বুধবার , ২১ অক্টোবর ২০২০ |

জনস্বার্থে বদলী করার এখতিয়ার পুলিশ সুপারের, ওসির নয়

  বৃহস্পতিবার , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০

 মনির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে:
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম বলেন, পুলিশের বদলি জনস্বার্থে করা হয়ে থাকে আর এটা করার একমাত্র এখতিয়ার পুলিশ সুপারের, কোন ওসির নয় ।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক তার অপছন্দের পুলিশ কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করে দেন এমন অভিযোগ এনে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে গতকাল তিনি মুঠোফোনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
জায়েদুল আলম বলেন, এক থানা থেকে অন্যত্র বদলি একটি রুটিন ওয়ার্ক। সংশ্লিষ্ট থানার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজন অনুসারে বদলি করা হয়। এটা নিয়মতান্ত্রিক বিষয়, কোন ওসির বদলির ক্ষমতা নেই, এই বিষয়টি জেনেও কি কারণে সিদ্ধিরগঞ্জের ওসিকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে এটা আমি জানি না। এ বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলেই আমি বিষয়টি পরিষ্কার করে দিতে পারতাম । তিনি বলেন, কোন থানায় পুলিশের ১৮ মাস চাকরির বয়স হলেই তাকে বদলি করার নিয়ম রয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কোন পুলিশ নিজেও তার ওই থানায় চাকরির বয়স ১৮ মাস পূর্ণ হলে সে সেখান থেকে বদলি হতে পারেন। আমি মনে করি এরপর আর কোন ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না, যোগ করেন তিনি ।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক বিগত ২০০০ সালে সাব-ইন্সপেক্টর পদে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। তার যোগ্যতা, দক্ষতা আর সততার কারণেই অতি অল্প সময়ে বিগত ২০১০ সালে তিনি ওসি হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। রাজধানী ঢাকার বাড্ডা থানা ও গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া থানার ওসিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বেশ সুনামের সহিত তিনি ওসির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত ৪ আগস্ট ২০১৯ইং তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। যোগদান করার পর থেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এলাকার সন্ত্রাস, মাদক, কিশোর গ্যাং সহ সকল ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে তার সাঁড়াশি অভিযান লক্ষণীয়। ফলে অপরাধীদের কাছে ওসি কামরুল ফারুক এক আতঙ্কের নাম। অপরদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জ বাসীর কাছে তিনি একজন মেধাবী, সৎ , যোগ্য ও নিষ্ঠাবান চৌকস পুলিশ অফিসার হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন।
ওসি কামরুল ফারুক এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে জানান, আমার জীবন থাকতে কোন অপরাধীকে ছাড় দিব না। কারণ আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অক্ষর অক্ষরে পালন করা নৈতিক দায়িত্ব । তিনি বলেন, অপরাধ দমনে রেঞ্জের মাননীয় ডিআইজি স্যার ও মাননীয় পুলিশ সুপার স্যার আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন করতে গিয়ে কারো চোখের কাঁটা হতেই পারি । কারণ আমি একা, সকলের মন রক্ষা করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি যে কোন অপরাধের বিষয়ে সরাসরি ওসি সিদ্ধিরগঞ্জ কে জানানোর জন্য সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান ।
উল্লেখ্য যে,ওসি কামরুল ফারুকের বাবা মহিউদ্দিন একজন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা।১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। ওসি কামরুল ফারুকের বড় ভাই আঃ কাইউম বাবুল ও মামা আব্দুল কাদির মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে শহীদ হয়েছেন। একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে ওসি কামরুল ফারুকের রয়েছে বেশ সুখ্যাতি।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ