বৃহস্পতিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

আলু চাষে ‘নেব’, পদ্ধতিতে সাশ্রয় হবে ইউরিয়া

  বৃহস্পতিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টারঃ
আলু চাষে নাইট্রোজেনের উৎস হিসেবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমাতে বর্তমানে ‘নেব’ নামের এক ধরনের মূলের নির্যাস ব্যবহার করছেন চাষীরা। যাতে রয়েছে ১৭ ভাগ ফালভিক এসিড, যা মাটির অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে শতকরা ৫০ ভাগ পর্যন্ত নাইট্রোজেন অর্থ্যাৎ ইউরিয়ার ব্যবহার সাশ্রয় করতে পারে।
‘নেব’ উদ্ভিদের রাইজোস্ফেয়ারে বিদ্যমান উপকারী অণুজীব ও ছত্রাকসমূহ সক্রিয় করে। অণুজীবসমুহ ইমমোবিলাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাইট্রোজেনকে নিজেদের দেহে সংরক্ষণ করে। পরবর্তী সময়ে অণুজীবসমূহ মারা গেলে মিনারেলাইজেশান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জৈব নাইট্রোজেন ভেঙে উদ্ভিদের গ্রহণ যোগ্যরূপে পরিণত হয়, যা পর্যায় ক্রমে উদ্ভিদ গ্রহণ করে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সিটিটিউট, মুন্সিগঞ্জ তাদের এক মাঠ গবেষণা জানাচ্ছে, যে সব জমিতে  ‘নেব’ ব্যবহার করে আলু চাষ করা হয়েছে সেগুলোয় হেক্টরপ্রতি ফলন হয়েছে গড়ে ৩২ দশমিক ১০ মেট্রিক টন। অন্য দিকে ইউরিয়া ব্যবহৃত জমিতে হেক্টরপ্রতি ফলনের পরিমাণ গড়ে ৩০ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে মুন্সিগঞ্জ এলাকার অনেকে কৃষক নেব ব্যবহার করছেন।
এমন কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নেব ব্যবহারের কারণে হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৫০০ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। হেক্টরপ্রতি ৩৮০ কেজি ইউরিয়া ব্যবহারের পরিবর্তে নেব ব্যবহারের কারণে এখন ১৯০ কেজি করে ইউরিয়া ব্যবহার করছেন।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৪ দশমিক ৯৬ লাখ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি আলুর গড় ফলন ২০ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন। তাই ক্রমাগত ইউরিয়ার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১০-১৫ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। তবে ‘নেব’ এর ব্যবহার বাড়তে থাকলে এই চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

 কৃষিসংবাদ থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ