রবিবার , ০৫ July ২০২০ |

ভারতের তৈরি ভ্যাকসিনের ট্রায়াল জুলাইয়ে

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ৩০ জুন e ২০২০

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক দেশ ভারত নিজেদের তৈরি সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দিতে যাচ্ছে। বিবিসি জানিয়েছে, কোভাক্সিন নামের ভ্যাকসিনটি প্রাণীর ওপর ট্রায়ালে সফলতা পাওয়ার পর দেশটির সরকার জুলাই থেকে  মানব শরীরে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে।

হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক কোম্পানি ‘ভারত বায়োটেকের’ এই ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে কত মানুষকে যুক্ত করা হবে, সেটি তারা জানায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গোটা পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত ১২০টি ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে হিউম্যান ট্রায়ালের পর্যায়ে আছে ১০টির মতো।

ভারতে ১২টির মতো কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরি করলেও এখন পর্যন্ত এই একটির হিউম্যান ট্রায়ালের অনুমতি পাওয়ার খবর আসল। ভ্যাকসিন বা টিকা মূলত কোনো রোগকে প্রতিরোধ করার জন্য শরীরে দেয়া হয়। অধিকাংশ ভ্যাকসিন সংশ্লিষ্ট ভাইরাসের দুর্বল ভার্সনে তৈরি করে প্রয়োগ করা হয়। কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত হলেও ভ্যাকসিনের কারণে অসুস্থ হওয়ার আগেই শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর থেকে রোগটি ছড়ায় না।

ভারত বায়োটেক স্থানীয়ভাবে পাওয়া নভেল করোনাভাইরাসের স্ট্রেইন সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে দুর্বল ভার্সনে রূপান্তর করে কোভাক্সিন ভ্যাকসিন তৈরি করেছে। নির্দিষ্ট অঞ্চলে এভাবে তৈরি ভ্যাকসিন সাধারণ মানুষের জন্য খুব দরকারি। কারণ অন্য অঞ্চলের ভাইরাস থেকে তৈরি ভ্যাকসিন আরেক অঞ্চলের মানুষের শরীরে ভালো কাজ নাও করতে পারে।

ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা এই ভ্যাকসিনটির প্রথম এবং দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল অনুমোদন করেছে। ভ্যাকসিনটি কার্যকরী কি না, সেটি দেখার চেয়ে এই ট্রায়ালে নিরাপত্তা বেশি যাচাই করা হবে। ভারত বায়োটেক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে পাওয়া স্ট্রেইন থেকে ভ্যাকসিন তৈরি করলে কাজ দ্রুত গতিতে অগ্রসর হয়।

এই কোম্পানিটি এখন পর্যন্ত অন্য ভ্যাকসিনের ৪ বিলিয়ন ডোজ গোটা পৃথিবীতে সরবরাহ করেছে। এইচ১এন১ এবং রোটাভাইরাস-সহ কয়েকটি রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করেছে তারা। ভারত বায়োটেকের পাশাপাশি দেশটির জাইডাস ক্যাডিলা করোনার দুটি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করছে। এছাড়া সেদেশের আরও কয়েকটি কোম্পানি স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টায় আছে।

ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা বেশ সমৃদ্ধ। দেশটির পুনে-ভিত্তিক সিরাম ইন্সটিটিউট পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক কোম্পানি। ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সম্ভাব্য করোনা ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য সম্প্রতি তারা চুক্তি করেছে।

কোনো প্রতিষেধক না থাকা কভিড-১৯ রোগের টিকা কিংবা ওষুধ বের করতে চীন, আমেরিকা এবং ব্রিটেনের মতো দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। তিনটি দেশই বলছে, সেপ্টেম্বরের ভেতরে অন্তত যে কোনো কোম্পানির একটি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। সেই ভ্যাকসিন পাওয়া গেলেও সাধারণ মানুষের হাতে আসতে এক বছরের বেশি সময় লেগে যাবে।

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ