বুধবার , ০৮ নভেম্বর ২০১৭

আমাদের দেশের ব্যাংক খাতের অবস্থা খুবই নড়বড়ে। এটা আজকে নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেকদিন ধরেই ব্যাংকগুলোর এই আর্থিক অবনতি ঘটেছে। যে সমস্ত ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা খারাপ ছিল, সেগুলোর অবস্থা এখন আরও নড়বড়ে। আর যে সমস্ত ব্যাংক ভালমত চলছে, সেগুলোর অবস্থা তেমন একটা উন্নতি না হলেও মোটামুটি ভাল ভাবে চলছে। আর্থিক অবস্থার অবনতি হওয়া ব্যাংকগুলোর বেশিরভাগই সরকারি ব্যাংক। সরকারি ব্যাংকগুলোর এই অবনতির কারণ সকলেরই জানা। নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব, দুর্নীতি, অনিয়ম এসবের কারণে ব্যাংক খাত অচল হয়ে পড়ছে। কি কারণে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না এটা সবাই জানে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক ভাল জানে। শুধু দাঁত থাকলে হবে না, দাঁত দিয়ে কামড়িয়ে ধরতে হবে। ব্যাংকের দুর্নীতি সম্পর্কে সবাই জানলেও বাংলাদেশ ব্যাংক কিন্তু বাস্তব কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করে না। এ অবস্থায় নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়াটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। বিগত সময়ে নতুন ব্যাংক অনুমোদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল কিন্তু সরকার দিয়ে দিয়েছে। এখন যা হবার তাই হয়েছে। এ সমস্ত অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে তার শক্তি প্রয়োগে অটল থাকতে হবে। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের যথেষ্ট শক্তি প্রয়োগের ক্ষমতা রয়েছে। সরকারি ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এই পাওয়ারটা ভাগ করা আছে মিনিস্ট্রি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে। সেখানে আমাদের বক্তব্য হচ্ছে, সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে যে পাওয়ারটা ভাগ করা আছে, সেই আইনটা পরিবর্তন করে সম্পূর্ণ পাওয়ারটা বাংলাদেশ ব্যাংকের উপর অর্পিত করা। এগুলো বলা হয়েছে বার বার। বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে পুরোপুরি পাওয়ার খাটাতে পারে বাংলাদেশ ব্যাংক, যে কারণে তাদের ঋণ খেলাপীর হার খুবই কম। রাষ্ট্রিয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকতে হবে। সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ