শনিবার , ১৮ নভেম্বর ২০১৭

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পরে মূলত পড়াশুনো আর ডায়েরি লিখেই সময় কাটাচ্ছেন তিনি। খুব একটা বেরও হননি ১০ রাজাজি মার্গের বাসস্থান থেকে।তবে সাবেক হওয়ার পর দেশের বাইরে প্রথম সফরেই বাংলাদেশকে বেছে নিতে চলেছেন তিনি। সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে ঢাকা আসার কথা রয়েছে প্রণব মুখার্জির। ওই সফরেই বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরেও যেতে ইচ্ছুক তিনি।

রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এই মুহূর্তে তপ্ত বাংলাদেশ। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক মহলেরও চাপ রয়েছে নেইপিদোর ওপর। এদিকে ভারতও দেশটিতে থাকা ৪০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাতে দৌড়ঝাঁপ করছে।এই পরিস্থিতিতে প্রণব মুখার্জির মত বর্ষীয়ান এবং রাষ্ট্রনীতিতে অভিজ্ঞ এক নেতার রোহিঙ্গা শিবির দেখতে চাওয়াটা কূটনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন বরাবরই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি ছিলেন প্রধান সূত্রধর।জানা গেছে, প্রণবের আসন্ন সফরের বিষয়টি নিয়ে ভারত এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলা হবে। নিরাপত্তার খুঁটিনাটি বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। তাই এই সফর নিয়ে কোনো জটিলতা তৈরি হোক, সেটা নিজেও চান না সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।প্রণবের ঘনিষ্ঠ মহলের বরাতে আনন্দবাজার জানাচ্ছে, শিবিরের ভেতরে যাওয়ার সুযোগ না হলেও অন্তত ওই এলাকা ঘুরে আসতে চান তিনি।কিছু দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখা করেছেন প্রণব মুখার্জির সঙ্গে। রাষ্ট্রপতি থাকার সময়েও তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন মোদি। মূলত সংসদীয় কার্যকলাপ এবং বিদেশনীতি নিয়ে পরামর্শ নিতেন মোদি।  জানা গেছে সেটির ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। তবে মোদির এখন প্রয়োজন প্রণবের রাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা এবং পরামর্শ।সাম্প্রতিক আলাপচারিতায় প্রণবের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমস্যার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন মোদি।  বিশেষ করে তার উদ্বেগের জায়গা রোহিঙ্গা সমস্যা। প্রণব মুখার্জি মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু শরণার্থীরা যত দিন ভারতে আছেন, জীবনধারণের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার হোক সেটা চান প্রণব। তবে রোহিঙ্গাদের শেষ পর্যন্ত মিয়ানমার আদৌ ফেরত নেবে কিনা সেটি নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রণব।ভারতে আসা ৪০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী সংখ্যার দিক থেকে নয়াদিল্লির জন্য বড় চাপ নয়। কিন্তু বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যাটি বিপুল এবং সেটাই সাউথ ব্লকের জন্য মাথাব্যথা। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় যদি কাজ হয়। তা হলেও রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরবেন কিনা সন্দেহ রয়েছে।সাউথ ব্লকের এক কর্মকর্তার আশঙ্কা, রোহিঙ্গারা রওনা হয়তো দেবেন বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। তাই রোহিঙ্গা প্রশ্নে বাংলাদেশকে পাশে রেখেই এগোনোর পক্ষপাতী ভারতের কূটনীতিকদের বড় অংশ। প্রণব মুখার্জির মতো বিদেশনীতিতে অভিজ্ঞ ব্যক্তির বাংলাদেশ সফর এই ক্ষেত্রে নতুন কী মাত্রা যোগ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার চেষ্টা করছে সাউথ ব্লক।

 সারাবিশ্ব থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ