শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২০ |

কৃষক বাঁচাও,বাঁচবে দেশ

  শনিবার , ১৮ এপ্রিল ২০২০

কৃষিবিদ ড. বেলাল হোসেন

করোনার কারণে সারা পৃথিবীতে খাদ্যভাবের মারাত্মক প্রভাব পড়ার আশংকা সৃষ্টি হচ্ছে।
মানুষের মৌলিক চাহিদার প্রথম পর্যায়ে রয়েছে খাদ্য।এই খাদ্য উৎপাদনের ও সরবরাহের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে  জড়িত রয়েছে কয়েকলাখ মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে দেশে চলমান করোনার প্রভাবের ফলে অন্যান্য পেশার ন্যায় এই পেশার মানুষের কাজে ব্যঘাত ঘটছে।যার ফলে ইতিমধ্যে দেশে খাদ্য সরবরাহ হ্রাস পেতে শুরু করেছে।যদিও এখন পর্যন্ত আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য থাকলেও উৎপাদন কমে যাওয়া ও অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে ইতিমধ্যে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হওয়ার শংকা তৈরী হয়েছে।
করোনার প্রভাবে সকল আমদানিকৃত ও উৎপাদনশীল পন্যের দাম প্রতিদিনি বাড়লেও দাম বাড়ছেনা দেশীয় কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত সবজি, দুধ,ডিম,পোল্ট্রি মাংস ইত্যাদি পন্যের।
 অন্যদিকে পোল্ট্রি মাংসের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর গুজবের ফলে দিন দিন এই মাংস ও ফার্মের ডিমের চাহিদা কমে যাওয়ায় বিরাট ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের খামারীরা।আবার দুধের সাথে সংশ্রিষ্ট দোকান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পগুলো লোকবলের অভাবে বন্ধ থাকায় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ক্ষতি গুনতে হচ্ছে  দুগ্ধ খামারীদের।
ইতিমধ্যে আমাদের দেশের সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষকরত্ন শেখ হাসিনা কৃষক রক্ষায় ৫% হারে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রনোদনা ঘোষণা করেছেন।যা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করা হবে।
গ্রামাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষিদের এই ঋণ দেওয়া হবে।আর এই ঋণের আওতায় থাকবেন পোল্ট্রি খামারি,কৃষি ফার্ম,ফলমুল ও মসলাজাতীয় খাদ্য পন্য উৎপাদনের সাথে জড়িত কৃষকগন।
আমাদের বর্তমান সরকার কৃষি বান্ধব হওয়ায় জাতীয় বাজেট ও যেইকোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে কৃষিখাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন।যার ফলস্বরুপ এত দ্রুত সময়ের মধ্যে এত বিরাট অংকের প্রনোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
কিন্তু এই প্রনোদনার পাশাপাশি কৃষক রক্ষায় কৃষি পণ্যের সঠিক দাম নিশ্চিত করে সরাসরি কৃষক থেকে পন্য সংগ্রহের ব্যবস্থা করতে  হবে।বাড়াতে হবে পোল্ট্রি মাংস থেকে করোনা ভাইরাস ছড়ানোর মিথ্যা গুজব যাতে মানুষের আস্তা ফিরে আসে পোল্ট্রি মাংস ও ডিমের প্রতি।
অন্যদিকে দেশের বিশাল একটা অংশ জড়িত গাভী পালনে।যাদের জীবিকার একমাত্র অর্থ আসে প্রাপ্ত দুধ বিক্রি থেকে।কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা করোনার প্রভাবে তাদের দুধ দোকান ও প্রক্রিয়াজাতকরণ গুলো ক্রয় করছেনা।এতে করে এই প্রান্তিক পর্যায়ের  খামারীরা অর্থ সংকটে পড়েছে।তাই দুগ্ধখামারীদের কথা ভেবে ও  সঠিক দাম নিশ্চিতে দুধ থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গুলোকে উৎপাদনশীলতায় নিয়ে আসতে হবে দ্রুত সময়ের মধ্যে।
মনে রাখবেন কৃষক একটা দেশের প্রাণ।বর্তমান করোনার প্রভাব সারা বিশ্বেই রয়েছে।যার ফলে সকল দেশেই খাদ্য উৎপাদনে ব্যঘাত ঘটছে।কোন দেশই তাদের দেশের চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অন্য দেশে খাদ্য বিক্রি করবেনা।তাই আমাদের নিজেদের খাদ্য নিজেরাই উৎপাদন করতে হবে।আর আমাদের নিজেদের খাদ্য উৎপাদন সঠিক রাখতে সরকারের পাশাপাশি আমাদের সবার এই মুহুর্তে কৃষক রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে এবং প্রনোদনার অর্থ যাতে কৃষক পেতে সমস্যা না হয় ও এই প্রাপ্ত অর্থের সঠিকভাবে ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে তার দিকে বিশেষ দৃষ্টিপাত, পরামর্শগতভাবে সহযোগিতা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তবেই করোনা পরবর্তী সময়ে খাদ্য ঘাটতি কবল থেকে আমরা রক্ষা পাবো।
মনে রাখবেন কৃষক বাঁচলে, বাঁচবে দেশ।
আর করোনা মোকাবেলায় দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমাদের সকলের মাংস, দুধ ও ডিম খাওয়া বাড়াতে হবে।

লেখকঃ-কৃষিবিদ ড.বেলাল হোসেন,প্রকল্প পরিচালক-প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ