সোমবার , ১৩ নভেম্বর ২০১৭

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার’ নামে একটি রাজনৈতিক দল। যারা নিজেদের বঙ্গবন্ধুর দল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। দলটির দাবি-সারা দেশে জেলা-উপজেলায় এমনকি তৃণমূল পর্যায়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। রয়েছে জেলা ও উপজেলায় অফিস-কমিটি। এই দলটিও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। কথা হয় দলটির নেতা এস এম হেলাল আহম্মেদের সঙ্গে। তিনি নিজেকে দলের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক বলে দাবি করেন। সমবায় থেকে তাদের এই দলের নিবন্ধন নেওয়া আছে বলে জানালেন। এখন ইসির নিবন্ধন পাওয়ার জন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ করেছেন।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম কী জানতে চাইলেই হেলাল বলেন, সারা দেশের সর্বত্রই তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। দেশের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে তাদের অফিস নেই-দাবি করে এই প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন এই নেতা। জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার বাড়ি কোথায়’? পরে জেলা এবং উপজেলার কথা বলার পর সেখানে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগারের অফিস কোথায় তা আর জানাতে পারেননি তিনি। এমনকি প্রতিদিনের সংবাদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করেও ওই দলের নাম জানাতে পারেননি কেউ। কয়েকটি জেলা-উপজেলায় খোঁজ নিয়েও এ ধরনের দলের অস্তিত্বের কথা শোনেননি কেউ।

বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি ওসমানী) নামে আরেকটি দলের সাধারণ সম্পাদক মো রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমাদের দলটি অনেক পুরোনো এবং ৩০টি জেলায় কমিটি রয়েছে। ১৯৭৮-৭৯ সালে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দলের প্রতিষ্ঠাতা ওসমানী বিপুল ভোট পেয়েছিলেন। অনেক দিন দলের কার্যক্রম পরিচালিত না হওয়ায় আমরা পিছিয়ে পড়েছি। আশা করছি আপনাদের সহযোগিতা পেলে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারব। ঢাকায় তাদের অফিস মোনা টাওয়ারে বলে দাবি করেন এই নেতা। এই দলটির কার্যক্রম সম্পর্কেও কোনো ইতিবাচক তথ্য পাওয়া যায়নি। আর মোলিক বাংলার ফরিদ আহমেদ বলেন-আমাদের যোগ্যতা রয়েছে, এখন ইসি তাদের যোগ্যতা মূল্যায়ন করে নিবন্ধন দেবেন কি-না এটাই দেখার বিষয়।

মূলধারার দলগুলোর নিবন্ধন পাওয়ার পর এখন যত দলই ইসিতে আবেদন করছে প্রত্যেকটি দলই ‘নামসর্বস্ব’। কারণ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনএফ নিবন্ধনে অযোগ্য হয়েও বিশেষ একটি সংস্থার চাপে বিদায়ী রকিব উদ্দিন কমিশন দলটিকে নিবন্ধন দিতে বাধ্য হয়। পরে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন করে বিএনএফের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ এমপি নির্বাচিত হন। এই দলটির একক নেতা আবুল কালাম।

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় এমন একগুচ্ছ অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিবন্ধন পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। নানা নামে আবেদন জানাচ্ছে তারা। লক্ষ্য নিবন্ধন নিয়ে আওয়ামী লীগ-বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আবেদনের হিড়িক পড়েছে ইসিতে। গতকাল পর্যন্ত আবেদন করা একটি দলও ইসির নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে পারছে না বলে মনে করছেন ইসি সংশ্লিষ্টরা।

আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনের স্বীকৃতির জন্য অনিবন্ধিত দলগুলো আবেদন জানাতে পারবে। গতকাল রোববার পর্যন্ত ১৫টি রাজনৈতিক দল আবেদন জানিয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নতুন দল আবেদন জানাচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আরো অনেক দল আবেদন জানাবে বলে জানিয়েছেন ইসির কর্মকর্তারা। আবেদন করা কয়েকটি দলের সঙ্গে আলাপে তারা জানা যায়, কমিশনের নিবন্ধনের শর্ত মেনে আবেদন করেছি। আশা করছি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পাব।

ইসির প্রাপ্ত তথ্যমতে, নতুন কোনো রাজনৈতিক দলকে ইসির নিবন্ধন পেতে চাইলে ওই দলের সারা দেশে ৬৪ জেলার ২২টিতে অফিস, ৪৯১ উপজেলার মধ্যে ১০০টিতে অফিস এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিটি কমিটিতে ২০০ জন ভোটার সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক। এই শর্তের কোনো একটিতে ত্রুটি থাকলে ওই দল নিবন্ধনে অযোগ্য হবে।

জানা গেছে, ২০০৮ সালে ১/১১ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পর নির্বাচনকালীন এই সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত তিন সদস্যের কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করা হয় ড. শামসুল হুদাকে। অন্য দুই কমিশনার হলেন মোহাম্মদ ছহুল হোসাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের-১৯৭২ (আরপিও) পাশাপাশি নির্বাচনে আমূল সংস্কার আনেন। একই সঙ্গে নামসর্বস্ব শতাধিক রাজনৈতিক দলকে নির্বাচনে প্রার্থী বেচা-বিক্রি ঠেকাতে নিবন্ধনের শর্ত আরোপ করে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা প্রণয়ন করে। প্রণীত বিধিমালার আলোকে সব দলকে স্থায়ী নিবন্ধনের বিধান চালু হয়। এখন পর্যন্ত ৪২টি রাজনৈতিক দল ইসির নিবন্ধন পেয়েছে। তবে যুদ্ধাপরাধীর অপরাধে জামায়াতের এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম আসামি ফারুকের দল ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন কার্যক্রম স্থগিত।

বাকি ৪০ দলের নিবন্ধন রয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে নতুন দল আবেদন করছে। গতকাল পর্যন্ত ১৫টি দল আবেদন জানায়। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংসদ ও স্মৃতি পাঠাগার, তৃণমূল বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জনতা পার্টি (বিজেপি-ওসমানী), ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, শরিয়াহ আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কংগ্রেস, বাংলাদেশ তৃণমূল কংগ্রেস, বাংলাদেশ পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (বিপিডিপি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ভাসানী ন্যাপ, আম জনতা খেদমত পার্টি, বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি ও মৌলিক বাংলা।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ