সোমবার , ২৯ জানুয়ারী ২০১৮

কিশোরগঞ্জ থেকে ফাইজুল হক গোলাপ: কিশোরগঞ্জে জমি অধিগ্রহনের প্রায় ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। কিশোরগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক মোঃ আবদুস সালাম খান গতকাল সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় আদালত এ আদেশ দেন। 
এর আগে পিরোজপুর জেলা কারাগার থেকে সেতাফুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জে আনা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ময়মনসিংহ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান। আদালত শুনানী শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ১৭ জানুয়ারি পিরোজপুর সার্কিট হাউসের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সমন্বিত দল। 
একই দিন টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা সেতাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদক ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রাম প্রসাদ মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। সেতাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের সরকারি ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা মোঃ সেতাফুল ইসলাম প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি অধিগ্রহণের তহবিল থেকে অন্তত ১৫ কোটি টাকা আত্মসাত করেন। এর মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর তিনি কিশোরগঞ্জ থেকে বদলি হয়ে পিরোজপুর চলে যান।
জেলা প্রশাসন প্রাথমিক তদন্ত করে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠানোর পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্দেশ দেয়া হয়-সেতাফুল ইসলাম যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) মামলা দায়েরসহ তদন্তের জন্য চিঠি দেয়া হয়।
বর্তমানে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলা দায়ের ছাড়াও সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক কমিটি তদন্ত করছে।  

 বিশেষ খবর থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ