বুধবার , ০৮ নভেম্বর ২০১৭

জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। ভ্রমণপিপাসুদের জন্য আকর্ষণীয় জায়গা জাফলং এখানেই। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে এখন থেকেই এ আসনে চলছে রীতিমতো প্রচার-প্রচারণা। মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও ক্ষমতার বাইরে থাকা দল বিএনপিতে। কিন্তু সুবিধাজনক জায়গায় আছে জাতীয় পার্টি। কারণ দলটির একজনই মনোনয়নপ্রত্যাশী, তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের তিনজন প্রার্থী এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। আর বিএনপি থেকে ইতোমধ্যে চারজন প্রার্থী মনোনয়ন পাওয়ার প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। ওই চারজনের কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপি যদি নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যর্থ হয়; তাহলে আগামী নির্বাচনে দুই দলই বেকায়দায় পড়তে পারে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ থেকে এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন বলে শঙ্কায় রয়েছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। গত নির্বাচনেও এমনটিই ঘটেছিল।

এ আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইমরান আহমদ। নির্বাচনী আসনে তার সর্বদা বিচরণ না থাকলেও তিনি এ আসনে বারবারই মনোনয়ন পেয়ে থাকেন। সম্প্রতি এলাকার ভোটারদের সঙ্গে তিনি বেশি কওে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তিনি এ আসনের এমপি হিসেবে পঞ্চমবারের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮ এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইমরান আহমদ এমপি নির্বাচিত হন। গত নির্বাচনে তার সঙ্গে মনোনয়ন দৌড়ে নেমেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমদ। তিনি মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এমপি ইমরান চৌধুরী ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফজলুল হক এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন। গত নির্বাচনেও তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা এবং উপজেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থী হলেন চারজন। তারা হলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য দিলদার হোসেন সেলিম, গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নুরুল হক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহস্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান।

তাদের মধ্যে সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম এবং উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম চৌধুরী এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অবশ্য উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম কখনই দলের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবেন না বলে জানিয়েছেন। অপর দুই প্রার্থীর একজন বিএনপির প্রবীণ নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল হক। দল তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন তিনি সিলেট-৪ আসনে মনোনয়ন চাইবেন। তবে দলের বিরুদ্ধে কখনো অবস্থান নেবেন না বলে জানান ওই নেতা।

মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন জাপার প্রার্থী। জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সিলেট জেলা জাপার আহ্বায়ক এটিইউ তাজ রহমান ছাড়া এ আসনে জাপার মনোনয়নপ্রত্যাশী কারো নাম এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি।

বর্তমান এমপি ইমরান আহমদ বলেন, ‘দলের মনোনয়ন মূলত নির্ভর করে তৃণমূল নেতাকর্মী এবং দলীয় নীতিনির্ধারণী ফোরামের ওপর। দল আমাকে মূল্যায়ন করে বারবার মনোনয়ন দিয়েছে। তৃণমূলের জনগণ আমাকে বারবার তাদের সেবক করেছেন। আগামী নির্বাচনে তৃণমূল এবং কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী ফোরাম আমাকে মূল্যায়ন করলে অবশ্যই জনগণের সেবক হতে নির্বাচন করব।’

বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক এমপি দিলদার হোসেন সেলিম বলেন, ‘দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এলাকায় সব সময় ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি এমপি থাকাকালে এ আসনে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। শুধু দল নয়; এ আসনের আপামর জনগণ চান আমি নির্বাচন করি। মানুষের সেবা এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে মনোনয়ন চাইব।’

গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবদুল হাকিম চৌধুরী বলেন, ‘পরপর দুবার আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে দলীয় সমর্থন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কাজ করে যাচ্ছি। সিলেট জেলা বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ পদে বারবার দায়িত্ব পালন করেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নির্দেশ, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ এবং লালন করে রাজনীতি করে যাচ্ছি। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে বাকি জীবন মানবসেবায় কাটাতে চাই।’

গোয়াইনঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা মো. ফজলুল হক বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে আমি মনোনয়ন চাইব। কারণ রাজনীতির মূলমন্ত্র হচ্ছে জনসেবা।’ এমপি ইমরান আহমদের ঘনিষ্ঠজন হওয়া সত্যেও আপনার মনোনয়ন চাওয়াটা কী কোনো কৌশল-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তা সঠিক, আমি এমপির ঘনিষ্ঠ মানুষ। এমপিই আমাকে রাজনীতিতে এনেছেন। তিনি আমার অভিভাবক। তবে মনোনয়ন চাওয়ার ব্যাপারে আমি কোনো কৌশল অবলম্বন করছি না। গত নির্বাচনেও আমি মনোনয়ন চেয়েছি, পাইনি। দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি নির্বাচন করব।’

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নির্দেশেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ