রবিবার , ০৫ July ২০২০ |

করোনা পরীক্ষায় ‘বিশেষ শ্রেণী-পেশা’ কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ৩০ জুন e ২০২০

সব মিলিয়ে দেশে কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭ হাজার করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই বিশেষ শ্রেণীর বিভিন্ন পেশাজীবীর। পরীক্ষার জন্য জমা পড়া নমুনার মধ্যে সাধারণ ব্যক্তির বাইরে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, প্রশাসনের সদস্য, চিকিৎসক-নার্স, সাংবাদিকসহ অনেকের।

বেশ কয়েকটি জেলার সিভিল সার্জনের সূত্রে বিবিসি বাংলা জানায়, সেসব জেলায় প্রতিদিন যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়, তার মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের নমুনা থাকে গড়ে ১০ থেকে ২০ শতাংশ।

পুলিশ ও চিকিৎসকদের কয়েকজন জানান, লক্ষণ দেখা দিলেই তাদের টেস্টের জন্য যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের টেস্টের ব্যবস্থাও করা হয়। তবে মোট নমুনা পরীক্ষার মধ্যে পেশাজীবীদের ভাগ কত, সেরকম কোন তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বিবিসি বাংলাকে জানান, করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার সময় শ্রেণী-পেশার কতজন মানুষের পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেরকম কোন তথ্য নেই তাদের কাছে। তিনি বলেন, “পরীক্ষা হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই নতুন। পেশা হিসাবে বা শ্রেণী হিসাবে এখনো ওইভাবে তথ্য নেই। হয়তো পরে যখন এগুলো নিয়ে গবেষণা হবে, তখন এসব দেখা হবে।”

চাকরিজীবীদের মধ্যে রয়েছে পুলিশ, প্রশাসনের সদস্য, চিকিৎসক-হাসপাতাল কর্মী ও অন্যান্য সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী। ঢাকায় রাজারবাগে প্রতিদিন ৩৫০জন পুলিশ সদস্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রশাসনের সদস্যদের জন্য ঢাকার অফিসারস ক্লাবে পরীক্ষা হয়, যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১০০র মতো পরীক্ষা হয়। সাংবাদিকদের দুটি ক্লাবের মাধ্যমে একদিন পরপর পরীক্ষা হয়, সেখানে ৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা হয়। এর বাইরে জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন, যারা বিশেষ সুবিধায় পরীক্ষা করিয়ে থাকেন।

একজন সিভিল সার্জন জানান, প্রথমদিকে বিশেষ প্রভাব বা তদবির করে টেস্ট করানোর প্রবণতা অনেক বেশি ছিল। তবে সম্প্রতি এটা কিছুটা কমেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলছেন, “বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী-পেশার মানুষ টেস্টে কতোটা সুবিধা পাচ্ছেন, সেটা সুনির্দিষ্ট বলা মুশকিল। তবে সাধারণ মানুষ টেস্টের ক্ষেত্রে যে স্বাচ্ছন্দ্য পাওয়ার কথা সেটা পাচ্ছেন না।”

আরও বলেন, “আমাদের ব্যবস্থাপনা এমন হওয়া উচিত, যারই পরীক্ষার প্রয়োজন, তিনি যেন এটা সহজে করাতে পারেন। সেটা তিনি যেই শ্রেণী-পেশার মানুষ হোক না কেন। কিন্তু সেই জায়গাটায় সমস্যা রয়েছে।”

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এসএম আলমগীর বলেন, “সাধারণ মানুষও পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। তবে কেউ কেউ বাড়তি সুবিধা নেয়ার কারণে অন্যদের সুযোগ সংকুচিত করে দিচ্ছে।”

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি এবং জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, “যতজন পরীক্ষা করাতে চাইবেন, সবাই যেন করাতে পারেন। কেউ যেন ফেরত না যায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেটা সব পেশাজীবীর, সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে।”

উদাহরণ দিয়ে উল্লেখ করেন, চিকিৎসকদের অনেককে টেস্টের জন্য ছোটাছুটি করতে হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। তাহলে অন্য পেশাজীবী বা অন্য শ্রেণীগোষ্ঠীর মানুষের যে অসুবিধা হচ্ছে, সেটা বোঝা যায়।

বে-নজির আহমেদ পরামর্শ দিচ্ছেন, যাদের করোনাভাইরাসের পরীক্ষা দরকার, তাদের সবার টেস্ট করা হবে, এমন একটা কর্মপরিকল্পনা তৈরি, যাদেরই পরীক্ষার দরকার হবে, তাদের নমুনা সংগ্রহের ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তার সোমবার জানায়, আগের ২৪ ঘণ্টায় মোট নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৪১৩টি, তবে আগে সংগ্রহ করা নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয়েছে ১৭,৮৩৭টি। ওই দিন পর্যন্ত মোট পরীক্ষা করা হয়েছে সাত লাখ ৪৮ হাজার ৪৩টি নমুনা। সব মিলিয়ে কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৪১ হাজার ৮০১ জন।

 জাতীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ