রবিবার , ১৬ আগষ্ট ২০২০ |

ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। শনিবার এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এ নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত স্বাস্থ্য বিধি, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যাক্তি/ ব্যাক্তিগণ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন।

নির্দেশিকায় বলা হয়, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট/ সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ আবেদন দাখিল এবং শুনানি কার্যক্রমের পদ্ধতি ও সময়সূচী এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে হবে যাতে আদালত প্রাঙ্গণে ও আদালত ভবনে কোনো জনসমাগম না ঘটে। আদালত প্রাঙ্গণ ও এজলাস কক্ষে প্রত্যেককে অন্তত ছয় ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। জনসমাগম এড়াতে ম্যাজিস্ট্রেটগণ প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক আত্মসমর্পণের আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন।

এতে বলা হয়, একটি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পক্ষে সর্বোচ্চ দু'জন আইনজীবী শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন। এ ছাড়া এজলাস কক্ষে একত্রে ছয়জনের অধিক লোকসমাগম করা যাবে না। তবে, একই মামলায় একাধিক আত্মসমর্পণকারী থাকলে এজলাস কক্ষের ডকে সর্বোচ্চ পাঁচজন অভিযুক্ত ব্যক্তি অবস্থান করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট এরকম মামলা একাধিক ভাগে/ সেশনে শুনানি করতে পারবেন এবং আদেশ দেবেন।

নির্দেশিকায় আরো বলা হয়, আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যাক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য কোনো আইনজীবী এজলাস কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। একটি আত্মসমর্পনের দরখাস্তের শুনানি শেষে আইনজীবী এজলাস ত্যাগ করার পর ম্যাজিস্ট্রেট পরবর্তী আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া এজলাস কক্ষে অবস্থান করার সময় প্রত্যেককে মাস্ক পরিহিত থাকতে হবে। আদালতে প্রবেশের সময় প্রত্যেক ব্যক্তির তাপমাত্রা পরীক্ষা করা করতে হবে। এ ছাড়া এজলাস কক্ষে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ শারীরিক দূরত্ব কঠোরভাবে নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিক উদ্ভুত যে কোনো পরিস্থিতি বিবেচনায় দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট আত্মসমর্পণের দরখাস্ত শুনানি থেকে বিরত থাকতে পারবেন। আদালতে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনসহ সার্বিক বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেটগণ একটি প্রতিবেদন প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে ই- মেইলে পাঠাবেন।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে তিন মাসের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে উচ্চ ও অধস্তন আাদলতের নিয়মিত বিচার কার্যক্রম। তবে, ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে অধস্তন আদালতে হাজতি আসামির জামিনের শুনানিসহ সীমিত আকারে মামলার আবেদন গ্রহণ হচ্ছে। এ ছাড়া উচ্চ আদালতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে জামিনসহ স্বল্প পরিসরে মামলার শুনানি ও আদেশ হচ্ছে। কিন্তু অধস্তন আদালতে আত্মসমর্পনের সুযোগ না থাকায় ফৌজদারি মামলার অসংখ্য আসামি পলাতক অবস্থায় রয়েছেন।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ