মঙ্গলবার , ২১ নভেম্বর ২০১৭

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে গত এক বছরেও সংষ্কারের উদ্যোগ নেয়নি কেউ।   তাই অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়হীনতার কারণে ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবার মান।

একই কক্ষে গাদগাদি করে চিকিৎসা সেবা নিতে হচ্ছে পুরুষ, নারী ও শিশু রোগীদের।  

আবার স্থান সংকুলান না হওয়ার কারণে অনেক রোগীর কপালে বেডও জুটেনা। অনেকে ঠান্ডার মধ্যে মেজেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাই বাধ্য হয়ে অনেক রোগী চলে যাচ্ছে জেলা বাইরে অন্যকোন মেডিক্যালে হাসপাতাল কিংবা ক্লিনিকে। কিন্তু দূর্গম পাহাড়ের থেকে আসা দরিদ্র রোগীদের সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে রাঙামাটি হাসপাতালেই নিতে হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে চালু হওয়া রাঙামাটি জেলা সদরে একমাত্র সরকারি হাসপাতালটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক।   ২০০৫ সালে রাঙামাটি জেনারেল হাসাপাতালের দ্বিতল ভবনকে ঝুকিঁপূর্ণ হিসাবে চিহ্নিত করে রাঙামাটি পৌরসভা। কিন্তু তারপরও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলে চিকিৎসা সেবা।  

এপর ২০১৬ সালে রাঙামাটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে হাসপাতাল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার সত্বেও তৃতীয় তলায় অপরিকল্পিতভাবে ভবন নির্মান কাজ শুরু করা হয়।

কিন্তু আংশিক ভবন নিমার্নের পর হাসপাতাল বিভিন্ন ভিমে (পিলার) ফাটল দেখা দেয়। খশে পড়ে ভবনের প্ল্যাস্টার। সে সময় হাসপাতালটির বিরাট একটি অংশ পরিত্যাক্ত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বন্ধ হয়ে যায় মহিলা ও শিশু ওয়ার্ড। তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয় পুরুষ ওয়ার্ডে। এতে একদিকে রোগী ও চিকিৎসকেদর যেমন চরম ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবা। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও হাসতালটির উন্নয়নে নতুন কোন পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তবে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের মহিলা ও শিশুদের স্থান সংকুলান পাশাপাশি  হাসপাতালের নানা সমস্যা ও সংকটের কথা জানালেন হাসপাতালে প্রধান চিকিৎসক রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. সওকত আকবর খাঁন। তিনি বলেন, রাঙামাটি হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একাংশ বন্ধ করে দেওয়ার পর মহিলা ও শিশুদের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু করা হয় পুরুষ ও সোয়াইন ফ্লু ওয়ার্ডে। সে ওয়ার্ডে পুরুষ, মহিলা, শিশু ও সোয়াইং ফ্লু  রোগীদের এক সাথে দেওয়া হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। এছাড়া নেই চাহিদা অনুযায়ী বেড, লোকবল, ওষুধ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। ডাক্তারের পাশাপাশি রয়েছে নার্স সংকটও।  

অন্যদিকে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি আলোকে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগটি জেলা পরিষদের অধিনে হস্তান্তর করা হলেও রাঙামাটি হাসপাতাল উন্নত করতে কোন ভূমিকা রাখেনি এ প্রতিষ্ঠানটি। উল্টো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের উপর অপরিকল্পীত ভবননির্মাণ করে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে রাঙামাটি জেলা স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। এতে পরিত্যক্ত পরে আছে হাসপাতালে বিরাট একটি অংশ।   রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের কোন সমস্যার বিষয়ে কথা বলতে নারাজ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।  

রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে সংকট নিয়ে কথা বলতে গেলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধির সাথে ক্ষিপ্ত হয়ে অশোভন আচরণ করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। এসময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ আমাদের উপর হস্তান্তরিত তাতে কি। যেমন ইচ্ছা চলুক। আমি কোন মতামত দিতে পারবো না। আপনাদের যা ইচ্ছা লিখেন।

অভিযোগ উঠেছে, রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের ক্ষমতাশীল এ নেতা পরিষদের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার আচরণের ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। যখন তখন মেজাজ দেখানো তার নিত্যদিনে পেশা। তিনি সভা, সমাবেশ ও বিভিন্ন মিটিংয়ে দলীয় নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাধারণ জনগণসহ পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও রেহাই পায়না তার অশোভন আচরণ থেকে। তার অস্বচ্ছ কর্মকান্ড ও দুর্নীতির কারণে ভেঙ্গে পড়েছে রাঙামাটি জেলার পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসহ জেলা পরিষদের অধিনে থাকা অনেক সরকারি প্রতিষ্ঠান। তার বিরুদ্ধে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ।  
তবে সরকারের উচ্চ মহলে নজড়দাড়ি বাড়ানো গেলে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালটি আবারও সচল হবে বলে মনে করছে সচেতন মহল। 

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ