শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২০ |

মির্জা ফখরুলের বাসায় ডিম নিক্ষেপ

অনলাইন ডেস্ক   শনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২০

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা মির্জা ফখরুলের বাসায় শতাধিক ডিম নিক্ষেপ করেন।

বিদ্রোহীরা ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনিত প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরকে প্রতিহতের ঘোষণাও দেন। শনিবার বিকালে রাজধানীর উত্তরায় বিএনপি মহাসচিবের বাসার সামনে কয়েক শ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে এ বিক্ষোভ করেন। তারা মির্জা ফখরুলের বাসভবনের সামনে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে এ আসনের অপরাপর সাত মনোনয়ন প্রত্যাশীর কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে অংশ নেন। দুপুরের পর থেকে তারা বিএনপি মহাসচিবের বাসার সামনে অবস্থান নিয়ে এস এম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। প্রতিবাদের শেষ পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসা লক্ষ করে শতাধিক ডিম ছুড়ে মারেন।

ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনে নয় প্রার্থী বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এসএম জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। শুক্রবার মির্জা ফখরুল এ তারর নাম ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই আসনে নয় প্রার্থীর সাক্ষাৎকার  নেয়ার দিনে এসএম জাহাঙ্গীর ও অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী এম কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এস এম জাহাঙ্গীরকে দায়ী করে সাত মনোনয়ন প্রত্যাশী লিখিতভাবে বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে অভিযোগ করেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাসার সামনে বিক্ষোভকালে ওই সাত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাই উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

মির্জা ফখরুলের বাসায় ডিম ছুড়ে মারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনায় মহাসচিব খুব মর্মাহত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের কিছু বলার থাকলে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বলতে পারতেন। তিনি একটি ভাড়া বাসায় থাকেন। সেখানে এ ঘটনা ঘটানো অনাকাঙ্ক্ষিত।

এ ব্যাপারে কফিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি জানি না কারা সেখানে বিক্ষোভ করেছেন, কারা ডিম-পাথর ছুড়েছেন। আমি আমার ফ্যাক্টরিতে গিয়েছিলাম। তখন মহাসচিব আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি বলেছি, এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।  আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী বাহাউদ্দিন সাদী বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। এ ঘটনা অপ্রত্যাশিত। যদি কারো মধ্যে রাগ-ক্ষোভ থাকে তাহলে তা দলীয় ফোরামে আলোচনা করতে পারতেন। কিন্তু দলের মহাসচিবের বাসায় এ ঘটনা খুবই দুঃখজনক।

এ ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটি ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ছে।  দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার পেছনে সরকারের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে আরো বলা হয়,বর্তমানে সারাদেশে গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতনের যে মহামারী চলছে তার বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভিন্নখাতে নিতে সরকারের এজেন্টরা এ হামলা চালিয়েছে।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ