বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২০ |

‘অবিশ্বাস্য ম্যাচ, অসাধারণ ম্যাক্সওয়েল’

অনলাইন ডেস্ক   বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

৩০৩ রান তাড়ায় ৭৩ রানে নেই ৫ উইকেট। এমন ম্যাচও জেতা যায়? অস্ট্রেলিয়া দেখাল, খুব সম্ভব! গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও অ্যালেক্স কেয়ারির জোড়া সেঞ্চুরি ও ডাবল সেঞ্চুরি জুটিতে অসাধারণ জয়ে অস্ট্রেলিয়া জিতে নিল সিরিজও। এমন জয়ের পর যেন আনন্দ প্রকাশের ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না অ্যারন ফিঞ্চ। অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের কণ্ঠে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা ম্যাক্সওয়েলের, যার পাল্টা আক্রমণে ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়ার শুরু।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ম্যাক্সওয়েল করেছেন ৯০ বলে ১০৮। ১১৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে কেয়ারি পেয়েছেন প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির স্বাদ। দুজনের কেউই অবশ্য ম্যাচ শেষ করে ফিরতে পারেননি। তবে খাদের কিনারা থেকে দলকে নিয়ে গেছেন জয়ের কাছে। শেষ ওভারে মিচেল স্টার্কের ছক্কা ও চারে নিশ্চিত হয়েছে ৩ উইকেটের জয়।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ হারল ৫ বছর পর। ম্যানচেস্টারে বুধবার নাটকীয় এই জয়ের পর যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ফিঞ্চ। “অবিশ্বাস্য এক ক্রিকেট ম্যাচ। ৫ উইকেট পড়ার পর আশার জায়গা খুব বেশি ছিল না, বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েলের পর যখন উইকেটে যেতে হয় প্যাট কামিন্সকে (লোয়ার অর্ডার শক্তিশালী নয় ততটা)। তবে এই ভরসা ছিল, ম্যাক্সি (ম্যাক্সওয়েল) পাল্টা আক্রমণ করতে পারে।”

“অসাধারণ খেলেছে ম্যাক্সি, অ্যালেক্সের (কেয়ারি) সঙ্গে ওর জুটি ছিল দুর্দান্ত। ওরা যে পরিশ্রম করে আসছে, সেটির ফল মিলেছে।” ম্যাক্সওয়েল ও কেয়ারির ২১২ রানের জুটিতে ওয়ানডেতে প্রথমবার ষষ্ঠ উইকেটে দুইশ রানের জুটি পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দলের বিপর্যয়ে নেমে ম্যাক্সওয়েলের পাল্টা আক্রমণের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে গড়ে দিয়েছিল জয়ের ভিত। জুটির প্রশংসার পাশাপাশি ফিঞ্চ আলাদা করে বললেন ম্যাক্সওয়েলের সামর্থ্যের কথা।

“অ্যালেক্স ও ম্যাক্সির জুটি ছিল দুর্দান্ত। দুজনকে নিয়েই আমি গর্বিত। অনেক সাফল্য ও কৃতিত্ব ওদের প্রাপ্য। সেটা শুধু এই জয়ের কারণে নয়, দীর্ঘদিন থেকেই যে কঠোর পরিশ্রম তারা করে আসছে, সেজন্যও।”

“ম্যাক্সি এতটা বিধ্বংসী, কারণ সে মাঠের সব জায়গায় খেলতে পারে। নিজের দিনে ওকে থামানো বা বিপাকে ফেলার মতো বোলার বিশ্বে খুব একটা নেই। তবে আজকের ইনিংসটি সে যেভাবে এগিয়ে নিয়েছে, যেভাবে টেনে নিয়েছে, তা অসাধারণ। রান রেটের যখন চাপ থাকে, ঝুঁকি তো কিছু অবশ্যই নিতে হয়। সে সবকিছুই নিখুঁতভাবে করেছে।”

গত বছর এই ইংল্যান্ডেই বিশ্বকাপ খুব বাজে কেটেছিল ম্যাক্সওয়েলের। ১০ ম্যাচে ফিফটি করতে পারেননি একটিও। পরে তিনি খেলা থেকে বিরতি নেন মানসিক অবসাদের কারণে। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ হয়ে পড়েছিল অনিশ্চিত। কিন্তু শঙ্কা উড়িয়ে মাঠে ফিরেছেন। এই সিরিজে ফিরলেন ম্যাচ জয়ী ভূমিকাতেও। শেষ ম্যাচের সেরা তিনি, সিরিজের সেরাও।

ম্যাক্সওয়েল সাফল্যের পেছনে কৃতিত্ব দিলেন অধিনায়ক ফিঞ্চকে। “একটা ভালো ব্যাপার হয়েছিল, লকডাউনের সময়ও আমি ফিঞ্চির (ফিঞ্চ) সঙ্গে অনুশীলন করেছি এবং অনেক কথা বলেছি। বিশেষ করে দলে আমার ভূমিকা নিয়ে, সুনির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে। নিজের ভূমিকা সম্পর্কে তাই আমার স্পষ্ট ধারণা হয়ে যায়।”

“সিরিজের আগেও সে আমাকে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে ভূমিকা। তার সমর্থন আমার সঙ্গে আছে, এটা জানতাম। শুধু আমাকে নয়, গোটা দলকেই সে এখানে দারুণভাবে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে, অসাধারণ কাজ করেছে সে।”

 খেলাধুলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ