বৃহস্পতিবার , ২৩ নভেম্বর ২০১৭

অর্থনৈতিক প্রতিবেদনঃ
শিল্পখাতে ক্রমে যুক্ত হচ্ছে সময়োপযোগী অনেক পণ্য। এ ক্ষেত্রে দেশের নির্মাণ শিল্প খাতে সংযোজন হয়েছে গ্রীণ টেকনোলজি পণ্য ‘এলুকো টাইগার’ ব্রান্ডের এ্যালুিমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল। এটি নির্মাণ ও প্রকৌশল খাতে সর্বশেষ প্রযুক্তি। নাহি গ্রুপ পণ্যটির আরো ব্যাপক পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাত করণে আইপিও’র মাধ্যমে এরই মধ্যে শেয়ার বাজারে যুক্ত হয়েছে। গ্রীণ টেকনোলজি নিয়ে শেয়ার বাজারে আসার পর প্রতিষ্ঠানটি আশাব্যঞ্জক সাড়া পাচ্ছে বলে জানা গেছে। এসিপি রংয়ের বিকল্প তাপ প্রতিরোধক প্যানেল যা ব্যবহারে একটি ভবনের পুরো চেহারাই পাল্টে যায়। ক্রমে ব্যপক হারে অভিজাত ভবনের দেয়ালে বাড়ছে এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের ব্যবহার। 
মুলত বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে নির্মাণ প্রযুক্তিতে অভিনব বিউটি প্রডাক্ট হিসেবে এর উৎপাদন ও মার্কেটিং শুরু হয়। এটি দুই দিকে এ্যালুিমনিয়াম সিট এবং মাঝখানে এলডিপিই’র সমন্বয়ে তৈরি। এটি চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সাইজ এবং হরেক কালারের হয়ে থাকে। বাংলাদেশে একসময় এটি পুরোপুরি আমদানী নির্ভর ছিল। আমদানী নির্ভরতা কাটিয়ে উঠতে ২০১৩ থেকে এটি উৎপাদন শুরু করেছে নাহি গ্রুপ। এর উৎপাদন আরো ব্যপক করতে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে শেয়ার মার্কেটেও এসেছে। 
সু-উচ্চ ভবনের বাইরে রঙ করা একটি জটিল এবং ঝুকিপূর্ণ কাজ। আবার রং করা ভবন দু’এক বছর পরপর নতুন করে রং করতে হয়। এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল একটানা ২০বছরের বেশি কালার অক্ষুণœ থাকে। রং বৈচিত্র এবং গ্লাসের সাথে অসাধারণ কম্বিনেশন হবার জন্য এসিপি’র ব্যবহারে ভবন হয় অভুতপূর্ব সুন্দর। এছাড়া রং এক প্রকার কেমিকেল যা পরিবেশের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং এধরনের রঙয়ের কারখানাও পরিবেশের জন্য ইতিবাচক নয়। পক্ষান্তরে রং করার পরও ওয়াল বৃষ্টিতে ভিজে ড্যাম হয়ে নষ্ট হবার ভয় থাকে। যা এসিপি ব্যবহারে হয় না।
এ্যালুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল দামেও যথেষ্ঠ সাশ্রয়ী। এটি পরিবেশ বান্ধব, তাপ প্রতিরোধক এবং রিসাইকেল করা যায়। এটি ব্যবহার করা ভবনে বাইরের তাপ ভেতরে আসতে পারে না। বৃষ্টির পানিতে ওয়াল নষ্ট হবার ভয় থাকে না। কাজেই ঐসব বিল্ডিংয়ে এসি ব্যবহারের খরচ কম হয় এবং বিদ্যুৎ খরচ কমে আসে।
বাংলাদেশে প্লাস্টিকের অবাধ ব্যবহার এবং রিসাইকেল ব্যবস্থা না থাকায় এটি ক্রমেই দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছিল। নাহী গ্রুপ এক্ষেত্রে প্লাস্টিক রিসাইকেল করে পুনরায় ব্যবহার করে পরিবেশ বান্ধব এই প্রডাক্ট উৎপাদন শুরু করে। পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা এলডিপিই এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের মাঝখানে ব্যবহার শুরু হয়। এসিপি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেলেও তা আবার রিসাইকেল করে উৎপাদনে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যেখানে রঙয়ের ক্ষেত্রে বিষয়টি অসম্ভব।
একটি ভবনকে আভিজাত্য কর্পোরেট লুক দেয় এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল। এটি হাইরাইজ ভবনের জন্য জুতসই গ্রীন প্রডাক্ট। একটি পুরাণ ভবনেও এর ব্যবহারে আসে দৃষ্টি নন্দন নতুনত্ব। বসুন্ধরা কনভেনশ হল, যমুনা ফিউচার পার্ক, পলওয়েল মার্কেট সহ অসংখ্য ভবনের বাইরে এ্যালুিমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল ব্যবহার হয়েছে। শুধু ভবনের বাইরে নয় বরং চমৎকার কালার কম্বিনেশন হবার কারণে এটি ইন্ডিরিয়র ডিজাইন, ফলস সিলিং এমনকি ভেতরের ওয়ালেও সম্প্রতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। 
বাংলাদেশে এই পণ্যের মার্কেট লিডার হিসেবে নাহী গ্রুপ ২০টি কালারের এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল উৎপাদন করছে। আইপিওতে আসার পর ডিলার, গ্রাহকদের আশাব্যাঞ্জক সাড়া পাবার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এ সংক্রান্ত আরো কিছু প্রডাক্ট সহ ২০-৩০টি কালার যুক্ত করবে বলে তারা জানিয়েছে ।
নাহী গ্রুপের এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল সম্পর্কে বুয়েটের প্রফেসর এবং আইপিই বিভাগের প্রধান ইঞ্জিনিয়ার ড. নাফিস জানান, বিদেশি এ্যালুিমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের চেয়ে নাহী’র এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের থিকনেস, কালার ফিনিশিং এবং অন্যান্য মান যথেষ্ট ভালো। বুয়েটের টেস্টে এসব বিষয় স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি নিয়ে নাহী গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর জনাব ইঞ্জিনিয়ার আবু নোমান হাওলাদার বলেন, দেশের অর্থনীতি উন্নত করতে হলে শিল্প-কারখানা করতে হবে। আমাদের প্রতিটা শিল্প প্রতিষ্ঠানই দেশের উন্নয়নের সাথে সরাসরি যুক্ত। এপর্যায়ে আমরা আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে ২০১৩ থেকে এদেশে উন্নত মানের এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল উৎপাদন ও মার্কেটিং শুরু করেছি। বিদেশ থেকে আসা এসিপি’র এ্যালুমিনিয়ামের থিকনেস যেখানে ০.১৩-০.১৭ এমএম। আমাদের এসিপি’র এলুমনিয়ামের থিকনেস সেখানে ০.২৩ এমএম এর বেশি। নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে গ্রীণ প্রযুক্তি উৎপাদনের সাথে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে আমরা দায়িত্বশীল ভুমিকা পালনে সম্পৃক্ত। আমরা প্লাস্টিকের বড় আকারের রিসাইকেল প্রযুক্তির সমন্বয়ে নির্মাণ শিল্পে সর্বশেষ প্রডাক্ট এলুমনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল উৎপাদন করছি। তিনি বলেন, বিনিয়োগে আমরা আইপিও’র মাধ্যমে সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীকে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগ নিয়েছি যাতে এর লভ্যাংশ সবাই ন্যায্য হারে পেতে পারে।

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ