রবিবার , ২৬ নভেম্বর ২০১৭

আদম তমিজি হক:

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি, যা স্বাধীনতার চার যুগ পর দ্বিগুণের অধিক হয়ে ১৬ কোটিতে গিয়ে ঠেকেছে। স্বাধীনতা-উত্তর সময়ে আমরা যে খাদ্য উৎপাদন করতাম, তা দেশটির সাড়ে সাত কোটি জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। স্বাধীনতা-উত্তর যে পরিমাণ ভূমি ধান উৎপাদনে ব্যবহার হতো বর্তমানে ভূমির পরিমাণ কমলেও উৎপাদন আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও অধিক বেড়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ধান ছাড়াও শাকসবজি, ভুট্টা, আলু প্রভৃতি উৎপাদনে শুধু স্বয়ংসম্পূর্ণই নয়, এসব পণ্যের বেশির ভাগ রফতানিও করছে। 
বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের মত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন আশাব্যঞ্জক। স্বাধীনতা-পরবর্তী দেশটিতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দেশটির অবস্থান সামাজিক সাফল্য বিবেচনায় নিলে প্রতীয়মান হয় ভারত ও পাকিস্তানের আগে হতো। বর্তমানে ভারত থেকে বাংলাদেশে যে পরিমাণ দ্রব্য আমদানি করে রফতানি তার এক-দশমাংশেরও কম। অপর দিকে, পাকিস্তানে আমদানি ও রফতানি উভয়ই যৎসামান্য। ভারতের সেভেন সিস্টার্সসহ সমগ্র ভারতে বাংলাদেশে উৎপাদিত শিল্পপণ্যের ভালো চাহিদা রয়েছে। কিন্তু যখনই দেখা যায়, বাংলাদেশের কোনো পণ্য সমগোত্রীয় ভারতের পণ্যের চেয়ে মূল্যসাশ্রয়ী ও মানের দিক থেকে উন্নততর, তখনই বিভিন্ন অশুল্ক বাধা আরোপের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে সে দেশের জনগণের কাছে ভারতীয় পণ্যের তুলনায় বাংলাদেশী পণ্যকে ব্যয়বহুল করা হয়। বাংলাদেশ থেকে ভারতে রফতানি করা পণ্যের যে অসংবেদনশীল তালিকা রয়েছে তাতে আরো কিছু পণ্য অন্তর্ভুক্ত করলে বাণিজ্য বৈষম্য বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। বিগত শতকের আশির দশক পর্যন্ত ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী বাংলাদেশে আমদানির মাধ্যমে ও চোরাই পথে প্রবেশ করত। বর্তমানে আমাদের বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক পণ্য ভারতীয় প্লাস্টিক পণ্য থেকে উন্নততর এবং যদিও চোরাই পথে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্লাস্টিক পণ্যের ভারতে প্রবেশ ঘটছে কিন্তু বৈধ পথে আমদানির ক্ষেত্রে ভারত বরাবরই কঠোর। মেলামাইন, সিরামিক ও টাইলসের দিক থেকে বাংলাদেশের পণ্যের গুণগতমান খুবই ভালো এবং ভারতের সাধারণ মানুষের মধ্যে এগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্যসরকার আমদানির ক্ষেত্রে নানাভাবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। দু-তিন বছর আগেও ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পণ্য, ওষুধ প্রস্তুতের মৌল উপাদান, বিভিন্ন ধরনের বলপয়েন্ট কলম, বিশেষ ধরনের চিপ্স, বিস্কুট ও চকোলেট, শনপাপড়ি, চানাচুর, আমসত্ত্ব প্রভৃতি বিপুল আমদানি হতো। বর্তমানে এসব পণ্য বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে এবং এগুলোর মানও ভারতীয় পণ্যের চেয়ে উন্নততর। কিন্তু তার পরও দেখা যায় এখানকার মানুষ ভ্রমণ সংশ্লেষে ভারতে গেলে আসার পথে সেখান থেকে শাড়ি কাপড় ও বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসে। অথচ দেশে উৎপাদিত এসব পণ্য গুণ ও মানের দিক থেকে কোনোভাবেই ভারতীয় পণ্যের চেয়ে নিচের নয়। 
আমাদের দেশের মানুষ ভ্রমণ, চিকিৎসা, পড়ালেখা ও কেনাকাটার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে, সে হারে এসব খাতে ভারতীয়দের আমাদের দেশে কোনো ব্যয় নেই বললেই চলে। অথচ আমরা আমাদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনসহ স্বদেশপ্রেমে উজ্জীবিত হলে অনায়াসে এসব ব্যয় পরিহার করে তা দেশের ভেতরে ব্যয় করে নিজেদের অর্থনীতিকে সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারি।
অন্যদিকে ২০২১  সালে বাংলাদেশ পঞ্চাশ বছরে পা রাখবে। সুবর্ণ জয়ন্তীর এই লগ্নে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে আমরা কোন অবস্থানে দেখতে চাই, সেটাই বস্তুত ভিশন ২০২১-এর মূল কথা। নতুন সহস্রাব্দে পদার্পণের পর ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এক নিরাপদ বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়। এই রাজনৈতিক স্বপ্ন-দর্শনের কথা প্রথমে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে উচ্চারিত হলেও পরে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে তা সরকারি রূপ পরিগ্রহ করে। অনেক রাজনৈতিক সংঘাত, হতাশা ও বিভ্রান্তি পেরিয়ে গণমানুষের প্রবল প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি হিসাবে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে—তরুণ প্রজন্মের কাছে ভিশন ২০২১-এর মহাপরিকল্পনা বেশ জনপ্রিয়তা পায়। স্বদেশের সুবর্ণ জয়ন্তীতে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত এক মধ্যম আয়ের দেশ হিসাবে বাংলাদেশকে দেয়ার সাধ সবারই জাগে। কিন্তু সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ফারাকও তো অনেক। বস্তুত, অসীম সাধ এবং সীমিত সাধ্যের মধ্যে একটা গ্রহণযোগ্য সমন্বয় সাধন করাই অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে কারণেই ভিশন ২০২১ সফল করাও একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ, তবে তা দুঃসাধ্য নয়।
বলাবাহুল্য, ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের পথে একটা অনুকূল অবস্থা হলো, এর উদ্যোক্তারা আবারো দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন হয়েছে। অতএব, ভিশন বাস্তবায়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলোকে স্থিরীকৃত লক্ষ্যের দিকে ঠেলে দিতে তাদের তেমন অসুবিধা হবার কথা নয়।  তবে তা হতাশার চাইতে পুনরুদ্যোমের কথাই বেশি মনে করিয়ে দেয়। জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলও রকমারি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে শম্ভুকগতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশেও ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের পথে সীমাহীন চ্যালেঞ্জ। তবে উন্নয়ন প্রত্যাশী গণমানুষই আওয়ামি লীগের শেষ ভরসার জায়গা।
এরপরেও যে কথাটি না বললেই নয় তা হল ভিশন ২০২১-এর সফল বাস্তবায়নের জন্য শুধু সরকারি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বস্তুত এটি নির্ভর করছে একটি সর্বস্তরের গণজাগরণের ওপর। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই পলিসির লক্ষ্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিত থাকতে হবে। জানতে হবে স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে কিভাবে বাস্তবের সাফল্যে পৌঁছানো যায়। ভিশন ২০২১ নামের এই জাতীয় উন্নয়নের রূপরেখা সম্পর্কে জ্ঞান, সচেতনতা এবং তার থেকে উত্সারিত কর্মযোগই পারে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য উপহার দিতে। না হলে—এগুলো কেবল গালভরা বুলিই থেকে যায়। অর্জনীয় লক্ষ্য স্থির করা এবং তা বাস্তবায়নে যৌথভাবে কাজ করে যাওয়াই কেবল পারে আজকের এই তীব্র প্রতিযোগিতামুখর পৃথিবীতে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশকে টিকিয়ে রাখতে। বিকশিত হতে দিতে।
বর্তমান সরকারের ভিশন ২০২১-এর প্রধান লক্ষ্য হলো নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা যেখানে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণভাবে বিমোচিত হবে। সেজন্যে একগুচ্ছ সহায়ক কাজ নিশ্চিত করতে হবে। কেমন, গণতন্ত্র ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠা করা; ক্ষমতার বিকেন্দ্রিকরণ এবং জনপ্রতিনিধিত্বমূলক রাজনৈতিক অবকাঠামো বিনির্মাণ করা; রাজনৈতিক পক্ষপাতবিবর্জিত আইনের শাসন নিশ্চায়ক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা; রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন করা; দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা; নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা; এমনভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়ন করা যাতে মৌলিক চাহিদাসমূহ পূরণের নিশ্চয়তা থাকে, জনগণ ও শ্রমশক্তির সুরক্ষার বন্দোবস্ত থাকে, দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যবস্থা থাকে, খাদ্য, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ব্যবস্থা থাকে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা থাকে, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, আবাসন, পরিবেশ, পানিসম্পদের নিরাপত্তা থাকে, এবং সার্বিকভাবে জনজীবন ও সম্পদের সুরক্ষা থাকে; বৈশ্বিক পেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করা যাতে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত থাকে, জাতীয় সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র নীতি দৃঢ়তর হয়।
এছাড়া ভিশন ২০২১-এর আরেকটি প্রধান উল্লেখযোগ্য দিক ডিজিটাল বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে বাংলাদেশে ব্যাপকভিত্তিক কম্পিউটার ব্যবহার নিশ্চিতকরণকে বোঝায়, অর্থাত্ দারিদ্র্য দূরীকরণ, কর্মসংস্থান নির্ধারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নে প্রযুক্তির দরকারি এবং কার্যকর প্রয়োগের আধুনিক দর্শনকে বোঝায়। একটি সফল ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক চিন্তন এবং সৃজনশীল ভাবনার অনুকূল মানস গড়ে তুলতে হবে। তাছাড়া গণতন্ত্র, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতানির্ভর ন্যায়বিচার এবং জনপ্রশাসন জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের দিকনির্দেশন ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখায় নিহিত আছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের বাস্তবায়নে চারটি মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; মানবসম্পদ উন্নয়ন, জনপ্রতিনিধিশীলতা, লোক প্রশাসন এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার। তবে বাস্তবতা হলো, ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশনের অগ্রগতিও প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগামী। সকল সরকারি অফিস এবং মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটালকৃত হবার কথা থাকলেও অদ্যাবধি সরকারি অফিসগুলো মান্ধাতা আমলের নথিনির্ভর কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং লাল ফিতার ব্যবহার বহাল রেখেছে। এখনো তহসিল অফিসে জীর্ণ-শীর্ণ শত-টুকরো রেকর্ডস ঘেঁটে খাজনা-খারিজ সম্পন্ন করতে হয়। রেকর্ডস বইয়ের পাতা গায়েব হয়ে যায়। সকল স্কুল কলেজে ডিজিটাল কার্যক্রম প্রবর্তনের ঘোষণা আসলেও কম্পিউটারের অপর্যাপ্ততা এবং দরকারি প্রশিক্ষণের অভাবে শিক্ষাঙ্গনে প্রযুক্তির ফসল অধরাই থেকে যাচ্ছে। মাদ্রাসাগুলোর অবস্থা আরো খারাপ। তবে ডিজিটালায়নের সবচেয়ে বড়ো সাফল্য এসেছে মোবাইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে, বলা চলে, মোবাইল বিপ্লব ঘটেছে। দেশের ১১ কোটিরও বেশি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে বলে পরিসংখ্যান জানিয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ মোবাইল যে কেবল সৌখিনভাবে ব্যবহূত হচ্ছে তা নয়। বরং মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়িয়ে, শহর আর গ্রামের দূরত্ব কমিয়ে, দেশে বিদেশে সংযোগ স্থাপন করে একদিকে যেমন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার শর্ত পূরণ করছে, অন্যদিকে তেমনি ভিশন ২০২১-এর লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সহায়তা করছে। আর শুধু মোবাইলই বা কেনো, ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিরা খুব একটা পিছিয়ে নেই। প্রায় তিন কোটি লোক এখানে ইন্টারনেট ব্যবহার করে। মোবাইল এবং ইন্টারনেটের এই প্রভূত প্রয়োগ নিশ্চয়ই ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের পথে অগ্রযাত্রার দৃশ্যমান সূচক।
ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১ কোনো ইউটোপীয় প্রকল্প নয়। প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র এবং সত্য ও যোগ্য প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী প্রাইভেট সেক্টর দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তি কাজে লাগিয়ে একটি প্রতিযোগিতামূলক অর্থনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশকে একটি মুখ্য বাণিজ্যিক অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে সক্ষম হবে— এটি কোনো দুরাশার বিষয় নয়, যদি না প্রতিক্রিয়ার প্রতিনিধিরা উন্নয়নের চাকাকে পেছনে ঘোরানোর জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও আজ বাংলাদেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নের যে ছবি চাক্ষুস করা যাচ্ছে এবং তা আন্তর্জাতিক মানব উন্নয়ন সুচকগুলোর দ্বারা সত্যায়িত হচ্ছে, তাতে উন্নয়নের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে ভিশন ২০২১ অর্জন করা কষ্টসাধ্য হলেও অসম্ভব হয়ে উঠবে না। আর যদি উন্নয়ন ট্রেন আরো গতিশীল হয়, তাহলে তো কথাই নেই।
বাংলাদেশ ১৬ কোটি মানুষের দেশ হলেও এখানকার প্রায় শতভাগ জনমানুষই একই ভাষাভাষী এবং ধর্মীয় সংস্কৃতি ব্যতীত সমসংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের সমরূপতাসম্পন্ন দেশ পৃথিবীর বুকে আর দ্বিতীয়টি নেই। আমরা আমাদের এ সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা দ্রুত দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেবে। আজ এ কথাটি নির্দ্বিধায় বলা যায়, গণতন্ত্রহীনতা ও দুর্নীতি আমাদের দেশের স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করাসহ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে অন্তরায় হিসেবে দেখা দিয়েছে। আমরা যদি আমাদের উপমহাদেশের কোনো রাষ্ট্র দিয়ে প্রভাবিত না হয়ে নিজেরাই নির্দিষ্ট মেয়াদান্তে স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থায়ী ব্যবস্থা হিসেবে জনমতের প্রতিফলনে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা করতে পারি তাতে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করা যায় যে, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি নির্মূলের প্রতিবন্ধকতাগুলোর অবসান ঘটবে। 
বিগত বছরগুলোতে বিভিন্ন সামাজিক সূচকে আমাদের যে অগ্রগতি তা স্বভাবতই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোন্ প্রতিবেশী রাষ্ট্র দূর থেকে কলকাঠি নেড়ে আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়গুলো তাদের নির্দেশনায় চলার বিষয় নিয়ন্ত্রণ করছে দেশবাসী তা জানলেও কোনো এক অজানা কারণে মুখ ফুটে বলছে না। তার পরও এ দেশের সাধারণ জনমানুষের সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্রকে অবদমিত করে যেভাবে সামাজিক সূচকের ক্ষেত্রে সারা বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে অনুরূপভাবে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সূচকের ক্ষেত্রেও একই পথের সূচনা করে সম্মুখে এগিয়ে নিয়ে যাবে এটিই আজ আমাদের প্রত্যাশা। 

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ