শনিবার , ১১ নভেম্বর ২০১৭

বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরিয়ে নিতে নীতিগতভাবে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছে মিয়ানমার। তবে রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে তারা শর্তের কথা বলছে। গতকাল শুক্রবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পার্মানেন্ট সেক্রেটারি ইউ কিইয়াও জেয়া জানান, দেশের স্টেট কাউন্সিলার আং সান সু চি রোহিঙ্গাদের ফেরানোর বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর তাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। পুনর্বাসন এবং উন্নয়নের কাজও শুরু হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ হবে চারটি শর্তে। যারা সেই শর্ত পূরণ করতে পারবেন, শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। খবর আনন্দবাজার।
 
রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে যে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার তা হলো — রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দীর্ঘদিন বসবাসের প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে। যারা স্বেচ্ছায় রাখাইনে ফিরতে চাইবেন, পরিবারের কেউ মিয়ানমারে রয়েছেন তেমন প্রমাণ দেখাতে হবে। বাংলাদেশে কোনো বাচ্চা জন্মালে তার বাবা-মা উভয়েই মিয়ানমারের স্থায়ী বাসিন্দা প্রমাণ করতে হবে।  তবে প্রশ্ন উঠেছে যে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার পর প্রাণ বাঁচাতে যারা দেশ ছেড়েছেন, তাদের কাছে কী করে এই সব তথ্য-প্রমাণ থাকবে?

এ বিষয়ে ইউ কিইয়াও বলেন, স্কুলে পড়া, হাসপাতালে চিকিৎসা, চাকরির নথি এ সবের মতো কিছু প্রমাণ তো দেখাতেই হবে। না হলে ফেরত নেয়াটা মুশকিল। এবং এই প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষও! কিন্তু শরণার্থী সমস্যার মতো মানবিক বিষয়ে মিয়ানমার সরকার কেন এত কড়া শর্ত চাপাচ্ছে? ওই কূটনীতিকের ব্যাখ্যা, রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা কেবলমাত্র মানবিক বিষয় নয়। নিরাপত্তাও একটা বড় কারণ। 
 
শুক্রবার ইয়াঙ্গুনে ‘ভারত-মিয়ানমার সম্পর্কের আগামী দিন’ বিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ইউ কিইয়াও। কলকাতার ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্টাডিজ, ইয়াঙ্গুনের ভারতীয় দূতাবাস এবং মিয়ানমার প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞরাও যোগ দিয়েছেন এই সম্মেলনে।

প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যকার শরণার্থী সঙ্কটের বিষয়ে ভারত ইতোমধ্যে বলেছেন, মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত নিতে হবে। একই অবস্থান বিশ্ব সম্প্রদায়েরও।  কিন্তু বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটানো ১০ লাখ রোহিঙ্গা ফেরতে মিয়ানমারের কূটনীতিক যে শর্তগুলোর কথা বলছেন, তা পূরণ যে দুঃসাধ্য, তা কক্সবাজারে শরণার্থী শিবির ঘুরে আসা বিদেশি অনেক কূটনীতিকই স্বীকার করেছেন।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আসা শুরু হয় ১৯৭৮ সালে; এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের মুখে শরণার্থী জীবনে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৪ লাখ ছাড়ায়।  গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা নির্যাতন শুরু হলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার জন্য রোহিঙ্গা ঢল নামে। গত আড়াই মাসে নতুন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এরইমধ্যে ৬ লাখ ছাড়িয়েছে।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ