বুধবার , ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

শীতার্ত বাংলাদেশ, পীরিত হচ্ছে ছলনায়...

  বুধবার , ২৪ জানুয়ারী ২০১৮

মোমিন মেহেদী:

শীতার্তর পাশে দাঁড়াবো বলে
এগিয়ে চলি নিত্য
মানুষগুলোর জন্য আমার
নিত্য কাঁদে চিত্ত
ক্রন্দনরত চিত্ত নিয়ে এগিয়ে যেতে যেতে অতিক্রম করেছি রাজনীতির ২২ বছর। নতুনধারার রাজনীতির সাথে যুক্ত হওয়ার ৬ বছর চলছে। প্রতিদিন দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা ও চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেছে। এতে ভাসমান, ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্কুলন্ডকলেজে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কমে গেছে।
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল বলে জানান তিনি। হাড় কাঁপানো শীতে মানুষের জীবনধারা যেমন ব্যাহত হচ্ছে; তেমনি ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় শ্রমজীবী মানুষ পড়েছে বিপাকে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সকালের দিকে ঘর থেকে তেমন বের হচ্ছে না মানুষজন। এই পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য নিরন্তর চেষ্টা চালাচ্ছি। যে চেষ্টায় অগ্রসর হয়েছি যুগ যুগ ধরে; সেই চেষ্টায় আগামী দিনগুলো কিছুটা হলেও ভালো থাকবে বাংলাদেশের বর্তমান আর আগামী।   
ঈশ্বরদী আবহাওয়া অধিদপ্তর গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, মৌলভীবাজারে তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে নেমে আসায় প্রচন্ড শীতে জেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাতে বৃষ্টির মতো ঝিরঝির করে কুয়াশা পড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছেন চা শ্রমিকরা। শ্রীমঙ্গলের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি। ৪ জানুয়ারি তা নেমে আসে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে। ৫ ও ৬ জানুয়ারি ছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি। ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা। দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। ফলে যাত্রাপথে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে বলে পরিবহন চালকরা গণমাধ্যমকে জানান। এমন পরিস্থিতি ৫০ বছর পর প্রথম হলো। এই পরিস্থিতিতে শীতার্তদের পাশে সাহসের সাথে তারাই দাঁড়াবে যারা নতুনধারার চিন্তাতে এগিয়ে চলছে প্রতিনিয়ত। এই এগিয়ে চলায় আগামী গড়ার কারিগরদের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবের একটি সংবাদ তুলে ধরছি- সৌদিতে এ বছর খুব শীত পড়বে বলে আগেই ধারণা দিয়েছে দেশটির আবহাওয়াবিদরা। গত কয়েক বছরের মধ্যেই এবারই রিয়াদে সবচেয়ে বেশি শীত পড়তে পারে। আর সে কারণেই শীতার্ত লোকজনকে ইতোমধ্যেই সাহায্য করতে শুরু করে দিয়েছেন রাজধানীর স্থানীয় বাসিন্দারা। রাজধানীর আশেপাশের লোকজনও অসহায় লোকজনকে সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন। সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। সেখানে দেখা গেছে, আল রায়ান জেলায় গাছের মধ্যে কম্বল ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। শীত থেকে বাঁচতে এগুলো কাজে লাগবে মানুষের। এই ভিডিওটি টুইট করেছেন সুলতান আল মৌসা নামের এক ব্যক্তি। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আশা করছি এটা দেখে আরও ভালো কাজের প্রতি সবাই উৎসাহিত হবেন। তবে যেসব এলাকায় গাছে কম্বল ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে সেসব এলাকার বেশির ভাগ মানুষই বেশ স্বচ্ছল। 
বাংলাদেশে সমাজ-সভ্যতার প্রতি আন্তরিক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের রাজনীতিতে যেমন তেমন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন কেবল তথাকথিত পরিবর্তন নয়; এই পরিবর্তন নিরন্তর মানুষের মঙ্গলময় অগ্রযাত্রা। আর সেই যাত্রায় আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন নতুন প্রজন্মের রাজনীতি-শিক্ষা-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নিবেদিত থাকা কালোহীন আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর শান্তা ফারজানা, আহমেদুল কবির খান কিরণ, মারজিয়া প্রভা, মাহামুদ হাসান তাহের, নূরজাহান নীরা, ইব্রাহিম খলিল প্রধান, মনির জামান, সাকির মাটিসহ শতাধিক তরুণ। যাদের লক্ষ্য একটাই-সকল মানুষের ভালো চাই। 
এই কাতারে যারা যোগ দিতে চান, যারা এগিয়ে আসতে চান দেশের জন্য-মানুষের জন্য। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- গত শীতের ১টা মাফলার, ১টা কান টুপি, ১টা জ্যাকেট আছে এবং হুড ওয়ালা টিশার্ট আছে ২টা। মনে হয় এবারের শীত চালিয়ে দিতে পারবো। কিন্তু অনেকেই শীত যখন আসি আসি করে, তখন থেকেই শাল-জ্যাকেট কেনার জন্য আলাদা বাজেট করা শুরু করে থাকেন। অনেকে আবার এক সোয়েটার বা জ্যাকেট পরের বছর চালাতে পারেন না, প্রেস্টিজ বলে কথা, তাই না? কিন্তু আপনি হয়তো বিশ্বাস করবেন না যে, চাঁদপুর জেলায় এমন অনেক লোক আছে যাদের একটিও শীতবস্ত্র নেই একটু উষ্ণতার জন্য!! এই হাড় কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়ছে শেরপুর, জামালপুর, চাঁদপুর, চাঁপাই নবাবগঞ্জ, কুঁড়িগ্রাম, সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ!! জবুথবু হয়ে পড়ছে জনজীবন। এই শীতেও হয়তো মারা যাবে অনেক লোক। যে মানুষগুলোর নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সম্ভ্রম রক্ষার জন্যও যথেষ্ট কাপড় জোগাড় করা বেশ কষ্টসাধ্য সেখানে উষ্ণতার জন্য, একটু উমের জন্য, শীতের প্রকোপ থেকে একটু রক্ষা পাওয়ার জন্য এক টুকরো শীতের কাপড় যেন শত আরাধনার ধন !! এই এক টুকরো শীতের কাপড় তার লড়াই করার অস্ত্র, জীবন সংগ্রামে টিকে থাকার অস্ত্র। বাসা থেকে বের হয়ে ভার্সিটি যাবেন, অফিসে যাবেন, আদালত পারায় যাবেন কিংবা রেলস্টেশনেই যান না কেন, এমন হাজার হাজার মানুষ দেখবেন আপনারই চলার পথের আশে পাশে এমনিভাবে জীবন সংগ্রামে আরেকটু ভালোভাবে টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রানান্তকর চেষ্টায় লিপ্ত। এই চেষ্টায় আপনারাও হতে পারেন নিজস্ব স্বকিয়তায় অগ্রণীজন। মনে রাখবেন যে, ৩ বেলা খাবার খায় ৭ বার চা খায়,সে-ও বেঁচে থাকে; আর যে ১ বেলা খায় আর অন্য সময় অভূক্ত থাকে; সে-ও বেঁচে থাকে। কিন্তু একজন অপচয় করে, অন্যজন নির্মমতায় বেঁচে থাকে। এই নির্মমতার বাইরে বের করতে হলে যারা স্বাবলস্বি; যারা সামর্থবান; তাদের দান প্রয়োজন। দান নিজের হাতে করাটাই শ্রেয়। আশা করি দান করবেন নিজস্ব অবস্থান অনুযায়ী।  
একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়বো বলে লোভ মোহহীন নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছি বিধায়; আমাদের মা, মাটি আর মানচিত্রকে নিয়ে অ-নে-ক চেষ্টা। এই চেষ্টায় আছি বলেই লিখছি, বলছি এবং চলছি আলোর পথে-ভালোর পথে। আর তাই ধর্ম-বর্ণ-গুষ্ঠি নির্বিশেষে সকলের কাছে আকুল আবেদন জানাই, আসুন আমরা সকল মতভেদ ভুলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসি। আমরা আমাদের সীমিত আয়ের মধ্যেই জমানো কিছু টাকা কিংবা আপনার ওয়ারড্রবে পড়ে থাকা পুরোনো কাপড় গুলো দিয়ে দিতে পারি এই শীতার্ত মানুষের মাঝে। একটি মুখেও যদি হাসি ফোঁটাতে পারি তবে কষ্টটা সার্থক!! মনে রাখবেন, জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ সেখানেই যদি দেখেন একটি হাসির পিছনে রয়েছে আপনার অবদান। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকনা আর বিন্দু বিন্দু জল দিয়েই আমরা গড়ে তুলবো একেকটি ভালোবাসার মহাসাগর-মহাতল। একেকটি শীতার্ত হৃদয় উষ্ণ হয়ে উঠুক আমার-আপনার ভালোবাসায়।
আমরা এবার চাই তীব্র শীতে দেশের আর কেউ যেন মারা না যায়, খবরের শিরোনাম যেন না হয় শীতজনিত কোন মৃত্যু!! আসুন আমাদের নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে এই সব অসহায় শীতার্তদের পাশে দাড়াই। আপনার সহায়তার অপেক্ষায় অসংখ্য শীতার্ত মানুষ, ভালোবাসার অপেক্ষায় আছি আমরা। আমাদের মা-মাটি-মানুষ-সাহস-সুন্দর-স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। যদি হই সবাই আন্তরিক-সবাই দেশপ্রেমিক। সেই লক্ষ্যে চলুন নারী নির্যাতন, দুর্নীতি-খুন-গুম-হামলা-মামলা-সন্ত্রাস-স্বাধীনতা বিরোধীচক্র আর জঙ্গীদেরকে ‘না’ বলি। সততা- মেধা ও যোগ্যতার পাশাপাশি স্বেচ্ছাশ্রম-স্বেচ্ছানুদানকে ‘হা’ বলি। 
শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিবেদন করলাম অনেক কথা। এবার যে বিষয়টি বলবো সে বিষয়ের সাথে জড়িত আমাদের প্রতিটি পরিবার। আর বিষয়টি হলো- রোহিঙ্গা। এই রোহিঙ্গাদের কারনে আজ জীবন যন্ত্রণায় অর্ধহারে-অনাহারে কাটছে ছন্নছাড়ার মত অসংখ্য জীবন। অর্থনৈতিক ধ্বস নামছে ক্রমশ। এই পরিস্থিতিতে ‘মাদার অব হিউমেনিটি’ খ্যাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্যতম দায়িত্ব হলো রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়োগ করা। তা না হলে এই শীতার্ত মানুষদের মত বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের অবস্থা হবে পীরিত। যা আমাদের কাম্য নয়; আর তাই চাই সমাধান- রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানের পাশাপাশি সার্বিক উন্নয়ন আসুক বাংলাদেশে... 

মোমিন মেহেদী : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ-এনডিবি
  ০১৭১২৭৪০০১৫

 উপ-সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ