বুধবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৭

ইতিবাচক ধারায় ফিরছে আমাদের রাজনীতি?

  বুধবার , ১৫ নভেম্বর ২০১৭

বিএনপির রাজনৈতিক সমাবেশটা একটা ইতিবাচক দিক। ইতিবাচক দিক এই অর্থে যে, সরকার সমাবেশের অনুমতি দেয় এবং বিএনপি তাদের সমাবেশ আয়োজন করে। সরকার যেভাবে চাইছিল সেভাবেই শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ হয়েছে। সমাবেশে বিএনপির সব নেতাকর্মী স্বতস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এটা গণতন্ত্রের জন্য একটা ইতিবাচক দিক। উভয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে যদি এই ধারাটা অব্যাহত থাকে তাহলে দেশে গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হবে। ইতিবাচক ধারায় চলবে আমাদের রাজনীতি।
সরকার যে বিএনপি সমাবেশ করার অনুমতি দিয়েছে, তার পেছনে কারণ রয়েছে। মূলত সরকার একটা সদিচ্ছা প্রকাশ করেছে। সরকার চায় আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করুক। কারণ বিএনপিকে এই মুহূর্তে সমাবেশের অনুমতি না দিলে একটা বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারত। এজন্য সরকারও চাইছে কিছুটা ছাড় দিয়ে হলেও বিএনপিকে রাজনীতির এই মাঠে নিয়ে আসার জন্য। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোকে একটা কথা মাথায় রাখতে হবে যে, অধৈর্য্য হলে চলবে না। তাদের একটা শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। এখানে একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যেহেতু সরকার ক্ষমতায় আছে, ফলে সরকারের সঙ্গে বিরোধী দল যত কৌশলী আচরণ করবে, যত পলিটিক্যাল আচরণ করবে তাদের দলের জন্য সম্ভাবনাটা উজ্জ্বল হবে। সরকারের সঙ্গে যদি বিরোধ করা হয় সেক্ষেত্রে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাটাই বেশি হয়ে যেতে পারে।
সরকারের অনেক উইংস রয়েছে। দেখা যাচ্ছে সেখানে যদি জেদাজেদি করা হয়, তাহলে তারা শুধুমাত্র রাজনৈতিক উইংস এর সঙ্গে জেদাজেদি করবে কিন্তু রাষ্ট্র থেকে শুরু করে অন্যান্য যারা আছে সেখানে একটা বাধা আসবে, নানা ধরণের বিতর্ক শুরু হয়ে যাবে। এবং দেখা যাবে সবকিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না।
সরকারকে গণতন্ত্রের পথে হাটাতে হলে বিরোধী দলকে আগে গণতন্ত্রমনা হতে হবে। নির্বাচনে ইসির ভূমিকাটা আসলে গোলকিপারের মতো। নির্বাচন কমিশন এখানে একটা গোলকিপার। সঙ্গত কারণেই যদি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন না হয় তাহলে সেখানে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার থাকবে না। আর সব রাজনৈতিক দল যদি তাদের নিজেদের অধিকারের ব্যাপারে সচেতন হয় তাহলে ইসি ইচ্ছে করলেও কারও পক্ষ নিয়ে বা কারও বিরোধীতা করতে পারবে না। তাকে একটা মধ্যস্থতার নীতি, নিরপেক্ষতার নীতি মেনে চলতে হবে। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো সচেতন না হলে দেখা যাবে বর্তমান নির্বাচান কমিশন অতীতের নির্বাচন কমিশনের মতো একটা রাবার স্ট্যাম্প কমিশন হয়ে যাবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সত্যিকার অর্থেই কতটুকু অবাধ, সুষ্ঠ, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে সেটা এই মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। নির্বাচনি হাওয়া কেবল শুরু হয়েছে, এটা নির্বচানি মাঠের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। মাঠ যেভাবে গরম হবে, মাঠ যেভাবে চাইবে সেভাবেই পরিস্থিতিটা তৈরি হবে।

 সাক্ষাৎকার থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ