সোমবার , ২০ নভেম্বর ২০১৭

রংপুরে ওবায়দুল কাদের

  সোমবার , ২০ নভেম্বর ২০১৭

আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী চট্টগ্রামের রামু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় পাশবিক ও বর্বর হামলা চালিয়েছে। এরা চাইছে ভারতের সঙ্গে আমাদের  সম্পর্ক নষ্ট করতে।

গতকাল রবিবার ফেসবুকে ধর্ম অবমাননার স্ট্যাটাস দেয়ার অভিযোগে রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও বাড়ি-ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, রংপুরে যেদিন হামলা হয়েছে ওইদিন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগ ক্ষতিগ্রস্তের পাশে রয়েছে। তাদের সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি-ঘর নির্মাণের পাশাপাশি খাট-বিছানা, হাড়ি-পাতিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা যার যার দায়িত্ব পালন করছি। যারা এই পাশবিক হামলা করে সনাতন ধর্মালম্বীদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, মন্দিরে আগুন দিয়েছে তারা যারাই হোক তাদেরকে এবং ঘটনার নেপথ্যে যারা আছে তারা যত শক্তিশালী হোক না কেন সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। সবার মুখোশ উন্মোচন করা হবে। তিনি জানান, ঘটনার নেতৃত্বদানকারী জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী ফজলার রহমানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে। ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী জড়িত এবং সরকারের মদদ ছাড়া এ ঘটনা ঘটতে পারে না বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি মিথ্যাচার করে।

পরে ব্রাহ্মণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক সমাবেশে তিনি বলেন, যারা সনাতন ধর্মালম্বীদের ওপর হামলা করে প্রতিবেশি ভারতের সঙ্গে আমাদের বিরাজমান সুসম্পর্ক বিনষ্টের অপচেষ্টা করেছে, তাদের চেষ্টা সফল হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত সনাতন ধর্মালম্বীরা আতঙ্কিত, উদ্বিগ্ন এবং উত্কণ্ঠিত। তাদেরকে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও মানবিক সহযোগিতা দিতে এসেছি। ভাষণ দিতে আসিনি, ফুলে নিতে আসিনি। তিনি আরো বলেন, ১৯৭১ সালে শুধুমাত্র মুসলমানরাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। তাদের রক্ত ঝরেছে। সংখ্যায় কম হওয়ায় সনাতম ধর্মালম্বীদের ওপর রাজনৈতিক স্বার্থবাজ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আক্রমণ করেছে। এ ঘটনা বারবার হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় যারা বিশ্বাস করেন তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, রংপুর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রীর জেলা। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার, বিশিষ্ট কম্পিউটার বিজ্ঞানী সজিব ওয়াজেদ জয় রংপুরের রাজনীতিতে আসছেন। তাকে যারা ভয় পায় তারা এই অপকর্ম চালাচ্ছে। সমাবেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সমপাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান সাম্প্রদায়িক রাজনীতি চালু করেছেন। তারা শুধু ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করেন। তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করার শপথ নিতে হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রাজশাহী বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতা খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেন, জনগণকে নিয়ে রংপুরে হামলাকারী সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে নিশ্চিহ্ন করা হবে।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ