রবিবার , ১৬ আগষ্ট ২০২০ |

জাহিদ হোসেন ফিরোজ: 
সুদ খাওয়া হারাম। এটা ইসলাম ধর্মে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ইসলামে বলা হয়েছে যে, ব্যবসা বাণিজ্য করে বা চাকুরী করে আয় করতে। একটা গবেষণায়  দেখা গেছে যে, প্রকৃত ইসলামিক রীতিগুলো উন্নত দেশগুলোতে বেশি চর্চা হয়। যেমনঃ সত্য কথা বলা, সুদ না খাওয়া, সততার সাথে রুটি-রুজি করা। কথায় কথায় ইসলামকে বা ধর্মকে আনা আমার উদ্দেশ্য না। ইসলাম প্রতিষ্ঠা বা চর্চা করা কিংবা  ইসলাম প্রতিষ্ঠা করতে বলা আমার লেখার উদ্দেশ্য না। উন্নত দেশের ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের কোন সুদ দেয় না বললেই চলে। এবং ঋণ গ্রহণকারীদের থেকে নামমাত্র প্রশাসনিক ব্যয় ও নামমাত্র মুনাফা বাবদ ২-৩ ভাগ সুদ নিয়ে থাকে। এ ক্ষেএ জমার উপর ব্যাংক কতো টাকা সুদ বাবদ আমানতকারীদেরকে প্রদান করে তার হিসাব সামনে আসা প্রয়োজন। আমাদের দেশের সরকারি কর্তারা সব ধরণের সুবিধা তাদের জন্য করে নিয়েছে। ফ্রি চিকিৎসা, কোটি টাকার গাড়ি, ভাতা, পেনশন। কারণে অকারণে বিদেশ যাওয়া। স্বল্প সুদে ঋণ। এক জীবনে ঘুষ খাওয়া। আরেক জীবনে এক সাথে পাওয়া পেনশনের টাকায় সুদ খাওয়া। দুটোই অর্থনীতির জন্য প্রচন্ড ঝুঁকি পূর্ণ। দেশের জিডিপির শতকরা ২০ ভাগ খরচ হয় পেনশন, বেতন, ভাতা ও সরকারী কর্তা ও কর্মচারীদের জন্য। ১৩ এপ্রিল, ২০২০ ইং তারিখে পিএম সরকারী ব্যয় বাড়ানো হবে বলে বক্তব্য রেখেছেন। যদিও কার্যত তা হবে না। কিন্ত আমলাদের সন্তষ্ট করতে বলতে তো বাধ্য হচ্ছে। বাণিজ্যিক পরিবহনের জন্য গাড়ীর জন্য যে উচ্চ সুদ তা নিয়ে অজানিত কয়েকটি কারণে কোম্পানী ছাড়া দেশের কোন পরিবহন ব্যবসায়ীই  উচ্চ সুদ হারের কারণে লাভের মুখ দেখতে পারে নাই। খেলাপী হয়ে অনেকে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। অনিয়মকে সুযোগ দেয়ার জন্য কর্তারা ঘুষ খায়। যা অর্থনৈতিক শৃঙ্খলার জন্য অত্যন্ত নেতিবাচক। ঘুষ খাওয়া সমাজে একটি হতাশা সৃষ্টি করে। তেমনি আমানতের উপর ব্যাংকের  সুদ একটি দেশের অর্থনীতির গোড়ায় আঘাতকারী  বিপদজনক ও মোক্ষম  একটা আইনী ব্যবস্থা। এর দুইটি দিক আছে। একটি হচ্ছে যে, আমানতকারীদেরকে সুদ দেয়ার পর, তার উপরে ৩-৪% যোগ করে গ্রাহকের উপরে ব্যাংকের সুদ আরোপ হচ্ছে।  আমানতের উপর সুদ গ্রাহককে ব্যাংক ঋণের টাকা শোধ দেয়ার ক্ষমতাকে কয়েক গুণ কমিয়ে দিচ্ছে। এই সংকট সৃষ্টি করে বেতনধারী ও অনেক সুবিধাভোগী ব্যাংক কর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে ব্যাংক মালিকদের পক্ষে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সমানে অভিযোগ করে যাওয়া।

জাহিদ হোসেন ফিরোজ, ব্যবসায়ী।
ই-মেইল: firoze1969@gmail.com


 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ