বুধবার , ২৯ নভেম্বর ২০১৭

রাতুল মন্ডল শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের শ্রীপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে “বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লবের” পদক উধাও হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। 
বঙ্গবন্ধুর পদক উধাও হওয়ার অভিযোগে স্থানীয় এক আ’লীগ নেতা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: মনিরুল হাসান মন্ডল এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শেখ মো: নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফেসবুকে পোষ্ট দিলে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়। এ অভিযোগে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা লাইক, কমেন্টের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সভাপতির বিরুদ্ধে স্থানীয় আ’লীগ নেতাকর্মীরা অবস্থান নেয়। তারা উল্লেখিত পদক চুরির অভিযোগে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিচার দাবী করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুল হাসান আত্মপক্ষ সমর্থনে শ্রীপুর থানায় একটি সাধারণ ডাইরী ৮৮৭ নং করেন। 
জানা যায়, ১৯৫৬ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী উপজেলা কাপাসিয়ার বাসিন্দা বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন শ্রীপুর পাইলট হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তারই সূত্র ধরে স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রীপুরে সবুজ বিপ্লব কর্মসূচিকে সফল করায় ১৯৭৪ সালে তদানীন্তন কৃষিমন্ত্রী আ’লীগ নেতা মরহুম আ: সামাদ আজাদের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশ হতে শুধুমাত্র শ্রীপুর পাইলট হাই স্কুলকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান তার নামানুসারে ‘বঙ্গবন্ধুর সবুজ বিপ্লব’ নামে ৫ ভরি ওজনের একটি স্বর্ণ পদক ও একটি সনদ তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মরহুম সামসুদ্দিন মন্ডলের নিকট জনসভার মাধ্যমে হস্তান্তর করেন। সে সময় শ্রীপুরের এমসিএ ছিলেন আলহাজ ছফুর উদ্দিন আহমেদ। মরহুম সামসুদ্দিন মন্ডল ইন্তেকাল করলে উত্তরাধিকার সূত্রে মরহুম মফিজ উদ্দিন মন্ডল দায়িত্ব প্রাপ্ত হলে তখন পর্যন্ত এর অস্তিÍত্ত শ্রীপুরবাসীর নিকট ছিল। দুর্ভাগ্যবশত মফিজ উদ্দিন মন্ডল দীর্ঘদিন শয্যশায়ী থাকাবস্থায় বিদ্যালয়ের স্টকরুমের সিন্দুকে সংরক্ষিত পদকটি বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে না। ২০১৬ সালে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে পদকের সনদটি সাঁটানো অবস্থায় ছিল বলে অত্র বিদ্যালয়ের অবসর প্রাপ্ত কয়েকজন প্রধান শিক্ষক ও  সাবেক কমিটির সদস্যরা জানান।
পদক প্রাপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ১৯৭৪ সালের দশম শ্রেণীর ছাত্র বর্তমানে শ্রীপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো: আব্দুল কাদির মন্ডল, ৯ম শ্রেণীর ছাত্র আলহাজ্ব আবুল হোসেন আকন্দ, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মো: সিরাজুল ইসলামের পিতা আদর্শ কৃষক মো: নুরুল ইসলাম জানান, শ্রীপুর হাই স্কুলে ও এর আশপাশের জমিতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশ ক্রমে সবুজ বিপ্লবের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তিনি ও তার বন্ধুরা মিলে বাম্পার ধানের ফসল উৎপাদন করেন। এজন্য খুশি হয়ে বঙ্গবন্ধু তাদেরকে সবুজ বিপ্লবের পদক দিয়েছিলেন। 
শ্রীপুর পাইলট হাই স্কুলের একাধিকবার সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী আলহাজ্ব আফতাব উদ্দিন আহমাদ জানান, ১৯৭৪ সালে আলহাজ ছফুর উদ্দিন এমসিএ তৎকালীন কৃষি মন্ত্রী আ: সামাদ আজাদ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বঙ্গবন্ধুর কৃষি বিপ্লব পদকটি হস্তান্তর করতে দেখেছেন এবং তিনি দায়িত্ব থাকাবস্থায় এটি সিন্দুকে সংরক্ষিত ছিল এবং সনদটি প্রধান শিক্ষকের কক্ষের ডান পাশে সংরক্ষতি অবস্থায় সাঁটানো ছিল। 
শ্রীপুরের পৌর মেয়র অত্র বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আলহাজ্ব মো: আনিছুর রহমান জানান, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে কৃষি মন্ত্রী আ: সামাদ আজাদ বঙ্গতাজ তাজ উদ্দিন যে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন তাকে অধিক সম্মানিত করতে বঙ্গবন্ধুর কৃষি বিপ্লব নামে ৫ ভরি ওজনের একটি পদক দেন। সে সময় পদকটি গ্রহন করেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক মো: সামসুদ্দিন মন্ডল এবং তার সাথে ছিলেন স্থানীয় এমসিএ আলহাজ ছফুর উদ্দিন আহম্মেদ। বর্তমানে পদকটির অস্তিত্ত আমরা জানিনা। 
পদকটি খোয়া যাওয়ার বিষয়ে বর্তমান প্রধান শিক্ষক মনিরুল হাসানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ২০০৫ সালে  ৩১ আগষ্ট ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেয়ার সময় পূর্ববর্তী প্রধান শিক্ষক পদকটি বুঝিয়ে দেন নি। কিংবা এই পদকের অস্তিত্ত কোনকালে ছিল কিনা তা তিনি জানেন না।   

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ