রবিবার , ০৫ July ২০২০ |

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক   মঙ্গলবার , ৩০ জুন e ২০২০

রাজধানীর বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চ দুর্ঘটনায় ৩২ জন নিহতের ঘটনায় ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নৌ পুলিশ ঢাকা জোন সূত্রে এই খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এমভি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেওয়া লঞ্চ ময়ূর ২-এর মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াত ও চালকসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে।

সোমবার রাতে নৌপুলিশ সদরঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ শামসুল বাদী হয়ে এই মামলা করেন। রাজধানীর শ্যামবাজারসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে সোমবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঢাকা-মুন্সীগঞ্জ রুটের এমভি মর্নিং বার্ড নামে দোতলা লঞ্চটি ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ লঞ্চটির ধাক্কায় ডুবে যায়। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৩২ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

লঞ্চডুবির পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। ৮০ জন ধারণক্ষমতার ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে কতজন যাত্রী ছিল তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তারা। লঞ্চডুবির পর যাত্রীদের মধ্যে কজন সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন সেটিও নিশ্চিত না হওয়ায় এখনো ঠিক কতজন নিখোঁজ রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়।

এ ঘটনার তদন্তে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এদিকে লঞ্চডুবিতে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে একটা বলা যায় যে, পরিকল্পিতভাবে মর্নিং বার্ড লঞ্চটিকে ধাক্কা দিয়ে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফুটেজে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, বড় লঞ্চটি ছোট লঞ্চকে ধাক্কা দিয়ে পানিতে ডুবিয়ে দিচ্ছে। এজন্য যারা দায়ী তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের স্বজনদের ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর লাশ দাফনের জন্য তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে।’

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্র্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক বলেন, ‘ময়ূর-২ নামে একটি লঞ্চ সদরঘাট লালকুঠি ঘাট থেকে চাঁদপুরের দিকে যাচ্ছিল। ওই লঞ্চটি মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এতে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি ডুবে যায়। দুই লঞ্চের চালকদের অসতর্কতায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান শেষে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।’

ডুবে যাওয়া লঞ্চটির অবস্থান শনাক্তের পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর ডুবুরিরা সম্মিলতিভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বুড়িগঙ্গার তলদেশে প্রায় ৫০ ফুট পানির নিচ থেকে একটার পর একটা লাশ তুলে আনে তারা।

 রাজধানী থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ