বুধবার , ৩০ আগষ্ট ২০১৭

Under Construction

এ কেমন বর্বরতা

  বুধবার , ৩০ আগষ্ট ২০১৭

সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী, পুলিশ ও মগ দস্যুদের বর্বরতার সামনে পরাজিত বিশ্বমানবতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি বাহিনীর ইহুদি হত্যাকেও যেন পরাজিত করেছে মিয়ানমার শাসক গোষ্ঠীর বর্বরতা। একসময় আরাকান ছিল এটি স্বাধীন রাষ্ট্র। সুদীর্ঘ ৩৫০ বছর পর্যন্ত আরাকান রোহিঙ্গা মুসলমান কর্তৃক শাসিত হওয়ার পর ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা ভোদাপায়া আরাকান দখল করে আগের সব চুক্তি অস্বীকার করে আরাকানকে বার্মার অংশে পরিণত করেন। পরের ইতিহাস কেবল রক্তের আর তাচ্ছিল্যের। রোহিঙ্গারা এখনো পায়নি তাদের নাগরিকত্ব। নিজভূমে পরবাসী হয়ে মানবেতর জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে এখনো বেঁচে আছে এই জাতিগোষ্ঠী। বর্তমানে সেই মানবেতর জীবনযাপনকে আরো কঠিন করে তুলেছে এবং তুলছে মিয়ানমার শাসক গোষ্ঠী।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানে কিছুতেই কথা শোনানো যাচ্ছে না মিয়ানমারকে। বারবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না দেশটি। উল্টো সেখানকার রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর বারবার হত্যাযজ্ঞ ও নির্বিচার নির্যাতন চালিয়ে তাদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করছে। গত বছরের অক্টোবরে এক দফা হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতনের মুখে পড়ে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু হয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। এখন আবার নতুন করে হত্যাযজ্ঞ ও নির্যাতন শুরু করেছে রোহিঙ্গাদের ওপর। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এ নির্যাতনের প্রথম দিনেই নিহত হয়েছে ৮৯ জন রোহিঙ্গা। মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দলে দলে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের লক্ষ্যে সীমান্তে জড়ো হয়েছে। অনেকে বাংলাদেশে ঢুকেও পড়েছে। গত অক্টোবরের মতো এবারও মিয়ানমার সরকার এটিকে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী হামলা এবং এই হামলার সঙ্গে বাঙালিরা জড়িত বলে প্রচার চালিয়ে নিপীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ভীষণ সংকটে পড়েছে বাংলাদেশ।

এ সংকট থেকে বেরিয়ে আসার প্রশ্নে বিশেষজ্ঞরা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া আজ খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে মিয়ানমার সরকারের এই অনৈতিক আচরণের বিষয়টি তুলে ধরে মানবতার পক্ষে মতামত জোরদার করতে হবে। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতাকে জোরদার করার মধ্য দিয়ে বিষয়টিকে জাতিসংঘে উত্থাপন করতে হবে এবং এর পাশাপাশি মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পথকেও প্রশস্ত রাখতে হবে। তবে, সব কথার শেষ কথা হলো নিজেদের শক্তিকে সুসংহত করা, সুসজ্জিত করা এবং সেই শক্তিকে সাধ্যমতো সম্প্রসারিত করা। আমরা মনে করি, এই পৃথিবীতে শক্তির কোনো বিকল্প নেই।

 সম্পাদকীয় থেকে আরোও সংবাদ

আর্কাইভ