শনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

পুলিশের ধরপাকড়ে পণ্ড বিএনপির কর্মসূচি

  শনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ব ঘোষিত বিএনপির কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি শুরু করার সময় নয়াপল্টনে দলটির নেতাকর্মীদের লাঠিচার্জ ও রঙিন পানি নিক্ষেপ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এ সময় সেখান থেকে বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকের অভিযোগও পাওয়া গেছে।

শনিবার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী জড়ো হচ্ছিলেন নেতাকর্মীরা। এ সময় হঠাৎ লাঠিচার্জ এবং জলকামান ব্যবহার করে রঙিন পানি নিক্ষেপ শুরু হয়।

সেখানে ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, মওদুদ আহমদ, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, সাবেক সংসদ সদস্য নীলোফার চৌধুরী মনি।

সকালে কয়েকশ কর্মী কার্যালয়ের সামনে সড়কে কালো পতাকা নিয়ে বসে পড়েন। খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগান শুরু করেন তারা।

এর আগে থেকেই বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের দুই পাশে বিপুল পুলিশসহ সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যরা অবস্থান নিয়ে ছিল জলকামানের গাড়ি ও সাজোঁয়া যান নিয়ে।

বিএনপিকর্মীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাঠিপেটা শুরু করে পুলিশ, জলকামান থেকে রঙিন পানিও ছুড়তে থাকে।

লাঠিপেটায় ফজূলুল হক মিলন ও মনি আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

১১ জনকে আটক করে পুলিশের ভ্যানে তুলতেও দেখা যায়।

রঙিন পানিতে আক্রান্ত বিএনপি মহাসচিবসহ অন্য নেতারা দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেওয়ার পর কলাপসিপল গেইটের মুখে দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছিলেন কর্মীরা।

সকাল ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান কার্যালয়ে ঢোকার সময় আরেক দফা আক্রমণ চালায় পুলিশ। লাঠিপেটার পাশাপাশি কয়েকজনকে টেনে নিয়ে ভ্যানে তোলে তারা।

এসময় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল ও হালিমা নেওয়াজ আরলিকে আটক করা হয়।

কার্যালয়ের বাইরে যে প্যান্ডেল করা হয়েছিল, তা পুলিশ ভেঙে দিয়েছে। কালো পতাকাগুলো ছড়িয়ে পড়ে আছে সড়কের বিভিন্ন স্থানে। আশপাশের গলিতে আশ্রয় নেওয়া বিএনপি কর্মীদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনাস্থলে থাকা ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার এ এস এম শিবলী নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সড়ক দখল করে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হতে পারে না। তাই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি।’

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপি  গত ২২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অথবা নয়া পল্টনে জনসভার অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

 রাজনীতি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ