বুধবার , ০৮ নভেম্বর ২০১৭

এক মাসেও হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি কেউ!

  বুধবার , ০৮ নভেম্বর ২০১৭

গেল মাসের প্রথম দিকে রাজধানীর যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। কিন্তু পরিবহন মালিক বা চালক, কেউই ওই নির্দেশ আমলে নেননি। ঢাকার বিভিন্ন থানায় গিয়ে জানা গেছে, হাইড্রোলিক হর্ন জমা দিতে মালিক-চালকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। অভিযানেই পুলিশকে অপসারণ করতে হচ্ছে হর্ন। তবে পরিবহন মালিকরা মনে করেন, হর্নটি ভেঙে ফেললে বা নিজেরা খুলে ফেললে তা থানায় জমা দেওয়ার দরকার নেই।

গত ৮ অক্টোবর যানবাহনে ব্যবহৃত হাইড্রোলিক হর্ন সংশ্লিষ্ট থানায় ১৫ দিনের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তাপস কুমার বিশ্বাস। এর আগে গত ২৩ আগস্ট ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীর সব হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে ২৭ আগস্টের পর গাড়িতে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হলে সেটা জব্দেরও নির্দেশ আসে আদালত থেকে। কিন্তু পরিবহন মালিকরা ঢাকার ৪৯টি থানার কোনোটিতেই হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি।

ডিএমপির দারুস সালাম থানার ওসি মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, কেউ হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি। হাইকোর্টের আদেশের পরও যদি কেউ সেই আদেশ না মেনে চলেন, তাহলে ট্রাফিক বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

মিরপুর, মোহাম্মদপুর এলাকার থানাগুলোতেও হর্ন জমা দেননি কেউ। তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডে অনেক ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে দেখা গেছে হাইড্রোলিক হর্ন। তবে এই এলাকার সংশ্লিষ্ট থানায় কোনো হাইড্রোলিক হর্ন জমা পড়েনি। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম জানান, তার থানায় এখনো হাইড্রোলিক হর্ন জমা দেননি কেউ। একই চিত্র যাত্রাবাড়ী ও বনানী থানায়ও। এই এলাকায়ও ট্রাক, বাস মালিকরা কেউ থানায় হর্ন জমা দেননি। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি আনিসুর রহমান বলেন, আমরা হাইকোর্টের আদেশটি সম্পর্কে জানি। কিন্তু কেউ থানায় হর্ন জমা দেননি। আমাদের এলাকার ট্রাফিকের সহকারী কমিশনার (এসি) অভিযান চালিয়ে কয়েকটি হর্ন জব্দ করেছিলেন। তবে কেউ স্বেচ্ছায় হর্ন জমা দেননি।

হাইকোর্টের আদেশের পর রাজধানীতে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ অভিযান চালিয়েছে নিয়মিত। তবে স্বেচ্ছায় কেউ হাইড্রোলিক হর্ন খুলছেন না। অভিযান পরিচালনা করেই বাস, মিনিবাস ও ট্রাক থেকে হাইড্রোলিক হর্ন খুলতে হচ্ছে। ডিএমপির ট্রাফিকের পূর্ব বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মইনুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশে আইন মানার চর্চা আশানুরূপ নয়। আপনি-আমি কেউ আশা করতে পারি না, মালিকরা স্বেচ্ছায় হর্ন থানাতে জমা দিয়ে যাবেন। তাই আমাদের অভিযান চালিয়েই হাইড্রোলিক হর্ন অপসারণ করতে হচ্ছে।

তবে থানায় হর্ন জমা দেওয়া নিয়ে ভিন্ন কথা বলেছেন পরিবহন মালিক নেতারা। মহাখালী বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, হাইড্রোলিক হর্ন আমরা এখন আর ব্যবহার করছি না। তারপরও আমি বলব, হাইড্রোলিক হর্ন থানায় গিয়ে জমা দিতে হবে কেন? আমি আমার গাড়িরটা ভেঙে ফেললে বা ফেলে দিলেই হলো। সেটা নিয়ে থানায় যাওয়ার কী আছে? আমরা হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করি না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি সাদেকুর রহমান হিরু বলেন, শ্রমিকরা ইচ্ছা করলেই পরিবহন থেকে যন্ত্র বা যন্ত্রাংশ খুলে ফেলতে পারে না। এটা মালিকদের বলতে হবে। আমরাও চাই হাইড্রোলিক হর্ন না বাজুক।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কেউ যদি জমা না দিয়ে খুলে ফেলেন বা ভেঙে ফেলেন, সেটা ভিন্ন কথা। কেউ ব্যবহার না করলে সমস্যা নেই। তবে যদি কারো গাড়ির সঙ্গে হর্ন থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা হবে। একটি আদালত অবমাননার, অন্যটি মোটরযান আইন ভঙ্গ করার জন্য। মনজিল মোরসেদের রিটে বলা হয়, মোটরযান অধ্যাদেশ অনুযায়ী যানবাহনে এমন কোনো যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না যা শব্দদূষণ করে। কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে বিভিন্ন যানবাহনে হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে।

 আদালত থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ