বৃহস্পতিবার , ০৯ নভেম্বর ২০১৭

সৌদি-ইরান বিরোধ চরমে

  বৃহস্পতিবার , ০৯ নভেম্বর ২০১৭

সৌদি আরব সফরে এসে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার সৌদির রাজধানী রিয়াদের এক অজানা স্থান থেকে লেবাননের ৪৭ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি হঠাৎ পদত্যাগের ঘোষণা দেন। এ জন্য নিজ দেশে তার বিরুদ্ধে গুপ্তহত্যার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

পদত্যাগের জন্য ইরান ও লেবাননে তার মিত্র হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীকে দায়ী করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ইরান যেখানেই যায়, সেখানেই বিবাদ ও ধ্বংসের বীজ বপন করে। আরব দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তার নাক গলানোই সেটা প্রমাণ করে।’

মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সৌদি আরব ও ইরানের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নতুন বিষয় নয়।বিশেষ করে যেখানেই শিয়া-সুন্নি সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানেই এ উত্তেজনা আরো বেশি করে লক্ষ করা যায়। কিন্তু এবার লেবাননকে কেন্দ্র করে ক্ষমতার লড়াই নতুন ও বিপজ্জনক মাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বহু জাতি-ধর্ম-সম্প্রদায়ের ছোট এ দেশে ক্ষমতাকেন্দ্রে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভারসাম্যের চেষ্টা চালানো হয়ে থাকে। সেই বোঝাপড়া আবারও হুমকির মুখে।

সিএনএন বলেছে, সিরিয়া ও ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস যখন তার সব ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পতনের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখন লেবাননকে ঘিরে সৌদি রাজতন্ত্র ও ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব আবার উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে লেবানন এমন একটি দেশ, যার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর জন্য তেহরান ও রিয়াদ একে-অপরকে দোষারোপ করে আসছে।

এদিকে সৌদি আরব ইতোমধ্যে লেবানন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে, লেবানন সৌদির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। লেবাননের ইরানসমর্থিত শিয়া হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর ‘আগ্রাসনকে’ কারণ দেখিয়ে সোমবার এক প্রভাবশালী সৌদি মন্ত্রী এ অভিযোগ করেন।

সৌদির উপসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক (গাল্ফ অ্যাফেয়ার্স) মন্ত্রী থামের আল-সাবহান আল অ্যারাবিয়া টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘লেবাননের সরকারকে সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণাকারী সরকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।’ তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ এ অঞ্চলের প্রত্যেকটা ‘সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের’ সঙ্গে জড়িত, যা সৌদি আরবকে হুমকিতে ফেলে দিয়েছে। লেবাননের জনগণকে শান্তি অথবা হিজবুল্লাহ-এ দুটির যেকোনো একটাকে বেছে নিতে হবে।

গত এক বছর ধরে সরকারে থাকার পরও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারায় হারিরির নেতৃত্বাধীন প্রশাসনকে দায়ী করে সাবহান বলেন, ক্ষমতায় আসার পর এক বছরে হারিরি প্রশাসন হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। ওই গোষ্ঠীকে দেশের দক্ষিণে ফেরত পাঠিয়ে কোণঠাসা করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে সৌদি আরব সেই লক্ষ্যে কী পদক্ষেপ নেবে, সাবহান সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান সরাসরি সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আলী আকবর বেলায়েতি বলেছেন, সৌদি আরব নিজের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকান্ডের জন্য মুসলিম বিশ্বে একঘরে হয়ে পড়বে। সোমবার সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমাদ আল-খামিসের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন। ড. বেলায়েতি বলেন, প্রতিদিন সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্য অথবা মুসলিম বিশ্বের কোথাও না কোথাও ষড়যন্ত্র করছে। এ তৎপরতার কারণে দেশটি একসময় নিজেই একঘরে হয়ে পড়বে।

ইরান ও সৌদির এ বাগ্যুদ্ধের মধ্যে হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। সংসদের স্পিকার নবিহ বেরিও এ মুহূর্তে নতুন সরকার গড়ার কোনো উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছেন। হারিরি শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে কিছু মহল আশা করছে। সৌদি আরবের সঙ্গে হারিরি পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। হারিরি নিজে সৌদি আরবের নাগরিক।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল জুবেইর বলেছেন, লেবাননে সরকারের মধ্যে হিজবুল্লাহর দাপটই বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। হারিরি ইচ্ছে করলে যেকোনো সময়ে সৌদি আরব ছেড়ে চলে যেতে পারেন বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ এ দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের চাপেই পদত্যাগ করেছেন সাদ হারিরি। হারিরি যে বিবৃতিটা পড়েছেন সেটাও সৌদির লিখে দেওয়া বলে দাবি করেন তিনি।

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ