শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২০ |

চট্টগ্রামে প্রতারণা মামলায় সাহেদ ৪ দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম ব্যুরো   রবিবার , ১১ অক্টোবর ২০২০

করোনা পরীক্ষার ভুয়া রির্পোট কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত এবং বিভিন্ন প্রতারণায় মামলায় গ্রেপ্তার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে চার দিনের রিমান্ডে নেয়ার আদেশ দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত।

রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুর সোয়া ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে মোহাম্মদ সাহেদকে হাজির করা হয়। গ্রেপ্তার আবেদনের শুনানি শেষে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন বিচারক।

বাদিপক্ষের আইনজীবী ধীতিমান আইচ বলেন, ডবলমুরিং থানার প্রতারণার মামলায় প্রথমে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে ১০ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আসামি সাহেদ আদালতে বাদীপক্ষের সঙ্গে লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এদিকে সকাল থেকেই আসামি সাহেদকে চট্টগ্রাম আদালতে আনা হবে জেনে উৎসুক মানুষের ভীড় ছিল নগরীর আদালত পাড়ায়। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। দুপুরে যখন সাহেদকে পুলিশ আদালত ভবনে নিয়ে উঠছে; তখন উৎসুক অনেক লোকজন রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে সাহেদকে উদ্দেশ্য করে ‘বাটপার’, ‘বেয়াদব’, ‘চিটার’ ও ‘ধান্ধাবাজ’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

এর আগে শনিবার বিকাল সোয়া ৩টায় মোহাম্মদ সাহেদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। চলতি বছরের ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানায় ঢাকায় রুট পারমিট নিয়ে দেওয়ার কথা বলে ৯১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ ও তার সহযোগী শহীদুল্লাহ বিরুদ্ধে মামলা করেন নগরীর ধনিয়ালাপাড়ার ‘মেগা মোটরস’ মালিক জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পক্ষে তার চাচাত ভাই সাইফুদ্দিন।

সাহেদকে গ্রেপ্তার করার পর নগরীর ডবলমুরিং থানার এই প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য চট্টগ্রাম আদালতে আবেদন করে পুলিশ। আদালত ১১ অক্টোবর রবিবার শুনানির দিন ধার্য করেছিল।

‘মেগা মোটরস’ মালিক জিয়া উদ্দিন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে নগদ ৩২ লাখ এবং চেকের মাধ্যমে ৫৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আনা হয় মামলায়। ঢাকায় ২০০টি অটোরিকশা গাড়ি নামানোর অনুমোদন সরকার থেকে নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে ২০১৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে সাহেদ এ টাকা হাতিয়ে নেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। মামলায় বাদিপক্ষ আরো অভিযোগ করেন, ঢাকায় ২০০টি তিন চাকার গাড়ি নামানোর অনুমোদন নিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির পর প্রতারক সাহেদ একটি অনুমোদনও নিয়ে দেন। পরে মেগা মোটরসের মালিকপক্ষ জানতে পারে সেটি ছিল ভুয়া। এরপর টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন বলে এজহারে উল্লেখ করা হয়।

 আইন-আদালত থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ