সোমবার , ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

মো. সাদের হোসেন বুলু দোহার থেকে:
দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পদ্মা তীর ঘেষে মৈনট এলাকায় গড়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে ঢাকা অর্থনৈতিক অঞ্চল। যা নির্মিত হলে এ অঞ্চলের  মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ জীবন মানেরও উন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী অনেকে। তবে আতংকের জায়গাটি হচ্ছে পদ্মা ভাঙন। অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত স্থানটি নদীর তীরে অবস্থিত। এ এলাকায় শিল্প কারখানা গড়ে তুলতে হলে প্রথমে নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। 
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে মতে,  দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের  নারায়নপুর, সুকদেবপুর, মৈনট, হোসেনপুর,  চর কুসসুম হাটিসহ পুরুলিয়ার মৌজার আংশিক অংশ যা ৩১৬  একর জমি বাছাই করার মাধ্যমে ঢাকা অর্থনৈতিক অঞ্চল দোহার প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যে ২১৫ একর  জমির দলিল হলেও নামজারী হয়েছে মাত্র ১১৫ একরের। ধীর গতিতে কাজ চলায় অনেকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। যাচাইকৃত জমির মধ্যে কিছু অংশ ব্যক্তি মালিকানায় রয়েছে। স্থানীয়দের শংকা তারা সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য সুবিধা পাবে কিনা। 
স্থানীয়দের দাবী, এমনিতেই চাষযোগ্য কৃষি জমি অধিগ্রহণ হওয়ায় অনেকেই বেকার হয়ে পড়বে। বার বার পদ্মার ভাঙনে কারনে, এই অঞ্চলটি তুলনামূলকভাবে অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি অনগ্রসর এলাকা ছিলো দীর্ঘদিন। যার কারনে এই উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোন শিল্প-কারখানা এখনো গড়ে ওঠেনি।
তাই এখানে কৃষি শিল্প ভিত্তিক কারখানা, বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যেতে পারে। যার ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সাথে  এলাকার বহু শিক্ষিত অর্ধশিক্ষিত বেকার লোকের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা আফজাল শিকদার বলেন, এই অঞ্চলকে এগিয়ে নিতে হলে,  দ্রুত পদ্মার ভাঙন রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবেই এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার সৃষ্টি হবে এবং  দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি ব্যবসায়ীরাও এগিয়ে আসবেন, ফলে কৃষিশিল্প অধ্যুষিত এই অঞ্চলের উন্নয়নের দুয়ার খুলে যাবে। 
স্বল্প মজুরিতে নারীও ও পুরুষ শ্রমিক পাওয়ার কারনে বিনিয়োগকারীরাও বিশেষ আগ্রহ দেখাবেন বলে মনে করেন দোহারের শ্রমজীবী সংশ্লিষ্টরা। তারা অরো বলেন, দোহারের চর অঞ্চলের অনেক নারী অর্থনৈতীক ভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার আশায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বল্প বেতনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ গুলোতে কাজ করতে যায়। এখানে গার্মেন্টস শিল্প গড়ে উঠার জন্য একটি সম্ভাবনাময় এলাকা। স্বল্প দামে জমি কিনে শিল্পপতিরা ইচ্ছে করলে গার্মেন্টস  শিল্পেরও বিকাশ ঘটাতে পারেন। 
অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে এখানে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন ধরনের হোটেল,পার্ক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে পারে। এছাড়া নগর জীবনের  ক্লান্তি দূর হতে কিছুটা হলেও সহায়ক হবে বলে মনে করেন মৈনট মিনি কক্সবাজার খ্যাত অঞ্চলে আসা  ভ্রমন বিলাসী মানুষেরা। ইতিমধ্যেই এখানে মৈনটঘাট এলাকাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মিনি কক্সবাজার খ্যাত নান্দনিক বিনোদন কেন্দ্র।  
পদ্মা তীর ঘেষে গড়ে উঠা এই উপজেলায় পর্যটন শিল্প থেকে সরকারের প্রচুর রাজস্ব আয় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিকল্পনা মাফিক দ্রুত এই অঞ্চলটিকে অর্থনৈতিক এলাকা হিসেবে পদক্ষেপ গ্রহণ করলে, পাশ্ববর্তী ফরিদপুর জেলার একটি বিরাট  অংশের জনগনেরও কষ্ট লাঘব হবে। তাদের রাজধানী ঢাকা কেন্দ্রীক কর্মব্যস্থতা কমে আসবে। শহর ভিত্তিক কিছু অফিসও এখানে স্থাপন করা যেতে পারে। এখান থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে পানি প্রক্রিয়া জাতকরনের মাধ্যমে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা  সম্ভব। যা দেশে বিরাট অংশের মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে পারবে বলে মনে করেন সচেতন মহল। 

 অর্থ-বাণিজ্য থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ