রবিবার , ১৬ আগষ্ট ২০২০ |

৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্বের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নতুন আইনের ব্যাপার দ্বিমত পোষণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক দলের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণের সময়সীমা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে দ্বিমত পোষণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

চলতি বছরের মধ্যে এ শর্ত পূরণের সময়সীমা উঠিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুন আইন প্রস্তাব করে। আওয়ামী লীগ তাতে সংশোধনী দিয়ে নারী নেতৃত্ব পূরণের সময়সীমা আরো পাঁচ বছর বাড়াতে বলেছে।  বুধবার নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে ইসি সচিব মো. আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন প্রণীত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন খসড়া আইনের বিষয়ে তাদের লিখিত অভিমত কমিশনে জমা দেয়। আওয়ামী লীগের মতামত সম্পর্কে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর বলেন, তারা ২০২৫ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান প্রস্তাবিত নতুন আইনে রাখার জন্য মতামত দিয়েছে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের শর্ত মোতাবেক ২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণের বিধান রয়েছে। বর্তমানে আরপিও থেকে দল নিবন্ধনের অধ্যায়টি তুলে দিয়ে 'রাজনৈতিক দল নিবন্ধন আইন-২০২০' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়ন করছে ইসি। ওই খসড়া আইনে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও কবে নাগাদ তা করতে হবে সে বিষয়টি তুলে দেওয়া হয়।

পরে এই নতুন আইনের খসড়ার ওপর সবার কাছে মতামত চেয়েছিল সংস্থাটি। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগসহ ১৬টি নিবন্ধিত, ১০টি অনিবন্ধিত দল এবং ১০ জন ব্যক্তি মতামত দিয়েছেন।

বিভিন্ন দলের মতামত সম্পর্কে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, মতামতগুলো মিশ্র। কেউ বলেছে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রের জন্য আলাদা আলাদা সময় বেঁধে দেওয়ার জন্য। কেউ বলেছে নারী সদস্য পদ পূরণে সময় আর না বাড়াতে। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়েও তারা মতামত দিয়েছেন। আমরা একীভূত করছি। তারপর কমিশনের কাছে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ৩১ জুলাই মতামত দেওয়ার সময় শেষ। আর সময় বাড়ানো হবে না। এরপরই যৌক্তিক মতামতের ভিত্তিতে নতুন দল নিবন্ধন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। আওয়ামী লীগের প্রস্তাব ইসি সচিবের কাছে এর আগে জমা দিয়ে যান দলের প্রচার সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ৫০ শতাংশ নারী সদস্য পদ পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর যে দৃঢ় ভূমিকা রয়েছে, আমরা সেভাবেই আমাদের মতামত দিয়েছি।

এদিকে নারী নেতৃত্ব ছাড়াও খসড়ায় নিবন্ধন পাওয়ার অন্যতম শর্ত হিসেবে আবেদন করার তারিখ থেকে পূর্ববর্তী দুটি সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে কমপক্ষে একটি আসন পাওয়ার বিষয়টিও রাখা হয়েছে। ওই সংসদ নির্বাচনের যে কোনো একটিতে আবেদনকারী দলের অংশগ্রহণ করা আসনে প্রদত্ত মোট ভোটের ৫ শতাংশ পাওয়ার বিধানের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ ছাড়া পরপর দু'বছর সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলে নিবন্ধন বাতিলের বিষয়সহ প্রস্তাবিত আইনে একগুচ্ছ শর্ত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৪১।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ