শনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

একেই বলে জীবিত-মরণ

  শনিবার , ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

জে আর নাইম ঝিনাইদহ|
ইংরেজি শব্দ Symbiosis (সিমবায়েসিস)। যার আভিধানিক অর্থ হচ্ছে মিথোজীবিতা। যা বলতে বোঝায় ‘পারস্পরিক নির্ভরতার মধ্যে দিয়ে দুটি জীবের সুষ্ঠ জীবনযাপন’। যার উদাহরণ মিলল ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্টের সামনে। একজন জন্ম থেকে পঙ্গু ব্যক্তিকে ৩ জন অন্ধ সহযোগিতা করছেন পথ চলতে। এরা ৪ জনই ভিক্ষুক। অন্যদের সহযোগিতা না নিয়ে নিজেরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করে নিয়েছেন। শহর বা গ্রামের কোথায় যেতে হলে ৩ জন হুইল চেয়ারটি পেছন থেকে ধাক্কা দেন আর হুইল চেয়ারে বসা ব্যক্তিটি পথ দেখে গন্তব্যে পৌঁছান। সোমবার সকালে তাদের এই পারস্পারিক সহযোগিতা দেখে ছবি তুলতে গেলে অনুমতি নিতে হয়েছিল হুইল চেয়ারে বসা ব্যক্তিটির।  পরে কথা হয় ওই ৪ জনের সাথে। 
জানা গেল, ঝিনাইদহ শহরের কাঞ্চননগর এলাকার ভিক্ষুক সাহেব আলী। জন্ম থেকে পঙ্গু তিনি। কাজ করতে না পারায় ছোট থেকে ভিক্ষা করছেন তিনি। পুর্বে একা একা ভিক্ষা করতো ঝিনাইদহ শহরে। কয়েক বছর আগে পরিচয় হয় জন্মান্ধ উলফাত হোসেন মোল্লার সাথে। তার বাড়ী সদর উপজেলার দুর্গানারায়ণপুর পুটিয়া গ্রামে। একে এক পরিচয় হয় কালীচরণপুর ইউনিয়নের ভগবাননগর গ্রামের কামাল হোসেন ও লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল মান্নানের সাথে। এদের নেতৃত্ব দেন সাহেব আলী। সকালে সবাই এসে জড়ো হয় শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে। সেখান থেকে কামাল হোসেন, উলফাত মোল্লা,ও আব্দুল মান্নানকে নিয়ে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রেখে আসেন সাহেব আলী। তিনি চলাফেরা  করতে না পারায় বাকি ৩ জন হুইল চেয়ার পেছন থেকে ঠেলেন। সাহেব আলী সামনে থেকে গাড়ি পরিচালনা করেন আর পেছন থেকে ধাক্কা দেন বাকি ৩ জন। শহরের কোথাও কোন দাওয়াত বা বিশেষ কোন অনুষ্ঠান থাকলে সবাই একসাথে চলাফেরা করেন।
পঙ্গু ভিক্ষুক সাহেব আলী বলেন, আমি চোখে দেখতে পারি কিন্তু চলাফেরা করতে পারি না। আর বাকি ৩ জন চোখে দেখতে পান না কিন্তু চলাফেরা করতে পারেন। তাইতো ৪ জনের ভাগ্য এক সাথে জুড়েছি। বাকি জীবনটি একে অপরের সহযোগিতা করেই বাঁচতে চাই।

 পাঁচমিশালি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ