শনিবার , ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ |

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়–এক আশ্চর্য ডানার মানুষ

চিররঞ্জন সরকার   সোমবার , ১৬ নভেম্বর ২০২০

“মৃত্যুরে কে মনে রাখে? কীর্তিনাশা খুঁড়ে খুঁড়ে চলে বারো মাস/ নতুন ডাঙার দিকে- পিছনের অবিরল মৃত চর বিনা/ দিন তার কেটে যায়- শুকতারা নিভে গেলে কাঁদে কি আকাশ?”‌– তিমির হননের কবি জীবনানন্দ দাশের এই মৃত্যু-বিষয়ক উপলব্ধিকে বাস্তব জীবনে সত্যি করে গত ১৫ নভেম্বর সকালে মহাপ্রস্থানের পথে যাত্রা করেছেন অভিনেতা, আবৃত্তিকার ও কবি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। জীবনের ৮৬টি বসন্ত পাড়ি দিয়ে তার এই অপার মহাযাত্রা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক নক্ষত্রপতনের মতো!

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় পৃথিবীতে একজনই জন্মেছেন। সৃষ্টির সব ক্ষেত্রেই মগজাস্ত্রের আলোকিত নির্মাণ রেখে গেলেন তিনি। হ্যাঁ, তিনি পরিণত বয়সেই চলে গেলেন। যা দেওয়ার কথা ছিল, হয়তো তার চেয়ে বেশিই দিয়ে গেছেন। তার অভিনয় ছিল সহজাত। চরিত্রের মধ্যে এমনভাবে মিশে যেতেন যে, বোঝার উপায় থাকত না, কোনটা আসল, কোনটা অভিনয়। রিয়ালিস্টিক অভিনয় দিয়ে তিনি তাইতো কখনও হয়ে উঠেছেন অপু, কখনও ফেলুদা, কখনও ক্ষিতিদা, আবার কখনও উদয়ন মাস্টার। চরিত্রের আড়ালে অনেক সময় ঢেকে গেছে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম।

গভীর নিষ্ঠা আর অনুশীলন দিয়ে তিনি সিনেমার প্রতিটি চরিত্রকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ‘ঝিন্দের বন্দী’ ছবির জন্য ঘোড়ায় চড়া শিখেছেন, ‘হুইল চেয়ার’ ছবির জন্য ছয় মাস ধরে হুইলচেয়ারে বসে চলাফেরার অভ্যাস করেছেন, আর ‘চারুলতা’র জন্য তো নিজের হাতের লেখাটাই পাল্টে ফেলেছিলেন। যে চরিত্র যেমন, সেটাকে ফুটিয়ে তুলতে যা করা দরকার তিনি তাই করেছেন।

দৃষ্টির গভীরতা, ভুরু কোঁচকানো চাহনি, ভূবন ভোলানো হাসি আর মুখে শিশুর সারল্য‌–এই ‘আইকনিক’ বৈশিষ্ট্য নিয়েই পথ চলা শুরু করেছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়! তারপর মিশে গেছেন নানা বৈচিত্র্যময় চরিত্রে। ‘‌অপুর সংসার’‌–এ গ্রাম থেকে শহরে আসা এক লাজুক স্বভাবের যুবক, যে কিছুটা ভাবুক, সংবেদনশীল কিন্তু উজ্জ্বল। ‘‌চারুলতা’‌–তে বনেদি পরিবারের আদর্শ ঠাকুরপো অমল। যে অমল বিশ্বাস করায়: প্রেম মানে ছোট্ট একটা বাগান, দোলনায় দোল খাওয়া, মিষ্টি দুপুরে কবিতা লেখা আর একজন চারুলতার সান্নিধ্য। ‘ঘরে-বাইরে’-র সন্দ্বীপ। স্বদেশ প্রেম, মানবপ্রেমের আড়ালে আত্মপ্রেমে মগ্ন সন্দীপ, যে বলে, “ছটা যে রিপু আছে তার মধ্যে প্রথম দুটো ও শেষ দুটো হচ্ছে পুরুষের, আর মাঝখানের দুটো হচ্ছে কাপুরুষের।” ‘‌শাখা–প্রশাখা’‌–তে কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ জিনিয়াস প্রশান্ত। যে দু-নম্বরীরর কথা শুনলেই ক্ষ্যাপাটে হয়ে ওঠেন। ‘সাত পাকে বাঁধা’-তে সুখেন্দু কিংবা ‘তিন ভুবনের পাড়’ সিনেমায় রোমান্টিক যুবকের প্রেমের ব্যাকুল আকুতির সেই অমর সুর—‘হয়তো তোমার জন্য, হয়েছি প্রেমে যে বন্য, জানি তুমি অনন্য।’ ‘অরণ্যের দিনরাত্রি’‌–তে দুঃসাহসী অসীম। ‘অভিযান’‌–এ কিছুটা রুক্ষ প্রকৃতির নরসিং, ‘কাপুরুষ’-এর সত্যিই কাপুরুষ অমিতাভ রায়, ‘কোনি’-এর ক্রীড়াপাগল ক্ষিতিদা। ‘অশনি সংকেত’-এর চশমা-আঁটা পণ্ডিত গঙ্গাচরণ। ‘হীরক রাজার দেশে’‌–র পণ্ডিত–বিপ্লবী। আর ‘‌জয় বাবা ফেলুনাথ’‌, ‘সোনার কেল্লা‌’–তে সকলের প্রিয় ফেলুদা। প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন, মগজাস্ত্রের অধিকারী এক দাদা। এর আগে গোয়েন্দা বলতে বাঙালির কাছে শার্লক হোমসের ছবিই ধরা পড়ত বারবার। কোট, টুপি, চুরুট। ফেলুদা সেই অচলায়তনকে ভেঙেছিলেন। প্যান্টের ওপরে পাঞ্জাবি পরা এক যুবক। ফেলুদার আগে এমন গোয়েন্দা দেখেনি মানুষ। কিন্তু সৌমিত্রের মধ্যে হুবহু ধরা পড়ল সেই প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন বাঙালি গোয়েন্দা। তিনি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়েছেন ফেলুদা হিসেবে। একটা সময়ে গোয়েন্দা প্রদোষচন্দ্র মিত্র ওরফে ফেলু যেন অভিনেতা সৌমিত্রকে আড়াল করে দিয়ে জাঁকিয়ে বসে গিয়েছিল মানুষটির ভাবমূর্তির ওপর।

১৯৬১ সালে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত তপন সিনহা পরিচালিত ‘ঝিন্দের বন্দী’ সিনেমায় সৌমিত্রকে প্রথম দর্শক পেয়েছিলেন একটি খলচরিত্রে। নাম ‘ময়ূরবাহন’। যে অভিনেতা ‘অপু’ হিসেবে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছেন। ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, ‘দেবী’ বা ‘সমাপ্তি’–তে যে নায়ক ঝড় তুলেছেন, সেই অভিনেতাকে তপন সিনহা দিলেন এক নিষ্ঠুর ভিলেনের চরিত্র। তখনও বাংলার দর্শকের সাহিত্য পড়ার অভ্যাস ছিল। উপন্যাসে ময়ূরবাহনকে একজন অত্যন্ত ‘সুদর্শন ও লম্পট’ যুবক হিসেবে বর্ণনা করেছেন শরদিন্দু। এমন একটি চরিত্রকেও সৌমিত্র ফুটিয়ে তুলেছিলেন তার নিপুণ অভিনয় দক্ষতায়।

‘শাখা-প্রশাখা’–য় তিনি যে বাড়ির বড় ছেলে ‘প্রশান্ত’ হিসেবে কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন চরিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন, সেটা সত্যিই অনবদ্য। এটা ছিল একটা জটিল চরিত্র। প্রশান্ত পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীনও ছিলেন না। সে কিন্তু বেশিরভাগ সময় একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতো। হ্যাঁ একটু গম্ভীর কিন্তু আর পাঁচটা লোকের থেকে তার যে অভিব্যক্তির তফাত তাতে একটু কথা কম বলা বা একদম না বলা ছাড়া খুব বেশি আলাদা কোনও ব্যাপার আমরা দেখতে পাই না। সেই মানুষটি আরবি গান শোনেন, নিজের মত করে থাকেন। দেখেই বোঝা যায় একসময় তিনি ভালো ছিলেন, মেধাবী ছিলেন। কোনও মানসিক তথা নৈতিক আঘাতের ফলে তার আজ এই দশা। জগতের এই অবিচারের জন্য তার কোনও নালিশও নেই। কিন্তু যখন কোনও কিছু তার মূল্যবোধকে আঘাত করে তখন তিনি আর সেটা মেনে নিতে পারেন না, প্রতিবাদ করতে শুরু করেন এবং এই প্রতিবাদের সময় তার চরিত্রে কিছু তথাকথিত পাগলামির লক্ষণ দেখা যায়। তিনি জোরে জোরে খাবার টেবিল চাপড়ান যে দৃশ্যটি আমাদেরকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় তার অসাধারণ দক্ষতায় এই চরিত্রটি চিত্রিত করেছিলেন।

সরোজ দে-র কোনিতে ক্ষিতিদার “ফাইট কোনি, ফাইট” বহুদিন স্মরণে রেখেছে। সমস্ত প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ দিতে দীর্ঘদিন সংলাপটি মুখে মুখে উচ্চারিত হতো। শুধু তাই নয়, ‘গণদেবতা’–র দীনু পণ্ডিত, ‘বসন্ত বিলাপ’-এ মেসে থাকা শ্যামসুন্দর বোসের চরিত্রগুলো আজও সিনেমাপ্রেমীদের কাছে জীবন্ত হয়ে আছে। তার করা অন্যতম সেরা অভিনয় তপন সিংহের ‘আতঙ্ক’ ছবির ‘মাস্টারমশাই’ চরিত্রটি। ‘আতঙ্ক’ সিনেমার একটি সংলাপ দর্শকের মুখে মুখে ফেরে, যে সংলাপটি অবশ্য সৌমিত্রের নয়, মাস্টারমশাই চরিত্রে রূপদানকারীকে উদ্দেশ করে বলা। ছবিতে সেই সংলাপটি যতবার এসেছে, ততবারই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নীরব থেকেছেন আর তার সেই নীরবতা যে কতটা মর্মভেদী, ওই চরিত্রটি যে কতটা অসহায়, যাঁরা ছবিটি দেখেছেন, তারা কোনওদিনই ভুলতে পারবেন না। সংলাপটি ছিল– ‘মাস্টারমশায়, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি।’

মৃণাল সেনের “আকাশ কুসুম”, অজয় করের “সাত পাকে বাধা”, তপন সিংহের “ক্ষুধিত পাষাণ” তার অসাধারণ অভিনয়সমৃদ্ধ সিনেমা। এ ছাড়া ‘অন্তর্ধান’, ‘অগ্রদানী’, ‘হুইল চেয়ার’, ‘মনিহার’, ‘তিন ভূবনের পারে’, ‘বসন্ত বিলাপ’, ‘প্রথম কদম ফুল’, ‘অতল জলের আহবান’, ‘শ্যাম সাহেব’ প্রভৃতি সিনেমায় সৌমিত্রের অভিনয় তুলনাহীন।

১৯৫৯ সালে প্রথম সিনেমা ‘অপুর সংসার’–এর অপু হিসেবে তিনি যেমন জীবন্ত ছিলেন,এর প্রায় সাড়ে ছয় দশক পর, ২০১৫ সালে নির্মিত ‘বেলাশেষে’-–এর বিশ্বনাথ মজুমদারের চরিত্রেও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কেও ঠিক ততটাই সাবলীল মনে হয়। বয়স যত বেড়েছে, তত বেশি বেশি যেন পরিপক্ক হয়েছেন তিনি অভিনয়ে। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কাহিনি অবলম্বনে গৌতম ঘোষের ‘দেখা’ সিনেমায় গ্লুকোমায় দৃষ্টি হারানো একজন কবির চরিত্রে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেছেন। ঋতুপর্ণ ঘোষের আরেকটি স্মরণীয় সিনেমা ‘অসুখ’। মেয়ের পারিশ্রমিকের উপর নির্ভর করে থাকা এক বাবা এবং মেয়ের গল্প কি দক্ষতার সাথেই না তুলে ধরেছিলেন ঋতুপর্ণ। বাবার চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় এখনও চোখে ভাসে। কিংবা ‘পুনশ্চ’ সিনেমার কথাই ধরা যাক। জীবন সায়াহ্নে উপনীত একজন বিখ্যাত সাহিত্যিকের চরিত্রে সৌমিত্র কী অসাধারণ অভিনয়ই না করেছেন। একেবারে জীবন্ত।

গত কয়েক বছরে মুক্তি পাওয়া ‘বরুণবাবুর বন্ধু’, ‘বোধিস্বত্ব’, ‘দশটা দশ’, ‘আমার পৃথিবী’, ‘ভূমি’, ‘বহমান’, ‘পোস্ত’, ‘প্রাক্তন’, ‘সাঁঝবাতি’, ‘শ্রাবণের ধারা’, ‘ফ্ল্যাট নং ৬০৯’, ‘বসু পরিবার’, ‘ভাঙ্গন’, ‘এবং বিসর্জন’ ইত্যাদি সিনেমায় সৌমিত্র যেন আরও জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন।

আসলে সৌমিত্রের অভিনয় একেবারেই সহজাত। জলে হাঁস যেমন নেমে যায়, একটুও পা না হড়কে, যেন হাঁসের শরীরে মাটি আর জলের কোনো পার্থক্যই নেই, সেই সচ্ছলতায় তিনি তখনকার ক্যামেরাকে বাধ্য করলেন তাকে অনুসরণ করতে। তিনি শব্দগ্রাহক যন্ত্রকেও বাধ্য করেছেন তার অন্তরালবর্তী স্বরকে উপস্থিত করতে। স্বরের অভ্রান্ত গমকে সৌমিত্র তার অদৃশ্য উপস্থিতি স্পষ্ট করে দিতেন। তার স্বরক্ষেপণও একটু উঁচুতে হত। তার স্বর উচ্চ ও নিম্ন দুই গ্রামেই এত স্বাভাবিক ছিল যে, তার স্বরান্তরগুলি তার সঙ্গেই মানিয়ে যেত। তাকে দর্শকের কোথাও অচেনা ঠেকত না। আবার সেই চেনার মধ্যেই স্বরের সুরে দর্শক অচেনাকেও শুনতেন ও দেখতেন।

অভিনয় শিল্পীদের কথা বলার ধরন, অভিনয়ে অর্থ তৈরিতে চোখ-ঠোঁট-কপাল এই তিন সঞ্চালনক্ষম অঙ্গের ব্যবহার ও হাঁটাচলা, ঘাড় ঘোরানো ও স্বাভাবিক, দৈনিক ও চেনা অঙ্গভঙ্গিতে অনেক অর্থ তৈরি করা ও অর্থান্তর ঘটানো–সিনেমার নিজস্ব নির্মাণের এই অন্তরঙ্গ উপাদানগুলোর যথাযথ প্রয়োগ ও ব্যবহার করতে পেরেছিলেন সৌমিত্র।

তার অনেক পরিচয় আছে। তিনি কবি, লেখক, চিত্রকর, আবৃত্তিশিল্পী, সামাজিক কাজের উদ্যোগী কর্মী, রাজনীতি সচেতন ব্যক্তিত্ব আরও কত কী! কিন্তু অন্য সব পরিচয়কে ছাপিয়ে তিনি ছিলেন এক অনন্য অভিনয়শিল্পী। মঞ্চেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। নাটক বানিয়েছেন। নির্দেশনা দিয়েছেন। অভিনয় করেছেন। অভিনয় দিয়েই তিনি বাঙালি সমাজে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি নিজের সঙ্গে প্রায়ই কথা বলি। নিজেকে বলি, এই যে এত কিছু করলে, এসব কেন? তুমি পাশ দিয়ে গেলে ওই যে ছেলেগুলো আজও চিত্কার করে, দ্যাখ, দ্যাখ, স-উ-মি-ত্র স-উ-মি-ত্র যাচ্ছে, তার জন্য তো নয়। এটা নিশ্চয়ই লক্ষ্য ছিল না? আমি তো চেয়েছিলাম, আমি হেঁটে গেলে লোকে বলবে, ওই যে যাচ্ছে! ওর মতো অভিনয় কেউ করতে পারে না। আদারওয়াইজ এ জীবনের কী মানে? মানুষের কী উপকার করতে পারলাম? তখন নিজেকে বোঝাই, অভিনয়ের মাধ্যমে যেটুকু আনন্দ বিতরণ করতে পেরেছি, সেটাও তো এক অর্থে মানুষের সেবা। সেটাও তো একটা উপকার।’

সৌমিত্র আমাদের কাছে সেই আশ্চর্য মানুষ, যিনি সমস্ত ভনিতা ছেড়ে ফেলে, সমস্ত আয়োজিত বিনোদন আর ক্লান্তির শেষে, সমস্ত মিথ্যে মিলনের কাহিনির অন্তে যে কিনা একজন সাধারণ মানুষ হয়ে ঠোঁটের কোণে অসামান্য হাসিটুকু নিয়ে সন্ন্যাসীরাজা হয়ে চলে যেতে পারেন জীবনের কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে। উষ্ণতা থেকে সেই আশ্চর্য শীতলতার দিকে; বিনোদন থেকে বিনোদনহীনতার দিকে। অর্থ থেকে অর্থহীনতা এবং সমূহ বিপর্যয়ের দিকে। সমস্ত নাগরিক হাঁসফাসের ভিতর আমাদের সেই ঠান্ডা, শান্ত অকৃত্রিম জীবনের অবাধ ছাড়পত্র হয়েই তিনি পর্দায় আসতেন। সমস্ত মুখ থুবড়ে পড়া নাগরিক ব্যর্থতাবোধকে যে তার গোপন ডানায় বসিয়ে তুলে উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারতেন জীবনের অতীত কোনও এক জীবনের পরপারে। এই জীবনের ভেতরই দেখিয়ে দিতে পারতেন জীবনের আরও এক গোপন সাতমহলা।

সন্দেহ নেই যে, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, আমাদের কাছে ধরা দেওয়া সেরকমই একজন সফলতম আশ্চর্য ডানার মানুষ।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ