সোমবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

জাকির হোসেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে  :
 নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে রোকসানা ওরফে আফসানা (১০) নামে এক স্কুলছাত্রী হত্যার মামলার আসামি রায়হান কবির সোহাগকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার রাতে নবীগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সোহাগ বন্দর থানার নবীগঞ্জ এলাকার কবির হোসেন মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া ও কুমিল্লা জেলার সদর থানার কবির আহমেদের ছেলে। নিহত রোকসানা আসামি রায়হানের দ্বিতীয় স্ত্রী পাখীর বান্ধবীর ছোট বোন।
সোমবার সকাল ১১ টায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সংবাদ সম্মেলনন করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরফুদ্দিন জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর ২৭ জানুয়ারি ওই স্কুলছাত্রীর বাবা আশরাফুল ইসলাম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অফিসার ইনর্চাজ আব্দুল সাত্তার মিয়া, ওসি তদন্ত নজরুল ইসলাম, ওসি অপারেশন আঃ আজিজ, এসআই মামুন উল আবেদ ও এস আই রাসেল আহমেদকে দিয়ে এ ঘটনায় একটি কমিটি করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আসামি সোহাগ হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করেছে। যে জানিয়েছে দ্বিতীয় স্ত্রী পাখী বন্দরে থাকলেও তার সঙ্গে ঝগড়া হওয়ায় পাখী ২১ জানুয়ারি বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। ২২ জানুয়ারি পাখীর বান্ধবীর ছোট বোন রোকসানাকে নিয়ে সারাদিন ঘুরাফেরা করিয়ে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। আবারও ২৩ তারিখ তাকে ঘুরার কথা বলে বাড়ি থেকে অপহরণ করে বন্দরে তার ভাড়া বাসায় ধর্ষণের করে। ধর্ষণের সময় রোকসানা বাধা দিলে ও চিৎকারের চেষ্টা করলে তাকে গলায় পা দিয়ে মেঝের সঙ্গে চেপে ধরে রাখে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে রোকসানার হাত-পা বেঁধে ও মুখে কচটেপ পেচিয়ে মরদেহ বস্তয় টুকিয়ে অটোরিকশায় করে সোনারগাও কাইকারটেক ব্রিজের নিচে ফেলে চলে আসে। শুক্রবার হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রোকসানা সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।
এর আগে বুধবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেন স্কুলছাত্রী আফসানার বাবা আশরাফুল ইসলাম। সেখানে ২৩ জানুয়ারি সকালে বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে আফসানা আর বাসায় ফিরেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ