শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর ২০২০ |

আখাউড়ায় ভালো নেই প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা

অনলাইন ডেস্ক   বুধবার , ১৪ অক্টোবর ২০২০

ঘনিয়ে আসছেহিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। সারা দেশের ন্যায়ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পূজামন্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা তৈরীর কাজ। কিন্তু করোনা প্রার্দুভাবের কারণে এ বছর সাজ সাজরব নেই পৌরশহরসহ উপজেলার পূজা মন্ডগুলোতে। আগামী ২২ অক্টোবর ঘরে ঘরে দেবীদুর্গারআগমনী বার্তা নিয়ে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতির কারণে কীভাবেহবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজা সে অনিশ্চয়তা মাথায় নিয়ে  কাঁদা মাটি কাঁঠ খর ও বাঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরীতেকিছুটা ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা।

মৃৎশিল্পীদেরহাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরী হচ্ছে এক একটি প্রতিমা। তৈরী করা হচ্ছে দুর্গা, সরস্বতীলক্ষী, কার্তিক গণেশ,অসুর, ও শিবের মুর্তি। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মুর্তিগুলোরকাজ সম্পন্ন করতে পারবেন বলে  তারা আশাপ্রকাশ করছেন। তবে প্রাণঘাতী  করোনার কারণেএবার দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা ম্লান হতে চলেছে। বিগত বছরের পূজার সে চিরচেনা শহরও গ্রামাঞ্চলে আলোক-সজ্জা, সাংস্কৃতিক ও আনন্দ-বিনোদন অনেকটাই লুকিয়ে থাকবেঅগোচরে। সেই সঙ্গে এবারের শারদীয় উৎসবে বাইরে ঘুরতে থাকছে স্বাস্থ্যবিধির কড়ানির্দেশনা।

উপজেলারমোগড়া ইউনিয়নের নয়াদিল গ্রামের  প্রতিমাতৈরির কারিগর  রতন পাল বলেন,  প্রতি বছর এ সময় প্রতিমা তৈরীর ভালো চাহিদাথাকতো। কিন্তু এ বছর প্রাণঘাতী করোনার কারণে তেমন চাহিদা নেই। এ বছর মাত্র ৮টিপ্রতিমার কাজ তারা করছেন।  গত বছর ১৪ টিপ্রতিমা তৈরির কাজ করেন বলে জানাএক একটি তৈরীতে পেয়েছেন ৬০ হাজার টাকা। কিন্তুএবার কমে গেছে প্রতিমার উচ্চতা আর সাজসজ্জাও। পাশাপাশি কমেছে তাদের মজুরিও।

তিনি আরোবলেন, কালের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসলেও পূর্ব পুরুষদের  ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। নয়াদিল গ্রামের  অন্ত:ত ১৫-২০ টি পরিবার মাঠির তৈরি প্রতিমাসহহাঁড়ি, পাতিল, কলস, গরু, ঘোরা, হাতি, ঢাকনা ও মাটির ব্যাংক ইত্যাদি বানিয়ে তাদেরজীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরো বলেন বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে প্রায় ৩৫  বছর যাবৎ এ পেশার সঙ্গে জড়িত হয়ে কাজ করেজীবিকা অর্জন করছেন। পরিবার তার ১ ছেলে ১ মেয়ে ভাইসহ ৭ জন সদস্য রয়েছে। বাংলানববর্ষ চৈত্র মেলা ও পূজাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান ঘিরে  বছরে ৩ লাখ টাকার উপর আয় হতো।তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি সব কিছু পাল্টে দিয়েছে।

রিপন পাল,রতন পাল, সাধন পালসহ  একাধিক প্রতিমাশিল্পীরা বলেন, বাংলা নববর্ষের চৈত্রের মেলা ও দুর্গাপূজা ঘিরে এ মৃৎশিল্পে যে আয়হয় তা দিয়ে চলে তাদের সংসার। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের আর্থিক অনেক ক্ষতিহয়েছে, যা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। অনেক মালামাল ঘরে পড়ে আছে যা বিক্রি করাযাচ্ছে না। বিজয় দাস বলেন, মাটির তৈরীর বিভিন্ন জিনিসের স্থানীয় পর্যায়ে বেশচাহিদা থাকায় এমনিতেই ব্যস্ত থাকতে হয়। কিন্তু দুর্গাপুজা আসলে ব্যস্ততা আরো বেড়েযেতো। করোনায় চাহিদা কমে যাওয়ায় আয় ও কমেছে।

উপজেলা পুজাউদয্পান কমিটির সদস্য সচিব বিশ্বজিৎ পাল বাবু জানায় আসন্ন দুর্গাপূজার প্রস্তুতিরকাজ  পুরোদমে এগিয়ে চলছে। করোনা ভাইরাসেরকারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা করতে হবে। এ সম্পর্কিত ২৬টি নির্দেশনা রয়েছে।আমাদের প্রত্যেকেই এ নির্দেশনা মেনে পূজা করতে হবে। তিনি আরো বলেন পৌর শহরসহউপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ১৯ টি সার্বজনীন পুজামন্ডপ স্থাপন হবে। এরমধ্যে পৌর শহরে ১০টি ও উপজেলার ৫ টি ইউনিয়নে ৯ টি পুজা মন্ডপ রয়েছে।

আখাউড়াথানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  রসুল আহমদনিজামী বলেন, দুর্গাপুজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব । এই উৎসবে কেউযাতে কোন ধরনের অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে সেজন্য প্রশাসন তৎপর রয়েছে।  কোন প্রকার যাতে অপ্রীতিকর  ঘটনা না ঘটে সেদিকে সার্বিক সতর্ক রাখা হবে।

 

 সারা বাংলা থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ