শনিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৭

পাইকারিতে কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই

  শনিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৭

শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। বৃষ্টি এবং বন্যার অজুহাতে কয়েক মাস ধরেই সবজির দামে চড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। এখনো রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রায় প্রত্যেকটি সবজি উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। চাল, ডাল, চিনি ও মাছ-মাংসে নেই সুখবর। তবে পাইকারিতে দাম কমলেও খুচরায় প্রভাব নেই। গতকাল শুক্রবার শীত মৌসুমের শুরুতে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তির লক্ষণ দেখা গেছে। তবে তা পাইকারি বাজারে। খুচরা বাজারে এখনো তেমন একটা প্রভাব পড়েনি।

রাজধানীর সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজিতেই কেজিপ্রতি ৫-১০ টাকা দাম কমেছে। তবে আশপাশের খুচরা বাজারগুলোতে এখনো ৩-৪ দিন আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ বাজারে কাঁচামরিচের মানভেদে প্রতিকেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, বেগুন (সাদা) ৪০ টাকা, শিম ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ফুলকপি (মাঝারি) প্রতিপিস ২০ টাকা, বাঁধাকপি (মাঝারি) প্রতিপিস ৩০ টাকা, লাউ প্রতিপিস ৩০-৪০ টাকা, গাজর প্রতিকেজি ৪৫-৫০ টাকা, আলু (পুরোনো) ২০ টাকা, আলু (নতুন) ৮০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, পটল ৪০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, পুঁইশাক প্রতিআঁটি ২০ টাকা, লালশাক ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৩০ টাকা, সোনালি ১৬০ টাকা, খাসি ৭৫০, গরু ৪৬০-৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি মুরগির ক্ষেত্রে দেখা গেছে দামের তারতম্য। কোনো কোনো দোকানে দেখা গেছে মুরগি পিস হিসেবে বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও কেজি হিসেবে। দেখা গেছে, ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের প্রতিপিস মুরগি ১৬০-১৮০ টাকা এবং এক কেজি ওজনের প্রতিপিস বিক্রি হচ্ছে ৩২০-৩৪০ টাকা দরে। আবার কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা দরে। প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫২০ টাকা। খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।

কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, পণ্যমূল্যের ওঠা-নামা বাজারের ধর্ম। কিন্তু দাম যখন অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে তখনই জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই এটা দূর করতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও আমদানির মাধ্যমে চাহিদা নিরূপণ করে সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে হবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছেন। তারা একবার দাম বাড়ালে আর কমান না। তার মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের একাধিক সংস্থা রয়েছে। কিন্তু সেগুলো তেমনভাবে কার্যকর নেই।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। আর কোরবানির পর সেপ্টেম্বরে পুরোপুরি অস্থির ছিল চালের বাজার। সে সময় মোটা চালের মধ্যে স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা। যদিও কয়েক দফা আমদানির পর বর্তমানে দাম কিছুটা কমেছে। তবে এখনো তা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসেনি।

গত সোমবার স্বর্ণা চাল বিক্রি হয়েছে ৪৪ থেকে ৪৫ টাকা। এ ছাড়া নাজিরশাইল বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও কমছে চালের দাম। বাংলাদেশ মূলত চারটি দেশ থেকে চাল আমদানি করে। সেগুলো হচ্ছে ভিয়েতনাম, ভারত, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমার। অক্টোবরে ভিয়েতনামে প্রতিটন চালের দাম ছিল ৩৭৬ ডলার। এ হিসাবে প্রতিকেজির দাম পড়ে ২৯ টাকা। এক মাস আগেও যা ছিল ৩২ টাকা। এ হিসাবে কেজিতে দাম ২ টাকা কমেছে। শতকরা হিসাবে যা ৫ শতাংশের বেশি। সোমবার কলকাতায় আইআর৩৬ (বাংলাদেশে মোটা চাল হিসেবে পরিচিত) নামের চালের কেজি ছিল ২৭ রুপি। এ হিসাবে বাংলাদেশি টাকায় প্রতিকেজির দাম পড়ে ৩২ টাকা। এক মাস আগেও দাম ছিল একই রকম।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ