বৃহস্পতিবার , ০৯ নভেম্বর ২০১৭

বিচারপতিদের বর্তমানে ঘন ঘন বঙ্গভবনে দাওয়াত দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেছেন, সরকার মানুষের আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে করায়ত্ত এবং ধ্বংস করার পাঁয়তারা করছে।

গতকাল সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘ঘন-ঘন বিচারপতিদের বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানো ও ডাল-ভাত খাওয়ানো হয় আমরা অতীতে কখনো এমনটি দেখিনি। একবার শুনেছিলাম ওয়ান-ইলেভেনের সময় যে, সেখানে বিচারপতিদের দাওয়াত করা হয়েছে। এখন কেন দাওয়াত করা হচ্ছে আমরা বুঝতে পারছি না। জাতি জানতে চায়, দেশে কী এমন ঘটনা ঘটেছে এবং কী এমন আলাপ-আলোচনার জন্য রাষ্ট্রপতি বার বার বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এগুলো শুভ লক্ষণ নয়।’

সমিতিকে একটি রাজনৈতিক দল প্রভাবিত করছে অ্যাটর্নি জেনারেলের দেওয়া এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

লিখিত বক্তব্যে সমিতির সভাপতি বলেন, পত্রিকায় দেখলাম অ্যাটর্নি জেনারেল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিকে একটি রাজনৈতিক দল প্রভাবিত করছে।’ যদিও তিনি দলের নাম উল্লেখ করেননি। তারপরও বলতে চাই, অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়কে একটি রাজনৈতিক দলের কার্যালয় বানিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যকলাপ সংবিধানবহির্ভূত।

লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বলেছেন, ‘এজলাসে বসলে অবমাননা হবে’। আমরা বলতে চাই, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি সুস্থ থাকা সত্ত্বেও সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে অসুস্থ প্রকাশ করে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছে। দেশ ছাড়ার পূর্বে প্রধান বিচারপতি এক খোলা চিঠিতে লিখেছেন, ‘আমি অসুস্থ নই। আমি পালিয়েও যাচ্ছি না। আবার দেশে ফিরে আসব।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, আমরা মনে করি তিনি যেখানেই থাকুন না কেন, প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা পদত্যাগ বা অবসরে না যাওয়া পর্যন্ত তিনিই বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি। ‘প্রধান বিচারপতি এজলাসে বসলে আদালত অবমাননা হবে’ অ্যাটর্নি জেনারেলের এই বক্তব্যই বরং অবমাননাকর।

এ ধরনের বক্তব্য থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জয়নুল আবেদীন বলেন, রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারেন না। তাই এ ধরনের বক্তব্য সংবিধান ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল এই সমিতিকে বিভক্ত করতে চাচ্ছেন। তিনি ষড়যন্ত্র করে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে প্রধান বিচারপতিকে সরিয়ে দিয়েছেন। এখন তিনি কীভাবে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সম্পাদককে সরিয়ে দেবেন সেই ষড়যন্ত্রের পাঁয়তারা করছেন। এই ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই আইনজীবীরা মেনে নেবেন না।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি আরও বলেন, আমরা এ-ও দেখছি, আইনমন্ত্রী সাহেবও ঘন ঘন সুপ্রিমকোর্টে পদচারণা করছেন। এটা নিয়ে জাতির কাছে সন্দেহ দেখা দিচ্ছে। বিচার বিভাগকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন আপনারা? এই বিচার বিভাগ সংবিধান থেকে সৃষ্ট, দেশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আপনারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেন না। এক্ষেত্রে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি অতীতের মতো শক্ত ভূমিকা রাখবে।

সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার খোকন বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে প্রধান বিচারপতির ক্যানসার হয়েছে; কিন্তু রাষ্ট্রপতি সমস্ত বিচার বিভাগেই ক্যানসার ছড়াচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, আমাদের বিচারপতিরা সংবিধান অনুযায়ী শপথ নেন। সংবিধান অনুযায়ী বিচারকার্য পরিচালনা করেন। ওনারা (বিচারপতিরা) কী বলতে পারেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ওনাদের বলেছেন এ জন্য ওনারা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসবেন না। তা ছাড়া প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের কথা বলেছেন। কোথায় সেই অভিযোগ? যে অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সরকার শুধু রাজনৈতিকভাবে বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে এসব অভিযোগ আনা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি।

সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সহসভাপতি উম্মে কুলসুম রেখা, সহসম্পাদক শামীমা নাসরিন দিপ্তী প্রমুখ।

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ