রবিবার , ১২ নভেম্বর ২০১৭

এই সাম্প্রদায়িক হামলার উৎসশক্তি কোথায়

  রবিবার , ১২ নভেম্বর ২০১৭

 গত কয়েক বছর ধরে আমরা দেখছি, স্বাধীনতাবিরোধী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যখনই সুযোগ পাচ্ছে, তখনই বিভিন্ন অজুহাতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আমরা যদি সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানগুলো দেখি, তারা প্রথমে শুরু করেছে ২০১২ সালে রামুতে। সেখানে একজন বৌদ্ধ যুবকের ধর্ম অবমাননার ছবি ফেসবুকে পাওয়া গেছে, এটি প্রচার করে তারা সেখানকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ওপর নৃশংস হত্যাকা- চালিয়ে ছিল। সেখানে বহু বৌদ্ধ মরেছিল। তাদের বাড়িঘর ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ করে ধ্বংস করে দিয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি, জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগী মৌলবাদী সম্প্রদায়ের লোকেরা ফেসবুকে এমন মিথ্যা অপপ্রচার করছে। পরে তা গোয়েন্দা তদন্তে বের হয়ে এসেছে। ধর্ম অবমাননার কোনো ছবি ফেসবুকে ছিল না। একই ঘটনা আমরা নাছির নগরে দেখেছি, একজন লোক জীবনে ফেসবুক ব্যবহার করেনি। সে ফেসবুক কিভাবে ব্যবহার করে তা জানেও না, অথচ তার নামে ভুয়া আইডি খুলে ধর্ম অবমাননার অপপ্রচার চালিয়ে তার ওপর হামলা হয়েছে। বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিকভাবে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে। এজন্য যারা দায়ী তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ার কারণে এর পুনরাবৃত্তি ঘটছে। বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাই শুধু নন, ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী বাংলাদেশ এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। এটা কখনোই আমাদের কাম্য হতে পারে না। নির্যাতন, হুমকি, অত্যাচারের কারণে অনেকে বিদেশে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যার ফলে বিদেশে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাজগুলো করছে। এটা তাদের পুরনো নীল নকশা। বাংলাদেশকে জিয়াউল হকের পাকিস্তান বানাবে। এখানে কোনো ধর্মীয় সংখ্যালঘু থাকতে পারবে না। এটা একটা মনোপলি মুসলিম দেশে হবে। এটা জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযোগিরা বাস্তবায়নের জন্য দীর্ঘকাল ধরে চেষ্টা করছে। তাদের স্বপ্ন হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক, ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করা।
একটা বিষয় হলো, মাথাব্যথা হলে আমরা মাথা কেটে ফেলতে পারি না। ফেসবুক ভালো কাজেও ব্যবহার করা যায়। যারা ফেসবুককে ব্যবহার করে বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে এই অপপ্রচারগুলো চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। তাদের শাস্তি দিতে হবে, আমরা যখনই ফেসবুক নিয়ন্ত্রণের কথা বলি, তখনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা অন্যদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জামায়াত শিবিরের কয়জনকে তারা ধরেছে? রামু, নাছির নগরের ঘটনায় সে রকম কোনো দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়নি। এই শাস্তি না হলে অপরাধগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এখন তারা ফেসবুক ব্যবহার করছে। যখন ফেসবুক নিয়ে আইন করা হবে তখন তারা অন্যভাবে এই কাজগুলো করবে। যখন ফেসবুক ছিল না, তখনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেছে। সুতরাং ফেসবুক দায়ী নয়। দায়ী হচ্ছে সে ব্যক্তিগুলো, যারা স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি, বাংলাদেশে এখনো তারা রাজনীতি করছে, গত ২৫ বছর ধরে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আমরা লড়াই করছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা শুনছে না। কেন এই দলগুলো এই দেশে রাজনীতি করবে? ৭২-এর সংবিধানে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল। বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, মৌলবাদী রাজনীতি, ধর্মের নামে রাজনীতি থাকবে না। বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান এই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন। সংখ্যালঘু মানুষের বিরুদ্ধে, মুক্তিযোদ্ধা ও বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাবে এবং তার ধারাবাহিকতায় তাদের ওপর হামলা হবে। সেটা বন্ধ করা যাবে না যতদিন এই দলগুলো থাকবে। সমস্যার মূল হচ্ছে ধর্মের নামের রাজনীতি। মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে এবং তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
পরিচিতি : সভাপতি, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ