মঙ্গলবার , ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জাকির হোসেন নারায়ণগঞ্জ:
আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘিরে নাশকতার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ৫টি থানায় পুলিশ বাদী হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিররুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করেছে। মামলাগুলোর আসামী সংখ্যা ৫৯৬ জন। শনিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মামলাগুলো দায়ের করা হয়। মামলাগুলোতে উল্লেখ্যযোগ্য আসামীর তালিকায় রয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা এ্যাডভোকে তৈমুর আলম খন্দকার, জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান, সহ-সভাপতি মো: শাহআলম, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি এন্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া, নজরুল ইসলাম আজাদ, সোনারগাঁও উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান, কুতুবপুর ইউপির চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজিব, নাসিক কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, নাসিক ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ই¯্রাফিল প্রধান , ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইবকবাল হোসেন ও ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিনের দুই ছেলে গোলাম মোহাম্মদ সাদরিল ও গোলাম মোহাম্মাদ সানবির।
সদর থানার ওসি কামরুল ইসলাম জানান, শনিবার রাতে মিশনপাড়া এলাকায় নাশকতার উদ্দেশে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে বিএনপির নেতাকরমীরা। এ ঘটনায় পরিদর্শক (অপারেশন) এস এম জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্ঠা এ্যাডভোকে তৈমুর আলম খন্দকার , ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুকুল ইসলাম রাজীবসহ ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০-১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। 
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুস সাত্তার জানান, শুক্রবার এসআই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নাশকতার অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত দুই কাউন্সিলরসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও দেড় শতাধিককে আসামি করে মামলা করেছেন।
রূপগঞ্জ থানার ওসি ইসমাঈল হোসেন জানান, উপজেলার কাঞ্চন বালুর মাঠ এলাকায় নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ অভিযান চালালে তাদের লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ৭-৮টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় পুলিশ ৩ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। পরে আসামিরা পালিয়ে যায়। এই ঘটনায় এসআই সাব্বির বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনিরসহ ৭৭ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০ জনকে আসামি করা হয়। শনিবার রাতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
সোনারগাঁ থানার ওসি মোরশেদ আলম জানান, শনিবার রাতে উপজেলার ত্রিবর্দী ও বারদী এলাকায় পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে বিস্ফোরক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে থানার দুই এসআই বাদী হয়ে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেন। একটি মামলায় আসামী ৮৯জন ও আরেকটি মামলার আসামী ৯৪জন। দুই মামলায়ই আসামী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহরুল ইসলাম মান্নান।
বন্দর থানার ওসি একেএম শাহীন মন্ডল জানান, উপজেলার নবীগঞ্জ এলাকায় নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে এসআই সালাউদ্দিন বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লা ও আড়াইহাজার থানায় কোনও মামলা হয়নি। 

 আইন-শৃংখলা থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ