যে খানে বিদ্যুৎ নেই সেখানেও ঢেঁকির ব্যবহার কমেছে। তবুও গ্রামীণ ঐতিহ্যেকে ধরে রাখতে কেউ কেউ বাড়ীতে ঢেঁকি রাখলেও তারা ব্যবহার করছে না। আবার কেউ কেউ দরিদ্র নারীদের দিন মজূরী দিয়ে ঢেঁকিতে ধান-চাল বা আটা তৈরি করতে দেখা গেছে। সেখানে একটু হলেও ধুপ ধাপ শব্দ শুনা যায়।
ঢেঁকি একটি শিল্প হলেও এ শিল্পকে সংরক্ষনের কোন উদ্যোগ নেই। এক সময় ঢেঁকি শিল্পের বেশ কদর ছিলো। যখন মানুষ ঢেঁকিতে ধানও চাল ভেঙ্গে চিড়া আটা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্ত কৃষকের ঘড়ে আর ঢেঁকি আর চোখে পড়ে না। তেল-বিদ্যুৎ চালিত মেশিন দিয়ে ধানও চাল ভাঙ্গার ফলে গোপালগঞ্জ থেকে ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। সে সময়ে কবি সাহিত্যিক গন ঢেঁকি কে নিয়ে অনেক কবিতা ও গান লিখেছেন ঢেঁকি ছাটা পান্তা ভাত পুষ্টিমান ও খেতে খুব স্বাদ লাগতো। বর্তমান প্রজন্ম সে স্বাদ থেকে আজ বঞ্চিত। প্রাচীন কালে ঢেঁকির ব্যবহার বেশি হলেও বর্তমান আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া গ্রামের চাঁন মিয়া বাউল বলেন, এক সময় ঢেঁকি নিয়ে বহু গান গেয়েছি। এখন ঢেঁকি নেই বহু গ্রামীন গান আর গাওয়া হয়না।
কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ী গ্রামের বৃদ্ধা জাহানারা বেগম বলেন, ধান ঢেঁকিতে পার দিয়ে সে আটা’য় পিঠা পুলি তৈরি করে নতুন স্বামীকে খাওয়াতে হবে, সে সময় এমন নিয়ম ছিলো নববধুদের উপর।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে গ্রাম বাংলার ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে। তবে ঢেঁকি আমাদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্য। সে জন্য এ ঢেঁকি শিল্প রক্ষা ও সংরক্ষনের জন্য সকলের সহযোগিতা ও গনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ
                                  

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী:

আমাদের ন্যায় উন্নয়নশীল দেশের পুরুষ-শাসিত সমাজে নারীরা কোন না কোন ক্ষেত্রে নির্যাতিতা বা নিগৃহিতা হচ্ছে, এটা অস্বীকার করার কথা নয়। নারী ও পুরুষ উভয়েই স্রষ্টার সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ প্রাণী বা ‘আশরাফুল মাকলুকাত’। সেই শ্রেষ্ঠ প্রাণী আজ আধুনিক সভ্যতার যুগেও চরমভাবে নির্যাতনের শিকার হবে তা ভাবতেও চিন্তাশক্তি আড়ষ্ট হয়ে যায়। ক্ষেত্র বিশেষে নারীরা আজ গৃহাভ্যন্তরেও নিরাপদ নয়। এক শ্রেণির পুরুষ মেয়েদের অসহায়ত্বের সুযোগে তাদেরকে ভোগের সামগ্রী বা পণ্য হিসেবে গণ্য করে ভোগের লালসা চরিতার্থ করতে গিয়ে মানব সভ্যতার ইতিহাসে কলঙ্কের অধ্যায় সূচনা করেছে। ফলে নারী নির্যাতন বন্ধে বা প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে সরকার হতে আরম্ভ করে নারী সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন সকলেই কম বেশী এ ব্যাপারে সোচ্চার। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নারী নির্যাতনের লোমহর্ষক ঘটনা প্রতিটি বিবেকবান ক্ষত-বিক্ষত করছে। নারী সমাজে তাদের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য পথে নেমেছে। বর্তমান সদাশয় সরকার নারী নির্যাতন বন্ধের ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে কঠোর আইনও প্রণয়ন করেছে, সেই সমস্ত আইন কম বেশী দ্রুত প্রয়োগও হচ্ছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থাও হচ্ছে। তথাপি কি নারী নির্যাতন বন্ধ হচ্ছে? না কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। বরঞ্চ যৌতুকের অভিশাপে বলি দিতে হচ্ছে অসংখ্যা অসহায় নারীকে। তার কারণ কি? প্রতিকারই বা কি? তা প্রত্যেক সচেতন ব্যক্তিকে গভীরভাবে ও সুক্ষ্মভাবে চিন্তা করতে হবে। নারী মাতা, নারী ভগ্নি, নারী কন্যা, জায়াÑ এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাই কবির ভাষায় বলতে হয় ‘এ বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্দেক তার নর। কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী, প্রেরণা দিয়েছে। শক্তি দিয়েছে বিজয়ীলক্ষ্মী নারী। এই নারী আমাদের সমাজের অর্ধেক, তাদেরকে পশ্চাদে রেখে, হেয় প্রতিপন্ন করে সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়। আমরা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখতে পাই যে আরব দেশে আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে যখন নারীদের জীবন্তাবস্থায় কবর দেওয়া হতো, নারীদের অভিশাপ মনে করা হতো, মনুষ্যত্ব পশুশক্তির বেদীমূলে আবদ্ধ ছিল, সেই ঘোর অমানিষার অন্ধকার হতে মানব সমাজকে রক্ষার জন্য পরিত্রাণ কর্তা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিলেন সর্বকালের, সর্বযুগের, সর্বশ্রেষ্ঠ মানব, সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম। তিনি মানব সমাজকে কুসংস্কার থেকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ঘোষণা করেছিলÑ ‘প্রত্যেক নর-নারী উভয়েই আল্লাহর সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ জীব, অর্থাৎ আশরাফুল মাকলুকাত; নারীদের উপর যেমন পুরুষের অধিকার রয়েছে, তেমনি পুরুষের উপরও নারীদের সমঅধিকার রয়েছে।” নারী নির্যাতন প্রতিরোধে করণীয় ঃ ১। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, “প্রত্যেক প্রাণীকেই আল্লাহ জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন, তৎমধ্যে একজনকে স্ত্রী জাতীয় অন্যজনকে পুরুষ জাতীয় করে; এবং স্বামী ও স্ত্রী সম্পর্কে ইরশাদ করা হয়েছেÑ স্ত্রীরা তোমাদের পোষাক-পরিচ্ছেদে এবং তোমরাও তাদের পোষাক স্বরূপ”। কাজেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সৃষ্টি জগৎকে বি¯তৃত করার জন্য মানুষের মধ্যেও নারী পুরুষকে স্বতন্ত্র গঠনে সৃষ্টি করেছেন; এবং উভয়ের অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রেখেছেন। তাই নবী করীম (নাঃ) বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যে তার স্ত্রীর নিকট উত্তম; আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার স্ত্রীর নিকট উত্তম”। নারীদের নির্যাতিত হওয়ার কারণ সমূহের মধ্যে অন্যতম হল অধিকাংশ ক্ষেত্রে শিক্ষার অভাব এবং আত্ম সচেতনতার অভাব। তাই নারীদেরকে অধিক হারে শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শুধু আইন করেই নারী নির্যাতন বন্ধ করা যাবে না। তাই সরকার একাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে যা প্রশংসার দাবীদার। 

২। পাশ্চাত্য শিক্ষা-সংস্কৃতি আমাদেরকে যেমন উন্নত ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান-বিজ্ঞান শিক্ষার দ্বার উন্মোচন করেছে, অপরদিকে আমাদের নৈতিক মূল্যবোধকে সংকুচিত করেছে। যেমনÑ মদ, জুয়া, যৌনাচারম ব্যাভিচার, অশালিন পোষাক ইত্যাদির প্রতি মানুষের আকর্ষণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার একমাত্র কারণ সঠিক ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার অভাব। ক্ষেত্র বিশেষে কোন কোন নারীর অশালীন পোষাক-পরিচ্ছদ পরিধান ও বেপরোয়া চলা-ফেরা ও উগ্র প্রসাদনী ব্যবহার করে যত্রতত্র একাকী অসময়ে চলাফেরা করাও দায়ী বটে। সাধারণত যুবক ছেলেরা নারীদের প্রতি তার রূপ লাবণ্য ও সৌন্দর্য চর্চায় ও অবাধ মেলামেশায় পরস্পরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। তাই ধর্মীয় ও নৈতিক বিধি-বিধান সমূহ মেনে চললে অনেকাংশ ক্ষেত্রে নারী নির্যাতন হ্রাস পাবে। কারণ পবিত্র ঐশি গ্রন্থ কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছেÑ “তোমরা যিনার ধারে-কাছেও যেওনা, কেননা ইহা একটি অত্যন্ত অশ্লীল ও মন্দ পথ।” নারী ও পুরুষের বিবাহ বহির্ভূত যৌন মিলনকেই যৌনাচার বা যিনা বলা হয়। অন্য এক আয়াতে ইরশাদ করেনÑ “হে রাসূল! আপনি মুমিনদেরকে বলুন তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জা স্থান হেফাযত করে, এটিই তাদের জন্য পবিত্রতর।”
৩। নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বর্তমান বিশ্বের আধুনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করতে হবে।
৪। নারী নির্যাতন শুধু আইনের দৃষ্টিতেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা নয়, ধর্মীয় দৃষ্টিতেও ইহা মহা পাপ এই ধারনা সৃষ্টি করতে হবে সকলের মনে। সেসঙ্গে পরকালীন শাস্তির কথাও ভুলে গেলে চলবে না। কারণ প্রত্যেক মানুষকে তার কৃত কর্মের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
৫। নারী নির্যাতন অডিন্যান্স এর মামলাগুলি দ্রুত নিষ্পত্তি ও সফল তদন্তের জন্য প্রত্যেক থানায় একজন বিশেষ অফিসারকে নিয়োগ করে ক্ষমতা প্রদান করতে হবে, কেননা ২/৩ লক্ষ জনসংখ্যা অধ্যূষিত থানায় একজন ও.সি’র পক্ষে থানার যাবতীয় কাজ-কর্ম সুষ্ঠুভাবে দেখাশুনা করার পর বাড়তি কাজের ঝামেলায় সুষ্ঠু তদন্ত হচ্ছে না। এছাড়াও একজন মহিলা অফিসারকে নারী নির্যাতনের মামলাসমূহ তদন্তের ভার ন্যাস্ত করা হলে সুফল পাওয়া যাবে।
৬। নারী নির্যাতনের মামলাসমূহের বিচারের ফলাফল বিশেষ করে সাজা বা শাস্তির ফলাফল পত্র-পত্রিকা ছাড়াও সরকারি প্রচার মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে অপরাধীদের মনে ভয়-ভীতির সঞ্চার হয় ও সংশোধনের সুযোগ পায়।
৭। নারী নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে নারী সমাজকে যতœবান ও সংযত ও শালীনভাবে চলাফেরা করলে ভালো হয়। টিন এইজএর ছেলে-মেয়েদের বেপরোয়া ও অশালীন চলাফেরার উপর লক্ষ্য রাখতে হবে এবং সহপাঠীদের সঙ্গে মেলামিশার ব্যাপারেও তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে।
৮। নারী নির্যাতনকারীদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সাজা প্রাপ্তির পর তাদের নাম-ঠিকানা থানায় তালিকাভুক্ত করলেও কিছুটা সুফল পাওয়া যেতে পারে। তালকাভুক্ত অপরাধিদের নাম ঠিকানাসহ নোটিশ বোর্ড বা প্রয়োজনীয় স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
৯। রুজুকৃত মামলায় আইনের মারপ্যাঁচে যাতে অপরাধীরা জামিন কিংবা অব্যাহতি না পায় তজ্জন্য প্রসিকিউশনকে অধিক সর্তক থাকতে হবে ও তথ্য উপাত্ত সুচারুরূপে ও ত্র“টিহীনভাবে পরিচালনা করতে হবে।
১০। মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সুগম করতে হবে এবং সেসঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিশেষে উপসংহারে বলতে হয় নারীও মানুষ, তাদেরকে মানুষ হিসেবে দেখলেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পুরুষ নিজেকে শক্তিশালী ও নারীকে দুর্বল ভাবলে চলবে না। কেননা উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজকের এই আধুনিক সভ্যতা। কাজেই আসুন নারী সমাজকে তার অধিকার সচেতন করে ও আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে উন্নয়ণমূলক কাজে সম্পৃক্ত করে দেশ ও জাতিকে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলি। সকল কুসংস্কার, হীনমন্যতা ও ধর্মান্ধতা পরিহার করে নারী বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করি। নারী পুরুষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ব্রতী হই। তাহলেই আমাদের মানুষ হিসাবে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসাবে মানবাধিকার রক্ষা হবে।

লেখক : বীর মুক্তিযোদ্ধা, কবি ও সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক
অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (অব.)

স্ত্রীর পর্ণ ভিডিও দেখে স্বামী যেভাবে খুন করলো ব্লাকমেইলারকে
                                  

কাজী ওয়াজেদ :

গত শবেবরাতের ৪ দিন পর থেকে ঠিকমত ঘুমাতে পারেনি ওহাব। ঘুমাবে কিভাবে, অন্য পুরুষের সাথে নিজ স্ত্রীর পর্ণ ভিডিও দেখে কি কেউ ঠিক থাকতে পারে?
কয়েকদিন আগে ওয়াসার নির্জন লেগুনের(পুকুর) স্লুইসগেটের ভিতর পাওয়া যায় অজ্ঞাতনামা ৩৫-৩৬ বছরের পুরুষের গলাকাটা লাশ। সনাক্ত করতে পারেনি আশপাশের কেউই। নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ফিঙ্গার প্রিন্ট ম্যাচিং, DNA প্রোফাইলিং, সব থানায় ছবি প্রেরনসহ শত চেষ্টা করেও সনাক্ত করা যাচ্ছিল না মৃতকে । এদিকে ময়না তদন্ত শেষে ফ্রিজ নষ্টের অজুহাত দেখিয়ে লাশটা আন্জুমানে দেয়ার জন্য বারবার তাগিদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের । অবশেষে ৫ দিন পর জানা গেল খুন হওয়া ব্যক্তি যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তের মাছ ব্যবসায়ী সুমন। কিন্তু লাশ সনাক্ত হলেও কেউ বলতে পারেনা কি কারনে খুন হল সে, আর কেই-বা খুন করলো তাকে।
ক্লু-বিহীন হত্যা মামলাটি উদঘাটনে আই/ও এর সাথে ঝাপিয়ে পড়ে সবাই। এসি শ্যামপুর জোন মহোদয়, ইন্সপেক্টর তদন্ত, অপারেশনসহ আরো অনেকে। ভিন্নতর মাধ্যমে জানতে পারি একজন হিজড়া এই হত্যাকান্ডের বিষয়টি জানে। একে একে কয়েকজনকে আটক করেও পৌছানো যাচ্ছিল না খুনির কাছে। ৫টা টিমকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় নিয়োজিত করেও পাচ্ছিলাম না সুফল। অবশেষে মুন্সীগন্জ থেকে সারারাত চেষ্টা করে ধরা হয় একজন মহিলাকে। জানা যায় মুল খুনি আসছে বরিশাল থেকে। ৪টা টিম ওৎপেতে থাকি সদরঘাট। সারারাত নির্ঘুমের পরও শিকারের নেশায় মুছে যায় সব ক্লান্তি। কিন্তু কাঙ্খিত লন্চের সব যাত্রী নেমে গেলেও হদিস নেই খুনির। নদীর মধ্যে নৌকা নিয়ে অবস্থানও কাজে দেয় না। ফিরে আসার মুহুর্তেই আশার আলো। কাঙ্খিত লন্চে না এসে খুনি আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য বিকল্প লন্চ ব্যবহার করে। চাহনি দেখে সন্দেহ হওয়া মাত্র ঝাপিয়ে পড়ে সবাই। ধৃত হয় ওহাব, জিজ্জাসাবাদে বের হয় লোমহর্ষক কাহিনী।
কয়েকটি মামলায় দীর্ঘদিন জেলে ছিল ওহাব। স্ত্রীর দায়ের করা একটি মামলায় ৩/৪ বছর পুর্বে সুমন জেলে গেলে পরিচয় হয় তার সাথে। সুসম্পর্কের কারনে জেলখানায় ওহাবের আশ্রয়ে বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করে সুমন। কিছুদিনের মধ্যে জামিন হয় সুমনের। বের হবার সময় ওহাব সুমনকে তার স্ত্রীর ফোন নম্বর দিয়ে হাজিরার দিন কোর্টে যেতে বলে। জেল থেকে বের হয়ে সুমন যোগাযোগ করে ওহাবের স্ত্রী বিলাসীর (ছদ্দনাম) সাথে। একসময় সুমন অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে বিলাসীর সাথে। বিলাসীর অজান্তে গোপনে ভিডিও করে অন্তরঙ্গ মুহুর্ত। আর সেটা দেখিয়ে দিনের পর দিন ব্লাকমেইল করতে থাকে সুমন। স্বামী জেলে থাকা অবস্থায় বিলাসী চলে যায় লেবানন। সেখানেও যোগাযোগ রাখে সুমন। স্বামী ওহাব জেল থেকে বের হলে দেশে চলে আসে বিলাসী। কিন্তু এবারও ব্লাকমেইল করতে থাকে সুমন। নোংরা ভিডিও ছড়িয়ে দেয় ইন্টারনেটে। কিন্তু তখনও জানতে পারে না ওহাব কোনকিছু। বিলাসীও বুঝতে পারেনা কিছু। একসময় থেমে যায় সব। কাহিনী শেষ হতে পারতো এখানেই । কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি ।
মাঝেমাঝে রাতে ঘুম ভেংগে গেলে শয়তানী চক্রে দোকান থেকে মোবাইল ফোনে আপলোড করে আনা নোংরা ভিডিও দেখতো ওহাব। সেই অভ্যাস বসে গেল শবেবরাতের ৪দিন পর গভীর রাতে এমনিই একটা ভিডিও দেখতে দেখতে চোখ চড়ক গাছ হয় ওহাবের। বারবার দেখে আবিস্কার করে পর্ণ ভিডিওটির নায়িকা তারই পাশে শুয়ে থাকা স্ত্রী বিলাসী।
নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা সে। পরদিন দোকানে যেয়ে ভিডিওটি আলাদা করে বারবার দেখে নিশ্চিত হয় ওহাব। এরপর প্রচন্ড মারধর করে স্ত্রীকে। ব্যাপক চাপের এক পর্যায়ে সব স্বীকার করে বিলাসী। সিদ্ধান্ত নেয় ছোট মেয়েটাকে মেরে ফেলে আত্বহত্যা করবে ওহাব । বিষয়টা শেয়ার করে এক ভয়ংকর সন্ত্রাসীকে। সব শুনে ওই সন্ত্রাসী বলে বোকার মত মরবি কেন, প্রতিশোধ নে? কিন্তু কোথায় পাবে সুমনকে। অনেক খুজে হত্যার ৪ দিন আগে ওহাব তাকে পেয়ে যায় যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তে। নিজ স্ত্রী সম্পর্কে কিছু দুর্নাম করে তাকে তালাক দিয়েছে বলে জানায়, সেই সাথে ফোন নম্বর নিয়ে আসে ওহাব। পরদিন স্ত্রীকে চাপ দিয়ে ফোন করায় সুমনকে। গল্প সাজায় ওরা। তালাকপ্রাপ্তা এবং গার্মেন্টস-এ চাকরী করে ও একা বাসা নিয়ে থাকে শুনে সুমনের মাথায় দোল খায় পুরানো হিসেব। একা দেখা করতে চায় বিলাসীর সাথে। এদিকে বড় ভাই-এর দেয়া লোকজনসহ চাকু আর ব্লেড নিয়ে প্রস্তুতি নেয় ওহাব। ঘটনার সন্ধ্যায় ৪জন অপেক্ষা করে ওয়াসার গেটে। বিলাসীর ফোন পেয়ে মহা আনন্দে স্বর্গীয় সুখ লাভের জন্য চলে আসে সুমন। হাটতে হাটতে বিলাসীর পিছন থেকে নিখোজ হয় সুমন। পিছনে কাউকে না দেখে ভয়ে চলে যায় বিলাসী। ঘটনাস্থলে নিয়ে ৫জনে জেরা করে সুমনকে। ব্লেড দিয়ে গুরুত্বপুর্ন অংগ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় ওহাব, যাতে আর কোন মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করতে না পারে সুমন। কিন্তু বাদ সাধে বাকিরা, বলে ও বেচে গেলে মামলা খাবো সবাই। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তে ওকে জবাই করে হত্যা। যাতে কেউ লাশ দেখতে বা খুজে না পায় সে জন্য লাশ ফেলে দেয় স্লুইসগেটের ভিতরে। পালিয়ে যায় সবাই। ঘটনার পর থেকে কয়দিন ঘুম আসেনা ওহাবের। সারারাত জেগে এখানে ওখানে হাটে। স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে অবশেষে বিভিন্ন স্থান ঘুরে ধরা পরে পুলিশের জালে। বিজ্ঞ আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে ঘটনার আদ্যপান্ত বর্ননা করে ওহাব।
একেবারে জিরো থেকে শুরু করে ক্লু-বিহীন স্পর্শকাতর হত্যা মামলাটি উদঘাটনে একটানা ৭দিন পরিশ্রম করেছে আমার চৌকষ অফিসারবৃন্দ। সকল ক্রেডিট তাদের, সত্যিই আমি গর্বিত ওদের জন্য।

কাজী ওয়াজেদ; কলামিস্ট, প্রশাসনিক কর্মকর্তা। ওসি, কদমতলী থানা ঢাকা।

চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দাবি
                                  

সিরাজী এম আর মোস্তাক: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতীয় চার নেতা জনাব তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম. মনসুর আলী এবং এ. এইচ. এম. কামরুজ্জামান সফল সংগঠক ছিলেন। তারা মুজিবনগর সরকার গঠনসহ স্বাধীনতাযুদ্ধ সার্বিক পরিচালনা করেছেন। স্বাধীনতাত্তোর দেশ গঠণেও তাদের ভূমিকা অসামান্য। ৩ নভেম্বর ১৯৭৫ তারিখে এক সামরিক সন্ধিক্ষণে তারা জেলের প্রকোষ্ঠে নির্মমভাবে শহীদ হন। আজও তার বিচার সম্পন্ন হয়নি। কারা এবং কেন তাদেরকে হত্যা করেছে, তাও সুস্পষ্ট নয়। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য তাদের কোনো স্বীকৃতি বা খেতাবও নেই। বাংলাদেশে প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা তালিকায় তাদের নাম নেই। বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগীরা যতোটা পরিচিত, চার নেতা ততোটাও পরিচিত নয়। অনেকেই তাদের নাম জানেনা। আবার অনেকে প্রশ্ন করে বসে, চার নেতা মুক্তিযোদ্ধা নাকি রাজাকার? এর কারণও স্পষ্ট। বর্তমানে বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বা মাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে যেভাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে, তাতে মুক্তিযুদ্ধে চার নেতার অবদান বিস্মৃতির পথে। বাংলাদেশে স্বাধীনতার কান্ডারীদের এমন বিস্মৃত পরিণতি একেবারেই অনাকাঙ্খিত। 

বর্তমান প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানী বলতে শুধুমাত্র দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা কোটাভোগী পরিবারকেই বুঝায়। শুধু তারাই দেশ স্বাধীন করেছে, অন্য কারো অবদান নেই। তাই দেশের সকল চাকুরি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং বিশেষ সুযোগ-সুবিধায় তাদেরকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। তাদের জন্য সর্বনি¤œ পচিশ হাজার টাকা ভাতা চালু হয়েছে। দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-সন্ততি, নাতি- নাতনি থেকে চৌদ্দ গোষ্ঠি মুক্তিযুদ্ধের স্বাদ ভোগ করছে। তাতে ত্রিশ লাখ শহীদেরও কোনো অংশ নেই। তারা শুধু মুখে মুখেই। তারা মুক্তিযোদ্ধাও নয়। বাংলাদেশে ষোল কোটি নাগরিকের কেউ ত্রিশ লাখ শহীদের পরিবারভুক্ত নয়। তবে দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধা তালিকাটি ত্রিশ লাখ এক থেকে শুরু হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমান জীবিত মুক্তিযোদ্ধাগণও ত্রিশ লাখ শহীদের অর্ন্তগত। অন্যদিকে কথিত দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের কোনো অস্তিত্বও নেই। তারা মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ কোনো তালিকাতেই নেই। তেমনি চার নেতাও মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত নয়। তারাও ত্রিশ লাখ শহীদ ও দুই লাখ সম্ভ্রমহারা মা-বোনের মতো মুখে মুখেই রয়েছে। এক সময় এ সমস্ত মৌখিক স্বীকৃতি ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। তাই অতি সত্ত্বর চার নেতাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা খেতাব প্রদান করে তাদের অবদান চিরন্তন করা উচিত।
৩ নভেম্বর. ২০১৬ তারিখ জেল হত্যা দিবসে চার নেতাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি প্রদানের মোক্ষম সময়। এসাথে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি বঞ্চিত সবাইকে খেতাব দেয়া যেতে পারে। স্বাধীনতার স্থপতি বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেয়া যায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানে বন্দী ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। বঙ্গবন্ধু তার শাসনামলে মাত্র ৬৭৬ জন যোদ্ধাকে খেতাব দিয়ে ১৯৭১ সালে দেশে অবশিষ্ট সকল নাগরিককে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করেছিলেন। নিজেও একজন বন্দী যোদ্ধা পরিচয় দিয়েছিলেন। (১০ জানুয়ারী, ১৯৭২ তারিখে দেশে প্রত্যাবর্তন দিবসে তার মহামূল্যবান ভাষণ দ্রষ্টব্য)। বঙ্গবন্ধুর এ ত্যাগী আদর্শ সবাই গ্রহণ করেছিল। চার নেতা এবং সেনাপ্রধান এম এ জি ওসমানীসহ বহু প্রত্যক্ষ সংগ্রামী ব্যক্তিবর্গ মুক্তিযোদ্ধা খেতাব লাভ থেকে বিরত থাকেন। তারা উক্ত ৬৭৬ খেতাবধারী ছাড়া দেশের সবাইকে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠণে প্রচেষ্টা করেন। তখন দেশে মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন ছিল না। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যও কোনো কোটা ছিলনা। বঙ্গবন্ধুর সে মহান আদর্শ বাস্তবায়ন করত: জাতীয় চার নেতাকে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব প্রদান আবশ্যক। এতে বাংলাদেশে প্রচলিত মুক্তিযোদ্ধা-অমুক্তিযোদ্ধা বিভাজন দূর হবে। বর্তমান ষোল কোটি নাগরিক সবাই বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার ভক্ত অনুসারী হিসেবে ১৯৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারভুক্ত হবে।
শিক্ষানবিশ, ঢাকা।

খাদিজা থেকে আনু মুহাম্মদ: নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশ
                                  

আলী আকবার:
‘স্মৃতির খাতায় ময়লা জমলেও অক্ষর গুলি একেবারে অস্পষ্ট হয়ে যায়না। সময়ের ধুলা ঝেড়ে সে আবার ভেসে উঠে’। সম্প্রতি সিলেটে এক কলেজ ছাত্রীকে বদরুল নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী চাপাতি দিয়ে কোপানোর সময় অনেক মানুষ দূরে দাড়িয়ে সে দৃশ্য দেখেছে। কেউ কেউ আবার ভিডিও করেছে। কিন্তু চরম সত্য হলো বদরুলকে কেউ বাধা দেয়নি; বা দিতে সাহস করেনি। এ ব্যাপারে সংসদের দ্বাদশ সমাপনী দিবসে প্রধানমন্ত্রীর একটি ‘ব্যাথিত’ বক্তব্য ইতোমধ্যেই মিডিয়াতে প্রচারিত হয়েছে। আবার জনতা কর্তৃক বদরুল তাৎক্ষনিকই গ্রেফতারও হয়েছে। কিন্তু দেশে বিচার প্রক্রিয়ায় যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তাতে কিন্তু বিচার কার্য যে কতটুকু আগাবে সে প্রশ্ন নিশ্চয় থেকেই যাচ্ছে।
 
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জনক এরিষ্ট্রটল রাষ্ট্রকে নৈতিক প্রতিষ্ঠান বলে উল্লেখ্য করেছেন। তিনি বলেছেন,  সর্ব সাধারণকে সৎ ও সুন্দর পথে পরিচালনা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। যে শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে ঐ বর্বর দৃশ্য দেখেছে তাদের শুধু ধরটাই আছে; মাথা নেই। প্রতিনিয়ত তাদের মাথা কাটা হয়েছে, হচ্ছে। যারা দাঁড়িয়ে দেখেছে তারা নিশ্চয় নিতান্তই সাধারণ মানুষ নয়; এরা জাতীর ভবিষ্যৎ কর্নধার। এরা সাহসিকতা এবং নৈতিকতার প্রতিক। যাদের কাছে সাধারণ জনগণের আশা আকাঙ্খা অনেক বেশী, আর সেই তারাই আজ সাহস ও নীতি-নৈতিকতাহীন।

২০১২ সালে জানুয়ারী মাসে বদরুল এই খাদিজাকেই লাঞ্ছিত করার অপরাধে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছিল। তখন বর্তমান সরকার দলীয় নেতাকর্মী ও প্রচার মাধ্যমের আর্শিবাদে বদরুল নিরুৎসাহিত না হয়ে বরং অনেক বেশী উৎসাহিত হয়ে উঠে। আর সরকারী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগতো তাকে উচ্চ পদে আসিন করে রিতিমতো সম্মানীত করে। অপরদিকে সেদিন যে মানুষগুলো প্রতিবাদ করলো পুলিশের তালিকাতে তাঁরা হয়ে গেলেন ঘাতক, সন্ত্রাসী শিবির কর্মী।

সে দিন যে বুদ্ধিজীবীদের উচিৎ ছিল বদরুলকে প্রচন্ড ধিক্কার জানানো, তাদের মধ্যে কেউ কেউ কিঞ্চিত আফছোস করলেন মাত্র। যে সংবাদ মাধ্যমের উচিৎ ছিল প্রকৃত ঘটনার সত্য সংবাদ প্রচার করা সেখানে তাদের কেউ কেউ স্ব-ইচ্ছা মাফিক সংবাদ প্রসব করলো। যে ছাত্র সংগঠনের উচিত ছিল বদরুলকে বহিস্কার করা তারা বরং উচ্চ পদ দিয়ে তাকে সম্মানীত করলো। যেখানে সরকারের উচিত ছিল তাকে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা, সেখানে সরকার ও সরকারীদল তাকে সাহায্য করার মধ্যোদিয়ে বরং পুরস্কিত করলেন। আর এভাবেই বদরুল হয়ে উঠলো বর্বর চাপাতি বদরুলে।

বিশ্বজিৎকে যেদিন কুপিয়ে হত্যা করা হয় সেদিন অগনিত পুলিশ সেখানে উপস্থিত ছিল, তারাও বিশ্বজিৎকে বাঁচানোর কোন চেষ্টাই করেনি। সেখানে সাধারণ নিরিহ জনগণ যারা কার্যত শক্তিহীন, ন্যায় বিচার প্রাপ্তির ভরসাহীন তারা কি ভাবে খাদিজাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যাবে। উপরোন্ত জীবন বিপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা; তারা কি করে প্রতিবাদ করবে, বাধা দিবে?
 
সম্প্রতি তেল গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। কারণ তিনি সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্প বিরোধীতা করছেন। সরকারের এ সুন্দরবন বিধ্বংসী রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিরোধীতা একা আনু মুহাম্মদ করেন না। আরও অনেকেই করেন। ইউনেস্কো তাদের বিশেষজ্ঞদের অনুসন্ধান রিপোর্ট ২৪ সেপ্টম্বর একাধিক প্রত্রিকায় লিড নিউজ হিসাবে প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের উপর অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে, জলবায়ুরও ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন হবে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতি অনেক বেশী। ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চতর চিমনির নির্গত গ্যাস বায়ু মন্ডলের বাতাস দূষিত করবে। প্রতি ঘন্টায় পাঁচ হাজার কিউবিক মিটার পানি নদী থেকে তোলা হবে, এবং ব্যবহারের পর দূষিত অবস্থায় সুন্দরবনের নদীতে ছাড়া হবে। এতে সুন্দরবনের নদীর পানি দূষিত হবে। জলজ প্রানীর অস্তিত্ব ধ্বংস হবে। জাহাজ চলাচলের জন্য নতুন করে নদীর নাব্যতা সৃষ্টি করতে হবে। এজন্য নদীকে ড্রেজিং করতে হবে প্রায় অর্ধকোটি কিউবিক ফিট মাটি। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন হলে সুন্দর বনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে। জাতীসংঘের বিজ্ঞান শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো বাংলাদেশকে সুপারিশ করেছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে। সুপারিশ মানা না হলে ২০১৭ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য কমিশন-এর সভায় এব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ একজন দেশ প্রেমিক। তিনি আপাদত ক্ষমতা দখলের রাজনীতি করছেন না। তিনি জাতীয় জীবনের সমূহ সমস্যার সমাধান পেতে চান, জাতীয় সম্পদ রক্ষা করতে চান। আর তাই আনু মুহাম্মদকে হত্যার হুমকি সহজ ভাবে মেনে নেয়া যায়না। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ-এর মতো একজন শিক্ষক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদকে হত্যার হুমকি দাতার পিছনে নিশ্চয় বড় কোন শক্তি লুকায়িত। অতএব সরকারের উচিৎ হুমকিদাতাকে অনতিবিলম্বে খুজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসা। এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচাররের মাধ্যমে উদাহরণ সৃষ্টি করা। অধ্যাপক আনু মুহাম্মদসহ দেশের সকল নাগরিক ও তেল গ্যাস ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সকল আন্দোলনকারী ব্যক্তির নিরাপত্তা বিধানে সরকারের নিশ্চয় অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে চলছে। আজ অবস্থাটাই এমন যেন, যে যত বড় সন্ত্রাসী সে তত বড় নেতা। রাষ্ট্র জুড়ে যেন সন্ত্রসী গডফাদারদেই কতৃত্ব। আর তাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পরেছে গোটা বাংলাদেশ।
মনে রাখা উচিত পেশীশক্তির দাপট, বিচার বিহীন হত্যার অপরাজনীতি, দলীয়করণ, শোষনের নিপিড়ণের রাজনীতি রাষ্ট্র ও জনগণের কোন মঙ্গল বয়ে আনে না, কিংবা আনতে পারে না। ভারসাম্যহীন ক্ষমতা কিছু কাল কার্যকরি থাকে; চীর দিন নয়। কথায় আছে, সাপুড়ের মৃত্যু নাকি সাপের কামড়েই হয়। প্রকৃতির প্রতিশোধ বড়ই নির্মম। ইতিহাসে তা বার বার প্রতিফলিত হয়েছে। যেদিন নির্বোধ ঐ ধর গুলিতে আবার মাথা গজাবে, সেদিন কেউ তাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। প্রতিশোধ তারা নিবেই। সেদিন হয়তো কোন নেতারও প্রয়োজন হবে না। সময় নিজেই নেতৃত্বের ভুমিকায় অবত্তীর্ন হবে। এটাই চিরায়ত, এটাই ইতিহাস।
লেখক: আলী আকবার, কলাম লেখক। ফোন: ০১৬৭৪-৪৯৬৪১৪।

লাল কাকড়া ও সবুজ কার্পেট বিছানো গঙ্গামতি সৈকতে এখন পর্যটকদের ভীড়
                                  

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
কলাপাড়ার গঙ্গামতি সমুদ্র সৈকত এখন পর্যটকদের কাছে ভ্রমনের অন্যতম পর্যটন স্পট। জোয়ারের সময় কুয়াকাটা সৈকত পানিতে তলিয়ে থাকায় গঙ্গামতি সৈকতে পর্যটকদের পদচারনা ক্রমশ বাড়ছে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য উপভোগ ছাড়াও বিস্তীর্ন সৈকতের বালুকাবেলায় লাল কাকড়ার খেলা ও প্রকৃতির অপরুপ সমারোহ পর্যটকদের আকর্ষন করছে। শীত শুরু না হলেও এই সৈকতে আসতে শুরু করেছে অতিথি পাখি। কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদীর বালিয়াতলী স্টেশনের একটি মাত্র খেয়া নৌকা পেরিয়ে সড়ক পথে গঙ্গামতি সৈকতে পৌছতে মাত্র এক ঘন্টা সময় লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারনে কুয়াকাটার এ বিকল্প সড়ক পথে গঙ্গামতি সৈকত ঘুরে কুয়াকাটায় রাত্রি যাপন পর্যটকদের কাছে ভ্রমনের এক অন্যমাত্রা যোগ করেছে। কলাপাড়ার ধুলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি সৈকতের অবস্থান। প্রায় তিন হাজার একরেরও বেশি খাস জমি নিয়ে বিশাল সমুদ্রের বেলাভুমি। বনবিভাগের মাইলের পর মাইল সংরক্ষিত বনাঞ্চল প্রকৃতির সকল সৌন্দর্য যেন সাজিয়ে রাখা। এ বনাঞ্চলে বিরল প্রজাতির পাখিসহ মাঝে মধ্যেই চোখে পড়বে বন্য শুকড়, কাঠ বিড়ালী, শিয়াল ও বানর। কুয়াকাটা সৈকত থেকে গঙ্গামতি সৈকতের দূরত্ব মাত্র ৭ মিলোমিটার। অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি গঙ্গামতি সৈকতে দাঁড়িয়ে সুর্যোদয় ও সুর্যাস্তের অপরুপ দৃশ্য অবলোকন করা যায়। এখানে  গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকল ঋতুতেই পাখিদের কলরবে মুখরিত থাকে। বিস্তীর্ন সৈকতের বালুকাবেলায় সারি সারি সাজানো জেলেদের নেীকার বহর। সকাল থেকে এ নেীকা সাজানো থাকলেও শেষ বিকালে তা সাগরে ভাসে মাছ শিকারের জন্য।  এখান থেকেই অবলোকন করা যায় সাগরে সংগ্রামী জেলেদের জীবনযাত্রা। গঙ্গামতি সৈকতের বালুকাবেলায় ছোট ছোট লাল কাকড়ার খেলা পর্যটকদের জন্য বাড়তি পাওনা। বালুতটে এ লাল কাকড়ার লুকোচুরি দূর থেকে দেখলে মনে হবে পর্যটকদের অভ্যর্থনার জন্য যেন সৈকত জুড়ে লাল কার্পেট বিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাইতে দেশÑবিদেশের পর্যটকরা বার বার ছুটে আসছে গঙ্গামতি সৈকতে। প্রকৃতি ও সমুদ্রের অপরুপ মিতালী যেন ঘিরে রেখেছে গোটা সৈকতের বালুকাবেলা। যেখানে কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই। গঙ্গামতি সৈকতের কাছেই মিশ্রিপাড়ায় রয়েছে শত বছরের পুরানো এশিয়ার বৃহত্তম বৌদ্ধ বিহার। এখানে ঘুরতে এলে উপভোগ করা যায় রাখাইন সংস্কৃতি। যারা এখনও নিজেদের পড়নের কাপড় নিজেরাই বুনে আপন মনে। এ পাড়ায় সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে রাখাইন শিশুদের মাতৃভাষায় শেখার জন্য রয়েছে নিজ সংস্কৃতির স্কুল। একটু দাড়ালেই আয়ত্ব করা যাবে তাদের ভাষা। গঙ্গামতি সৈকতে ভ্রমনে আসা ঢাবি’র ছাত্র সুমন, তালিম ও তাদের বন্ধুরা জানান, কুয়াকাটা সৈকতের চেয়েও এ সৈকতের প্রস্থ্য বেশি। এ সৈকতে ঘুরে বেড়ানো সত্যিই আনন্দের। এখানে মাত্র বালিয়াতলী খেয়া পার হলেই মোটরসাইকেল যোগে এক ঘন্টার মধ্যেই আসা সম্ভব। গঙ্গামতি সৈকত এলাকায় এখনও পর্যটকদের রাত্রি যাপনের জন্য হোটেল নির্মান না হলেও এ সৈকত কে ঘিরে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়ে বিভিন্ন হাউজিং কোম্পানী ও ব্যক্তিমালিকানা জমির মালিকরা। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল নির্মান কাজও শুরু হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই গঙ্গামতি সৈকত হয়ে উঠবে এক আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট।
 
       

সজীব ওয়াজেদ জয়॥ প্রজন্মের অহংকার
                                  

শিব শংকর মোদক:

সজীব ওয়াজেদ জয় । জন্ম ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই তারিখে। তিনি বিশিষ্ট বাঙালি পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ  মিয়া ও দেশরতœ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতি।
সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতের বেঙ্গালুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিএসসি ডিগ্রী লাভ করেন। তারপর তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেক্সাস, আর্লিংটন বিশ্ববিদ্যালয় ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল ও জনপ্রশাসনে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের ২৫ শে ফেব্র“য়ারী জয় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। রংপুর সহ সারা বাংলাদেশে সেদিন আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও  অফিসিয়ালি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকালে (২০০৬-২০০৮) সজীব ওয়াজেদ জয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার দিকনির্দেশনামূলক প্রচারনার মাধ্যমে বিতর্কিত মাইনাস টু ফরমুলা ব্যর্থ হয়। এতে জননেত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনীতিবিদদের মুক্তি ত্বরান্বিত হয়।
বাংলাদেশে ধর্মীয় চরমপন্থীদের উত্থান নিয়ে ২০০৯ সালে সজীব ওয়াজেদ একটি গবেষনামূলক নিবন্ধ নিখেন। হার্ভার্ড ইন্টারন্যাশনাল রিভিউতে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারী ‘‘ধর্ম নিরপেক্ষ রুপরেখা” শিরোনামে এটি সবিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।
তথ্যপ্রযুক্তিবিদ সজীব ওয়াজেদ জয় আওয়ামীলীগ সরকারের গত মেয়াদে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি দ্রুত পৌছে গিয়েছেন তৃনমূলে। অনেক রাজনীতি বিমুখ তরুন জয়ের প্রাত্যাহিক ভাবনাগুলো ফেইসবুকের মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। অনুপ্রেরণা লাভ করছেন বড় কিছু করার দেশের জন্য।
আজকের তরুনরা কেবল তথ্যপ্রযুক্তিই নয়, সার্বিক রাজনৈতিক চিন্তাচেতনায় তথা নেতৃত্বের বিকাশে সজীব ওয়াজেদ জয়কে অনুসরণ করছে। তরুন প্রজন্মের অংহকার সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘‘ডিজিটাল বাংলাদেশ তৈরীতে আমরা বিস্ময়কর অগ্রগতি অর্জন করেছি, তবে এখনও অনেক কাজ বাকী”। তার চিন্তা চেতনায় দুরদর্শিতা ও আধুনিকতায় ছাপ প্রবল। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি সরকার, পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে প্রথম হয়েছেন। তাদের আমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল তিন হাজার মেগাওয়াট। সারাদেশে অর্ধেক দিন অন্ধকার থাকত। মানুষ অনেক কষ্ট করত। শেখ হাসিনার সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন উন্নীত করেছে দশ হাজার (১০,০০০) মেগাওয়াট এর উপরে।
বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে সাপ-লুডু খেলার বিরাট সাপের মুখে ফেলে দিয়েছিল স্বাধীনতা বিরোধী রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলকারীরা। বাঙালী জাতির আশা আকাংখার প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই ভয়ংকর সাপের মুখ থেকে জাতিকে রক্ষা করেছেন। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যোগ্যতম তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় তথ্যপ্রযুক্তিকে জীবন-জীবিকা তথা উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত করেছেন সুচারুরূপে। আগামী দিনের বিল গেইটস হয়তো ইতিমধ্যে জন্ম নিয়েছে বাংলাদেশে। এই প্রজন্ম তো বটেই আগামী প্রজন্মও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরন রাখবে- ‘‘বাংলাদেশে ‘তথ্য প্রযুক্তি’ নামক মহীরূহ বৃক্ষের বীজটি রোপিত হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয় এর হাত দিয়ে”।

ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে ওভারটেকিং॥ দূর্ঘটনা ক্রমবর্ধমান
                                  

সুমন ঘোষ, টাঙ্গাইল থেকে: ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু (যমুনা) সেতুপূর্ব হতে গাজীপুরের চন্দ্রা পর্যন্ত মহাসড়কে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতার কারণে হরহামেশাই ওভারটেকিং করায় প্রতিনিয়তই মহাসড়কটিতে মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে। শুধু তাই নয় মহাসড়কটিতে একাধিক জায়গায় টার্নিং পয়েন্টে (বাঁক) ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং করছে দ্রুতগতির যানবাহনগুলো। অথচ মহাসড়কটিতে চলাচল করা পরিবহনগুলোর গতি কমানো বা ওভারটেকিং বন্ধে পুলিশ কার্যকর কোন ভূমিকা গ্রহন করছে না। সরেজমিনে এমন চিত্রই দেখা গেছে মহাসড়কে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধু সেতুপূর্ব-গাজীপুর জেলার চন্দ্রা পর্যন্ত সত্তর কিলোমিটার মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গায় সংযোগ সড়ক, টার্নিং পয়েন্ট (বাঁক) অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসগুলো ওভারটেকিং করছে হরহামেশাই। পাশাপাশি মালবাহী ট্রাকগুলোও ওভারটেকিংয়ে পিছিয়ে নেই। ওভারটেকিং বৃদ্ধির ফলে মহাসড়কটিতে প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের এমন ওভারটেকিংয়ের কারনে দূর্ঘটনা সংঘটিত হয়ে সাধারন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে মহাসড়কটি। অধিকাংশ সময় ওভারটেকিং করার ফলে চালক গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি খাদে ফেলে দিচ্ছেন। এতেই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। আবার একটি গাড়ি অতিক্রম করতেই সামনের গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে সৃষ্টি হয়ে উভয় পরিবহনের চালকসহ সাধারন যাত্রীরা দূর্ঘটনায় অহরহ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে। আর যারা দূর্ঘটনায় বেঁচে গিয়ে গুরুত্বর আহত হয় তাদের করতে হচ্ছে পুঙ্গুত্ব বরণ । অন্যদিকে এলেঙ্গা-চন্দ্রা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শুরু হওয়ায় যানবাহন চলাচল কিছুটা ধীরগতি হওয়ায় চালকরা সময় পুরন করার জন্য ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং করতে বাধ্য হচ্ছেন বলে জানান ওই সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা।
উত্তরবঙ্গ ও ঢাকাগামী যাত্রীবাহি পরিবহনের মধ্যে, শ্যামলী পরিবহন, হানিফ পরিবহন, এসআর পরিবহন, নাবিল পরিবহন, এনা ট্রাভেলস, ডিপজল পরিবহন, কেয়া পরিবহন, হুন্দাই পরিবহন, সালমা পরিবহন, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, পাবনা এক্সপ্রেস, শাহজাদপুর ট্রাভেলস, টিআর ট্রাভেলস, শাহ ফাতেহ আলী পরিবহন, এসআই পরিবহন, অভি পরিবহন, স্টার নাইট পরিবহনগুলোসহ একাধিক পরিবহনের গাড়িগুলো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে ওভারটেকিং করছে।
এদিকে গাড়িগুলোর গতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং ওভারটেকিং বন্ধে কার্যকর কোন প্রদক্ষেপ গ্রহন করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) মহাসড়কে চলাচল করা দ্রুতগতির গাড়িগুলোতে ‘স্পিড গভর্নর সিল’ লাগিয়ে দেয়ার কথা। সিলটা লাগিয়ে দেয়া হলে গাড়ির ওভার স্পিড ও ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হতো। কিন্তু বিআরটিএ অজ্ঞাত কারনে সেটি করছে না। ফলে সড়কে দূর্ঘটনা বাড়ছে।

বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সড়কে গতি মাপক যন্ত্র বসিয়ে গাড়ির গতি মাপা হয় প্রতিনিয়তই। গত দুই মাসে গাড়ির গতি মেপে প্রায় দেড়শ দ্রুত গতির পরিবহনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং এটা পর্যায়ক্রমে চলবেই।

এক্সিডেন্ট রিসার্স ইন্সিটিটিউট (এআরআই) বুয়েটের সহকারি অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ বলেন, “মহাসড়কে কম গতি এবং দ্রুত গতির গাড়ি চলাচল করছে। মহাসড়কে চলাচল করা বাসকোচ গাড়িগুলোর চালকরা ট্রিপ বেশির আশায় গাড়ি দ্রুত গতিতে চালাচ্ছে এবং ওভারটেক করছে। এতে করে একটি গাড়ির সাথে অপরটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ বেঁধে যায় ও গাড়ি খাদে পড়ে যায়। এছাড়াও গাড়ি নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পেরে খাদে ফেলে দিচ্ছেন অথবা মানুষের উপর উঠিয়ে দিচ্ছেন চালকরা। ফলে দূর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চার লেনের কাজ হচ্ছে। চার লেনের মাঝখানে দিয়ে যদি ডিভাইডার দেয়া যায় তাহলে মুখোমুখি সংঘর্ষ অধিকাংশে কমে যাবে। চার লেনের সাথে ছোট ছোট পরিবহন বা কম গতির গাড়ির জন্য সাইট সড়ক তৈরি করে দেয়া হলেও দূর্ঘটনা কমে যাবে। মহাসড়কের পাশ থেকে বাজারগুলো সরিয়ে দিতে হবে।

হাতটা বদরুলের হলেও চাপাতিটা ক্ষমতার
                                  

 

আবু হাসান টিপু:

বিচারহীনতার সংস্কৃতিই খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বজীৎকে যেদিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পান্ডারা প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করলো, তখনও ছাত্রলীগ বলেছিল হত্যাকারীরা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তখন আমরা ছিলাম নিশ্চুপ। আজ যখন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-স¤পাদক বদরুল খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কোপালো এখনও ছাত্রলীগ বলছে বদরুল আলম ছাত্রলীগের কেউ না। এখনও আমাদের মুখে কোন ভাষা নেই। বদরুল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহ-স¤পাদক। অতএব ছাত্রলীগই তার ক্ষমতার উৎস। ছাত্রলীগের ঔরসেই জন্ম নিয়েছে উত্ত্যক্তকারী বদরুল থেকে চাপাতি বদরুল। খাদিজাকে যে হাত কোপিয়েছে সে হাতটা বদরুলের হলেও চাপাতিটা ক্ষমতার।
২০১২ সালের ১৭ জানুয়ারিতেও খাদিজা আক্তার নার্গিসকে উত্ত্যক্ত করার সময় স্থানীয় বিবেকবান মানুষের জনরোশে পরে গণপিটুনির শিকার হয় বদরুল। পরদিন হত্যাচেষ্টার অভিযোগ সাজিয়ে মারধরকারীদের জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বদরুল মামলা করে স্থানীয় জালালাবাদ থানায়। সেদিন ছাত্রলীগ তার পক্ষ অবলম্বন করে। সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাকে গণপিটুনি দেয়ার ‘অপরাধে’ সেদিন সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ সত্য মিথ্যা যাচাই না করে তাদের ‘কর্তব্য কাজে’ তৎপর হয়ে উঠেছিলেন। গণপিটুনি খেয়েও বদরুল পুলিশি তৎপরতার সুবাধে মনে মনে হিরু বনে যায়। আর তার এই দলীয় ক্ষমতাই তাকে পূনঃপ্রতিষ্ঠা করে চরিত্রহীন লালশা বাস্তবায়নে। একথা নিশ্চয় ঠিক বদরুলকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতৃত্বে না বসালে হয়তো চাপাতি বদরুলের জন্ম হতোনা। বদরুল চাপাতি বদরুল হয়ে উঠেছে দল-প্রশাসন আর পুলিশেরই ছত্রছায়ায়, অবদানে।
ছাত্রলীগনেতা হওয়ার সুবাদেই বেসরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রী আফসানাকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তেজগাঁও কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতা রবিন ও তাঁর বন্ধুদের এখনো কিছু হয়নি। তারা আফসানার পরিবারকে ফোন করে হুমকি দিয়েছে বহুবার, বিষয়টি (মামলাটি) মীমাংসা করে ফেলার জন্য। আফসানা হত্যার মামলাটির মাস না পেরুতেই সরকারী দলের হস্থক্ষেপে পুলিশ পুরনো তালিকায় সরিয়ে ফেলেছে মামলাটি। এমন কি পুলিশের সীমাহীন গাফলতির কারণে খুনি রবিন এখন ধরা ছোঁয়ার বাইরে, ভারতে, নিরাপদে। বিচারের দন্ড ওদের ষ্পর্শ করতে পারেনি।
বৈশাখের জাতীয় উৎসবে নারীরা ছাত্রলীগের সংঘবদ্ধ চক্রের দ্বারা ভয়ানক যৌন নিপীড়নের শিকার হলেও এদেশের পুলিশ প্রধান সেটাকে স্রেফ “দুষ্টামি” বলেন দায় এরান, এটাকে তিনি নারীর প্রতি সহিংসতা হিসাবে দেখেন না; নির্যাতন বলেন না। বছর পেরিয়ে গেলেও তাই সেই অপরাধীদের এখনও কোনো শান্তি হল না। আর এই শাস্তি হবে না নিশ্চিত হয়েই নারীদের প্রতি সহিংসতা দিন দিন বেড়েই চলছে।
তনু নামের মেয়েটি গান গাইতে অস্বীকার করেছিল বলে ধর্ষন পরবর্তি খুন হলেন নৃশংসভাবে। দেশের সর্বোচ্চ নিরাপদ স্থান ক্যানটর্মেন্টের ভিতরে। সারাদেশর মানুষ জানলো কারা তাঁকে ওভাবে খুন করেছে। তবুও সেই ধর্ষক, খুনিদের বিচার হলো না। তনুর মায়ের আহাজারী চিৎকার এখনও আকাশ ভারি করছে। এতে কার কি আসে যায়।
সম্প্রতিকালে যশোরের শার্শা উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে সরকারিদলের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ায় অজুহাতে সরকারদলীয় লোকজন এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করেছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রতিপক্ষকে ভোট দেয়ার সন্দেহে সরকারি দলের লোকজনেরা ইভা নামের এক নারীকে নির্মমভাবে খুন করলো। চুয়াডাঙ্গায় ছাত্রলীগ নেতার দ্বারা ধর্ষিত শিশুকে চিকিৎসা নিতে গিয়েও বিপাকে পরতে হয়েছে তার পরিবার পরিজনের। হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার অপরাধে স্বামী সন্তানের সামনেই দ্বিতীয় বারের মতো ধর্ষিত হতে হয়েছে এক সংখ্যালঘু নারীকে। ধর্ষক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার ছোটভাই। পটুয়াখালীর বাউফুলে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার নেতৃত্বে প্রকাশ্যে ৪ জন সংখ্যালঘু নারীকে বিবস্ত্র করে পেটালো। একই এলাকার যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীরা মা ও মেয়েকে ট্রলারে তুলে নিয়ে তেতুলিয়া নদীতে গণধর্ষণ করলো। ইউপি নির্বাচনে পক্ষে কাজ না করায় গলাচিপার সরকারি এমপির ছোটভাই রাবেয়া নামে এক গৃহবধূকে বেঁধে বেদম পেটানোর পর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিয়েছে, পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে ঐ নারীর জীবনযাপনকে করেছে কলংকিত। এরকম বহু ঘটনাই ঘটছে প্রতিদিন। কিছু পত্রিকার সুবাদে প্রকাশিত হচ্ছে আর অদিকাংশই অজানা থেকে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনদের ক্ষমতা প্রদর্শনের মহড়া আজ মুর্তিমান আতংকে পরিণত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ চারুকলা ইনস্টিটিউটের ছাত্রী সীমা বানু সিমিকে উত্ত্যক্ত করার কারণে ২০০১ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিমি আত্মহত্যা করেন। ঘটনার ১৫ বছর পার হয়ে গেছে। মামলাটির এখনো নি®পত্তি হয়নি। ত্বকীকে নির্মমভাবে হত্যা করে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে হত্যাকারী খুনিরা। বিচারতো দুরের কথা পুলিশি তদন্ত কাজই এখনো শেষ হয়নি।
নারীর নির্যাতন ও নিপীড়নের এই ঘটনাগুলো প্রায় প্রতিটি দিনই ঘটে চলছে। সেসবের মধ্যে অল্প যে কয়টির ঘটনা প্রকাশ পায় সেগুলো নিয়েই মানুষ কথা বলে। এর বাইরে অজস্র ঘটনা অব্যক্ত কষ্ট হয়ে চাপা পড়ে থাকে। প্রতিটি নির্মম ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অসহায় মানুষ হৃদয়ের হাহাকার ঝেড়ে আবারও নিশ্চুপ হয়ে যায়।
৩ অক্টোবর। বিকেল বেলা এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে যখন অমানুষটি কোপাচ্ছিল অসহায় খাদিজাকে তখন পাশেই কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। তারা প্রতিরোধে আসেনি, বদরুলকে প্রতিহত করলে মেয়েটি এত বেশি রক্তাক্ত জখম হতোনা ওর জীবন সঙ্কটাপন্ন হতো না। তারা আসেনি। স্থানীয় ওসমানী হাসপাতালে মেয়েটির চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি। রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে ঢাকায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসতে না পারলেও এক পর্যায়ে নরপশুটিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সরকার এই নৃশংস ঘটনার বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করুক এটাই মানুষের চাওয়া।


   Page 1 of 4
     উপ-সম্পাদকীয়
হাওর পাড়ে ও সীমান্ত এলাকায় চলছে ভারতীয় তীর খেলা
.............................................................................................
নৈতিকতা গড়া ধ্বংস করা উভয়ের কারিগর "অভিবাবক"
.............................................................................................
গ্রামীণ ব্যাংক ও জনগণের লাভ লোকসান
.............................................................................................
আমার মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলি
.............................................................................................
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা
.............................................................................................
১০ টাকা দরের চাল বিতরণে অনিয়ম করেন শোষকরা
.............................................................................................
ডিএমপির মতিঝিলে সোর্সদের দৌরাত্ব্য ফের চরমে
.............................................................................................
বিলুপ্তির পথে গোপালগঞ্জের ঢেঁকি শিল্প
.............................................................................................
নারী নির্যাতন ও প্রতিরোধ
.............................................................................................
স্ত্রীর পর্ণ ভিডিও দেখে স্বামী যেভাবে খুন করলো ব্লাকমেইলারকে
.............................................................................................
চার নেতার মুক্তিযোদ্ধা খেতাব দাবি
.............................................................................................
খাদিজা থেকে আনু মুহাম্মদ: নিরাপত্তাহীনতায় বাংলাদেশ
.............................................................................................
লাল কাকড়া ও সবুজ কার্পেট বিছানো গঙ্গামতি সৈকতে এখন পর্যটকদের ভীড়
.............................................................................................
সজীব ওয়াজেদ জয়॥ প্রজন্মের অহংকার
.............................................................................................
ঢাকা-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে চলছে ওভারটেকিং॥ দূর্ঘটনা ক্রমবর্ধমান
.............................................................................................
হাতটা বদরুলের হলেও চাপাতিটা ক্ষমতার
.............................................................................................
ট্রাফিক সার্জেন্টদের অতিরিক্ত মামলা; বাড়ছে যানজট, জনভোগান্তি চরমে
.............................................................................................
ঈদুল আযহা ঃ আত্মসমর্পণ ও আত্মত্যাগের চেতনা
.............................................................................................
নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন: নগরবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি
.............................................................................................
কালিহাতীতে প্রধান শিক্ষক বিহীন ৫৭ স্কুল সহকারী পদ শূন্য ১৮৬
.............................................................................................
ইভটিজিং একটি সামাজিক ব্যাধি
.............................................................................................
সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ গুপ্ত হত্যায় বাংলাদেশ
.............................................................................................
বিশ্ব গণমাধ্যমের মূল্যায়ন॥ ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার সমর্থক বঙ্গবন্ধু
.............................................................................................
আইন মানছেনা কুয়াকাটায় আবাসন প্রকল্প গুলো
.............................................................................................
ত্রিশালে প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
.............................................................................................
কমলনগরে চর জগবন্দু ইসলামিয়া সিনিয়র (আলিম) মাদ্রাসাটি মেঘনার ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা জরুরি
.............................................................................................
অব্যাহত মেঘনার ভাঙ্গন, বিপন্ন মানবতা, ডুকড়েঁ কাঁদছে মানুষ, আর কতো দিন?
.............................................................................................
নামজাড়িতে সরাসরি ঘুষ বানিজ্ “ সোনারগাঁওয়ে ভূমি অফিসগুলো ওম্মেদারদের দখলে
.............................................................................................
স্বামীর অমানুবিক নির্যাতনের শিকার তাছলিমা
.............................................................................................
রোজা শুরু হলেই চৌমুহনীতে গজিয়ে উঠে নকল সেমাই তৈরীর কারখানা
.............................................................................................
বরগুনায় শিশু রবিউল হত্যায় একমাত্র আসামীর ফাঁসির আদেশ
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ে পোষ্টার ও ব্যানার লাগাতে বাঁধা ও ছিড়ে ফেলে দেয়ার অভিযোগ
.............................................................................................
বাগেরহাটে স্ত্রীকে এসিড মেরে ঝলসে দিলো পাষন্ড স্বামী
.............................................................................................
শিশুকে ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে হত্যা
.............................................................................................
সোনারগাঁওয়ে নারী পোশাক শ্রমিককে ধর্ষনের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যা ” আটক-৩
.............................................................................................
মহেশখালীতে গৃহবধুর চুল কেটে বখাটেদের নির্যাতন
.............................................................................................
প্রার্থিতা ঘোষণায় বিষ দিয়ে মাছ নিধন!
.............................................................................................
এশিয়া ব্রিকস ইট ভাটার আগুনের উত্তাল তাপে নষ্ট হচ্ছে কৃষি ফসল
.............................................................................................
পলাশে অবৈধ ডিজেল পাম্পের সন্ধান , আটক ১ জন
.............................................................................................
খিলগাঁয়ে অস্ত্র উদ্ধার নেপথ্যে পাঁচ লাখ ডিল
.............................................................................................
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বিকাশের ১০ লাখ টাকা হ্যাক
.............................................................................................
স্পটঃ খিলগাঁও॥ সান্ধ্যকালীন মাদকের হাট ফের চাঙ্গা
.............................................................................................
আব্বা, তুমি ভিক্ষা করে টাকা পাঠাও’
.............................................................................................
জয়পুরহটে ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আটক-১
.............................................................................................
চিকনাগুল থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রী অপহরণ
.............................................................................................
যৌতুকের দাবীতে নববধু খুনের ৩দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ, আতঙ্কে পরিবার
.............................................................................................
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা চেকপোষ্টে কলেজ ছাত্রী হয়রানির শিকার
.............................................................................................
সখিপুরে দুই সন্তানের জননীকে ধর্ষণের চেষ্টা
.............................................................................................
বাগেরহাট ৮ বছরের শিশু ধর্ষন
.............................................................................................
টাঙ্গাইলে যৌনপল্লী থেকে দুই কিশোরী উদ্ধার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
[ সম্পাদক মন্ডলী ]
2, RK Mission Road (5th Floor) Motijheel, Dhaka - 1203.
মোবাইল: ০১৭১৩৫৯২৬৯৬, ০১৯১৮১৯৮৮২৫ ই-মেইল : deshkalbd@gmail.com
   All Right Reserved By www.deshkalbd.com Developed By: Dynamicsolution IT [01686797756]