সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ |

জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো। ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি। শুনতে কতই না মধুর লাগে। বাপ-মা’র স্বপ্ন বলি কি আকুতি, শিশুর জন্মের বেলা তাদের অন্তরে হয়তো সেটাই লুকানো থাকে এবং নিরন্তর যখন তারা সেই সন্তানের বড় হওয়ার সাক্ষী হয়ে ওঠে, তখন তাদের দোয়া এবং দাওয়ায় এছাড়া আর কিই বা থাকতে পারে― সন্তান বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হোক! কিন্তু বড় হতে হতে সেই শিশু যখন যৌবনে পা রাখে, তখন সে ধুমপানে আসক্ত হবে নাকি কারো পাল্লায় পরে সাধু পুরুষ হবে, তার খানিকটা সেই যুবকের ওপর নির্ভর করলেও এর অনেকটাই যে তার পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল, সেই সত্য অস্বীকার করা চলে না। তেমন অস্বীকারে এক ধরনের শান্তি হয়তো পাওয়া যায়, কিন্তু স্বস্তি পাওয়া মুশকিল।


কথাটা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্ম ও বেড়ে ওঠার বেলায়ও সমান সত্য। জন্মের সময় বাংলাদেশের কপালে রাষ্ট্রধর্ম নামক কোনো কাজলের টিপ ছিল না। থাকার কোনো সংগত কারণও ছিল না, কারণ বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িক এক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এই জন্মের ফলশ্রুতিতে ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ কর্তৃক সাম্প্রদায়িক বিভাজনের নীতিতে প্রতিষ্ঠিত ভারত ও পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র দুটোর ভিত্তিকেই কেবল যে নাড়িয়ে দিয়েছিল তা না, ভারতবর্ষ যে বহুজাতির এক মহাদেশ সেই সত্যটিকেও উন্মোচিত করে দিয়েছিল। বাঙালির জাতিরাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ যে ইউরোপিয় কিংবা পূর্বএশিয় দেশগুলোর মতো জাতীয় মুক্তির পথে অগ্রসর হবে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। কিন্তু সংশয় ছিল। কারণ, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছিল এক অভাবিত ঘটনা। জার্মান, ফ্রান্স, ব্রিটিশ বা রাশান না হোক, এশিয়ার জাপান কিংবা কোরিয়ার মতো বাংলাদেশ একটি জাতিরাষ্ট্র হয়ে উঠলে ভারতবর্ষের অন্যান্য উঠতি জাতি তাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে জলাঞ্জলি দিয়ে কেন ভারতীয় বা পাকিস্তানি নামক ধর্মীয় পরিচয়নির্ভর এক আজব জাতীয়তার আড়ালে হারিয়ে যাবে? ভারতকে, আর যাই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়ার মতো অভিবাসী অধ্যুষিত বহুজাতির দেশগুলোর সাথে তুলনা করা চলে না। ভারতবর্ষে বহুজাতির এই সংকটটিকে ধামাচাপা দিতেই দ্বি-জাতি তত্ত্বের উদ্ভাবন। কাজেই বাংলাদেশের বেলায় চ্যালেঞ্জটা ছিল এই দ্বি-জাতি তত্ত্বকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব পথ রচনা করা; কিন্তু ভারত বা পাকিস্তান তো বটেই বহুদূরের ব্রিটিশ কিংবা মার্কিনিরা বাঙালির নিজস্ব পথ মানবে কেন? সেজন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে পথের কাঁটাকে অপসারণ করা ছাড়া তাদের সামনে অন্য কোনো পথ খোলা ছিল না। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পরে সংবিধানকে খানিকটা মুসলমানিত্ব দেওয়া শুরু হলে এর ধারাবাহিকতায় কয়েক বছরের মাথায় জেনারেল এরশাদের জমানায় এসে এই রাষ্ট্রধর্ম তিলকটি আমাদের কপালে জুটে যায়। সেই থেকে এটি বহাল তবিয়তে টিকে আছে, শুধু টিকে আছে বললে ভুল হবে, বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে। কিছুদিন আগে এই বিষয়ে হাইকোর্টে একটা রিট হলে বিষয়টি আবারও সবার নজরে আসে। বর্তমানে বাংলাদেশজুড়ে রাষ্ট্রধর্ম বিষয়টি তাই বিতর্কের কেন্দ্রে; সর্বত্র একই কথা― জন্মের সময় জাতির পিতার হৃদয়নিংড়ানো অসাম্প্রদায়িকতার সেই প্রত্যয়, সেই অঙ্গীকার, যে অঙ্গীকার মাথায় নিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ অকাতরে জীবন দান করে গেল, তার কি কোনোই দাম নাই?

হৃদয়বিদারক সত্য হচ্ছে এটাই যে, ভারতবর্ষে অসাম্প্রদায়িকতার আসলেই দাম নাই। পিতার তিরোধানে এতিমের মতো বড় হয়ে ওঠা বাংলাদেশের বাস্তবতা এবং একইসাথে আশেপাশের দেশগুলোর বিদ্যমান বাস্তবতা মাথায় রাখলে আমরা এই দাম নাই কথার মর্ম বুঝতে পারব। ৭৫-এর পরে বাংলাদেশের বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেলেও রাজনীতি ও জনমানসে সেই পরিবর্তনের ধারণাটি প্রবল করে তোলা হয় বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশাতেই। শিশু যখন মাতৃকোরে, অর্থাৎ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সেই ১৯৭২ সালেই মাওলানা ভাসানী থেকে শুরু করে সেই সময়ের অনেক বড় বড় নেতা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানটি মেনে নিতে পারেননি। আবুল মনসুর আহমদের মতো অসাম্প্রদায়িক লেখক ও রাজনীতিবিদও বাংলাদেশের জন্মকে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রকৃত বাস্তবায়ন বলতে দ্বিধা করেননি। অনেকে আগ বাড়িয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা, কিংবা মুসলিম বাঙলার ধারণাকেও প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেছে এবং এ নিয়ে ১৯৭৩-৭৫ সালের পত্র-পত্রিকা তো বটেই, জাতীয় সংসদেও প্রচুর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। সেই পটভূমির ওপর দাঁড়িয়ে এবং বিশেষ করে মাওলানা ভাসানীর আশীর্বাদ নিয়ে বন্দুকের নলের মুখে ক্ষমতা গ্রহণ করা রাজনৈতিক শক্তি যে সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাদ দেবে, তাতে অবাক হওয়ার কী আছে? কেবল বর্জন না, বাঙালি শব্দের প্রতি ক্ষমতায় চেপে বসা রাজনৈতিক শক্তি হিংসাত্মকও হয়ে ওঠে। বাংলা ভাষাকে দাবায়ে রাখতে ইংরেজি এবং বাঙালি সংস্কৃতিকে দাবায়ে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যের সংস্কৃতির আগমন ঘটায়। এই আয়োজনে সবচে খুশি হয় ভারত এবং পাকিস্তান তো বটেই বহুদূরের ব্রিটিশ ও মার্কিন পলিসিমেকাররা। আগেই উল্লেখ করেছি যে, বাংলাদেশের জন্মের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষের মূল সংকট, যাকে এককথায় বলা যায় জাতিগত সংকট, তা সামনে চলে আসে। সেজন্য, জাতীয় মুক্তির প্রশ্নে বাঙালি জাতীয়তাবাদ একটি সফল আয়োজন হিসাবে প্রমাণিত হলে ভারত ও পাকিস্তান তো বটেই, বিশ্বের বহু জাতি সেই পথে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে, তাতে কোনো সন্দেহ ছিল না। অন্তত, ইউরোপের কিংবা পূর্বএশিয়ার বিগত দুইশত বছরের ইতিহাসের দিকে তাকালে যে কেউ সেই সত্য আবিষ্কারে সক্ষম হবে। সেখানে ভাষা ও সংস্কৃতিকেন্দ্রিক জাতিরাষ্ট্রসমূহ যেভাবে তরতর করে জাতীয় মুক্তি অর্জন করে চলেছে, তা সচেনত মানুষের নজর এড়াতে পারে না। বঙ্গবন্ধু সেই পথেই হেঁটেছিলেন এবং একজন সত্যিকারের পিতার পক্ষে সেটাই ছিল সঙ্গত। তার বুকে ছিল সাহস, সেজন্য বৈশ্বিক বাস্তবতা তো দূরের কথা, একেবারে আঞ্চলিক বাস্তবতাকেও অতিক্রম করতে চেষ্টা করেছিলেন তিনি। ফলাফল, সপরিবারে হত্যা। বাসর রাতে বেড়াল মারার মতো বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরাও প্রথমেই বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক বলে ঘোষণা দিয়ে ফেলেছিল। পরবর্তীতে যে কোনো কারণেই হোক, তা ধরে রাখতে না পারলে কি হবে, নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় জেঁকে বসা জেনারেল জিয়ার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মিলিটারি সরকার প্রথম সুযোগেই সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিদায় করে দেয়।

নীতি হিসাবে ধর্মনিরপেক্ষতা পরিত্যক্ত হলে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি পুষ্প-পল্লবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে যায়। নিষিদ্ধ সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো (জামায়াত, মুসলিম লীগ, ইত্যাদি) রাজনীতির মাঠে সক্রিয় হয় এবং মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত সাম্প্রদায়িক শক্তি কেবল যে রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার হয় তা না, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসাবে বড় বড় ব্যবসা ও কলকারখানার মালিকানা লাভেও সক্ষম হয়, তাদের জন্য সরকারি ব্যাংক উন্মুক্ত করে দেয়া হয় এবং তথাকথিত ঋণখেলাপি তত্ত্বের আওতায় বেসরকারিজগতে বড় ধরনের পুঁজি সমাবেশ ঘটানো হয়। ১৯৮৮ সালে জেনালের এরশাদের জমানায় রাষ্ট্রধর্ম বিষয়টি আমাদের জাতীয় সংবিধানে জায়গা করে নেয়। তার আগের ১৩ বছর এই রাষ্ট্রধর্ম বিষয়টি সংবিধানে না থাকলে কী হবে সাম্প্রদায়িকতার চর্চা থেকে বাংলাদেশ একদিনের জন্যও ছুটি নেয়নি। একই সত্য ভারতের বেলায়ও ঘটে চলেছে। নেহেরু কিংবা ইন্দিরা গান্ধীর সময়টুকু বাদ দিলে রাষ্ট্রীয়ভাবে সাম্প্রদায়িকতা সেখানে নীতি হিসাবেই বিবেচিত হয়েছে। দেশের রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে ক্রিকেটের দল নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ের কাজটি তারা করে চলেছে জন্মের পর থেকেই। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভাবনা থেকে যোগ্য ব্যক্তিকে বাদ দেয়া আর সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ের ভাবনা থেকে অযোগ্যকে জায়গা করে দেয়া একই জিনিস। একটি আরেকটির পরিপূরক। সাম্প্রদায়িকতার ভাবনা থেকে যোগ্যকে বাদ দেয়া কিংবা সাম্প্রদায়িক সমন্বয়ের আওতায় অযোগ্য লোককে জায়গা করে দেয়ার যে ক্ষতি, সেই ক্ষতি থেকে ভারতবর্ষের কোনো দেশই মুক্তি লাভ করতে সক্ষম হয়নি, ভবিষ্যতে হবে তেমন সম্ভাবনাও দেখা যায় না। ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম না থাকলে কী হবে, সেখানকার রাজনীতিতে এবং রাষ্ট্রের নীতিতে সাম্প্রদায়িকতাকে লালন-পালনে তাদের আগ্রহে কোনো ঘাটতি দেখা যায় না। কাজেই, রাষ্ট্রধর্ম থাকলেই কী আর না থাকলেই বা কী? তাতে কার শান্তি, আর লাভই বা কার। মূল প্রশ্ন হচ্ছে রাষ্ট্র অসাম্প্রদায়িক হবে কি না। কেবল বাংলাদেশ না, ভারতবর্ষের অন্যান্য জাতি (কিংবা দেশ, আসলে জাতিরাষ্ট্রের দেশ তো কেবল বাংলাদেশ), বিশেষ করে ভারতের মতো দেশের বিশাল প্রভাবকে মেনে নিয়ে পুরো বিষয়টিকে বিবেচনায় নিলে তাতে করে পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার যে উপপাদ্য প্রথমে উল্লেখ করেছি, তার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটা আলোচনা করা সম্ভবপর হবে।

কিন্তু, তেমন নির্মোহ আলোচনা কি আদৌ সম্ভব?


বাংলাদেশের জন্মের সময় চারপাশের দেশগুলোর মধ্যে সত্যিকার অর্থে কোনো অসাম্প্রদায়িক দেশ ছিল না, এখনও নাই। হিন্দুত্ব এখন পর্যন্ত ভারতের অখণ্ডতার প্রধানতম উপাদান। একইভাবে ইসলাম হচ্ছে পাকিস্তানের অখণ্ডতার প্রধানতম উপাদান। বাংলাদেশের তেমন দায় না থাকলে কী হবে, অপর দুই রাষ্ট্রের দায়ভার মেটাতে বাংলাদেশকেও তাই ইসলামিক হয়ে উঠতে হয়। ভারতের ও পাকিস্তানের অখণ্ডতার স্বার্থে বাংলাদেশকে মুসলমানের দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করানো থেকে শুরু করে এখানে ইসলামভিত্তিক সাম্প্রদায়িকতার প্রসার লাভ করানোটাও অনেকের জন্যই অনেক প্রয়োজনীয় এক বিষয়। কাজেই, অখণ্ডতার স্বার্থে ভারত ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির পেছনে ব্যাপক বিনিয়োগ থাকার সম্ভাবনাকে হালকা করে দেখার কিছু নাই। আপাতত ভারত ও পাকিস্তান পরস্পরের শত্রু হিসাবে পরিচিত লাভ করলেও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িকতার প্রসারে তাদের পরস্পরের মিতালি না হওয়ার কোনো কারণ নাই। সেই বিবেচনায়, রাষ্ট্রধর্মের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট যে সাম্প্রদায়িকতাকে উসকে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো কাজে লাগবে না, সেটা বুঝতে গণতন্ত্রের মহাপণ্ডিত হতে হয় না। গণতন্ত্রে অসাম্প্রদায়িকতা এক অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করা ছাড়া গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারে না। ভারতবর্ষের কোনো দেশই যে আজতক গণতান্ত্রিক হয়ে উঠতে পারল না, তার কারণ এই প্রতিষ্ঠান গড়ার অক্ষমতা। আর এই অক্ষমতার প্রধানতম কারণ অর্থনৈতিকভাবে উন্নত না হওয়া। ভিক্ষা করা জাতি কোনোদিন স্বাধীনতার স্বাদ পায় না। সেখান থেকে উত্তরণটা জরুরি সবার আগে। তারপর গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ এবং সেই নির্মাণকালে সাম্প্রদায়িক সমন্বয় নামক রোগ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। সেটা সম্ভব হলে রাষ্ট্রধর্ম নামক তিলকটি অবহেলার শিকার হয়ে মারা যাবে। আগেই উল্লেখ করেছি যে, অসম্প্রাদায়িকতা ও বাঙালি জাতিয়তাবাদ― এই দুই প্রত্যয় দ্বারা বাংলাদেশের জন্ম হলেও বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এরা পরিত্যক্ত হয় এবং আশেপাশের দেশগুলো, বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তান এক ধরনের স্বস্তি ফিরে পায়। ‘৭২ এর সংবিধান ছিল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতার বিপরীতে এক সাহসী ভাবনা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই সাহসের পরিসমাপ্তি ঘটেছে। নিউ নরমাল যেমন করোনাভাইরাসের সাথে বসবাসকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছে, তেমনই সাম্প্রদায়িকতার সাথে বসবাস করাটাও ভারতবর্ষের সকল দেশের জন্য এক আদি ও বিষাদময় বাস্তবতা।

বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক হয়ে ওঠার আশা কি তবে ত্যাগ করব? মোটেই না। সামাজিক চাপ থাকা সত্ত্বেও রাধা যেমন কৃষ্ণকে, জুলেখা যেমন ইউসুফকে ত্যাগ করতে পারেনি, একইভাবে অন্তরে অসাম্প্রদায়িকতার আকুতি থাকলে লক্ষ্যে একদিন পৌঁছাতে পারব, এই বিশ্বাস আমাদের আছে। ভারতবর্ষের নিয়তি ঠিক হয়েছে বহু আগে সেই রাধাকৃষ্ণের জমানায়। শ্যাম রাখি না কূল রাখির যে দ্বন্দ্ব, তা থেকে এই কলিকালেও ভারতবর্ষ মুক্ত হতে পারছে না। কূল হচ্ছে সেই সামাজিক, রাজনৈতিক দায় যা থেকে মুক্তি নাই, আবার শ্যাম হচ্ছে সেই অনুভব যা ছাড়তে ইচ্ছে করে না। সেজন্য ললাটে ধর্মরাষ্ট্র রেখেও আমরা অসাম্প্রদায়িকতার গর্ব করি, তাতে মাথা হয়তো উঁচু হয় না, কিন্তু অন্তরের জ্বালা থেকে যে মুক্তি মেলে সেটাই বা কম কী?


লতিফুল কবির: বর্তমানে কানাডায় প্রফেশনাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। রাজশাহী বিআইটি থেকে গ্রাজুয়েশনের পরে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথোরিটিতে কাজ করেছেন দীর্ঘ বারো বছর ।

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ