রবিবার , ২৫ অক্টোবর ২০২০ |

সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠিত

অবিলম্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে আধুনিক মডেল থানা করা হবে: পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম

অনলাইন ডেস্ক   বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০

নারায়নগঞ্জপ্রতিনিধি

 নারায়ণগঞ্জজেলা পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম বলেন,অবিলম্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে আধুনিক মডেলথানা করা হবে । তিনি বলেন,নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোন ঝুট সন্ত্রাসীর ঠাই নেই।সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ,মাদক ও কিশোর গ্যাং মুক্ত আধুনিক উন্নত সিদ্ধিরগঞ্জ মডেল থানা করার জন্য পুলিশের পক্ষথেকে সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এজন্য স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবংদল মত নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

গতকালসোমবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত ওপেন হাউজ ডে অনুষ্ঠানে প্রধানঅতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকামরুল ফারুকের সভাপতিত্বে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াসিন মিয়া, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকমিউনিটি পুলিশের সভাপতি শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক তাজিম বাবু ,নাসিক ৪, ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডেরসংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম, নাসিক ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহুল আমিন, ৭নংওয়ার্ড কাউন্সিলর আলা হোসেন আলা,সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুলহক রাজু, বাংলাদেশ আন্তঃজিলা ট্রাক চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান আনিস,সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ পারভীন। 

পুলিশসুপার জায়েদুল আলম আরো বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের ১০টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে পুলিশেরকার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সেখানে প্রত্যেক এলাকার জনগণ তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরবেএবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার তা সমাধানের ব্যবস্থা করবেন। তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানাপুলিশের কোন সোর্স থাকবেনা। আমি সিদ্ধিরগঞ্জ থানাকে পুলিশের সোর্স মুক্ত থানা হিসেবেঘোষণা করছি ।কারণ অপরাধীরা থানা পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেথাকে। এতে পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয় ।

এদিকে,পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম উপস্থিত জনগণের কাছ থেকে অভিযোগ জানতে চাইলে নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডকদমতলী মধ্যপাড়া এলাকার হৃদয় নামে এক যুবক মাইক্রোফোন নিয়ে বলেন, নাসিক ৭ নং ওয়ার্ডমাদকে সয়লাব হয়ে আছে। এই ওয়ার্ড এখনো মাদক মুক্ত করা যায়নি। কারণ এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরআলা হোসেন আলা নিজেই একজন মাদকের প্রশ্রয়দাতা। একথা বলার সাথে সাথেই কাউন্সিলর আলাসহ তার লোকজন তীব্র প্রতিবাদ জানাতে থাকে এবং এর প্রমাণ দাবি করে ব্যাপক হই-চই শুরুকরে দেয়। এ নিয়ে উপস্থিত জনতা ও কাউন্সিলর লোকজনের মধ্যে চরম বাকবিতন্ডা ও বিশৃংখলাশুরু হয়ে যায় ।এক পর্যায়ে পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম ও থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ফারুকদ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম বলেন, যিনিঅভিযোগ করেছেন তিনি এভাবে না বলে ব্যক্তিগত ভাবে বিষয়টি আমাকে জানাতে পারতেন। তবে অভিযোগকারীও যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে উভয়ের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় ।

 অপরদিকে,সভাপতির বক্তব্যে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল ফারুক বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জেরজনগণের জন্য পুলিশি সেবা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সিদ্ধিরগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিপূর্বের তুলনায় অনেক উন্নত। মাননীয় পুলিশ সুপারের নির্দেশে এবং বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েআমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সক্ষম হয়েছি।তিনি বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় জিডি করতে, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনকরতে এবং কোন মামলা-মোকদ্দমা দায়ের করতে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীর কোন টাকা পয়সা লাগে না ।যদিকোন পুলিশ এ কাজে জড়িত থাকে এমনকি আমি নিজেও যদি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকিতাহলে আমাদের বিরুদ্ধে মাননীয় পুলিশ সুপারের কাছে অবশ্যই আপনারা যাবেন। আমরা করোনাকালীনসময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জবাসীকে সেবা দিয়েছি, এই সেবা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ