রবিবার , ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

স্টাফ রিপোর্টার:
মাত্র পাঁচটি বাড়ির জন্য সিটি করপোরেশনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছে না পাঁচ হাজার পরিবার। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া বাজারসংলগ্ন পূর্ব শেখদীর স্কুল রোডের উন্নয়ন কাজের প্রথম থেকেই সব কাজে বাধা দিয়ে আসছে ওই পাঁচটি বাড়ি। আর এতেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাটির পাঁচ হাজার উন্নয়নকামী পরিবারের সদস্যরা। ক্ষতির শিকার হচ্ছেন এলাকায় যারা ভাড়া থাকছেন তারাও। গত ৩০ বছর ধরেই এলাকাটি সিটি করপোরেশনের আওতায় আসার জোর প্রচেষ্টা চলছে। কিন্তু নানা ধরনের সমস্যার কারণে তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। আর এ কারণে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে এ এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনও বন্ধ ছিল। এ এলাকার সর্বশেষ ইউপি নির্বাচন হয়েছে মাত্র তিন বছর আগে। এবার এলাকাটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তভর্’ুক্ত হয়েছে। সেই থেকেই এলাকায় চলছে উন্নয়নের কাজ। বর্তমানে এলাকায় প্রতিটি বাড়ির সামনেই রয়েছে ড্রেনের পাইপ। ইট-বালিসহ সব ধরনের নির্মাণসামগ্রী।এখানে কোনোভাবেই যাতায়াত উপযোগী রাস্তা নেই, যা দিয়ে কোনো রোগী নেওয়া যায় চিচিৎসার জন্য। অথচ রাস্তার প্রবেশমুখেই কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে ওই পাঁচ বাড়ির কারণে। তারা জায়গা দিচ্ছে না। তাই উন্নয়ন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।এলাকাবাসী সব রকমের অনুরোধ-উপরোধ করেও কাজ চালাতে পারছে না। পাঁচটি বাড়ির মালিকরা কোনো নেতার কথাও শুনছে না। ফলে এলাকাবাসী গণস্বাক্ষরের পদ্ধতিতে যায়। এ প্রক্রিয়ায় প্রায় ২ হাজার লোক গণস্বাক্ষরে অংশ নেয়। গণস্বাক্ষরকারী এবং এলাকার সর্বশ্রেষ্ঠ মুরব্বি কামাল হোসেন বলেন, গত ৪০ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসছি। আগে কোনো রাস্তা-ঘাট ছিল না। এখানে বাড়ি করেছি। ইউনিয়ন থাকা অবস্থায় চেষ্টা করেছি সিটি করপোরেশনের ভেতর আসতে। আর এখন সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়েও সুবিধা নিতে পারছি না।কারণ কাজ করতে দিচ্ছে না পাঁচটি বাড়ির মানুষ। তারা উন্নয়ন চায় না। খোরশেদ আলম বলেন, আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছি।এলাকার ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছে। কারণ তারা কোনো নাগরিক সুবিধা পাচ্ছে না। তারা কারও কথাই শোনে না।তাই এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনসহ দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। ভাড়াটিয়া আবদুল হালিম বলেন, ঘর থেকে বের হওয়ার জায়গাটাও নেই। পাঁচটি বাড়ির কাছে যদি পুরো এলাকা জিম্মি হয়ে যায় তাহলে আমরা থাকব কি করে। সব জায়গায়ই টাকা দিয়ে থাকতে হয়। তাই অন্য এলাকায় চলে যেতে হবে। এ অবস্থা থেকে বাড়িওয়ালা এবং ভাড়াটিয়ারা পরিত্রাণ চান।

 পাঁচমিশালি থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ