রবিবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

জীবন যুদ্ধে হার মানেনি বিথি

  রবিবার , ১০ ডিসেম্বর ২০১৭

নাটোর প্রতিনিধি:                                                                                               
জীবন সংগ্রামে আত্মপ্রত্যয়ী এক তরুণীর নাম বিথি খাতুন। বৃদ্ধা মা জয়নব বেগমের দেখভাল আর সংসারের দুমুঠো খাবার জোগাতে বাধ্য হয়ে নিজেই অটো ভ্যানের চালক হয়েছেন। শুধু তাই নয় মাটিকাটা থেকে শুরু করে কঠোর সব পরিশ্রমই করছেন তিনি। এই বয়সে তার স্বামী সংসার করার কথা থাকলেও শুধু বৃদ্ধা মায়ের কথা ভেবে আর সংসার করা হয়ে উঠেনি।  
সিংড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অথবা বাসস্ট্যান্ডে দেখা মিলবে এই তরুনীটির।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিথি। ছয় ভাই বোনের মধ্যে ছোট সে। বাবা ইয়াকুব আলী ছিলেন ভ্যানচালক। চার বছর আগে মারা গেছেন। অভাবের সংসারে পরিবারের কোন সন্তানের স্কুলের গন্ডি পার হওয়া সম্ভব হয়নি।
তাই জীবিকার তাগিদে কেউ দিনমজুর আবার কেউ গার্মেন্টস কর্মী। তাদের অসুস্থ্য বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়াতে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যান চালিয়ে সংসারের হাল ধরেন বিথি।
সে নিয়মিত বগুড়ার রনবাঘা বাজার থেকে সিংড়ার বোয়ালিয়া বাজার পর্যন্ত যাত্রী আনা-নেওয়া করেন। এতে করে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হয়। এই দিয়ে চলে তার সংসার। আর অসুস্থ্য মায়ের চিকিৎসার খরচ।
এমনকি সারাদিন ভ্যান চালালেও যেন ক্লান্তি নেই তার। মায়ের সেবা যতœ সময়মতো নিজ হাতেই করেন। সময়মত খাবার আর ওষুধ খাইয়ে দিতে ভুলেন না। তাই এই মায়ের এখন একমাত্র অবলম্বনই তার মেয়ে বিথি। 
তার এমন কর্মে প্রতিবেশীরা তাকে ভাল দৃষ্টিতেই দেখেন। প্রতিবেশী রহিম, একরাম হোসেন সহ অনেকে জানান, তিথি কখনও বসে থাকে না। ভ্যান ছাড়াও মাটিকাটা কাজও করে। পরিশ্রমে তার কোন ক্লান্তি নেই।
বিথি জানান, বাবা মারা যাবার পর মায়ের কথা ভেবে সংসারের হাল ধরি। ৩ ভাই কেউ দেখেনা, তিন বোনের মধ্য আমি ছোট, অন্য বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। এজন্য মায়ের সেবায় নিজের সংসার করা হয়ে উঠেনি। সে আরও জানায়, এতদিন অন্যের ভ্যান চালিয়ে সংসার চালিয়েছি কিন্তু পোষায় না, এ জন্য প্্রায় ২ মাস আগে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে ৪৫ হাজার টাকা লোন নেই। কিস্তির টাকা শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি।  
সিংড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ জানান, বিথি সমাজের পরিশ্রমী নারীদের একটা উদাহরন, তাছাড়া বৃদ্ধা মায়ের পাশে দাঁড়ানোর সাহসী নারী সে।
চলনবিল ফেসবুক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট এমরান আলী রানা ও মহাসচিব মাহাবুব আলম বাবু জানান, সমাজের বিত্তবানদের বিথির পাশে দাঁড়ানো দরকার। কারন বিথির ভবিষ্যত আছে, মায়ের জন্য বিথির ভালোবাসা সমাজের জন্য মেসেজ।

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ