রবিবার , ২৪ ডিসেম্বর ২০১৭

সুদাম চন্দ্র, নওগাঁ থেকে ঃ আমড়া গাছের ঝোপের মধ্যে মৌমাছিদের বাসা, সেখানে প্রকান্ড এক চাক রয়েছে খাসা। এখন আর আমড়া গাছের ঝোপের মধ্যে নয় সরিষা খেতের পাশে বাক্্েরর মধ্যে মৌমাছিদের বাসা। সত্যি আগের দিনে গ্রামের বনে জঙ্গলে গ্রামের পাশে বড় বড় গাছের মগ ডালে মৌমাছিদের প্রকান্ড প্রকান্ড মৌচাক সচরাচর চোখে পড়ত। এখন আর সেই আগের দিনের মত যেখানে সেখানে মৌচাক চোখে পড়েনা। আর এর জন্য অনেকেই কৃত্রিম পদ্ধতিতে চাষাবাদকে দায়ী করেছেন।
প্রতিটি ফসলে যে হারে কীটনাশক ব্যাবহার হচ্ছে আর আগের দিনের মত প্রাকৃতিক বনজঙ্গল উজাড় হয়ে যাচ্ছে ফলে যেখানে সেখানে বিভিন্ন ধরনের বনফুল সহ হরেক রকম ফুল ফোটেনা, চাষাবাদ করে কৃষকের ফসলের মাঠে যে টুকু ফুল ফোটে তাও আবার কীটনাশকের দাপটে বিষাক্ত থাকায় ওই ফুলে মৌমাছি সাধারণত বসতে পারেনা আর এই জন্যই আগের দিনের মত যেখানে সেখানে বড় বড় মৌচাকও চোখে পড়েনা। 
বর্তমান ডিজিটাল যুগে মানুষ আধুনিক জীবন যাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরী করে সেখান থেকে মধু সংগ্রহ করে চলেছে। তারই বাস্তব চিত্র সাপাহার উপজেলা সদর সংলগ্ন সাপাহার-জবই বিল রাস্তার পার্শ্বে মানিকুড়া গ্রামের ফসলের ক্ষেতে দেখা গেছে। 
গত মঙ্গলবার চাপাই নবাবগঞ্জ জেলার গোদাগাড়ী ও গোমস্তাপুর হতে দু’জন মৌয়াল ওই গ্রামের পাশে প্রায় ৫০বিঘা একটি সরিষা খেতের পাশে মধু চাষে তাদের মৌ-বাক্্রগুলি সারিবদ্ধভাবে বসিয়েছে। বুধবার বিকেলে গোদাগাড়ী পাহারপুর নামাজগ্রামের মধু চাষী আতাউর রহমান ও গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর আন্ধারইল গ্রামের আমিরুল ইসলাম এর সাথে আলাপ করে জানা গেছে তারা গত ২০০০সাল হতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মধু চাষ শুরু করেন। শুরুর দিকে কয়েকটি মৌ-বাক্্র দিয়ে তারা ব্যাবসা শুরু করলেও বর্তমানে তাদের সংগ্রহে প্রায় দুই থেকে আড়াইশ’টি মৌবাক্্র রয়েছে। প্রতি ১০/১২দিন অন্তর তারা প্রতিটি বাক্্র থেকে ১০/১৫কেজি করে মধু সংগ্রহ করে থাকেন আর প্রতি কেজি খাঁটি মধু ৪শ’ টাকা দরে বিক্রি করে থাকেন। এতে মাত্র ৫মাসের ব্যাসায় তাদের ৫ থেকে ৭লক্ষাধিক টাকা তাদের আয়ও হয়ে থাকে। বছরের নভেম্বর থেকে মার্চ মোট ৫মাস মৌচাকের ব্যাবসা করে মোটা অংকের টাকার মুখ দেখলেও বাঁকি ৭মাস লক্ষ লক্ষ মৌমাছিকে বেধেঁ রেখে খাওয়াতে তাদের প্রায় ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা খরচও হয়ে থাকে বলে তার জানান। তবে বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে মধু সংগ্রহ ব্যাবসা তাদের বেশ ভালই লাগে বলেও তারা জানিয়েছেন।
এছাড়া আগের দিনে খাঁটি মধু সংগ্রহ করতে হলে বড় বড় গাছের ডালে উঠে অনেক কষ্ট করে মধু সংগ্রহ করতে হত। এখন ডিজিটাল যুগে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ করতে তেমন কোন ঝামেলা হয়না সহজেই মধু সংগ্রহ করা যায় ও খাঁটি মধু পাওয়া যায়। এ পদ্ধতিতে মধু চাষ বেকারত্ব দুর করতে একটি সফল পন্থা বলেও তারা মনে করেন। বাক্্র পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ বেশ পুরনো হলেও সাপাহার এলাকায় এ পদ্ধতিতে মধু সংগ্রহ একবোরে নতুন তাই বৈজ্ঞানিক ও তৈরীকৃত কাঠের বাক্্ের মধু সংগ্রহ পদ্ধতি দেখতে এলাকার শত শত দর্শক এখন ওই মাঠে ভিড় জমাচ্ছে।  

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ