বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২০ |

সৈয়দ রহমত আলী, মহম্মদপুর :
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার আওনাড়া গ্রামে কেয়া খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার (১৬ সেপ্টম্বর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে খবর পেয়ে তাঁর লাশ হাসপাতাল থেকে  মর্গে পাঠায় মহম্মদপুর থানার পুলিশ।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কেয়া খাতুন উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের আওনাড়া  গ্রামের দুবাই প্রবাসী সজিব শেখের স্ত্রী। শ্বশুরবাড়ির স্বজনেরা কেয়ার লাশ হাসপাতালে রেখে পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানায়, এক বছর আগে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চৌবাড়য়িা গ্রামের ফসিয়ার রহমান মোল্যার মেয়ের সাথে একই উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের আওনাড়া গ্রামের আবুল শেখের ছেলে সজিব শেখের বিয়ে হয়। বিয়ের তিন মাস পর স্বামী সজিব দুবাই চলে যান। তার কোন সন্তান নেই। 
প্রতিবেশীরা বলেন, আজ বেলা পৌনে একটার দিকে গলায় ওড়না প্যাঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় ঘরে কেয়ার লাশ পাওয়া যায়। 
সজিবের বড় বোন জাহানারা বেগম জানান, কেয়াকে খোজাখুজিঁর পর না পেয়ে বসতঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ওপরের ফাঁক দিয়ে হাত প্রবেশ করিয়ে ছিটকিনি আলগা করে দরজা খুলে কেয়া ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ঝুলতে দেখেন তিনি। ধান কাটার কাঁচি দিয়ে রশি কেটে কেয়াকে নিচে নামান সজিবের ভাই খায়রুল শেখ। 
এ সময় কেয়া ঢেকুর দিয়ে উঠলে তিনি তাঁকে জীবন্ত মনে করে মাথায় পানি ঢালেন ও দ্রুত মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে পৌছানোর পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষনা করেন। 
গৃহবধুর বাবা ফসিয়ার রহমান মোল্যা জানান, কেয়া মারা যাওয়ার পর তার শশুর বাড়ির স্বজনেরা হাসপাতালে লাশ ফেলে পালিয়ে যান। তার মৃত্যুর খবর পর্যন্ত কাউকে জানানো হয় নাই। তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।
মহম্মদপুর উপজেরা স্বাস্থ্য কমপ্লক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী আবু আহসান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে।
মহম্মদপুর থানা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি এসে কেয়ার লাশ হাসপাতালে শোয়া অবস্থায় পাই। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বক্তব্য অনেকটা অসংলগ্ন বলে মনে হচ্ছে। 
মহম্মদপুর থানার ওসি তারক বিশ্বাস মোবাইল ফোনে বলেন, মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের জন্য কেয়ার লাশ মাগুরার ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ