মঙ্গলবার , ০৭ নভেম্বর ২০১৭

বাংলার সুলতানি আমলে খানে উলুঘ খানজাহান (হজরত খানজাহান আলী রহ.) যে নগরীর গোড়াপত্তন করেছিলেন, সেটিই বর্তমানে বাগেরহাট। কেউ বলেন, দড়াটানা-ভৈরবপাড় নদীর তীরের পান-সুপারির হাট থেকেই বাগেরহাট। তবে নগরটি অতি প্রাচীন। ভৌগোলিক সীমারেখায় ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দর মোংলা এ জেলার অন্তর্ভুক্ত। বাগেরহাট চিংড়ি উৎপাদনের জেলা হিসেবেও বেশ পরিচিত। দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকেও বাগেরহাট গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনতম এই নগরে এখন থেকেই রীতিমতো বইছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। বর্তমানে আসনটি আওয়ামী লীগের। এক সময় এ আসন ছিল বিএনপির দখলে। আওয়ামী লীগ চায় তাদের জয়ের ধারাবাহিকা বজায় রাখতে, অন্যদিকে বিএনপি চায় তাদের হারানো ‘সাম্রাজ্য’ পুনরুদ্ধার করতে।

বাগেরহাট সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ আসন। এ দুই উপজেলায় রয়েছে ১৭টি ইউনিয়ন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থী। ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় সমর্থকদের নিয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন তারা। ব্যানার ফেস্টুনে নিজেদের ছবি দিয়ে প্রচারণায় থাকছেন তারা। এখানে বড় দুই দল থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে চলছে ভোটার, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বাগেরহাট সদর আসনে ফের মনোনায়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা। কিন্তু তার সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের একটা দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এখান থেকে দলীয় মনোনায়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও বাগেরহাট পৌর মেয়র খান হাবিবুর রহমান, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা শেখ আলী আহমেদ খোকন, প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক আহাদ উদ্দিন হায়দার, জেলা তাঁতী লীগের সভাপতি ও প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক তালুকদার আবদুল বাকি।

অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন এ অঞ্চলের নেতৃত্ব দেন। আমরা তার নির্দেশে অবহেলিত দক্ষিণ জনপদের উন্নয়নে জন্য কাজ করছি। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ ও দূরত্বের বিষয়ে মীর শওকাত আলী বাদশা বলেন, রাজনৈতিক দলের পদ পাওয়ার প্রতিযোগিতা থাকে, এটা কোনো বিরোধ বা দূরত্ব নয়। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে, দলের সে সিদ্ধান্ত সানন্দে গ্রহণ করব।

মনোনয়নপ্রত্যাশী অ্যাডভোকেট শেখ আলী আহমেদ খোকন বলেন-২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে দলের কাছে মানোনয়ন চেয়েছি। ১/১১ সরকারের দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছি। অসংখ্য টক শোতে আওয়ামী লীগের পক্ষে দৃঢ়তার সঙ্গে কথা বলেছি। এ আসনে দল উচ্চ শিক্ষিত ক্লিন ইমেজের প্রার্থী চাইলে আমি নির্বাচন করতে ইচ্ছুক। আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে বিজয়ী হয়ে নেত্রীকে তা উপহার দিতে সক্ষম হব।

অন্যদিকে বিএনপির দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম এবং ঢাকা মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক ও বাগেরহাট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির হাজরা জাহিদুল ইসলাম বাবলু, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের পক্ষে অ্যাডভোকেট শেখ আতিয়ার রহমান আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন নিয়ে এম এ সালাম বলেন, বাগেরহাট সদর আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই ক্ষমতাসীন দলের নেতারা পুলিশ প্রশাসন দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে বাধা দিয়ে আসছে। তাই বর্তমান সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন।

বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মনিরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ১/১১ সরকারের প্রলোভন-নির্যাতন উপেক্ষা করে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার অন্যতম আসামি হই। আগামী নির্বাচনে দল নিশ্চয়ই আমার ত্যাগ, দলীয় ও সাংগঠনিক কর্মকান্ড, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে মনোনয়ন দেবে বলে আশা রাখি।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ