মঙ্গলবার , ২০ এপ্রিল ২০২১ |

পিতা তুমি জন্মেছিলে বলেই আমরা কৃতদাস হইনি•••

জাতির পিতা শেখ মুজিব লও লও লও সালাম

রাজ্জাক হোসাইন রাজ   বুধবার , ১৭ মার্চ ২০২১

হাজার বছরের নেংটি পড়া পরাধীন জাতিকে দাসত্বের শিকলথেকে মুক্ত করেছিলেন জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান।পরাধীনতার শৃংখল থেকে বাঙালীজাতির মুক্তির জন্য শত শত (পূর্বপুরুষ) শহীদের রক্তের বদলা নিতে সেদিন অশ্রুশিক্তহয়ে হিন্দু মায়েরা তুলসী তলায় পিদিম জালিয়ে ভগবানের কাছে আরাধনা করেছিলো হে ভগবানআমাদের এমন একজন সন্তান দাও যে সন্তান তার পূর্ব পুরুষের রক্তের বদলা নেবে•••অন্যদিকেমুসলমান মায়েরা জায়নামাজে বসে আল্লার কাছে ফরিয়াদ করেছিলো হে আল্লাহ আমাদের এমনএকজন সন্তান দাও যে সন্তান তার এ মাতৃভূমী কে রক্ষা করবে রক্ষা করবে পরাধীনতারশৃংখল থেকে -

 

অবশেষে গোপালগঞ্জের টুংঙ্গিপাড়ায়  ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ মাতা শেখ সায়েরা খাতুনেরকোল জুড়ে যে শিশুটির

জন্ম গ্রহন করে সেই শিশুটিই

পরবর্তীতে জাতির জনক

শেখ মুজিবর রহমান•••

 

বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানস্কুল জীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কৈশোরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলের অষ্টম শ্রেণিরছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগদানের কারণে প্রথমবারের মতো কারাবরণ করেন বঙ্গবন্ধু। ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালে হোসেনশহীদ সোহরাওয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মতো রাজ নৈতিক নেতাদের সান্নিধ্যে আসেন। এনেতাদের সাহচার্যে তিনি নিজেকে ছাত্র-যুব নেতা হিসেবে রাজনীতির অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিতকরেন।

 

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর পরইঢাকায় ফিরে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা নিয়ে অগ্রসর হন বঙ্গবন্ধু। সহকর্মীদের নিয়ে১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ গঠন করেন। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন তৎকালীন ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগেরবিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল আওয়ামীমুসলিম লীগ গঠিত হলে তরুণ নেতা শেখ মুজিব দলটিরযুগ্ম সম্পাদক পদ পান। পরে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে দলের নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ।

 

বঙ্গবন্ধু বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, আটান্নর আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনসহ পাকিস্তানি সামরিক শাসনবিরোধী সবআন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাঙালির অধিকার আদায়ের এসব আন্দোলনেরকারণে বারবার কারাগারেও যেতে হয় তাকে। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট সরকারেরমন্ত্রিসভায় স্থান পান। আওয়ামী লীগ প্রধান হিসাবে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরেতৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসন তথা বাঙালির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফাঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধু। পাকিস্তানের স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুসহনেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের নামে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা করে তাদের কারাগারে পাঠান।ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বাঙালি শেখ মুজিবকে কারামুক্ত করে।এ সময়ে শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধি দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

 

১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দলহিসেবে বিজয়ী হয় আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা চক্রান্ত করেবঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। এরপর বঙ্গবন্ধু স্বায়ত্তশাসনের আন্দোলনকেনানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে প্রথমে স্বাধিকার আন্দোলন এবং চূড়ান্তপর্বেস্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ দেন।

 

এ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় একাত্তরের মার্চেনজিরবিহীন অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের(বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জনসমুদ্রে ঐতিহাসিক ভাষণে তিনি বজ্রকন্ঠে ঘোষণাকরেন,এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।এরই ধারাবাহিকতায় ২৬ মার্চে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের মধ্যে দিয়েদেশ স্বাধীন হয়। স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেশিদিন দেশ গঠনের কাজ করে যেতে পারেননি।তিনি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে নিজ বাসভবনে ক্ষমতালোভী ঘাতকদের হাতে সপরিবারেনিহত হন। স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে মহানায়ক বঙ্গবন্ধুরজীবনাবসান ঘটে।

 

 ট্রাজেডি ছাড়ামহাকাব্য রচনা হয়না

আর তাই নিজের জীবনের বিনিময়ে বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশমহাকাব্যের রচনা করলেন ইতিহাসের রাখাল রাজা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

ই-দেশকাল

আর্কাইভ